জামায়াতের সংগঠনবাদী লোকদের মন-মানসিকতার একটি নমুনা

জামায়াতের সংগঠনবাদী লোকদের মন-মানসিকতা কেমন, তা জানার বাকি থাকলে তেমন একজনের সাথে আমার সাম্প্রতিক এই বাদানুবাদটি পড়ে দেখতে পারেন।

[জামায়াতের নিবেদিতপ্রাণ কিছু অবুঝ নেতা-কর্মী-সমর্থক মনে করে, যুক্তি ও বাস্তবতা যা-ই হোক না কেন, দিনশেষে জামায়াতের ‘সাংগঠনিক অবস্থানই’ সঠিক। এমনকি বুদ্ধিজীবীদেরও উচিত, সাংগঠনিক অবস্থানকে ডিফেন্ড করা। দ্বিমত ও সমালোচনা থাকলে তা দলীয় ফোরামে উত্থাপন করা। এরপর ‘পৌঁছানো হয়েছে’ মনে করে সেসব দ্বিমত, পরামর্শ ও যুক্তিকে ভুলে যাওয়া। এই ধরনের লোকদেরকে আইডেন্টিফাই করার জন্য দশ বছর আগে আমি ‘সংগঠনবাদী’ নামক একটা টার্ম আমার লেখায় তুলে আনি। এখন অনেকেই এটি ব্যবহার করে।

তো, এরকম এক সংগঠনবাদীকে আমি ক’দিন আগে কঠোরভাবে মোকাবিলা করেছি। এ ধরনের ইনোসেন্ট অথচ ‘সওয়াবের নিয়তে’ এরোগেন্ট মেন্টালিটির লোকদের নাহক সমালোচনা থেকে ইসলামী আন্দোলনের নতুন উদ্যোগগুলোকে ওভারঅল প্রটেকশন দিতে গিয়ে আমাকে আবারো জামায়াত নিয়ে লিখতে হচ্ছে। পড়লে দেখবেন, এই লোক শেষে বললো, ‘ধরে নেন আমি একজন ইউনিট লেভেলের কর্মী। আমাকে কনভিন্স করে নিয়ে আসেন।’ তাঁর কথা শুনে মনে হলো, যেন কেউ কাউকে বললো, ‘এই নেন। আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। হ্যাঁ, এখন আমি ঘুমুচ্ছি। পারলে এবার আমাকে জাগান।’

জামায়াতের সংগঠনবাদী লোকেরা কোনো কথায় স্থির থাকে না। তাদের ম্যাচিউরড লোকেরাও দেখবেন বার বার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে। একটা পয়েন্টের কথা শেষ না করেই আরেকটা পয়েন্ট নিয়ে আসে। ব্যক্তি-আক্রমণ ও অ্যাপিল টু ইমোশন তো আছেই।

জামায়াতের লোকদের কাছে আমার প্রশ্ন, জামায়াত যদি সত্যিই পরমত সহিষ্ণুতা ও ইনক্লুসিভ সামাজিক কাঠামোর পক্ষের শক্তি হয়, যদি সত্যিই তারা বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পদ্ধতির সমর্থক হয়, তাহলে বিভিন্ন ফ্লেভারের একাধিক ইসলামী দল বা ইসলাম-বায়াসড দল গড়ে উঠতে অসুবিধা কী? তাদেরই লোকদের মধ্য হতে কারো কারো নেতৃত্বে যুগোপযোগী বিকল্প উদ্যোগুলোর প্রতি তারা কেন এতটা নেগেটিভ? এটি কি তাদের স্ববিরোধিতা? নাকি, প্রকারান্তরে তারা নিজেদেরকে এ দেশের ‘আল-জামায়াত’ তথা একমাত্র বৈধ ইসলামী দল মনে করে?

