প্রসঙ্গ: চবি ভর্তি পরীক্ষা

ভাবছিলাম, চবি ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কিছু লিখবো না। বিশেষ করে গঠনমূলক সমালোচনাকে যখন বিরোধিতা হিসাবে গণ্য করার আশংকা। আমার এক নিকট আত্মীয়া পরীক্ষা দিয়ে এসে বললো, কী পরীক্ষা…! সবাই কথাবার্তা বলে, দেখাদেখি করে পরীক্ষা দিয়েছে। স্যার-ম্যাডামেরা শুধু ডাক দিয়েছেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র ৫-৭ মিনিট আগে দুয়েক জনের OMR নিয়েছেন।

অথচ, আমাদের রুমে একজন শুধু পাশের জনের দিকে তাকিয়ে ছিলো। কথা বলে নাই। তার OMR ২০ মিনিট আটকিয়ে রেখেছি।

একটা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এ রকম অসম পরিদর্শন ব্যবস্থা, ভালো স্টুডেন্টদের জন্য রীতিমতো জুলুম। ভয়াবহ অন্যায়।

কেউ টিচার হলে তিনি এ ধরনের স্পর্শকাতর প্রশাসনিক কাজেও উপযুক্ত হবেন, তা তো নয়। টিচার-অফিসারদেরকে টাকা দিতে হলে, তা এমনিতেই দেয়া যায়। এ ধরনের নামকাওয়াস্তে ইনভিজিলেশন করানোর তো কোনো মানে হয় না…!!

কতো কথা বলা যায়, এ ধরনের দায়িত্বহীন কাজকারবার সম্বন্ধে। গত কয়েক বছর আগে এ সম্পর্কে দুটা নোট লিখেছিলাম। পড়তে পারেন। যদিও হা-হুতাশ করা ছাড়া কিছু করার নাই।

১। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ইনভিজিলেশনের মান-বিবেচনা ও নৈতিক দায়বোধ

২। আইন ও নৈতিকতার মিথষ্ক্রিয়া বনাম বিপরীত অনুপাত সম্পর্ক

ফেসবুকে প্রদত্ত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Ferdous Sujon: due to invigilation for one to two hour’s they paid enough. but in an ethical consideration is it ok? at the same day they usually get their regular salary, but need not conduct the class. so, it’s not an extra duty for them. again, it’s in their working place. so why our honorable university teachers are paid highly for such like easy duty. again, if we raise the issue of quality invigilation, then it will be… sorry. university can use this money for research, scholarship etc. along with this, the high admission exam fee is also a kind of punishment for the students. thank you, sir, for raising the issue.

আসিফ চৌধুরী: স্যার, এসব বিষয়ে কি কোন মিটিং হয় না?? যাতে করে মোটামুটি সমতা আনা যায়??

Mohammad Mozammel Hoque: মিটিং? তোমরা আছো এক বোকার স্বর্গে। তোমরা মানে ছাত্ররা। তোমরা মনে করো, টিচাররা আমাদের গার্জিয়ান, হেন তেন ইত্যাদি। ওদের কাছে পুরো ব্যাপারটা নিছক সুবিধা হাসিলের উপায়। নিছক চাকরী। বুঝতে পারছো?

আমি প্রকাশ্যে কাউকে ‘তুমি’ সম্বোধন করে কিছু বলি না। তোমাকে বললাম। তুমিসহ তোমাদের সবাইকে এতো বেশি স্নেহ করি। তাই।

আসিফ চৌধুরী: দায়িত্ববোধের জায়গাটা আমাদের প্রাণপ্রিয় শিক্ষকদের কাছেই প্রথমে কামনা করি। যাই হোক স্যার, আপনি আমাকে সবসময় তুমি ডাকতেন।

Mohammad Mozammel Hoque: শিক্ষকমাত্রকেই কেন তোমরা ‘প্রাণপ্রিয়’ ভাবো, তা আমি ভেবে পাই না। কিছু কিছু শিক্ষকের জেল-জরিমানা হওয়া উচিত। জাতিকে ঠকানোর জন্য।

আসিফ চৌধুরী: স্যার, স্যারেরা ভুল করুক সেটাই কামনা করতে পারি না!!

Mohammad Mozammel Hoque: শোনো, অধিকাংশ স্যারেরাই শিক্ষকতার চাকরী করেন। সেজন্য নিজেদের ‘শিক্ষক-মূল্যবোধ’ বা দায়িত্বের বিষয়ে তারা আন্তরিক নন।

আসিফ চৌধুরী: হ্যাঁ স্যার। আর আপনি একবার কোথায় যেন লিখেছিলেন, শিক্ষকরা চাকরি বাঁচানোর জন্য রাজনীতি করেন।

Mohammad Mozammel Hoque: এই লেখায়– বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন-ভাতা-মর্যাদা বৃদ্ধির আন্দোলন প্রসঙ্গে কিছু মত ও দ্বিমত

Mohammad Mozammel Hoque: কিছু কিছু কোচিং সেন্টার নাকি স্টুডেন্টদের ইচ্ছা করে দেরীতে ফরম ফিলাপ করায় যাতে করে শহরের কলেজগুলোতে সীট পড়ে। এবার বুঝেন…! গত বছর এনায়েত বাজার মহিলা কলেজে আমার একটা ডিউটি পড়েছিলো। ‘কথা না শোনা’ স্টুডেন্টদের প্রতি সেখানকার ম্যাডামদের যে নারীসুলভ ‘স্নেহ’র নমুনা দেখেছিলাম, তা বর্ণনাতীত…!

যেসব কলেজে নেয়া একটা জাতীয় পরীক্ষার মানকে অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেরা একটা পরীক্ষার ব্যবস্থা করে, তারপর ভর্তি করায়, ট্রাজেডিটা হলো, সেসব কলেজেরই কোনো কোনোটাতেই সেই বিশেষ পরীক্ষা (মানে ভর্তি পরীক্ষা) গ্রহণ করা হয়। ব্যাপারটার কোনো যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারে নাই।

বলা হয়, এতো পরীক্ষার্থী, কীভাবে পরীক্ষা নেয়া হবে? এতো পরীক্ষার্থী কেন? এত নিম্নমানের রেজাল্টকেও কেন ফরম নিতে দেয়া হয়? রিকোয়ারমেন্ট খানিকটা বাড়ালে মানসম্মত পরীক্ষা নেয়া সম্ভব। অবশ্য তাতে করে ভর্তি পরীক্ষার এই ‘বাৎসরিক ওরশ’ উৎসব আর উদযাপন করা যাবে না। হাজার হলেও ‘ইউনিভার্সিটি অব চিটাগাং’। চিটাগাংয়ের ওরশ-জেয়াফত-মেজ্জানের একটা ‘ঐতিহ্য’ আছে না…!!!

Tariq Faisal: nothing special for Chittagong! It’s same for all the universities in Bangladesh.

৮/১০ হাজার টাকার জন্য যেই কামড়া-কামড়ি দেখছি রাবিতে!

Mohammad Mozammel Hoque: think about the sufferings of the guardians, how pathetic it is…!!!

Tariq Faisal: I am in favour of either admitting student on the basis of SSC/HSC result or one test per faculty for all the universities (or at least some sort of cluster of universities) in BD. The whole process is there to make the students and their families to suffer terribly.

Mohammad Mozammel Hoque: মেডিকেলে ভর্তির জন্য নেয়া পরীক্ষার মতো একটা সমন্বিত উচ্চ শিক্ষা পরীক্ষা হতে পারে। বিসিএসের মতো। যে যেখান থেকেই পরীক্ষা দিক না কেন, মেধা অনুসারে ভর্তি হতে পারবে।

Abu Obaida Arafat: প্রিমিয়ারে আমার ছোট ভাই যে কক্ষে পরীক্ষা দিয়েছে, তাদের ক্যালকুলেটর ইউজ করতে দেয়নি, স্টুডেন্টরা বারবার বলার পরেও, অফিস থেকে জেনে নেয়ার জন্য বলেছে, তাও করেনি। অথচ অন্যান্য কক্ষ ও অন্য কেন্দ্রে ক্যালকুলেটর ইউজ করার অনুমতি ছিল।

তাছাড়া বিকালের পরীক্ষায় চবির পরীক্ষা কেন্দ্রেও ক্যালকুলেটর ইউজ করতে পেরেছে। এ অসমতা কেন?

লেখাটির ফেসবুক লিংক

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলোসফি পড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম। থাকি চবি ক্যাম্পাসে। নিশিদিন এক অনাবিল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি। তাই, স্বপ্নের ফেরি করে বেড়াই। বর্তমানে বেঁচে থাকা এক ভবিষ্যতের নাগরিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *