আমি কে?

আমি হলাম মাহবুবউল আলম (মহব্বত)-এর ছেলে আর কুলসুমা খাতুন (কুসুম)-এর পুত্র। খাঁটি চাটগাঁইয়া। দশ ভাই-বোনের মধ্যে আমার সিরিয়াল ছয় নম্বরে। ভাইদের মধ্যে তিন নম্বরে আমার পজিশন। সেই হিসাবে ছোট-বড় সবার কাছে আমি ‘সেজু’ হিসাবে পরিচিত। ১৯৯৪ সালের শুরুতে বিয়ে করার আগে কখনো ঢাকার ওপারে মাদারীপুর যাই নাই। মাহজুবাহ ও রাহনুমার ‘মাম’ (কেন জানি তারা বাপেরে মাম বলে ডাকে!)। সামসুন নাহার (মিতুল)-এর জামাই। বাচ্চাদের পড়ানো, সংসারের কাজকর্ম, সঞ্চয় ও বাড়তি আয়-উন্নতির কোনো চিন্তা আমার মাথায় নাই। কোনো কালে ছিলোও না। আমি বাউণ্ডুলে স্বভাবের। আপন আলোয় পথ চলি।

চবি দক্ষিণ ক্যাম্পাসে একটা ছোট ডুপ্লেক্সের নিচ তলায় একটা কক্ষ আমাকে থাকার জন্য দিছে। ম্যাডামের বাসার ড্রয়িং রুমটাও ইদানীং আড়াই হাজারের মতো বইপুস্তক সাজিয়ে ‘দখল’ করেছি। বাসার গ্যারাজে লাইট, ফ্যান লাগিয়ে কম্পিউটার ইত্যাদি বসিয়ে কয়েক বছর হতে একটা অধ্যয়ন কেন্দ্র চালু করেছি। নেটে সাইট আপ করেছি। ‘সমাজ ও সংস্কৃতি অধ্যয়ন কেন্দ্র (সিএসসিএস)’ নামে যা নিয়মিত মেইনটেইন করা হয়। কয়েকজন সহকারী এখানে সপ্তাহে ছয় দিন অফিস করেন। কেউ কেউ মনে করে, সোশ্যাল মিডিয়ার নিরাপদ গণ্ডির বাইরে আমার তেমন কোনো কাজ নাই। এটি তাদের ভুল ধারণা। বর্তমান এই ‘বিরুদ্ধ পরিবেশে’ আমরা স্বল্প পরিসরে হলেও নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

কিছু না কিছু তো করতেই হবে। তাই না? বেকার থাকাটা আমার স্বভাববিরুদ্ধ। ইস্যু যা-ই হোক না কেন আমি অলওয়েজ একটিভ। দুই যুগেরও বেশি সময় শিবির-জামাত করেছি। এখন সিএসসিএস নিয়ে পড়ে থাকি। স্বপ্ন দেখি এক নতুন পৃথিবীর। চাই, দুনিয়ার সব মানুষ যেন সহজেই আত্মপরিচয় খুঁজে পায়। সে জন্য গড়ে তুলতে চাই সত্যিকারের এক মানবিক সমাজ। কাজ করছি আগামী দিনের জন্য। তাই অনেকের দৃষ্টিতে আমি কেমন যেন ক্ষ্যাপাটে, অবুঝ।

তারা হয়তো ভাবে, লোকটা করে কী? আমি ঠিকই জানি, আমি কী করছি। যেভাবে একজন শিল্পী জানে, সে কী করছে। ছবিটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ দর্শকের কাছে একটা কাঁচা ক্যানভাসকে স্বভাবতই মনে হবে যেন কিছু ‘অর্থহীন’ আঁকিবুকির সমাহার।

আমাকে যারা ভুল বুঝে তাদের না-হক মন্তব্য শুনে আমি খুব একটা দুঃখিত হই না। আমি প্রশংসার পিছে ছুটি না, সমালোচনায় ভেংগে পড়ি না। আমাকে নিয়ে এই ভুল বুঝাবুঝির জন্য আমি সংশ্লিষ্টদেরকে দায়ী করি না। এটি তাদের সীমাবদ্ধতা। বর্তমানের চোখে ভবিষ্যতকে দেখার ত্রুটি। কেউ কেউ আমাকে বুঝতে গিয়ে আত্মবিশ্বাস আর অহংকারের পার্থক্যকে গুলিয়ে ফেলেন। আমার প্রত্যয়ী আচরণকে আত্মম্ভরিতা বলে ভুল বুঝেন। আসল কথা হলো নতুন কিছুকে মানুষ ভয় পায়। মানুষ স্বভাবগতভাবেই পরিবর্তনবিরোধী। জানি, যা কিছু করতে চাই তা সব সম্পন্ন করে যেতে পারবো না। তবুও অন্তর্বর্তী যুগের একজন হিসাবে চাইতেছি সম্ভাব্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে ভূমিকা পালন করে যেতে।

আমার দৃষ্টিতে ‘আমাদের সমস্যা’ মূলত না রাজনৈতিক, না সামাজিক, না ধর্মীয় কিংবা অর্থনৈতিক। আসল সমস্যা হলো বুঝজ্ঞানের। আমাদের ধারণাগত অচলায়তনই সব ‘গণ্ডগোলের’ মূল। সে জন্য চাচ্ছি চিন্তার বিচ্ছিন্ন সংস্কার ও পরিবর্তনের চেয়ে চিন্তা করার পদ্ধতিতেই পরিবর্তন ঘটাতে। মাছ তুলে না দিয়ে চাচ্ছি সবাইকে পুকুরটা চিনিয়ে দিতে।

এ কাজে আমার কাছে ইসলাম হলো গাইডিং প্রিন্সিপ্যাল। ধর্মমাত্র নয়। কিংবা রাজনৈতিক ধর্মও নয়। মানুষ নামক এই প্রাণী-প্রজাতির সর্বোচ্চ মর্যাদা তথা উপযুক্ত মানবিক পরিচয়কে সামনে নিয়ে আসাই হলো আমার দৃষ্টিতে ইসলামের শ্রেষ্ঠতম অবদান। ভারসাম্যপূর্ণ শুদ্ধ মানবিক সমাজ নির্মাণের জন্য এই বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পরিচয়জ্ঞান অতীব জরুরি। নিছক ধর্মের জন্য উপযুক্ত বিধিমালাই যথেষ্ট। শুদ্ধতা অর্জন যার লক্ষ্য। জ্ঞানের জন্য – বিশেষ করে আত্মপরিচয়ের যে জ্ঞান তার জন্য – বোধ, বুদ্ধি ও উপলব্ধির কোনো বিকল্প নাই। এই দৃষ্টিতে আমি চাই যুক্তির প্রাধান্য আর দর্শনের ঋদ্ধতাপূর্ণ সমাজ। সংস্কার, প্রথা আর ঐতিহ্য হোক যুক্তি ও জ্ঞানের অনুগামী।

এক সময়কার নিবেদিতপ্রাণ ‘সাংগঠনিক কর্মী’ পরিচয় থেকে হালনাগাদের উঠতি বুদ্ধিজীবী– আমার এই পরিবর্তন কিংবা বিবর্তন নিয়ে আমি নিজে খুব একটা ভাবিত নই। আমাকে যদি আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন তাহলে বলবো, আমি হলাম এক মুগ্ধ স্বপ্ন-সওদাগর। স্বপ্ন নিয়েই বাঁচি। স্বপ্নের সওদা করি। স্বপ্ন ফেরি করে বেড়াই। স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। স্বপ্ন দেখাতে ভালোবাসি।

চিন্তার পরিচ্ছন্নতা ও অন্তরের প্রশস্ততার বিশেষ দানে আল্লাহ তায়ালা আমাকে ধন্য করেছেন। মনের জোর অন্যদের তুলনায় একটু বেশি থাকায় ঝুঁকি নিতে আমি সাধারণত কুণ্ঠাবোধ করি না। ভয়ভীতির উপাদান আল্লাহ তায়ালা আমার মধ্যে খুব কমই দিয়েছেন। তাই কোদালকে কোদাল বলার ব্যাপারে আমি অকপট। ঘুরিয়ে-প্যাঁচিয়ে বলার চেয়ে সোজাসাপ্টাভাবে কথা বলতেই আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।

এসব কথার মানে আমি নেতৃত্বপ্রিয়, এমনটা ভাবলে ভুল করবেন। ভনিতা আর আত্মম্ভরিতা – দুইটাই এড়িয়ে চলতে পছন্দ করি। আত্মতুষ্ট এক নিভৃতচারী হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে ‘নাখান্দা-নালায়েক’ ভাবার প্রচলিত ধর্মীয় ভব্যতা ও রীতিকে আমি অপছন্দ করি। প্রচলিত ধারার বিপরীতে আমি সেলফ ব্র্যান্ডিংয়ে বিশ্বাসী।

জীবনের সব ঋণ, একদিন দিয়ে যাবো সব, করে দিয়ে শোধ। লেখক হতে চাই না, শুধু কথাগুলো বলে যেতে চাই। চাই, শুধু একবার জয়ী হতে, অসংখ্য পরাজয়ে।

আল্লাহ তায়ালা যেহেতু কোনো কিছুই অর্থহীন ও উদ্দেশ্যহীন সৃষ্টি করেন নাই, তাই আমি ভাবি, আমার মধ্যেও নিশ্চয় বিশেষ কোনো সম্ভাবনা আছে। আমারও সুনির্দিষ্ট কোনো দায়িত্ব আছে। জীবনে পূর্ণতার এই পর্যায়ে এসে মনে হয় সেই অন্তর্নিহিত সম্ভাবনার ক্ষেত্রকে আমি চিহ্নিত করতে পেরেছি। চাচ্ছি, যতটুকু পারি কাজ করে যেতে। কতটুকু পারবো তা জানি না। সেটা আল্লাহর হুকুমের ব্যাপার।

নিজ নিজ প্রতিভা ও সম্ভাবনার ক্ষেত্র নির্ণয় ও বাস্তবে তা যথাসম্ভব রূপায়ণ করার এই ব্যাপারটা প্রত্যেক মানুষের জন্যই সমভাবে সত্য। আমি শুধু নিজের দায়িত্বই নিতে পারি। অন্য কারো নয়, নিজের জীবনই আমি যাপন করি। তাই, ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ টাইপের সংকোচগুলো আমাকে তেমন বাধাগ্রস্ত করতে পারে না।

অন্য অনেকের মতো ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা তথাকথিত কোনো ভালো সাবজেক্টে চান্স না পেয়ে বাধ্য হয়ে নয়, ফিলোসফিকে পছন্দ করেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। দর্শন পড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। বলতে পারেন, বুদ্ধি বেইচা পেট চালাই। এটি আমার প্রথম এবং এ পর্যন্ত শেষ চাকরি। বিদেশে যাই নাই। কখনো যাওয়ার চেষ্টাও করি নাই। আমি প্রচণ্ড ঘরকুনো। কীভাবে কেন জানি পিএইচডি করা হয়ে উঠে নাই। অবশ্য এই তকমা পাওয়ার জন্য তেমনভাবে চেষ্টাও করি নাই। লোকেরা যেসব বিষয়কে খামোকাই গুরুত্বপূর্ণ মনে করে সেসব বিষয়কে অবহেলা করতে বরং আমার ভালো লাগে। দরখাস্ত করা ছাড়া যদি কাউকে পদোন্নতি দেয়ার ব্যবস্থা থাকতো, তাহলে খুব সম্ভবত দলমত নির্বিশেষে সবাই মিলে আমাকে অধ্যাপক বানিয়ে দিতো।

পড়ালেখা করে মজা পাই। যেসব কোর্স পড়াই সেগুলো দর্শনে মূলধারার বিষয়। কঠিন মনে করে অন্যরা জ্ঞানতত্ত্বের মতো বিষয়কে এড়িয়ে চলে। আমি এককভাবে এগুলো ডেভেলাপ করেছি। দৈনিক কয়েক ঘণ্টা পড়াশোনা করি। যা ভালো লাগে তাই পড়ি। ক্লাস করা আর নামাজ পড়াকে কাছাকাছি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করি। পক্ষ-বিপক্ষ নির্বিশেষে খ্যাতিমান বক্তাদের একাডেমিক লেকচার নিয়মিত শুনি। ভার্চুয়াল ওয়েটিং টাইমে ভিডিও ডকুমেন্টারি দেখতে ভালো লাগে ।

জ্ঞান-গবেষণার বিষয়ে মুক্ত আলোচনাকে এনজয় করি। বৈঠকি আড্ডা ভালো লাগে। কথা বলতে ভালো লাগে। শুনতেও ভালো লাগে। যারা আমাকে আগ্রহী শ্রোতা হিসাবে পেয়েছেন তারা কখনো ভাবতে পারেন না, আমিও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বলতে পারি। এর বিপরীতে যারা আমাকে কেবলি বলতে দেখেছেন তারা ভাবতে পারেন না, আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুনতেও পারি।

যারা আমার কঠোরতা দেখেছেন তারা আমার সম্পর্কে ভাবেন, আমি অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও নির্দয়। আবার যারা আমার আবেগ ও কোমলতা দেখেছেন তারা কল্পনাও করতে পারবেন না, নীতিগত প্রশ্নে আমি কতটা কঠোর ও নির্মম হতে পারি। এইসব আপাতবিরোধপূর্ণ বৈশিষ্ট্য নিয়েই আমি এক নিরীহ নাগরিক। ছোট বেলায় কবিতা লিখেছিলাম, ‘নির্ঝরের বুকে আমি স্বপ্নের রাজকুমার, ভেসে চলি অনন্ত সাগরের প্রেমে…।’

ইসলামী আন্দোলনের সেন্টিমেন্টে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাস্তবতাবর্জিত একতরফা ‘ত্যাগী মনোভাবের’ আবেগে এক সময়ে আত্মীয়-স্বজনদের সাথে যোগাযোগ রাখাকে ততটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করতাম না। এখন আত্মীয়তার হক আদায়ের ব্যাপারে আল্লাহর রহমতে আমি অনেক বেশি সচেষ্ট।

বয়স ও সামাজিক অবস্থানের দিক থেকে আমি খুব ব্যতিক্রমীদের একজন যিনি পদমর্যাদার খোলসকে বহু আগেই ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন। নজরদারির মধ্যে থাকতে থাকতে যিনি এক ধরনের স্বচ্ছ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বিশিষ্টজনদের কাছ হতে বিশেষ মর্যাদা লাভের চেয়ে গণমানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন যার কাছে বেশি আকর্ষণীয়। একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসাবে তাই ব্যক্তিগত গোপনীয়তা তথা প্রাইভেসি ছাড়া আমার সবকিছু সবার জন্য উন্মুক্ত ও অবারিত।

যে কেউ যে কোনো সময়ে আমার সাথে যে কোনো মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন। ব্যস্ত থাকলে আমি সময় মতো ফিরতি যোগাযোগ করবো, ইনশাআল্লাহ।

আমি কে?” শীর্ষক পোস্টে ৪টি মন্তব্য

  1. আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ. . . .
    আপনার অনেক কিছুই আমার পছন্দের, নিজেরও কিছু কিছু মিল পাই! বিশেষতঃ এটা “”বিশিষ্টজনদের কাছ হতে বিশেষ মর্যাদা লাভের চেয়ে গণমানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন যার কাছে বেশি আকর্ষণীয়।””
    দূর থেকে ভালবাসি আল্লাহর জন্যই! কখনো সুযোগ হলে সাক্ষাতের আকাঙ্খা রাখি!
    পাঠক হিসেবে যোগ্য নই, তবু আপনার লেখা ও আপনাকে বুঝতে চেষ্টা করি!

    1. হ্যাঁ, আসেন একদিন। কথা হবে ইনশাআল্লাহ। নিজের আর্থসামাজিক-প্রাতিষ্ঠানিক পজিশান যথাসম্ভব কমিয়ে রাখা আমার পলিসি। নিজেকে উঁচুতে উঠার কাজে বাঁধা দেয়াকে আমি এনজয় করি। সাধারণ মানুষেরই একজন হয়ে থাকতে চাই। তবে যা বুঝি তা বলা ও করার ব্যাপারে আমি অকপট। স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেই। সব ধরনের ভণ্ডামি হত নিজেকে বাঁচিয়ে চলি। সোজা কথায়, আমি একজন “ক্ষ্যাত মার্কা” লোক। দেখলে হতাশ হবেন, খুব সম্ভবত:। ভালো থাকুন। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

  2. আপনারে না দেখার আগেই আপনার লেখার প্রেমে পড়েছিলাম। দেখতে ইচ্ছা করেছিল এ আবার কেমন ফিলোসফার (বুদ্ধিজীবী)! নামের আগে ডক্টর (Dr) কিংবা অধ্যাপক টাইটেল নাই! কিন্তু আপনাকে দেখার জন্য মনটা ব্যাকুল ছিলো। থাকি প্রবাসে। কখন কিভাবে সাক্ষাত হবে? আলহামদুলিল্লাহ অবশেষে আপনার নিরহংকার মায়াবী মিষ্টি হাসির বদন খানি দেখা মিললো পহেলা জানুয়ারি ২০১৮ ডক্টর নিয়ামত ভাইর বাসায়।না দেখার আগে যেমনটা ভেবেছিলাম আপনার জ্ঞান, উইজডম, দর্শন নিয়ে- ঠিক তেমনটি পেলাম। কোনোকালেই আমি আপনার ছাত্র কিংবা কর্মী বা প্রতিবেশী ছিলামনা কিন্তু আপনার চিন্তার জগতে এমন আপন হলাম কি করে? ১৯৯৪ সালের শুরুতে বিয়ে করার আগে কখনো ঢাকার ওপারে মাদারীপুর যান নাই।অথচ আমি যে ওখানেই জন্মেছি! “চবি দক্ষিণ ক্যাম্পাসে একটা ছোট ডুপ্লেক্সের নিচ তলায় একটা কক্ষ আমাকে থাকার জন্য দিছে। ম্যাডামের বাসার ড্রয়িং রুমটাও ইদানীং আড়াই হাজারের মতো বইপুস্তক সাজিয়ে ‘দখল’ করেছি। বাসার গ্যারাজে লাইট, ফ্যান লাগিয়ে কম্পিউটার ইত্যাদি বসিয়ে কয়েক বছর হতে একটা অধ্যয়ন কেন্দ্র চালু করেছি। নেটে সাইট আপ করেছি।” ঠিক এই ২৮ নম্বরেই বিচরণ ছিলো আমার বাবা সম শ্রদ্ধাভাজন উত্তরবঙ্গের প্রামানিক স্যারের। আমার অর্ধাঙ্গিনীরও খন্ডকালীন বিচরণ ছিলো আপনার ম্যাডামের ড্রয়িং রুমটায় যেখানে আপনার আড়াই হাজারের মতো বইপুস্তক দখল করে আছে! খুঁজলে হয়ত আরো অনেক কিছু জানা যাবে।শেষ কথা- আপনার কাজে বরাবরি আমি একজন অনুরাগী, সহযোগী!

  3. আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। পুরোটা পড়লাম। পড়ার পর নিয়ত করলাম, সময় করে একবার আপনার সাথে সময় দিবো। মহান আল্লাহ আপনাকে হেফাজতে রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *