দাম্পত্য জীবন হলো অন্যতম মৌলিক মানবিক অধিকার

চাই, বন্ধ হোক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম এক দশক এক ধরনের ব্যক্তিগত যৌনজীবন যাপনের এই বিরাজমান সামাজিক অপসংস্কৃতি।

হ্যাঁ, যার যৌবন আছে তার কোনো না কোনো ফরম্যাটে যৌনজীবনও আছে। অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক সবারই আছে নিজস্ব প‍্যাটার্নের যৌনজীবন। এটি অনিবার্য ও অবশ্যম্ভাবী। যত বড় সুফি-দরবেশ-মোহন্ত-সাধু হোন না কেন, কোনো মানুষই বেসিক ইন্সটিংক্টের ঊর্ধ্বে নয়।

বিপরীত জেন্ডারের কারো সাথে সম্পর্কের ব্যাপারে আমার নীতি হলো, Everything or nothing, not so so। যে পথে শেষ পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ কিংবা অধিকার আমার নাই, সে পথে খানিকটা হাঁটাহাঁটি করাকে আমি ছ‍্যাঁচড়ামি মনে করি। এমনকি এক নম্বর পছন্দ হলেও এ ধরনের কোনো কিছু পাওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ানোকে আমি খুব অপছন্দ করি। মেয়েদের সাথে সম্পর্কের ব্যাপারে এ ধরনের মনোভাবের কারণে বিয়ের আগে আমার প্রেম করা হয়ে উঠেনি।

(১) প্রেম কিংবা (২) পরিণয় অথবা (৩) বিশেষ কোনো সামাজিক সম্পর্ক বা (৪) শুধু পরিচয় – এই চার ধরণের সম্পর্কের বাইরে নারী ও পুরুষের মধ্যে কোনো সম্পর্কে আমি বিশ্বাসী নই। প্রাপ্তবয়স্ক দুজন নারী ও পুরুষের মধ্যে নিছক বন্ধুত্বের সম্পর্ক অসম্ভব। তাই এখনকার ‘জাস্ট ফ্রেন্ড’ সিস্টেম হলো আসলে এক ধরনের সফট পলিগ্যামি চর্চা। কথাটা পরিস্কার। পলিগ্যামি ভালো কি খারাপ, সেটা ভিন্ন আলোচনা। এখানে পলিগ্যামি বলতে আমি multiple heterosexual relationship-এর টেনডেন্সি বা প্র্যাকটিসকে বুঝাচ্ছি।

মানলাম, পাশ্চাত্য প্রভাবিত ক‍্যারিয়ারমুখী আমাদের এই সমাজ, ছেলে-মেয়েদেরকে গড়পড়তা এক দশক এক ধরনের ‘ব‍্যক্তিগত যৌনজীবন’ যাপনে বাধ‍্য করছে। তাই বলে ‘প্রয়োজন’টা যে নির্দোষ ও বাস্তবসম্মত, তা অকপটে স্বীকার করতে এত দ্বিধা কেন? স্বাভাবিক দাম্পত্য যৌনজীবনের ব‍্যবস্থা কায়েম করা হলো বিদ‍্যমান এই অবাধ ফ্রেন্ডশিপ ব‍্যবস্থার একমাত্র টেকসই প্রতিবিধান বা রিমেডি। এ ধরনের একটা কাংখিত সামাজিক ব‍্যবস্থাপনায় পৌঁছার জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি, তা নিয়ে সমাজকর্মীদের সিরিয়াসলি ভাবতে হবে। আলোচনা করতে হবে সবকিছু খোলাসা করে। “তরুণ সমাজ অধঃপতনে গেলো। আমরা কত ভালো ছিলাম…” – এ ধরনের বুদ্ধিজীবীসুলভ পাকনা পাকনা কথা দিয়ে কাজের কাজ কিছু হবে না। কথায় বলে, পেটে দিলে পিঠে সয়। আগাগোড়া একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে নিপতিত কারো বিশেষ কোনো অস্বাভাবিক আচরণকে মাঝখান থেকে জাজমেন্ট করতে যাওয়া অনুচিত।

তরুণদের এই ‘জাস্ট ফ্রেন্ড’ সিস্টেমের জন্য তরুণরা যতটা দায়ী তারচেয়ে অনেক বেশি দায়ী হল তাদের অবিবেচক অভিভাবকগণ। জীবন ও জগতের সঠিক উপলব্ধি ও মূল্যবোধ নিয়ে বড় হওয়ার চেয়ে তরুণদের মধ্যে বরং লেখাপড়ার নামে যে ক্যারিয়ার হাইপ তৈরি করা হয়েছে তার জন্য তারা নিজেরা ততটা দায়ী নয়। এর জন্য দায়ী হল ভারসাম্যহীন এই অসম ও নিবর্তক সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা। এই অমানবিক ও বিরূপ পরিস্থিতির দায় মোস্টলি বড়দের, যারা এই সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিচালক ও কর্ণধার। ক্যারিয়ারিজমের কারণে বিলম্বে বিয়ে। বিলম্ব বিয়ের কারণে দীর্ঘস্থায়ী এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিগত যৌনজীবন। কথাটা খোলাসা করে বললাম। যাতে করে এই ‘জাস্ট ফ্রেন্ড’ সিস্টেম কোত্থেকে, কেন ও কীভাবে গড়ে উঠলো তা বুঝতে পারেন।

আফসোস, যারা সমাজ পরিবর্তনের কথা বলে, তারা আমাদের সামাজিক কাঠামোর এই বিরাট অসঙ্গতি ও ফাটল সম্পর্কে তেমন কিছু বলে না। প্রসঙ্গক্রমে এ বিষয়ে যাওবা কিছু বলে, তখন তারা একতরফাভাবে তরুণদেরকে অসংযমী হওয়ার দোষে দোষারোপ করে। এরপর সওয়াবের নিয়তে নৈতিকতা বজায় রাখার জন্য তরুণদেরকে self-contradictory হেদায়াত বিতরণ করে।

অপরদিকে, তরুণদের একটা বিরাট অংশ, যারা বিশেষ করে আদর্শের কথা বলে, তারাও দেখি আমাদের সমাজে বিদ্যমান এ ধরনের অস্বাভাবিক ও অমানবিক অপব্যবস্থার অস্তিত্ব যে রয়েছে, এটি স্বাচ্ছন্দ্যে স্বীকার করতে চায় না। যেন সবকিছু ঠিকঠাক মতোই চলছে। যেন তারা ওসব সমস্যা থেকে মুক্ত। ভাবখানা এমন যেন তারা একেকজন ফেরেশতা। আমি এসব কথা বলছি, এতে আশঙ্কা করছি, এদের কেউ কেউ আমাকে উল্টো দোষারোপ করে হয়তো বলবে, অথবা অন্ততপক্ষে ভাবতে পারে, বুড়োর ভিমরতি ধরেছে…!

না, … আমাদের হওয়া-হইয়ি’র পর্যায় সমাপ্ত-প্রায়। তবে কথা হলো, যে ধরনের অস্বাভাবিক অবদমনের সময়কালকে আমরা জীবনের এক পর্যায়ে পার করে এসেছি, একই ধরনের অস্বাভাবিক অবদমনের মধ্য দিয়ে তোমরাও জীবনের সেই সময়কালকে যাপন করতে বাধ্য হচ্ছো। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এ ধরনের সন‍্যাস-তারুণ্য যে প্রকৃতিবিরুদ্ধ ও অস্বাভাবিক, এ অবস্থার যে আশু পরিবর্তন দরকার, তা ভয়েস করা, অন্ততপক্ষে স্বীকার করার কথা আমি তোমাদেরকে বলছি। যত বড় সমস্যাই হোক না কেন, যে কোনো সমস্যা সমাধান করার প্রথম শর্ত হলো সমস্যাটা যে আছে তা অকপটে স্বীকার করে নেয়া।

এই ‘জাস্ট ফ্রেন্ড’ সিস্টেমের পরবর্তী ধাপ হলো লিভিং টুগেদার সিস্টেম। এটি inevitably আসছে, এখনই যদি আমরা একে মোকাবেলা করার বাস্তবসম্মত উপায় অবলম্বন না করি। লিভিং টুগেদার সিস্টেম এবং ফ্যামিলি সিস্টেমের তুলনামূলক আলোচনা নিয়ে আমার একটা লেখা আছে। সেটি প্রচারণামূলক লেখা নয়। যুক্তিসঙ্গত লেখা। কিছুটা বিস্তারিত। সময় নিয়ে পড়লে সেখানে চিন্তার খোরাক পাবেন।

এ বিষয়ে এখনকার মতো শেষ কথা হলো, যেভাবেই হোক না কেন, গড়ে ১৫ থেকে ২৫, এই দীর্ঘ এক দশক এক ধরনের ব্যক্তিগত যৌনজীবন যাপনের এই সামাজিক অপসংস্কৃতিকে রুখতে হবে। জ্বর কেন হচ্ছে তার কারণ হিসেবে শরীরের ভেতরে কোন অংশটা ইনফ্যাক্টেড হয়েছে তা নির্ভুলভাবে আইডেন্টিফাই করতে হবে। এরপর সেটার প্রপার ট্রিটমেন্ট করতে হবে। ভিতরের ইনফেকশন সারিয়ে তোলার ব্যবস্থা না করে উপরে উপরে জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল সেবন করলে আরোগ্য লাভ সুদূর পরাহত। তাতে বরং রোগের জটিলতা আরো বাড়বে।

আমার কথা তাই একদম পরিষ্কার। একেবারে সহজ ও সংক্ষিপ্তভাবে বলছি, বিয়েকে সহজতর করতে হবে। এটি করতে পারলে বাদবাকি যা কিছু তা অটোমেটিকেলি কমে আসবে। সহজতর ও স্বাভাবিক বৈধ সম্পর্কের পরিবেশে যৎসামান্য বিধিনিষেধের আরোপের মাধ্যমে অবৈধ বিষয়গুলোকে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কোন স্রোতকে স্বাভাবিক গতিপথে প্রবাহিত হওয়ার সুযোগ করে না দিলে, অনিরুদ্ধ সেই স্রোত বাঁধ-ভাঙ্গা প্লাবন হয়ে বিপর্যয় ঘটাবে, এটা তো স্বাভাবিক।

ছোটবেলায় মার্শাল আর্টের কলাকৌশল নিয়ে একটা প্রবন্ধ পড়েছিলাম। তাতে আত্মরক্ষার প্রথম যে টিপসটা দেওয়া হয়েছিল, তা খুব ইন্টারেস্টিং। সেখানে লেখক বলেছিলেন, “১নং পরামর্শ হচ্ছে, আক্রান্ত হওয়া মাত্রই আপনি দ্রুততম সময়ে ১৮০ ডিগ্রি উল্টা ঘুরে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ গতিতে দৌঁড় লাগাবেন। এটি যদি করতে না পারেন তাহলে ২ নম্বরে এটি করবেন।” এভাবে তিনি কিছু আত্মরক্ষামূলক টিপসের কথা বললেন। তার মানে, যে কোনো অস্বাভাবিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি হতে এস্কেপ করার চেষ্টা করাই হল বিপর্যয়রোধে বেস্ট অপশন। prevention is better than cure।

নৈতিকতা সংশ্লিষ্ট যতসব নেতিবাচক আইন, কানুন, নিয়ম ও প্রস্তাবনা, তার সবই হলো বিশেষ বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য। কোথাও যদি অনির্দিষ্টকালের জন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তাহলে সেখানে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রয়োগযোগ্য নেতিবাচক আইনকানুন ও প্রস্তাবনাগুলোকে আপাতত অগ্রাহ্য করে উক্ত অস্বাভাবিক পরিস্থিতিকে যতটা সম্ভব স্বাভাবিকতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করতে হবে। তাই, মানুষের ফিতরাতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটা ন্যূনতম আদর্শমানের সামাজিক ব্যবস্থা কায়েম করার জন্য যা যা করা দরকার, তা বাস্তবায়ন করার কাজ, আসুন, এখনই শুরু করি। যার যার ব্যক্তিগত পর্যায় ও প্রভাব বলয়ে এখনই কাজ শুরু করলে একসময় তা সামাজিক আন্দোলন হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে। সমাজের অধোগত বা উন্নয়ন, কোনোটাই চোখের পলকে ঘটে না। এ জন্য চাই, নিরবচ্ছিন্ন ও আন্তরিক প্রচেষ্টা।

মনে রাখবেন, awareness is doing half of the solution।

ফেসবুকে প্রদত্ত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Yasir Adnan: নৈতিকতার নামে অবদমন মারাত্মক মানসিক অসুস্থতা তৈরী করে। ক্যাম্পাসে এরকম অনেক দেখি। একটু গভীরভাবে কথা বললেই টের পাওয়া যায় এসব। যাদের এসব আদর্শের বালাই নাই, তারা ঠিকঠাক নিজের ইচ্ছা চরিতার্থ করে ফেলে। সমাজ তাকে কবে সুযোগ করে দেবে– সেই অপেক্ষা সে করে না। এই অপেক্ষাহীন ছাত্রের সংখ্যা কিন্তু কম না। প্রচুর! যৌনতাকেন্দ্রিক যে নৈতিকতা প্রচলিত আছে আমাদের সমাজে, সেইটাকে ভেঙ্গেচুরে তারা এসব করে। ফলে আদর্শবাদের বয়ান তারা আর শুনবে না। ফলে সমাজে যতদিন না এর প্রতিকার হবে ততদিন এসবের প্রসার হবে, আর আদর্শের সংকোচন হবে। হিপোক্রেট তৈরী হবে। যারা নিজেদের প্রবৃত্তি চরিতার্থ করে ফেলে, তারা যে অন্যান্য ক্ষেত্রে অনৈতিক তা কিন্তু নয়। দিব্বি ভালো মানুষ। অনেক ক্ষেত্রে অবদমনকারীদের চাইতে বহুগুণ ভালো।

Zia Uddin: একমত। পাশ্চাত্য সমাজের মতো আমরাও বিয়েকে অনেক কঠিন করে ফেলেছি। আজকাল ছেলেমেয়ের প্রেম করাকে পিতামাতা যত সহজভাবে নেয়, বিয়ে করাকে তত কঠিনভাবে নেয় এবং এমন অদ্ভুত সব শর্ত জুডিয়ে দেয়, যা পূরণ করতে যৌবন শেষ হয়ে যাবে।

Muhammad Sajal: ১৫ থেকে ২৫, মোটে এক দশক স্যার?? অনেকেই তো তিরিশের আগে বিয়ে করার সুযোগ পান না।

পোস্টটির ফেসবুক লিংক

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে পড়াই। চাটগাইয়া। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকি।

দাম্পত্য জীবন হলো অন্যতম মৌলিক মানবিক অধিকার” শীর্ষক পোস্টে ২টি মন্তব্য

  1. আসসালামু ওয়ালাইকুম স্যার। ভালো লাগলো লেখাটা। অনেক বেশী বাস্তব সম্মত। অভিভাবক পর্যায়ের কারো কাছ থেকে এই ধরণের কথা শুনলে ভালো লাগে। আমার মতো ‘স্বপ্নবাজ বিপ্লবী’, যারা পশ্চিমা সভ্যতা থেকে import করা late marriage কালচারকে বুড়ো আঙ্গুল দেখানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তাদের জন্য অনেক motivation হিসেবে কাজ করবে লেখাটা।

    কিন্তু স্যার, যেই বিষয়টা বরাবর ঝাপসা থেকে যায় তা হলোঃ
    আরো অনেক scholar(e.g., Noman Ali Khan, Yasir Qadhi, Mufti Menk…)-ও এই বিষয়টা নিয়ে কথা বলেছেন এবং আপনার লেখাতেও ব্যাপারটা এসেছে যেটা নিয়ে আপনাদের সবার বিরুদ্ধে আমার অভিযোগ, আমার কেন যেন মনে হয়, আপনারা শুধু, “বিয়েকে সহজতর করতে হবে”, কথাটা বলেই কাধ থেকে দায়িত্ব নামিয়ে ফেলতে চান।

    ব্যাপারটা খোলাসা করেই বলি। মনে করুন, আমি(অনার্স, ৩য় বর্ষ) যদি এখন আমার বাসায় বলি, আমি বিয়ে করবো, প্রথম যেই প্রশ্নটার সম্মুখীন হবোঃ ‘বউকে কি খাওয়াবি?’। ব্যাস, ফার্স্ট বলেই বোল্ড! অর্থাৎ আমি যা চাচ্ছি তা হলো, আপনারা যদি কিছু framework কিংবা case study নিয়ে কথা বলেন, যার মাধ্যমে বিয়েকে সহজ করার উপায়টা বোঝা যায় কিংবা অভিভাবক পর্যায়ে উত্থাপন করা যায় তা হলে ব্যাপারটা খুবই অসাধারণ হতো আর কি।

    Let me be honest, আমি আমার প্রক্ষাপট থেকেই বলি। আমার মেয়েকে এমন কারো সাথে বিয়ে দিতে আমার বাধবে যার financial stability নিয়ে আমার doubt আছে। তাহলে আমি যদি কোন মেয়ের বাসায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাই, সেই অভিভাবকের এই doubt পোষণ করা অধিকারকে আমি অযৌক্তিক বলে দাবি করার অধিকার রাখি না। তাহলে কিভাবে আমরা বিয়ে সহজ করার রাস্তায় আগাবো, এই বিষয়ে আপনাদের পর্যাপ্ত guideline না দিয়ে শুধু ঈশপ টাইপের উপদেশটা আমাদের কাছে অনেক বেশী পানসে!

    হ্যাঁ এখানে আরেকটা ব্যাপার আছে। প্রয়োজন যেহেতু আমারদের, তাহলে আমাদেরকেই রাস্তা খুজতে হবে। কিন্তু স্যার, এই দায়িত্বটার বোঝা কাধে নিয়ে অবৈধ সম্পর্ককে সহজ করার জন্য কাজ করে যাওয়া পি.এইচ.ডি ডিগ্রীধারী social researcher দের উচ্চ impact factor ওয়ালা paper কিংবা trillion dollar এর porn industry-র সামনে আমরা অনেক বেশী অসহায়, নিরুপায় হয়ে যাই…

    1. গার্জিয়ানরা সাধারণত মনে করে, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করানো পর্যন্ত তাদের মূল দায়িত্ব। মেয়েদেরকে বিয়ে দেওয়াটাকে তারা দায়িত্ব মনে করে বটে। কিন্তু মেয়েদের বিয়ে পরবর্তী ক্যারিয়ার নিয়ে তারা তেমন একটা ভাবে না। ছেলেদের ব্যাপারে তারা মনে করে, ছেলেরা আগে প্রতিষ্ঠিত হোক। তারপরে তারা ছেলেদেরকে বিয়ে করাবে। কেন তারা ভাবতে পারে না, ছেলের সাথে সাথে আমি একটা মেয়েও পালবো অথবা, আমার মেয়ের সাথে ওর সঙ্গী হিসেবে একটা ছেলেকেও আমার মেয়ে বা ছেলে হিসেবে পালবো? আমি অবাক হয়ে যাই, কেন তারা এমনটি ভাবতে পারে না।

      আমাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ছিলেন মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ সাহেব। তিনি একসময় আমাকে বললেন, নাইমুল্লাহকে বিয়ে করাবো। একটা বউ দেখো। আমি বললাম, হুজুর! ও তো এখনো পড়াশোনা করে। তখন তিনি বললেন, অসুবিধা কী? এখন ছেলেকে খাওয়াচ্ছি। তখন ছেলের সাথে একটা মেয়েকেও খাওয়াবো। আমার কি রুজি-রোজগারে কোনো অসুবিধা আছে? তিনি সবগুলা ছেলেমেয়েকে ছাত্রজীবনে বিয়ে করিয়েছেন এবং আলহামদুলিল্লাহ ব্যক্তিগত দিক থেকে তারা অনেক ভালো আছে। অভিভাবকদের এ ধরনের মন-মানসিকতা তৈরি হওয়াটা জরুরি। তা না হলে আপনি যেটা বলেছেন সে ধরনের একটি পরিণতির কোনো অগত্যা নাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *