কেউ কি না জেনে শির্ক করতে পারে?

“আসসালামু আলাইকুম। আমি কালকেই প্রথম আপনার লেখা পড়ি। আপনার কাছে আমার কিছু প্রশ্ন:

১. কেউ যদি শির্ক করে ফেলে তাহলে তার কি ফিরে আসার আর কোনো সুযোগ নেই?

২.আমরা তো সাধারণত মুভি, নাটক দেখে থাকি, গান শুনে থাকি। এসব মুভিগুলোতে অনেক সময় পূজার দৃশ্য দেখানো হয়ে থাকে, শির্ক জাতীয় কথা বলা হয়ে থাকে। কিছু কিছু গানে আল্লাহর সাথে তুলনা করে কথা বলা হয়ে থাকে। এখন এই মুভি, নাটক দেখলে গান শুনলে কি শির্ক হবে? কিছু কিছু বইতেও এমন কথা থাকে। সেই বইগুলো পড়লেও কি শির্ক হবে?”

আমার উত্তর:

কেউ যদি শিরক করে ফেলে তাহলে তার ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না কেন? তওবা করার তো কোনো সীমা-পরিসীমা নাই। তাই না?

কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়াটা দেখা আর নিজে উক্ত অপরাধ সংঘটিত করা, এ দুটি এক নয়। তাই পূজার দৃশ্য যারা দেখে বা এটাকে কোনো কারণে উপভোগ করে, তারা শির্ক করে না। বরং যারা পূজা-অর্চনা করে তারাই তা করে।

শির্ক নিয়ে আপনার এতটা সেনসিটিভ হওয়াটা আমার কাছে ভালো মনে হচ্ছে না। তাওহীদকে আঁকড়ে ধরাই যথেষ্ট। যেমন করে আলোর মধ্যে থাকাই যথেষ্ট। অন্ধকার খুঁজে খুঁজে সেটা থেকে আত্মরক্ষা করার চেষ্টা একটা বাহুল্য, ভুল ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ।

হ্যাঁ, কোনো বিষয়ে শির্ক হচ্ছে কি না, এমন সন্দেহ জাগলে সেটা যাচাই করা জরুরি বলে মনে করি। যদিও নিজে জড়িয়ে না পড়লে কোথায় কোথায় শির্ক হচ্ছে সেটা নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নাই।

একজন সত‍্যিকারের মোমেন ভেতর থেকেই বুঝা যাবে, কোনটা ঠিক কোনটা ভুল। স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আমি মানুষের মধ্যে ভালো এবং খারাপের ধারণা দিয়ে দিয়েছি। হাদীসে বলা হয়েছে, যেটা তোমার মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে সেটা খারাপ। আর যেটাতে তোমার মন উত্ফুল্ল হয়ে ওঠে সেটা ভালো। এখানে তুমি বলতে যে কোনো ঈমানদারকে বুঝানো হয়েছে।

প্রশ্ন: “আমি জানি যে, কেউ যদি না জেনে, না বুঝে শিরক করে ফেলে তাহলে সে তওবা করলে হয়ত ক্ষমা পাবে। কিন্তু কেউ যদি জেনে বুঝে শিরক করে তাহলে কি তার তওবা করে আবার ফিরে আসার সুযোগ আছে?”

উত্তর: হ্যাঁ আছে। পাপ যে পাপ তা সত্যিকারের অনুতাপ দিয়ে বুঝা যায়। জীবনের শেষ মুহূর্তেও যে কারো পক্ষে যে কোনো ভুল অবস্থান থেকে ফিরে আসা সম্ভব, যদি তা সত্যিকারের রিয়েলাইজেশান হতে উদ্ভূত হয়ে থাকে।

প্রশ্ন: “আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে, গতকাল আমার সামনে এক মা আর তার মেয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। মেয়ে বার বার মাকে দোষ দিচ্ছিল যে মা কখনো তাকে ভালোবাসেনি, তার যত্ন নেয়নি। এসব নিয়ে অনেক তর্ক হয় তাদের মধ্যে। শেষে মা রাগের মাথায় মেয়ের পায়ে মাথা রেখে মাফ চান। ব্যাপারটা হঠাৎ ঘটে যায়।

মা জানতেন যে এই কাজ করলে তার শিরক হবে। তারপরও তিনি করেছেন। এখন কি তিনি ক্ষমা পাবেন? আর মেয়েও অনেক কষ্ট পাচ্ছে যে তার জন্য তার মায়ের শিরক হয়েছে। এখন মেয়েও কি মায়ের জন্য ক্ষমা চাইতে পারবে? তাদের এখন করণীয় কি?”

উত্তর: না, এক্ষেত্রে খুব সম্ভবত শির্ক হয় নাই। কেননা, মেয়ের পায়ে বা পায়ের কাছে সেজদা করে মা যখন কোনো বিষয়ে মাফ চাইলেন, তখন কি তিনি ওই মেয়েকে এমন কোনো জা’ত বা সিফাতের অধিকারী ভেবেছেন, যা নিছকই খোদার জা’ত বা সিফাতি বৈশিষ্ট্য?

এই প্রশ্নের উত্তর যদি হয় না-সূচক হয়, তাহলে তাদের কারো শির্ক হয় নাই, এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।

আর যদি হ্যাঁ-সূচক হয়, তাহলে শির্ক হয়েছে। এ ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নাই। তবে, ইন আইদার সিচুয়েশন, তাদের দুজনেরই উচিত তওবা করা। শিরিক হলে সেটার জন্য। শিরিক না হলে বাড়াবাড়ি বা ঝগড়া করার জন্য।

লেখাটির ফেসবুক লিংক

Leave a Reply