প্রসংগত উল্লেখ্য, ‘আল-জামায়াত’ হচ্ছে একটা ইসলামী টার্ম, যার মানে হলো, যারা এই জামায়াত বা সংগঠনের বাইরে থাকবে, তারা ইসলামেরই বাইরে আছে বলে গণ্য হবে। যেমন: আল্লাহর রাসূল (সা) যখন জীবিত ছিলেন তখন যারা মুসলমান ছিলেন তারা রাসুলুল্লাহর (সা) নেতৃত্বাধীন ওই একটিমাত্র কেন্দ্রীয় সংগঠনব্যবস্থার সাথেই ছিলেন। এর বাইরে থাকার মানে ছিলো, ইসলামের বাইরে থাকা এবং মুনাফিকের জীবন যাপন করা।

জামায়াতের সংস্কার নিয়ে আমি অনেক লেখালেখি করেছি। সেসব নিয়ে ‘জামায়াতে ইসলামী: অভিজ্ঞতা ও মূল্যায়ন’ নামে একটা বই প্রকাশ করেছি। এর পাশাপাশি ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দশ বছরে জামায়াতের সংস্কার নিয়ে জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় লোকেরা যেসব প্রস্তাবনা ও প্রতিপ্রস্তাবনা উত্থাপন করে পরস্পর পাল্টাপাল্টি করেছেন, সেগুলোর একটা সংকলনও আমি বই হিসাবে প্রকাশ করেছি। বইটার প্রিন্ট কপি ফুরিয়ে গেছে। আগ্রহী পাঠকগণ ‘কামারুজ্জানের চিঠি এবং জামায়াতের সংস্কার প্রসঙ্গ’ নামের এই বইটার ফ্রি সফট কপি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।]

একজন সংগঠনবাদী জামায়াত কর্মী স্ট্যাটাস দিয়েছেন:

Those who want reforms in পার্টি, please come out and show us a better one.

সেখানে আমি উনার সাথে এনগেইজ হয়েছি। আমার শুরুর মন্তব্য:

প্রত্যেকের দায়িত্ব স্বতন্ত্র। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেককে স্বতন্ত্রভাবে তাঁর খলিফা তথা দায়িত্বশীল করে পাঠিয়েছেন। সুতরাং, অন্যরা কী করে, সেটা দেখার জন্য যারা অপেক্ষা করে আছেন, তারা একটা …., what should I say! তারা ভুল করছেন।

তদুপরি, স্বতন্ত্র বা বিকল্প কোনো প্রচেষ্টা বা উদ্যোগকে সব সময়ে পরিমাণগতভাবে বিবেচনা করাটা ভুল। কেননা, যা কিছু শুরু হয় তা শুরুতেই বিরাট একটা কিছু হয়ে যায় না। বরং শুরুর যে ব্যাপারটা, যেটাকে আমরা বলি পটেনশিয়ালিটি, এটিতে তা আছে কিনা, সেই দিক থেকে নতুন কোনো উদ্যোগকে বিবেচনা করতে হবে।

আমি বুঝতে পারছি না, আপনি কোয়ান্টিটেটিভ এবং কোয়ালিটেটিভ বিবেচনার পার্থক্যটা বিবেচনায় নিচ্ছেন কিনা। আমি মনে করি, নতুন উদ্যোগ যারা নিচ্ছেন কমবেশি এর সবগুলোই হচ্ছে গুণগতভাবে সম্ভাবনাপূর্ণ বা qualitatively potential। আমি নিজেও এরকম একটা উদ্যোগের উদ্যোক্তা।

‘সমাজ ও সংস্কৃতি অধ্যয়ন কেন্দ্রের’ মাধ্যমে আমি আমার মতো করে একটা সামাজিক আন্দোলনের সূচনা করেছি। যেটাকে আরও বৃহত্তর পরিসরে নিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।

এই ধরনের উদ্যোগ আপনি বা কেউ নিবেন কিনা এবং সেরকম উদ্যোগ নেওয়ার সক্ষমতা আপনার না থাকলে নতুন কোনো উদ্যোগের সাথে আপনি থাকবেন, নাকি পুরনো ধারার সাথে থেকে যাবেন– সেটা আপনার বিষয়। কিন্তু কাউকে কটাক্ষ করে কোনো মন্তব্য করা, দম্ভোক্তি করা, এগুলো কোনোক্রমেই সমীচীন নয়। আশা করি আমার বক্তব্যটাকে ইতিবাচকভাবে নিবেন এবং ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ভালো থাকেন।

উক্ত সংগঠনবাদী জামায়াত কর্মীর বক্তব্য:

আমি বলছিলাম যারা পরিবর্তন চান তারা পরিবর্তনের ফর্মুলা নিজেরাই বাস্তবায়ন করুক। কী বলেন? দায়িত্ব সবার এক নয়। এখানে আল্লাহ পাক স্তরবিন্যাসও করেছেন।

আমি start-up এবং break-away কে একই পাল্লায় মাপার পক্ষপাতি নই। আমি সংস্কারকে পজিটিভ হিসেবেই গন্য করি। কিন্তু আপনি কারো সমালোচনা করলে অবশ্যই নিজেকে অধিকতর ভালো প্রমাণ করা চাই। নতুবা আগেরটাই তো টিকে থাকবে। বেশিদিন আগের কথা নয়, ইংল্যান্ডে লেবার আর রক্ষণশীল দল থেকে এগারো জন এমপি বের হয়ে আলাদা প্লাটফরম করেছে। হারিয়ে যায়নি।

অনেক ক্ষেত্রেই আমরা নিজের বুঝ বা মতটাকে সহীহ মনে করে বসে থাকি, আর সেটা চালিয়ে নেয়ার অব্যাহত চেষ্টা করি। সেটা দলগত ফোরাম হোক কিংবা ব্যক্তিগত। এটা কতটুকু টেকসই কিংবা আসলেই বাস্তব কিনা, সেটা পরখ করি না। থিওরির অভাব আমাদের কোনো কালেই কম ছিল না।

আমি বলেছি:

আমি আমার কমেন্টের মধ্যে বলেছিলাম, আমার আশংকা যে আপনি পরিমাণগত এবং গুণগত পরিমাপের পার্থক্যটাকে ঠিক বিবেচনা করছেন কিনা। এখন আমার এই আশঙ্কাটাই সঠিক প্রমাণিত হলো। এই যে আপনি ‘অধিকতর ও ভালো প্রমাণ’ করার কথাটা বললেন, এটি আপনি কোয়ালিটি তথা ইনার পটেনশিয়ালের দিক থেকে বললেন, নাকি কোয়ান্টিটি তথা ফিজিক্যাল সেটআপের দিক থেকে বললেন, সেটা তো বুঝা গেল না। কোয়ালিটি তথা ইনার-পটেনশিয়ালিটির দিক থেকে নতুন উদ্যোগগুলো নিঃসন্দেহে বেটার ইনিশিয়েটিভ দ‍্যান দ্যা ট্রেডিশনাল অর্গানাইজেশনাল স্ট্রাকচার।

থিওরির অভাব সবসময়ই ছিল। যুগোপযোগী ও যথার্থ থিওরির কথা যদি আমরা বলি। সেজন্যই দেখা যায়, বেটার থিওরি যারা দিতে পেরেছেন তারাই শেষ পর্যন্ত অগ্রগামী, অগ্রণী হিসেবে টিকে থেকেছেন। বাকিরা হয়েছেন অচলায়তনের ইতিহাস।

আর, কোনটা সঠিক কোনটা ভুল, সেটা নির্ণয় করার পথ তো খুবই পরিষ্কার। কোরআন-হাদীসকে সামগ্রিকভাবে সামনে রেখে যদি আমরা উন্মুক্ত আলাপ-আলোচনা করি, তাহলেই বের হয়ে পড়বে who is what, and which is actually right।

উক্ত সংগঠনবাদী জামায়াত কর্মী বলেছেন:

জনাব, আমি আপনার সাথে এখানে একমত। আরো সংকোচন করলে আমার পোস্টেই বলেছি, জামায়াতের সমালোচনা করলেন ভালো কথা, বেরিয়ে গেলেন কিংবা বহিস্কার হলেন। তা আপনার কাছে বেটার কী আছে, সেটা তো এখনও জানলাম না বা দেখলাম না। এরপর না হয় কোয়ান্টিটি আর কোয়ালিটি বিচার করি? কী বলেন?

আমি বলেছি:

বিকল্প উদ্যোগ যারা নিচ্ছেন তাদের সম্পর্কে তো আমরা অলরেডি জানতে পারছি। আমার সম্পর্কে জানতে পারবেন আমার লেখাগুলা পড়ে। মঞ্জুদের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে পারবেন মঞ্জু এবং মঞ্জুর পূর্বসূরী, বিশেষ করে মরহুম কামারুজ্জামানের চিঠি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের ইতোমধ্যে প্রকাশিত লেখাগুলো পড়ে।

এখন, একটা গাছকে আপনি যেভাবে দেখেন, একটা বীজ বা একটা চারাকে তো সেভাবে দেখবেন না। একটা বীজ বা চারাকে যদি দেখতে চান, তাহলে আপনাকেও সেভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সুবহে সাদেক খুঁজে নিতে হয়, ভালো করে দেখতে হয়। দ্বিপ্রহরের সূর্যকে খুঁজতে হয় না এবং সেটাকে না দেখে থাকা যায় না।

উক্ত সংগঠনবাদী জামায়াত কর্মীর প্রত্যুত্তর:

আপনি এখন নিশ্চয় একমত হবেন যে ময়দানে থিওরির অভাব নেই। যত পন্থার কথা বললেন, কোনোটাই নতুন নয়। আর আপনার লেখা মূলত সমালোচনানির্ভর, মৌলিক পার্থক্য কম। সবাই বড়জোর সমালোচনা করেন, যেটা সহজ। আর অনেকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নেই। আবার মাঠ পর্যায়ের ডাটাবেজ নাই। এগুলো কনক্লুসিভ নয়। সরি।

আমি বলেছি:

আমার লেখার শিরোনাম হিসাব করলে সংখ্যা মোটের ওপরে ছয় শতাধিক। এর মধ্যে জামায়াতের সমালোচনামূলক লেখা হলো ৫০টির মতো। এমতাবস্থায়, আপনি কীভাবে বলতে পারলেন, ‘আপনার লেখা মূলত সমালোচনানির্ভর, মৌলিক পার্থক্য কম’? অথচ, ইসলামী আন্দোলন নিয়ে আমি যেসব তত্ত্ব দিয়েছি এবং যেগুলোর ভিত্তিতে আমি মাঠে ময়দানে কাজ করে যাচ্ছি, অ্যাক্টিভিজম করছি, সেসব আপনার চোখে পড়ছে না, সেটা আপনার সমস্যা। সেগুলোর সমমানের কোনো তত্ত্ব আপনি কি অন্য কারো লেখায় দেখাতে পারবেন? আমার লেখার সাথে আপনি একমত হোন বা না হোন, আমার কথাগুলা যে অত্যন্ত মৌলিক, তা কি আপনি অস্বীকার করতে পারবেন? অন্য কারো তত্ত্বকে আপনি বেটার মনে করতে পারেন, সেটা আপনার ব্যাপার।

আমি আপনাকে আমার কয়েকটা সাইট ও চ্যানেলের লিঙ্ক দিচ্ছি। এক নজরে সেগুলোর সূচিপত্রগুলো অন্তত দেখে নিবেন। এরপর ফারদার মন্তব্য করবেন।

cscsbd.com | cas.dorshon.com | dorshon.com | mozammelhoque.com | youtube.com/philosophyNlife | youtube.com/সামাজিকআন্দোলন

উক্ত সংগঠনবাদী জামায়াত কর্মীর মন্তব্য:

একটু কষ্ট করে বলেন, আপনার মৌলিক ভিন্নতা কী? পয়েন্ট বললেই হবে। আমাকে ধরে নেন আমি একজন ইউনিট লেভেলের কর্মী। আমাকে কনভিন্স করে নিয়ে আসেন।

উত্তরে আমি বলেছি:

কেউ কাউকে কনভিন্স করতে পারে না। শুধু নিজের অবস্থানটা অন্যদের কাছে পরিষ্কার করার চেষ্টা করতে পারে। যেটা আমি করেছি। আপনি দয়া করে আমার লেখাগুলোর শিরোনামগুলো অন্ততপক্ষে দেখবেন। এরপর আমার সম্বন্ধে আপনার করা মন্তব্যটি সঠিক হয়েছে কিনা সেটা নিজেই বুঝবেন। আশা করি।

উক্ত সংগঠনবাদী জামায়াত কর্মী লিখেছেন:

ওকে ভাই। আমি যে আপনার লেখা পড়ি নাই, তাও নয়। তবে আবার পড়ব। ইনশাআল্লাহ। আমি আমার পোস্টে থিওরির কথা বলিনি। আমি জানতে চেয়েছি, বিকল্প কী আছে? এটা at least like for like হওয়া চাই।

ফেসবুক থেকে নির্বাচিত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Noor Saroar: আলোচনাটা প্রতিটা জামায়াত কর্মীর নিকট কীভাবে পৌছানো যায়?

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: কী দরকার? ওরা তো ইচ্ছে করে ঘুমিয়ে আছে। তাদের জাগানো অসম্ভব। যারা ভুল বুঝে আছে, কিন্তু ঝগড়াপ্রবণ নন, তাদের সাথেই শুধু কথা হতে পারে। সংগঠনবাদীদের সাথে কথা বলা মানে নিজের মানকে ঝুঁকিগ্রস্ত করা। দুনিয়াতে কাজের কাজ বহু আছে।

Mazharul Islam: অনুরূপ পরিস্থিতির মুখে আমিও পড়ি মাঝে মাঝে। সবশেষে আমি যেটা বুঝলাম, সেটা হলো, সকল মানুষ চিন্তাশীল নন। শতকরা ৮০ থেকে ৯৯ ভাগ হবেন ‘অনুগত কর্মী’। বাকি ১ থেকে ২০ ভাগ হবেন চিন্তাশীল। চিন্তাশীল যারা আছেন, তারা কর্মপদ্ধতি ঠিক করবেন। অনুগতরা কর্মপদ্ধতিটা অনুসরণ করবেন। তাই আমি মনে করি, সবার সাথে সব ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করাও উচিত নয়। জ্ঞানের গভীরতা ও চিন্তার ব্যাপকতা না থাকার কারণে উনারা অযথা বিভ্রান্ত হন। আর ইসলামী আন্দোলনসমূহের নেতৃত্বে যারা আছেন, তাদের উচিত হলো, থিংকট্যাংক থেকে বুদ্ধি নেয়া, তাদের সাথে যোগাযোগ রেখে কর্মপদ্ধতির সংস্কারের দ্বার উন্মুক্ত রাখা। কর্মপদ্ধতি সময়ে সময়ে পরিবর্তন হওয়া আবশ্যক। একগুঁয়ে মনোভাব যারা পোষণ করেন, তারা নেতৃত্বদানের অযোগ্য।

M Shamsul Karim: জামায়াতের এহতেসাব সিস্টেম বা সমালোচনা করার পদ্ধতিটি ইসলামের সমালোচনা করার পদ্ধতিটিকে সম্পূর্ণভাবে ধারণ করে কি? জানালে বাধিত হবো। আমার মতে, এই এহতেসাব সিস্টেমটাই বিকল্প চিন্তার ধারণাকে তিরোহিত করে, আর লোকেরা মেকানিস্টিক এবং সংগঠনবাদী হয়ে উঠে।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: না, করে না। এ বিষয়ে আমার বইটাতে বেশ কিছু প্রাসঙ্গিক লেখা পাবেন– জামায়াতে ইসলামী: অভিজ্ঞতা ও মূল্যায়ন

M Shamsul Karim: Thanks for sharing. I will read.

Munim Siddiqui: Mohammed Lokman

Mohammed Lokman: ধন্যবাদ ভাই। আমি কোনো বিতর্কে না জড়িয়ে, সংগঠনের সাথে থেকে নিজের আমল-আখলাক উন্নত করার চেষ্টা করছি মাত্র। সংগঠনবাদী এবং অসংগঠনবাদী কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়।

কয়েক বছর আগে অধ্যপাক গোলাম আযমের নামে উনার একটি ভুল উদ্ধৃতির প্রতিবাদ করায় আমার কমেন্ট ডিলিট করেছিলেন। তারপর থেকে খুব একটা কমেন্ট করা হয় না প্রফেসর সাহেবের পোস্টে। তবে পড়া হয় জ্ঞানার্জনের জন্য।

আরেকটা বাস্তব সত্য হলো, জামায়াতের সুদিন থাকলে কিন্তু এ জাতীয় লেখার বড়ই অভাব হতো। 🙂

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: আপনার দেয়া সংশোধনীটাকে আমি গ্রহণ করেছিলাম এবং সে মোতাবেক মূল পোস্টে সংশোধন করে নিয়েছিলাম। এরপরেই আপনার মন্তব্যটি ডিলিট করেছিলাম। আমি ভেবেছিলাম, যেহেতু সংশোধনীটা গ্রহণ করা হয়েছে, সে জন্য বোধহয় এই নিয়ে আপনার সাথে আমার যে কথা হয়েছে সেটা আর না থাকলেও চলে। এখন বুঝতে পারছি, আপনি সেটাকে নেতিবাচকভাবে বিবেচনা করেছেন। আপনি বিষয়টাকে নেগেটিভলি নিবেন, সেটি তখন আন্দাজ করতে পারলে নিশ্চয়ই আপনার মন্তব্যটি ডিলিট করতাম না।

আর প্রফেসর গোলাম আযম সাহেবের বরাতে আমি যে কথাটি বলেছিলাম, সেটি তাঁর বইয়ে না থাকলেও আমি তো তাঁর মুখ থেকে সরাসরি শুনেছি। লিখতে গিয়ে আমি সেটা ভুলে তাঁর বইয়ের উদ্ধৃতি হিসেবে বলেছিলাম। যা আপনার দৃষ্টি আকর্ষণের প্রেক্ষিতে সংশোধন করেছিলাম।

Mohammed Lokman: জাঝাকাল্লাহ্।

Md Mahdi Hasan: প্লিজ, মূল লিখার লিংকটা দেন, যেখানে মার্জিত বাদানুবাদটা হয়েছে

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: এটি তো অনেক বছর আগের পুরনো ব্যাপার। এখন সঠিক মনে নাই। রেফারেন্স দিতে হলে খুঁজে দেখতে হবে।

Mohammed Lokman: বিষয়টি নিয়ে ২০১৬ সালের ২৭ মার্চ মেসেঞ্জারে উনার সাথে দীর্ঘ প্রায় ২০০০ শব্দের বাদানুবাদ হয়েছিল। আর্কাইভে আছে। তবে যেহেতু তা পার্সোনাল ছিল, তাই ওভাবেই থাক। 🙂

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: আপনার সাথে তখন যে কথা হয়েছিল, সেটি আবার এখন পড়লাম। আমার কাছে মনে হলো, আমাদের উচিত এই কথাগুলোকে পাবলিক করা। তাতে করে লোকেরা বুঝতে পারবে, হু ইজ হোয়াট। অন্তত আমার অবস্থান এতে করে পরিষ্কার হবে বলে আশা করি।

Mohammed Lokman: জ্বি, আমিও মনে করি আমার অবস্থান পরিস্কার হবে। আপনার সম্মানের প্রতি লক্ষ্য রেখে তখন পাবলিক করিনি। ঠিক সে দৃষ্টিকোণ থেকেই এবং আপনি কিছু মনে করবেন ভেবে ওভাবে থাকতে বলেছি। সুতরাং পাবলিক করতে চাইলে আমার দ্বিমত নেই। ধন্যবাদ।

[লেখাটি পড়তে ভিজিট করুন: একজন জামায়াত কর্মীর সাথে আমার মন্তব্য-যুদ্ধ]

Sabuj Kabir: জামায়াত এবং বাংলাদেশের বাকি সব ইসলামপন্থিদেরই একটা বড় সমস্যা হচ্ছে, তারা ইউটোপীয় চিন্তার জগতে বসবাস করেন। পৃথিবীর পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কেউ বাঁচতে পারে না। কিন্তু এরা মনে করে, ইসলাম পৃথিবী ও মানুষের মৌলিক ও মানবিক নিয়মগুলোর বাইরে একটি সমাজ কায়েম করবে।

Tanim Mahmud: ‘কামারুজ্জামানের চিঠি এবং জামায়াত সংস্কার প্রসঙ্গ’ বইটির ‘পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে নতুন কর্মকৌশল গ্রহণ সময়ের দাবি’ শীর্ষক লেখাটির চতুর্থ দফার প্রেক্ষিতে কথাটি বলছি। সেখানে বলা হয়েছে: “১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশের অনেকে ভারত বিভক্তি চায়নি, আবার অনেকে পাকিস্তান রাষ্ট্র চেয়েছিল, পরে ভারত বিভক্ত হয়ে গেলো, পাকিস্তান সৃষ্টি হলো, পাকিস্তান যারা চেয়েছে তাদের অনেকে ভারতে থেকে গেছে কিন্তু কেউ তাদেরকে স্বাধীনতাবিরোধী বলেনি এখনও বলছে না, ভারতে এখনো মুসলিম লীগ আছে কিন্তু বাংলাদেশে জামায়াতকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে স্বাধীনতাবিরোধী বলা হচ্ছে।

এখন আমার প্রশ্ন হলো,তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশ তথা বর্তমান ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্কের যে অসঙ্গতিগুলো ছিল, তার সাথে বিভক্ত হওয়ার পর সৃষ্ট পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যকার অসঙ্গতিগুলোর সাথে তুলনা করাটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত? পাকিস্তান বিভক্তি তো একদিনে হয়নি। বাঙালিরা তো প্রথমে স্বায়ত্বশাসন চায়নি, চেয়েছিলো স্বাধিকার। দীর্ঘ ২৩ বছরের শোষণ, নির্যাতন এবং ৭১-এ লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা ও মা-বোন ধর্ষণের ইতিহাসের সাথে ভারত বিভক্তির ইতিহাসের তুলনা করে স্বাধীনতাবিরোধী বলা নিয়ে মরহুম কামারুজ্জামান বা জামায়াতের বক্তব্যটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত? আমি যতটুকু জেনেছি, ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তিকালে অতটা বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়নি। কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে যে যুদ্ধটা হয়েছে তাতে সব মিলিয়ে তিন হাজারের মতো সৈন্য নিহত হয়েছে। পারলে উত্তরটা দেবেন।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: স্বাধীনতা বিরোধিতা করার অভিযোগটাকে মোকাবেলা করতে গিয়ে জামায়াতের লোকেরা নানা ধরনের কথাবার্তা বলে। যে সময় যে কথা যেখানে বলা যাবে, সেখানে তারা সেটাই বলেন। কোনটা যে তাদের প্রকৃত অবস্থান, সেটা বুঝা মুশকিল। আসলে একটা ভুল বা অন্যায়কে কেউ যখন সরাসরি কনফেস করার পরিবর্তে নানাভাবে একে লেজিটিমেট করতে চান, তখন তিনি এই ধরনের চতুর্মুখী কথাবার্তা বলে একটা অবস্থান গ্রহণ করতে চান। এ বিষয়গুলো অনেক বেশি স্পর্শকাতর, বিতর্কিত এবং বিস্তারিত আলোচনা সাপেক্ষ। তাই, এখানে আর বেশি কিছু বলতে চাচ্ছি না।

কামারুজ্জামান সাহেব জামায়াতের মধ্যকার বুদ্ধিজীবী ধারার লোক। যার কারণে জামায়াতের অভ্যন্তরে তিনি ছিলেন সংস্কারবাদী। কিন্তু দিনশেষে তিনিও ছিলেন জামায়াত, এ কথাটা আমাদের মনে রাখা দরকার। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি জামায়াতকে প্রকাশ্যে ডিফেন্ড করে গেছেন। যদিও ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় তিনি ছিলেন যথেষ্ট মুক্তমনা ও প্রগতিশীল ধ্যান-ধারণার অনুসারী। আমি জামায়াতের শীর্ষনেতা কামারুজ্জামানের অনুসারী নই। কিন্তু ব্যক্তি কামারুজ্জামানের আমি একজন ভক্ত, অনুরাগী ও অনুসারী।

প্রসঙ্গত একটি বিষয় এখানে উল্লেখ করা দরকার। সেটা হচ্ছে ভারত এবং পাকিস্তান স্বাধীন হতে গিয়ে কোনো প্রথাগত যুদ্ধ সংঘটিত না হলেও নানাভাবে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। আমার জানা মতে, পাক-ভারত উপমহাদেশের স্বাধীনতার জন্য অন্ততপক্ষে ২০ লক্ষ মানুষ নিহত হয়েছে। যদিও সুনির্দিষ্ট ফিগারটা আমার এই মুহূর্তে সঠিক মনে পড়ছে না।

Tanim Mahmud: ধন্যবাদ, স্যার। আমার মনে হয়, আমি খাঁটি উত্তরটা পেয়েছি।

 লেখাটির ফেসবুক লিংক

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলোসফি পড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম। থাকি চবি ক্যাম্পাসে। নিশিদিন এক অনাবিল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি। তাই, স্বপ্নের ফেরি করে বেড়াই। বর্তমানে বেঁচে থাকা এক ভবিষ্যতের নাগরিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *