চাই কমপক্ষে চার সন্তান

[সব সময় কঠিন কঠিন সব লম্বা চওড়া তাত্ত্বিক কথা বলি। এখন না হয় একটু হালকা পাতলা কথা বলি। দেখেন, কেমন লাগে।]

একসন্তান,
রাজার রাজা।
বাবা-মা প্রজা।

দুই সন্তান,
তারা তারা রাজা উজির।
বাবা-মা প্রজা।

তিন সন্তান, তারা তারা
উজির, নাজির, রাজা।
বাবা-মা প্রজা।

চার সন্তান,
বাবা-মা রাজা রানী।
তারা সবাই প্রজা।

বুঝতেই পারছেন, কমপক্ষে চারটা বাচ্চা না হলে একটা ফ্যামিলি ক্ষুদ্র আঙ্গিকের কোনো রাষ্ট্র হয়ে ওঠে না। কথাটা অন্যভাবে বললে, বাচ্চাকাচ্চা চারটার কম হলে সন্তানদের সামনে অসহায় হয়ে পড়া ও নিজ ফ্যামিলিতে পরোক্ষভাবে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা।

তাই, প্যারেন্ট হিসেবে ‘ফ্যামিলি পলিটিক্সে’ ভালো করতে চাইলে এই জীবনবাদী ছড়াটা মুখস্ত করেন। অভিজ্ঞতার নির্যাস হিসাবে বিনামূল্যে প্রদত্ত ও বিশেষ জনগুরুত্বপূর্ণ এই ফর্মুলা অনুসরণ করলে সংসার জীবনে এজ আ প্যারেন্ট আপনার/আপনাদের সফলতা ও বরকতের গ্যারান্টি শতকরা নিরানব্বই দশমিক নিরানব্বই ভাগ। এলাহি ভরসা।

ফেসবুকে প্রদত্ত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Sourav Abdullah: আমরা গভীরভাবে সমবেদনা জ্ঞাপন করছি! 😆

Mohammad Mozammel Hoque: বিনা পয়সায় ভবিষ্যতের বাবা-মা’দেরকে পরামর্শ দিচ্ছি। এবং ongoing মা-বাবাদেরকে এ ধরনের ‘বিপদ’ থেকে বেঁচে থাকার সুপরামর্শ দিচ্ছি। সবার জন্য দোয়া করছি। আ-মিন!

Sourav Abdullah: এটা মানে উপর্যুক্ত পোস্টও যে ফ্যামিলি পলিটিক্সের বাহিরে না আমরা সেটা বলতে চাচ্ছি না।

যা হোক, আপনার প্রতিউত্তরে লাভ রিঅ্যাক্ট করা ছাড়া গত্যন্তর নাই।😊

Shahida Aktar: দুঃখজনক হলেও সত্যি আমরা এ আবেগ থেকে অনেক দূরে সরে গিয়েছি

Mohammad Mozammel Hoque: বাচ্চাকাচ্চাদের চারদিক থেকে প্রথম দিকের সহজ দাম্পত্য জীবন is followed by পরিণত বয়সের হা-হুতাশ।

Shahida Aktar: স্যার বর্তমানে ৬/৭ জন সন্তানের পিতা-মাতাকেও একা থাকতে দেখা যায়। তাই ভবিষ্যত কি হতে পারে…

Mohammad Mozammel Hoque: সেটার কারণ হতে পারে তারা পারিবারিক রাজনীতিটা ঠিকমতো করতে পারেন নাই। দেশের রাজনীতির মতই ফ্যামিলি পলিটিক্সে ভালো করতে হলে কৌশল লাগে। ভালো করার উপাদান থাকলেই কেউ ভালো করবে এমন কথা নাই। তবে খেলোয়ার যত যোগ্য হোক না কেন, মাঠ যদি উপযোগী না হয়, তাহলে সেই প্লেয়ারের পক্ষে খেলায় জিতা অসম্ভব। ফ্যামিলি গেমে ভালো করার জন্য প্রত্যেক বাবা-মায়ের উচিত ‘মাঠ তৈরি’ করা। এরপর মামলা সহজ। সময়মতো উপযুক্ত পদক্ষেপগুলো নিলেই হলো।

Shahida Aktar: নতুন প্লেয়ারদের জন্য কৌশলগুলো কি কি হতে পারে জানালে উপকৃত হবো।

Mohammad Mozammel Hoque: পারিবারিক পলিটিক্সের কৌশল হলো নিরপেক্ষতা বজায় রাখা। যেমন ছোট মেয়েকে বলবেন, ‘তুমি আমার একমাত্র ছোট মেয়ে’। বড় জনকে বলবেন, ‘তুমি আমার একমাত্র বড় ছেলে বা মেয়ে’! এভাবে করে পলিটিক্স করবেন। তবে কাজের কথা হলো, ছেলে-মেয়েদের মধ্যে কোনো প্রকারের discrimination না করা। কোনো অবস্থাতেই না। বরং ‘সাত-পাঁচ’ করে তাদের নিজেদের মধ্যকার ইন্টার্নাল কোন্দলগুলো থেকে দূরত্ব বজায় রাখা। প্রত্যেককে সমানভাবে দেখা। বেশিও না করা, অবহেলাও না করা। এই আর কি।

Romena Sultana Ismail: তিন সন্তান, নাজির, উজির, প্রজা। ভালোই তো স্যার, সব আমাদের ঘরেই আছে। বাইরের কেউ সুযোগ পাবে না।

Mohammad Mozammel Hoque: নিজেরা রাজা-রানীর সুখ ভোগ করতে চাইলে আরও একটা লাগবে। আমার বড় আপা প্রফেসর ডা. ফাতেমা খানম উনার জামাইকে নিয়ে এমন সুখে আছেন। উনারা চার ছক্কা মারা সেঞ্চুরিয়ান। খেলার অবধারিত বিজয়ী পক্ষ। আমি ওনাদের হিংসা করি। ক্যারিয়ারের সাথে সাথে ওনারা ফ্যামিলি পলিটিক্সেও ঈর্ষণীয় সফল ব্যক্তিত্ব।

Romena Sultana Ismail: তিনটাই মাথার চুল সব পাকাই ফেলছে স্যার, রাজা রানী হওয়ার সাধ মিটে গেছে। ধন্যবাদ, স্যার।

Mohammad Mozammel Hoque: ফর্মুলা বলে, চতুর্থ সন্তান পালতে কষ্ট হবে এক-চতুর্থাংশ। বাদবাকি তিন চতুর্থাংশ বড় তিনজনেই করবে। নিশ্চিত থাকো। প্রথম জীবনের কষ্ট পরবর্তী জীবনের সুখ।

Ahsan Habib:

এত ব্রেন কত প্ল্যান
দিলেন তো পানি ঢেলে
ছলে বলে কৌশলে
এই ছিল শেষকালে!

– চার কন্যা সন্তানের বাবা মায়ের শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন!

Sabuj Kabir: কিন্তু এত সন্তান পালার খরচ পাব কই!

Mohammad Mozammel Hoque: “মুখ দিয়েছেন যিনি আহার দিবেন তিনি।” আল্লাহ ভরসা। সন্তানদের সচ্ছলতায় রাখলে তারা অলস, ভোগবাদী ও আত্মকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে। তাই সংসারে অভাব-অনটন ও টানাপড়েন থাকাই ভালো। সেক্ষেত্রে সন্তানদের মধ্যে sharing and caring-এর মনোভাব তৈরি হয়।

Salim Miah: জি স্যার, আমি খুশি হলাম। তবে আমার দুই সন্তান। ছেলেটা বড়ই আত্মকেন্দ্রিক। কোনোভাবেই এর থেকে ফিরাতে পারছি না।

Mohammad Mozammel Hoque: ওই যে ‘কমপক্ষে চার সন্তানের’ ফর্মুলা…। ভাইবোন বেশি থাকলে বাকিদের চাপে কোনো একজনের পক্ষে বেশি উল্টাপাল্টা হওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্য যত বেশি হবে, পরিবারের প্রত্যেক সদস্য ততটাই বেশি পরিমাণে self-controlled হয়ে চলতে বাধ্য হবে।

Md Nayeem Watto: ব্যাপারটা বুঝলাম না স্যার। ৩ জন থেকে ৪ জনে উপনীত হওয়ার সাথে সাথে ফলাফল পুরোপুরি উল্টে গেল কিভাবে?

Mohammad Mozammel Hoque: মার্কস যে দ্বান্দ্বিকতার সূত্র ব্যবহার করেছেন তা মূলত হেগেলের। সূত্র তিনটা হল: (১) বিপরীত ঐক্য, (২) পরিমাণের গুণে রূপান্তর, (৩) নিষেধের নিষেধ। তিন থেকে চারে উত্তরণ ঘটলে সংখ্যা মাত্র একটা বাড়ে। কিন্তু এতে করে পুরো ব্যাপারটিতে এক ধরনের গুণগত পরিবর্তন সূচিত হয়। এখানে দুই নম্বর সূত্র কার্যকর। যেমন করে ৯৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পানি গরম হয়। আর মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়লেই পানি বাষ্প হতে শুরু করে। শূন্য ডিগ্রির একধাপ নিচে নামলেই পানি বরফ হতে শুরু করে। এভাবে প্রাকৃতিক জগতের সব নিয়ম আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনেও সমভাবে প্রযোজ্য। মার্কস এটাকে বলেছেন historical materialism বা ঐতিহাসিক বস্তুবাদ। [এই ফাঁকে খানিকটা পড়ালেখাও হয়ে গেল…।]

Md Nayeem Watto: জী স্যার, পড়ালেখা হয়ে গেল। আসলে স্যার একজন সন্তান দিয়েও ফ্যামিলি পলিটিক্সে ডমিনেট করা যায়। যদি না সন্তানের nourishment বর্তমান যুগের ফার্মের মুরগীর মত না হয়ে আমাদের বাপ দাদাদের স্টাইলে nourishment হয়ে থাকে তাহলে।

Mohammad Mozammel Hoque: না, এক সন্তান দিয়ে কোনোভাবেই ফ্যামিলি পলিটিক্সে সুবিধা করতে পারবেন না। কিছু কিছু বিষয়ে অভিজ্ঞ লোকদের কাছ থেকে শুনতে হয়। বিবাহ-প্রার্থীদের উচিত এসব বিষয়ে অভিজ্ঞদের কথা শুনে যাওয়া ও মেনে নেয়া। ইউটোপিয়ান হয়ে কোনো লাভ নাই। বাপ-দাদার উদাহরণ টানলে তাদের সন্তান প্রতিপালন পদ্ধতির সাথে সাথে সন্তানদের মধ্যকার সংখ্যা-সাম‍্য’র মতো অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কেও বিবেচনায় রাখতে হবে। অন্যথায়, Cherry picking fallacy’র শিকার হবেন।

Md Nayeem Watto: হা হা…। আমি তো স্যার সেই ব্যক্তির কথা চিন্তা করতেছি, যে ব্যক্তির একটা সন্তানও নাই। তার কাছে আপনার মন্তব্য নিহিলিজম ছাড়া আর কিছুই না।

Mohammad Mozammel Hoque: সেই ব্যক্তির উচিত পিতৃত্ব কিংবা মাতৃত্ব অর্জনে সচেষ্ট হওয়া। অবশ্য, যার পা-ই নাই, হাঁটার নিয়মকানুন জেনে সে কী করবে?

Md Nayeem Watto: জী স্যার, বুঝে গেছি।

Mahmuda Yasmin: একমত হতে পারলাম না। ফ্যামিলি নিয়ে রাজনীতি? ভাবা যায়!

Mohammad Mozammel Hoque: সন্তানদের স্বৈরতন্ত্র হতে বাঁচার জন্য সঠিক ও সময়োচিত পারিবারিক রাজনীতি জরুরী। তরুণ দম্পতিদের এটি বুঝতে পারার কথা নয়। কিছু কিছু বিষয়ে অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নাই। মাঝে মাঝে তাই বড়দের কথা শুনতে হয়। আশপাশে চোখ মেলে দেখতে হয়, সময় ও সুযোগ ফুরিয়ে যাবার আগে।

সংসার করতে গিয়ে যারা প্রথম জীবনে সুখ করতে চায় তারা পরবর্তী জীবনে কষ্ট পায়। হা-হুতাশ করে। আফসোস করে। আর যারা প্রথম জীবনে কষ্ট করে পরবর্তীতে তারা সুখে থাকে।

Mahmuda Yasmin: সুখ জিনিসটা যদি পারিবারিক রাজনীতির মধ্যে নিহিত থাকতো তাহলে সবাই সেই পথেই হাটতো। তরুণ দম্পতির বয়স কম, অভিজ্ঞতাও কম, কিন্তু বর্তমানটা দেখার চোখটা কিন্তু কম নয়।

Mohammad Mozammel Hoque: কিছু কিছু জিনিস অভিজ্ঞতা ছাড়া কখনোই অর্জন করা যায় না। সংসার করার নিয়ম-পদ্ধতিগুলো এর অন্যতম। কিছু কিছু বিষয়ে মুরব্বীদের কথা মানতে হয়। নিছক বুদ্ধি আর আবেগ দিয়ে কিছু কিছু বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। দাম্পত্য জীবন ও সংসারটা সে ধরনের একটা কিছু। ভালো থাকেন।

Hedayet Ullah Chowdhury: এটাই সঠিক কথা। মুরুব্বীদের কথা না মানার কারণে আমরা পদে পদে বিপদে পড়ছি।

Mohammad Mozammel Hoque: টোনাটুনির সংসার শেষ পর্যন্ত ততটা সুখে হয় না। সবচেয়ে কম যে ক্ষতিটা তাদের মেনে নিতে হয় তাহলো, ওই দুয়েকটা সোনার টুকরা ছেলে মেয়ে যার যার এস্টাবলিশমেন্ট নিয়ে যে যার জায়গায় চলে যায়। শেষ বয়সে তাদের নিঃসঙ্গতার কষ্ট বইতে হয়।

Khondoker Zakaria Ahmed: হালকা-পাতলা হলেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বহু দেশ আছে যারা জনসংখ্যার নেগেটিভ প্রবৃদ্ধির সমস্যায় ভুগছে। আমরা যেভাবে সত্তর দশকের পরে ৮/১০ সন্তান থেকে ২/১ সন্তানে নেমে এসেছি তাতে এই অবস্থায় আসতে বেশিদিন লাগবে না। ডেমোগ্রাফি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জেনেছি, জনসংখ্যার নেগেটিভ ধারা একবার শুরু হলে তা আর পজেটিভ করা সম্ভব হয় না, বরং নেগেটিভ প্রবণতা বাড়তেই থাকে।

Mohammad Mozammel Hoque: Social awareness enhancement program, that means, a strong social movement is the solution to any such problem. It’s not Unstoppable.

Hedayet Ullah Chowdhury: নেগেটিভ ধারা শুরু হলে এটাকে পজেটিভ করা খুবই কঠিন। দারুণ মন্তব্য এজন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমাদের প্রবীণদের ধন্যবাদ তাঁরা নেগেটিভ ধারায় চললে তো আমাদের পক্ষে এই দুনিয়াও দেখা হতো না। কে কি বলেন জানি না, আমি আমার মতামত তুলে ধরলাম।

Mohammad Mozammel Hoque: আমি আমার মায়ের ৬ নম্বর সন্তান। আমার পরে আরও চারজন। হ্যাঁ, আমি টিনএজ মায়ের সন্তান। আমি তো আমার জন্মের বিপক্ষে বলতে পারি না। তাই না? এখনকার বাংলাদেশের সব প্রথিতযশা লোকজনের প্রত্যেকেই বৃহৎ পরিবারের সন্তান।

Khondoker Zakaria Ahmed: জন্ম হার কমাতে গিয়ে মানুষের মধ্যে সন্তান লালনপালনের ভয় ঢুকেছে।

Abu Hanif: স্যার, অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছেন। আমদের মত নবীনদের মেনে চলা উচিত।

Mohammad Mozammel Hoque: অধিক সন্তান মায়ের অধিকতর সুরক্ষা।

Azad Ali: বিষয়টার গুরুত্ব স্কুলপ্রধান হিসেবে আমি বুঝতে পারি। বাচ্চাদের মাত্রাতিরিক্ত জেদের অন্যতম কারণ– তারা বুঝে ফেলে তারা বাবা-মায়ের সবেধন নীলমণি, বা অন্ধের ষষ্টি। ফলে তারা বাবা-মাকে ট্র্যাপে ফেলে। এ কথাটা বর্তমান সময়ের স্ত্রীদের বুঝা বেশি জরুরী। কারণ পূর্বে স্বামীদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ছিল, বর্তমানে স্ত্রীদের সম্মতিটা বেশি জরুরী হয়ে পড়েছে। জাযাকাল্লাহ।

অভি কান্তি বনিক: তাহলে ম্যালথাসের তত্ত্বের কি হবে স্যার?

Mohammad Mozammel Hoque: ম্যালথাসের তত্ত্ব কী বলে? এ মুহূর্তে আমার মনে পড়ছে না ঠিক, তাই জিজ্ঞেস করলাম।

অভি কান্তি বনিক: এখন জনসংখ্যা ১৬ কোটি। ৩০ কোটি হতে তো বেশিদিন লাগবে না। মানুষ যে হারে বাড়বে জমি সে হারে কমবে, খাবারও কমবে। ধ্বংস অনিবার্য নয় কি?

৪ জন সন্তানের জন্য দুঃচিন্তা করতে হবে বেশি।

Mohammad Mozammel Hoque: ও, তাই? এখন বলো, গত ৫০ বছরের তুলনায় বাংলাদেশে লোকসংখ্যা কত বেড়েছে? না, বলতে হবে না। আমরা জানি, ৫০ বছর আগে এদেশে একবেলা দু’বেলা না খেয়ে থাকা লোকসংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য। এখন অন্তত আমাদের চট্টগ্রামে কোনো লোক উপোস থাকে না। তাই তো? অভি, জেনে রাখো, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হলো এ দেশের জনসংখ্যা। জনসংখ্যাকে সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করতে পারলে দুনিয়ার বুকে এটি হলো সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তোমার ম্যালথাসের থিওরি আমি বুঝি না। তবে আমি বাংলা কথায় যা বললাম তা তুমি বুঝেছ কিনা জানি না। আমি আমার বাবা-মায়ের দশ সন্তানের ৬ নম্বর। আমাদের ভাই-বোনেরা সবাই এদেশের জন্য একেকটা অ্যাসেট। এবার বলো, আমার বাবা-মা যদি জন্মনিয়ন্ত্রণ করতো তাহলে এ দেশ অন্ততপক্ষে আটজন বুদ্ধিজীবী হতে বঞ্চিত হতো। সেটা কি ভালো হতো?

নিশ্চিন্ত জীবন সমস্যাগ্রস্ত হয় বেশি। দুশ্চিন্তাগ্রস্ত জীবনে কোয়ালিটি ডেভেলপ করে। আশপাশে তাকালেই আমারে কথা সত্যতা খুঁজে পাবে।

অভি কান্তি বনিক: একটি ক্লাসরুমে ১০০ স্টুডেন্ট গাদাগাদি করে পড়ার চাইতে ১০ জন স্টুডেন্ট হলে অবশ্যই তারচেয়ে ভালো করতে পারবে।

প্রতিটা কিছুর লিমিট আছে। জনসংখ্যা যদি এরচেয়ে বেশি হয় সেটা শক্তি না হয়ে বিস্ফোরণ হবে। জনসংখ্যা যত বেশি, বিশৃঙ্খলাও তত বেশি। বেশি জনসংখ্যার দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখতে পারবেন।

স্থান-কাল-পাত্র ভেদে সবকিছুর পরিবর্তন হয়। সব সূত্র সব জায়গায় প্রয়োগ করা যায় না। প্রকৃতির সবকিছু একটা সমতা পর্যায়ে থাকে। কম হলে সেটা বাড়তে থাকে আর বেশি হলে কমতে থাকে। যুদ্ধ হচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম কারণ।

অনেকে বলেন জন্মনিয়ন্ত্রণ করলে আমরা ১৪ নম্বর সন্তান রবীন্দ্রনাথ পেতাম না। উন্নত বিশ্বে যেখানে জন্মনিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে সেখানে কি বড় মানের বিজ্ঞানী কবি দার্শনিকের জন্ম হচ্ছে না?

Mohammad Mozammel Hoque: না, হচ্ছে না। সেজন্য তারা পুরো দুনিয়া হতে জ্ঞানীগুণী লোকদেরকে বৃত্তি দিয়ে, টাকা-পয়সা দিয়ে, সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে লেখাপড়া করার জন্য নিয়ে যাচ্ছে। বাইরের লোকেরা যে শুধু সেখানে টেক্সি চালানোর জন্য যায়, তা না।

Hedayet Ullah Chowdhury: মানব সম্পদই বড় সম্পদ। আমাদের এলাকায়ও দেখছি মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশী ধনী। অথচ আশির দশকেও কার্তিক মাসে আমার মা এবং তাঁর ইয়াতিম চার সন্তান, মানে আমরা, খুব কষ্টে দিন যাপন করতাম। আজ সেরকম মরা কার্তিক দেখি না। এটা অবশ্যই শিক্ষা এবং মানুষের চেষ্টার ফসল। মানুষ বেশি হওয়াতে অভাব দূর হয়ে গেছে। মানুষ বেশি হওয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রিযিক বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমার মরহুম মাতা (আল্লাহ রাব্বুল তাঁকে জান্নাতবাসী করুন) সবসময় বলতেন, মানুষ বাড়লে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন টান দিয়ে দুনিয়া বাড়িয়ে দেবেন। মীরসরাইয়ে পশ্চিম এলাকার মাইলকে মাইল নতুন চর দেখে আমার মা’র কথা বারবার মনে পড়ে। ধন্যবাদ।

অভি কান্তি বনিক: হিমালয় গলতে শুরু করলে নিচু এলাকা ডুবতে শুরু করবে।

Hedayet Ullah Chowdhury: এটা কথার কথা। ভয়ের কিছু নেই। পাহাড়ে এবং সমুদ্রের তীরে গেলে খুব ভালো লাগে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রিয় সৃষ্টি মানুষ। তিনি আমাদের রক্ষা করবেন।

পোস্টটির ফেসবুক লিংক

Leave a Reply