একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের অভিজ্ঞতায় দস্তারবন্দী সম্মেলন

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন এমন কেউ খুব সম্ভবত কখনো পার্শ্ববর্তী কোনো মাদ্রাসায় কখনো ‘কী হচ্ছে বা হয়’ তা দেখার জন্য যাননি। কখনো গেলেও ওই মতের বা পথের তথা তরীকায় হওয়ার কারণে তিনি অতিথি হিসাবে গিয়ে থাকবেন হয়তো। একজন নিতান্ত সাধারণ পারটিসিপেন্ট হিসাবে গত রাতে পার্শ্ববর্তী এক মাদ্রাসার দস্তারবন্দী শতবার্ষিকী সম্মেলনে গিয়েছিলাম। কয়েক ঘণ্টা ছিলাম। সে সম্পর্কে আমার অনুভূতি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।

মাদ্রাসা শিক্ষার প্রসার: আমার দৃষ্টিতে বাংলাদেশে মাদ্রাসা ব্যবস্থা এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী। এই শিক্ষা ব্যবস্থা ক্রমান্তয়ে বিস্তার লাভ করছে। এর কারণ হলো –

(ক) এই ব্যবস্থা মানুষের ধর্মীয় সেন্টিমেন্টের চাহিদা পূরণ করছে।

(খ) শিক্ষার প্রতি ইন জেনারেল মানুষের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থা মান ও পরিমাণের দিক হতে এই চাহিদা পূরণ করতে না পারায় মাদ্রাসা শিক্ষার এই বিকল্প ব্যবস্থা ক্রমান্বয়ে উন্নতি লাভ করছে।

(গ) মাদ্রাসা শিক্ষিতদের বিশেষ করে কওমী ধারার আলেমদের সবচেয়ে ভালো কর্মসংস্থান হলো মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করা। তাই কষ্ট করে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হলো তাদের পেশাগত সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা। এতে সব দিকই রক্ষা হয়।

(ঘ) সবচেয়ে বড় কথা হলো মাদ্রাসাতে পড়ার খরচ অনেক কম। স্মর্তব্য, কওমী মাদ্রাসায় কোনো খরচ নাই বলে যারা মনে করেন তাদের ধারণা ভুল।

এই বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থার শেকড়: ইংরেজী শিক্ষিতরা সাধারণত মনে করে, মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার শিকড় ততটা গভীর নয়। গরীবের ছেলেমেয়েরা ওতে পড়ে, সম্ভবত এ কারণে। অথচ আবহমানকাল হতে বাংলাদেশ হলো মসজিদ-মাদ্রাসার দেশ। একজন ইসলামপন্থী হিসাবে এটি আমার নিতান্তই ব্যক্তিগত অতিশয়োক্তিমাত্র নয়। এটি হলো একাধারে ঐতিহাসিক ও এ মুহূর্তের বাস্তবতা। যারা বুঝেন না, তা তাদের সীমাবদ্ধতা। এমনকি শহরের পাবলিক স্পেস থেকে শুরু করে অভিজাত এলাকার মসজিদসমূহ ও হাইরাইজ বিল্ডিংগুলোর মসজিদসমূহে মুসল্লীদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যার দিকে লক্ষ করলে এটি যে কারো পক্ষে টের পাওয়া সম্ভব।

মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি বিরূপ মনোভাব: তাই, কেবলমাত্র গ্রামেই মসজিদ-মাদ্রাসার প্রভাব বেশি – এমনটা মনে করা ভুল। কোনো ধরনের সরকারী সাহায্য ছাড়াই বিশেষ করে কওমী মাদ্রাসাগুলো যেভাবে চলছে ও বড় হচ্ছে তা এক কথায় বিস্ময়কর ব্যাপার। আমাদের সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে যে ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক অনৈতিকতার চর্চা হয় তার তুলনায় মাদ্রাসার অবস্থা আসলেই অনেক ভালো। দুঃখজনক হলেও সত্য, মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি সেক্যুলার ব্যবস্থায় শিক্ষিত সেক্যুলার ও ইসলামপন্থী উভয় ধরনের উচ্চশিক্ষিতদেরই দৃষ্টিভঙ্গি যথেষ্ট সংকীর্ণ ও নেতিবাচক।

মাদ্রাসা ও মাহফিল আমাদের লোকজ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ: মাদ্রাসা শিক্ষাকে যতটা ফর নাথিং মনে করা হয়, আসলে ব্যাপারটা সে রকম নয়। আবহমান বাংলার লোকজ সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিক চেতনা এবং সামাজিক ঐতিহ্যকে মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা ধারণ, লালন ও চর্চা করে। প্রগতিশীল বন্ধু কাছে এটি যতই অসহনীয়-অবাস্তব মনে হোক না কেন, এ সংক্রান্ত যে কোনো স্কেলেই এ কথা যাচাই ও নিশ্চিতকরণ সম্ভব। মসজিদ-মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে যেসব অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় তা আমাদের সমাজে বিদ্যমান ভালো-মন্দ উভয় ধরনের উপাদানই এখানে স্পেস তথা প্রকাশের পথ খুঁজে পায়। লোকজ মেলা উদযাপিত হয় এমন জায়গাগুলোর একটি হলো মাদ্রাসাগুলোর বার্ষিক সভা ও ওয়াজ মাহফিল। বর্ষাকাল কেটে গেলে কিছু একটা ‘উৎসব’ পালন করার যে গ্রামীণ সংস্কৃতি, মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ওয়াজ মাহফিল ও বার্ষিক সভাগুলোতে সেটার স্পষ্ট রিফ্লেকশন দেখা যায়।

মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি গণসমর্থন: বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী ইসলামিয়া হাটে অবস্থিত মাঝারি আকারের এই মাদ্রাসায় গতকাল অনুষ্ঠিত দুদিনব্যাপী ‘শতবার্ষিকী দস্তারবন্দী সম্মেলনে’ ৮০টি গরু, ৯৬টি ছাগল এবং অনুরূপ পরিমান হাস, মুরগী ও খাদ্যদ্রব্য স্থানীয় লোকেরা দান করেছে। দিন-রাত এলাকার সকল মানুষ গণহারে সেখানে খেয়েছে। আমিও খেয়েছি। পুরো মাদ্রাসা জুড়ে প্রতিটা রুমে রুমে এমনকি ছাদের উপর প্যান্ডেল টানিয়ে খাওয়া দাওয়া হচ্ছে। কোন এলাকার মানুষ কোন রুমে বা কোথায় খাবে তা নির্ধারণ করে দেয়া আছে। অত্যন্ত সুশৃংখলভাবে হাজার হাজার লোক খাচ্ছে। তাতে দেখা যাচ্ছে এ ধরনের অনুষ্ঠানগুলো ব্যাপকভাবে পাবলিক সাপোর্টেড ও পার্টিসিপেটেড।

ওয়াজ শুনে কারা? সেখানে আলোচনা করেন আশপাশের ও দূরদূরান্ত থেকে আগত নামীদামী হুজুরেরা। এইসব ওয়াজ শুধুমাত্র মাদ্রাসার ছাত্ররাই শোনে, এমনটা কেউ ধারণা করলে তা হবে নিতান্তই ভুল। সন্ধ্যার পর হতে ক্রমে মাহফিল জমে ওঠে। এশার নামাজের পরে ভীড় বাড়ে। তাতে বুঝা যায়, স্থানীয় কর্মজীবী মানুষেরাও এসব অনুষ্ঠানে ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেন।

কনভোকেশন ও দস্তারবন্দী: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেসব কনভোকেশন অনুষ্ঠান হয়, হুবুহু সে রকম আবহে ও আমেজে তাদের শিক্ষা সমাপনের নিদর্শন ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসাবে পাগড়ি প্রদান তথা দস্তারবন্দী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আমার কাছে মনে হয়নি যে, তাদের এই শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানের রীতি থেকে অনুকরণ করা। যদ্দুর শুনেছি, হাজার বছর পূর্বেও, এক কথায়, মাদ্রাসা শিক্ষা প্রবর্তিত হওয়ার সময়কাল থেকেই এ ধরনের অনুষ্ঠান প্রায় নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

নেতিবাচক যেসব দিক:

নারীবিরোধী (sexist) মনোভাব: মাদ্রাসাকেন্দ্রিক যত অনুষ্ঠানে আমি গিয়েছি তাতে ‘নারী প্রজাতি’র একটা বিরাট অংশ যে আমাদের সমাজে রয়েছে, তা ওসব অনুষ্ঠানে বুঝার কোনো উপায় নাই। অর্থাৎ এসব অনুষ্ঠান, উৎসব, আয়োজন, খাওয়া-দাওয়া, হেদায়াত বিতরণ-গ্রহণ – এসব কিছুই যেন পুরুষরদের জন্য সংরক্ষিত।

হুজুরদের আলোচনায় অবশ্য বক্তব্যের বিষয় হিসেবে নারীদের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে নারীদের ‘বেলাল্লাপনার বিবরণের’ সয়লাবে মাতৃত্বের মর্যাদার আলোচনা মাঝে মাঝে উঁকি দেয় মাত্র। অমুসলিম কিংবা সেক্যুলারদের উপস্থিতি তো অকল্পনীয়। এমনকি মাহফিলে ধর্মপ্রাণ নারীদেরও কোনো উপস্থিতি নাই। দেশে চলমান মেট্রিক পরীক্ষার এই সময়ে কয়েক কিলোমিটার ব্যাপী কান ফাটানো মাইকের আওয়াজই তাদের, অর্থাৎ হেদায়েত প্রত্যাশী নারীদের একমাত্র ভরসা…!!!

সহশিক্ষা পদ্ধতির বিপক্ষ যুক্তি: সহশিক্ষা কায়েম না করলে সুশিক্ষা হবে না – এটি আমার বক্তব্য নয়। ভুল বুঝবেন না আশা করি। কলেজে ছেলে না থাকায় সাজুগুজুর জন্য এক্সট্রা সময় দিতে হয় নাই। তাই লেখাপড়ায় বেশি মনোযোগ দেয়া গেছে। হিলারি ক্লিনটন তার ‘লিভিং হিস্ট্রিী’র এক জায়গায় এটি উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া প্রতি বছর আমাদের দেশে পাবলিক পরীক্ষাসমূহের ফলাফলে গড়পরতা ভালো রেজাল্টের দিক থেকে একক পদ্ধতির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একচেটিয়া প্রাধান্য থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, শিক্ষা ও যৌনতা চর্চার সম্পর্ক বিপরীত অনুপাতের।

প্রান্তিকতা ভালো কিছু নয়: কিন্তু তাই বলে শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে একচেটিয়া পুরুষতন্ত্র কায়েম করাকে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। আমার বুঝে আসে না নারীদেরকে যথাসম্ভব মাইনাস করে, ডেমোনাইজ করে কীভাবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ তারা কায়েম করতে চান…!!! যে কোনো বৃহত্তর আঙ্গিকে আয়োজিত সামাজিক অনুষ্ঠানে নারীদের একসেস বা প্রবেশাধিকার থাকতে হবে। সেটি স্থান-কাল-পরিবেশ ভেদে নিম্নের যে কোনো প্রকারে হতে পারে:

১. নারী-পুরুষ একই প্যান্ডেলের নিচে পাশাপাশি বসবে, অথবা

২. নারীরা আলাদা সামিয়ানার নিচে বসবে। সেক্ষেত্রে প্রজেক্টর দিয়ে তাদেরকে বক্তা ও সমাবেশের ছবি দেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সাউন্ড সিস্টেম একই থাকবে। তা না হলে

৩. অন্ততপক্ষে ভিন্ন ভেন্যুতে নারীদের জন্য সমমানের এক্সক্লুসিভ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে।

এতো গরু-ছাগল কোত্থেকে আসে? দুর্নীতিবাজ, চোরকারবারী ও দুষ্ট প্রকৃতির লোকদের কাছে এইসব উৎসব-অনুষ্ঠান এক ধরনের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের উপায়। সেজন্য তারা দেদারসে গরু-মহিষ পাঠাতে থাকে। টাকা দেয়। চেয়ারম্যান-মেম্বারা স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতা হিসাবে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেয়ার মাধ্যমে নিজেকে ধোয়া-তুলসী পাতা হিসাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে। পবিত্র ধর্মের এ রকম অপব্যবহার সত্যিই বেদনাদায়ক। মাদ্রাসার মুহতামিম ও বড় হুজুরেরা জেনেশুনেই মসজিদ-মাদ্রাসার অনুষ্ঠানকে অসৎ লোকদের এহেন সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা লাভের সুযোগ হিসাবে ব্যবহার করাটাকে মেনে নেন। এটি হলো ‘নুসরা ফর্মূলা’। অর্থাৎ দ্বীনি কাজে বাতিলের সহযোগিতা নেয়ার অনুমোদন। ব্যাপারটা দুঃখজনক এবং মাদ্রাসাসমূহের সামাজিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা। এ যেন এক গোলক ধাঁধাঁ বা vicious circle।

বক্তৃতার কন্টেন্ট: মাহফিলের বক্তারা নানা রকমের গালিগালাজ, আক্রমণাত্মক ভাষা ও নিম্নমানের কেচ্ছা-কাহিনী দিয়ে শ্রোতাদেরকে মাতিয়ে রাখেন। ঈমান, ইসলাম, আখেরাত, সুন্নত, বেদআত ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের কোনো গঠনমূলক বক্তব্য আমি আজ পর্যন্ত শুনি নাই। অথচ আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সা) ধীরে ও স্পষ্টভাবে কথা বলতেন। সত্যিকারের দরদী মনে বুঝানোর চেষ্টা করতেন। ইনারা যেন জেট ফুয়েলে চলেন। শুরুতেই ১৮০ কিলোমিটার স্পীড…!!

রাজনীতির কালো ছায়া: ঢাকায় হেফাজতের অনুষ্ঠানে সরকারী ক্র্যাকডাউনের পরে হেফাজতে ইসলামকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের জন্য আমি বিএনপি ও জামায়াতকে দোষারোপ করে তখন নোট লিখেছিলাম। এখনো তাই মনে করি। রাজনৈতিক উত্থান-পতনের বাইরে সামাজিক ইসলামকে রক্ষা করার জন্য একটা ঐক্যবদ্ধ প্লাটফরম থাকা জরুরী। হেফাজতে ইসলাম তা হতে পারতো। হতে পারতো বললাম এ জন্য যে এ নিয়ে আমার মধ্যে ইতোমধ্যেই শংকা তৈরী হয়েছে। নতুন যে বিপদ গতকাল ইসলামিয়া হাট মাদ্রাসার অনুষ্ঠানে গিয়ে টের পেলাম, তা হলো হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে এই অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠনের ফোরাম থেকে ক্লিয়ারলি রাজনৈতিক বক্তৃতা প্রদান এবং রাজনৈতিক ঢংয়ে কথাবার্তা বলার ব্যাপারে বক্তাদের আগ্রহ। চিরায়ত ধর্মীয় একটি ব্যবস্থার এ ধরনের অপরিণত রাজনৈতিকীকরণ সবদিক থেকেই বিপদজনক বলে মনে হলো।

বইয়ের দোকান: সম্মেলন স্থলের আশপাশে অনেক দোকান বসেছে। তাতে কেনা বেচা হচ্ছে। আশপাশে একটা উৎসব-উৎসব ভাব। তার মধ্যে ছয়-সাতটি বইয়ের দোকানও ছিলো। সেসব দোকানে সুন্দর ছাপার অনেক ইসলামী অনুবাদ বই দেখা গেল। মৌলিক ও অনুবাদ গ্রন্থ মিলিয়ে যেসব বই দেখলাম তার একটা বিরাট অংশই হলো ‘জাকির নায়েক কতো খারাপ’, ‘মওদূদী-খোমেনী ভাই-ভাই’, ‘তাবলীগ কতো জঘন্য’ অথবা ‘হানাফী মজহাবের বিরুদ্ধে অভিযোগের জওয়াব’ কিম্বা ‘আহলে হাদীসরা কীভাবে খারিজ’ অথবা ‘মা-বোনদের ঘরে থাকাই বেহেস্তে থাকা’ টাইপের প্রপাগান্ডামূলক লেখা। অন্যান্য ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও সংগঠনের প্রতি বিষেদগারমূলক এসব লেখাই দেখলাম বেশি বিক্রি হচ্ছে। এতগুলো বইয়ের দোকান দেখে যা ভালো লাগলো, এসব গালাগাল বা বিদ্বেষমূলক সাহিত্য (hate literature) দেখে তারচেয়ে বেশি মন খারাপ ও হতাশাবোধ হলো।

মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের অভিজ্ঞতা: গত রাতে কওমী মাদ্রাসার এই সম্মেলনের পরে আজ সকালে একটি ব্যক্তিগত কাজে মাইজভান্ডার দরবার শরীফে গিয়েছিলাম। সেখানে যা দেখলাম তা এক কথায় ভয়াবহ। মাইজভান্ডার দরবার শরীফ বড় ফুফুর বাড়ি হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই সেখানে যাওয়া-আসা আছে। বহু বছর পরে আজকে প্রধান মাজার দুটি ও ‘মঞ্জিল’গুলোর ভিতরে ঢুকে দেখলাম। সেখানে যা হয়, তা শিরক-বেদআত হওয়ার ব্যাপারে কারো যদি বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকে তাহলে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, ‘ইসলামে আদৌ শিরক-বেদআত বলে কিছু নাই’…!!! সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ তার ‘লালসালু’ উপন্যাসে যে মাজার-ব্যবসায়ী মজিদ মিয়ার কাহিনী বর্ণনা করেছেন তা এতটা জীবন্ত মনো হলো যে, ভাবলাম, জীবিত ও দাপুটে ‘মজিদ মিয়াদের’ দেখতে চাইলে মাইজভাণ্ডার অথবা যে কোনো দরবার শরীফে যে কোনো সময়ে আপনি ‘সওয়াবের নিয়তে’ ভিজিট করতে পারেন।

শিক্ষার জন্য ভ্রমণ: হ্যাঁ, শিক্ষার জন্য ভ্রমণকে আল্লাহ তায়ালা উৎসাহিত করেছেন (‘সি-রু ফিল আরদি, ফানজুরু কাইফা কা-না আ-ক্বিবাতুল মুকাজজিবি-ন’)। সত্যিকারের ঈমানদারদের ঈমান এসব জায়গায় গিয়ে তাজা হবে, অনেকগুণ বাড়বে – তা আমি হলফ করে বলতে পারি। তুচ্ছ হলেও সবচেয়ে হাস্যকর যে ব্যাপার আমার নজরে পড়েছে তা হলো – দিনে দুপুরে সারি সারি মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখা। আহমদিয়া মঞ্জিলের সামনে আমি যখন ছিলাম তখন বেলা বারোটা। মাথার উপর ঠা ঠা রোদ। নিচে ভক্তরা সারি সারি মোমাবাতি জ্বালিয়ে রেখেছেন। এবং ক্রমাগত জ্বালিয়ে যাচ্ছেন…!!

মাজারে নারীদের উপস্থিতি: হুজুরেরা মসজিদে নারীদের প্রবেশাধিকার অনুমোদন করেন না। বিশেষ করে একই ফ্লোরে। কিছু কিছু মহিলা মাদ্রাসার সাইনবোর্ড দেখা যায়। বিশেষ করে দক্ষিণ চট্টগ্রামে। সেসবের শিক্ষামান, পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আমি বলতে পারবো না। অবশ্য কোনো মহিলা মসজিদ কোথাও থাকার ব্যাপারে আমার কাছে কোনো তথ্য নাই। শুনেছি, চীনে নাকি এ রকম মহিলা মসজিদ আছে। আমাদের দেশেও হতে পারে।

যাহোক, এই পয়েন্টের শিরোনামে যেমনটা বলেছি, মাজারে কিন্তু নারীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করেছি। ‘বেলাল্লা মেয়েগুলো’ মাজারে এসে কেমন যেন সুবোধ বনে যায়…! কবরস্থানে যদি মেয়েরা সওয়াব ও পবিত্রতা হাসিলের উদ্দেশ্যে যেতে পারে তাহলে আল্লাহর ঘর মসজিদসমূহে তারা কেন যেতে পারবে না? আমার বুঝে আসে না…!!

উত্তরণের উপায়: যাহোক, বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে, আরো বিশেষ করে বললে উত্তর চট্টগ্রামের মাজার, উরশ ও তথাকথিত ফাতেহার এই অপসংস্কৃতি রোধ করার একমাত্র পথ হলো, এসব বিষয়ে কোনো কথা না বলা। ভক্তদের সাথে এনগেজ না হওয়া। কিন্তু ধীরে ধীরে এসব অঞ্চলে সরাসরি অর্থসহ কোরআন ও হাদীসের অনুবাদ এবং সীরাতে রাসূল (সা) পঠন-পাঠনের ব্যবস্থা করা। মওদূদী সাহিত্য তো নয়ই, এমনকি ইবনে তাইমিয়াকেও কোনো আলোচনায়-কথায় রেফার না করা। বরং এসব বিতর্ক থেকে যথাসম্ভব দূরত্ব বজায় রেখে জায়গায় জায়গায় পাঠাগার গড়ে তুলে বিতর্ক নাই এমন তাফসীর, সিহাহ সিত্তাহ ও সীরাত পড়ার প্রচলন করা। আশা করা যায়, কিছু সৎ বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি, বিশেষ করে তরুণদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ এতে এক পর্যায়ে সাড়া দিবে। এই পদ্ধতি হলো মন্দকে সরাসরি উৎপাটনের চেষ্টা না করে ভালোকে তুলনামূলকভাবে নির্বিরোধ উপায়ে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা। এছাড়া এ জটিল রোগের অন্য কোনো কার্যকর চিকিৎসা আমার জানা নাই। পাগলকে পাগল না বলাই তাকে ভালো করার প্রথম উপায়।

প্রয়োজন পারষ্পরিক স্বীকৃতির: বাংলাদেশে সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা তথা স্কুল-কলেজ ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা যেমন মসজিদ, মাদ্রাসা, মাজার, উরশ, ওয়াজ মাহফিল – এ দুটো ধারাই যথেষ্ট শক্তিশালী এবং দিন দিন নিজেদের মতো করে অধিকতর শক্তিশালী হচ্ছে। দিনশেষে কোনো একটি ধারা অন্যটিকে নিশ্চিহ্ন তো দূরের কথা, দুর্বলও করতে পারছে না। পারবেও না। ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে আমরা যারা নিজেরা চলতে চাই ও সমাজকেও গড়তে চাই তারা যে ধারা থেকেই উঠে আসুন না কেন আমাদের চিন্তা-চেতনা-মননে উভয়ের গঠনমূলক দিকগুলোর আন্তরিক উপলব্ধি ও স্বীকৃতি থাকা জরুরি। এই দুই ধারার গঠনমূলক দিকগুলোর পারস্পরিক স্বীকৃতির (mutual inclusion) কোনো বিকল্প নাই।

টেকসই ইসলামের জন্য উভয় সেক্টর হতেই সমর্থন থাকা জরুরি: তথাকথিত সমন্বিত ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার চিন্তা ও প্রচেষ্টা তাই আমার দৃষ্টিতে একেবারেই অবাস্তব ও অকার্যকর একটা ইউটোপিয়া। ‘জ্ঞানের ইসলামীকরণ’ প্রকল্পকে তাই আমি একটি নির্দোষ ভুল বলে মনে করি। প্রত্যেককে যার যার জায়গায় রেখে এক ধরনের মুখ দেখা-দেখি ও কিছুটা আদান-প্রদানই হলো উত্তম ও বাস্তবসম্মত কর্মপন্থা। আফসোস লাগে, চট্গ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দলনিরপেক্ষ কিংবা দলসংযুক্ত কয়েক শত ইসলামপন্থী শিক্ষকদের কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অর্থাৎ বিনা দাওয়াতে একাত্মতা প্রকাশ বা তাদেরকে উদ্ধার করার জন্য কখনো পার্শ্ববর্তী কোনো মাদ্রাসায় কখনো ভিজিট করেন নাই! ইন আইদার সিচুয়েশান এই ধরনের যোগাযোগ হওয়াটা কাংখিত ছিলো। এজেন্ডা যেহেতু ইসলাম। বলাবাহুল্য, ইসলামের বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় হতে আসলেও বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইসলাম মাদ্রাসা হতে উদ্ভূত এবং এখনো এগুলো দ্বারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রিত।

শেষ কথা: কিছুদিন আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমাবর্তনে যে হৈ হৈ রৈ রৈ ব্যাপার, উৎসব, অনুষ্ঠান আয়োজন, ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা, রাষ্ট্রপতির বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর ছোটাছুটি দেখা গেলো। তার কদিন পরেই মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত ইসলামিয়াহাট মাদ্রাসার অনুষ্ঠানে এসে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্রই চোখে পড়লো। উৎসব-অনুষ্ঠানের প্রাণ চাঞ্চল্য, শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি ইত্যাদি অবশ্য কমন। যেন দোল পূর্ণিমা কিংবা দূর্গা পূজা অথবা ঈদ অনুষ্ঠানের মধ্যকার এক ধরনের সাযুজ্যতা। উৎসবের আমেজ। এবং তা একই ফ্লেভারের। অথচ মত, পথ ও চিন্তাচেতনা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সবাই যেন নিজ নিজ বলয়ে বসবাস করছে। তবুও কেন ও কীভাবে যেন সবই পাশাপাশি চলছে। এসব কিছু নিয়েই এ দেশ, আপনার আমার সবার প্রিয় বাংলাদেশ। এসব কিছু নিয়েই আমরা শেষ পর্যন্ত এক। মানুষ পরিচয়ে।

ফেসবুকে প্রদত্ত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য:

Shimu: খুবই গঠনমূলক লেখা ভাইয়া। অনেক ধন্যবাদ সবার সাথে শেয়ার করার জন্য। আসলে অনেকগুলো গ্যাপ তৈরি হয়েছে, যেগুলো পূরন করলে অনেক রেষারেষির অবসান ঘটানো যেত।

Mazharul Islam: সুন্দর লেখা। তবে আরেকটি প্রসঙ্গ এখানে আনা যেত। সেটা হল, আমাদের মাদরাসাগুলোতে প্রাচীন আমলের কতিপয় কিতাব পড়ানো হয়। এতে সীমিত জ্ঞানের মোল্লা তৈরি হচ্ছে। হানাফি ছাড়া বাকি সব ভ্রান্ত – এমন উদ্ভট আকিদা ছড়ানো হচ্ছে। (এ কারণেই এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের বিরুদ্ধে বই লেখে আর বিদ্বেষ ছড়ায়)। আমি তুলনা করতে চাই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের সাথে। আল আযহারের একজন ছাত্রের সাথে আমার কিছু আলোচনা হয়েছিল। তাদের জ্ঞানের পরিধি অনেক ব্যাপক। মানসিকতাও উদার।

Aminul Islam: মনে হয় ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন।

“আমাদের মাদরাসাগুলোতে প্রাচীন আমলের কতিপয় কিতাব পড়ানো হয়।”

প্রাচীন হলেই বর্জনীয় এমন কোন কথা নেই। আপনি এই সাইটটা ঘুরে আসতে পারেন। সেখানে কিছুটা হলেও কি কি গ্রন্থ পড়ানো হয় তা আছে– http://e-ilm.weebly.com/2470248024882503-247224952460249424782496.html

হ্যা, কিছুটা সত্য। যেমন দর্শন/ফালসাফা/ফিলসফি নিয়ে যা পড়ানো হয় তার অধিকাংশই প্রাচীন। মধ্যযুগে গ্রীক দর্শন থেকে যে চিন্তা ইসলামী অঞ্চলে আসছিলো সেগুলো কেউ ইসলামিকরণের চেষ্টা করছিল, আর কেউ ইসলামের নিজস্ব চিন্তা “শাস্ত্র” আকারে দাঁড় করাচ্ছিলো। পাশাপাশি গ্রীক দর্শনের প্রভাবে ইসলামি চিন্তার উপর আক্রমণের জবাবও দিচ্ছিল। দ্বিতীয়টা নিয়ে লেখা গ্রন্থগুলোর মধ্য অনেকগুলোই এখনও সিলেবাসভুক্ত আছে। এখানে সংস্কারের প্রয়োজন আছে। চিন্তার বিকাশ এবং সে সূত্র ধরে “নতুন চিন্তা” উদ্ভব হয়েছে, বলতে গেলে এখনও প্রতিদিনই নতুন তত্ত্ব আসছে। সেগুলো নিয়ে আরব/ইউরোপে প্রচুর কাজ হচ্ছে। সিলেবাসও সংস্কার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু আমাদের অঞ্চলে এটা নিয়ে কোন কাজই হচ্ছে না। যার কারণে…

এ ছাড়া অন্যান্য বিষয় যেমন– “ফিকহ”, এটার মধ্যে প্রাচীন-আধুনিক কিছু নেই। মূল বিষয়গুলো তো একই। শাখা-প্রশাখায় যে আধুনিক বিষয়গুলো আসছে সেগুলো নিয়ে সিলেবাসে আলোচনা আছে। শুধু এ বিষয় নিয়ে গবেষণা করার জন্য ২/৪ বছরের অধ্যায়ন করতে হয়, যেটা “ইফতা” বলে। মোটকথা এটা নিয়ে প্রাচীন থাকায় কোন সমস্যা হাজির হয় না। “হাদিস, তাফসির, সিয়াসাত/রাজনীতি, ইকতেসাদ/অর্থনীতির ব্যাপারটাও একই। এসব আলাদা শাস্ত্র। কেউ যে কোন এক বিষয় নিয়ে পড়তে পারে।

“সীমিত জ্ঞান” ব্যাপারটা আপেক্ষিক। “হানাফি ছাড়া বাকি সব ভ্রান্ত” এমনটা আমার জানা মতে শুধু এই উপমহাদেশে না, বরং পৃথিবীর কোথাও শিখানো হয় না। বিশেষত হানাফি প্রাধান্য অঞ্চলগুলোয়।

“আমি তুলনা করতে চাই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের সাথে।”

আমাদের অঞ্চলগুলোর মাদ্রাসা (আমাদের অঞ্চল বলতে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্থান) আর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্য বিস্তর পার্থক্য আছে। যেমনটা ঢাবি-হাটহাজারির মধ্যকার পার্থক্য।

“তাদের জ্ঞানের পরিধি অনেক ব্যাপক। মানসিকতাও উদার।”

এদের জ্ঞানের পরিধি জানতে হলে তো এদের লেখা পড়তে হবে। এই সাইটটা ঘুরে আসতে পারেন– https://besturdubooks.wordpress.com/

এই ভিডিওটা দেখতে পারেন– https://www.youtube.com/watch?v=QtOmqbGTAKc

Sayed Mahbub Tamim: উত্তরণের পথ হিসেবে কোরআন-হাদীসের যে মৌলিক চর্চার কথা বলা হল,
কাদের দ্বারা সেটা বাস্তবায়ন হবে? এই চিন্তা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু?

Mohammad Mozammel Hoque: যারা এই এলাকার লোক তাদেরই এই উদ্যোগ নিতে হবে। এই মনে করুন, আমার মতো যারা।

Mohammad Abdullah Arafat: ১) মাহফিলে আমিও ছিলাম। অন্তত ২য় দিনের অধিবেশন ছিল অসাধারণ। এই দিনের মাহফিল আপনি মিস করেছেন। তবে আমি লক্ষ্য করেছি, পার্শ্ববর্তী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত কি জঘন্যভাবে কওমী মাদরাসার মাহফিলে গন্ডগোল সৃষ্টি করেছে আজকে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছে।

২) বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমাবর্তন থেকেও দস্তারবন্দী সম্মেলনগুলো অনেক ইফেক্টিভ। এখানে সবাইকে একই চোখে দেখার একটা প্রবণতা দেখা যায়।

৩) আমি এখনো আমার ফিমেইল রিলেটিভসদের দেখি তারা মাইকের আওয়াজে মাহফিল শুনে। তা শুনে আমলও করে। তবে ইয়াং এজের ফিমেইলগুলার সেই প্রবণতা খুবই কম। আচ্ছা, ধরুন, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একটা মেয়ে মাহফিলে গেল। সেখানে হুজুর বললেন, মেয়েদের বেগানা পুরুষদের থেকে দূরে থাকতে হবে? এটা মানা কি ওই মেয়ের পক্ষে সম্ভব। এটা ছেলের জন্যও।

আজকে “ভারত” থেকে যে মাওলানা আসছেন, উনি খুব কম আরবি ব্যবহার করেছেন। উর্দু/হিন্দী দিয়েই তার বক্তব্য রেখেছেন। তার লেভাস ছিল, “ম্যারা দুস্ত” … এই রকম। আবার দেশীয় মাওলানাগুলো বাংলার সাথে যতবেশী আরবি মেশায়, তা আমাদের মনে কতটুকু যায়!

এটা নিশ্চিত যে মাদরাসার স্টুডেন্টসগুলোর উপর মানুষের ও আল্লাহর যে রহমত তার অর্ধেকও উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠি পায় না।

এটা নিশ্চিত, কওমী মাদরাসাগুলো যে গতিতে আগাচ্ছে তা অতুলনীয়। সেদিন জিরি বা পটিয়া মাদরাসার এক হুজুরের অর্থনীতি ও বিশ্ব ব্যাংকিং নিয়ে যে জ্ঞানের আলোচনা করলেন তা আমি খুব কম মানুষের নিকট দেখেছি।

M Nur Nobi: In short, it’s a nice write up with good observations. But, none of the stakeholders (general education group, madrasa and so called sufism) will consider the perspective you analyzed to mitigate the anomaly in their own world. Everyone is extreme in their own radious of thinking, none of them consider from outside the box and that’s the irony of truth.

Mohammad Mozammel: Hoque well, if nobody is doing the right thing, why not me? That’s all of my position. Actually question is what is the right thing. in matters of such polytheism and innovation, the popular ‘right thing’ is to oppose the sinners with authentic reference. but my suggestion, as I have put in the above note, is to avoid this. instead let them get the practice to take anything only on basis of Quran and hadith. this type of basic reconstruction will give them a foundation of the proper understanding of Islam.

লেখাটির ফেসবুক লিংক

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে পড়াই। চাটগাইয়া। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *