কাছে আসার গল্প কথা

ওই যে বলেছিলাম, মাঝে মাঝে কোনো কিছুর বিরোধিতার মাধ্যমে সেটার এক ধরনের বিকৃত চর্চাও ঘটে থাকে। অশ্লীলতার বিরুদ্ধে বলা ও লেখার ক্ষেত্রে এই সমস্যাটা কাজ করে। শুরুতে এই ‘নোক্তা’ রেখে কথাটা শুরু করি।

দৈনিক নয়াদিগন্তের পাঠকগণ মোস্টলি ডানপন্থী-ইসলামপন্থী। একই পাঠকগোষ্ঠী আমার লেখালেখিও পড়েন। তারা লক্ষ করে থাকবেন, এতে আজকে প্রথম পৃষ্ঠার এক চতুর্থাংশ জুড়ে ক্লোজআপের বিজ্ঞাপন ছাপিয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে এক জোড়া তরুণ-তরুণী ‘১২ ঘণ্টা পর্যন্ত সতেজ নিঃশ্বাস’ চালিয়ে নেয়ার প্রত্যয়ে নাকানাকি, মানে নাকে নাক ঘষছেন। এভাবে করলে কিনা ‘আরও বেশি কনফিডেন্স’ হাসিল করা যাবে। বিজ্ঞাপনের ভাষা ও ভাব যা বলে।

এতক্ষণে আমার স্বল্পসংখ্যক মুক্তমনা পাঠক বলবেন, “আপনার চোখই ‘খারাপ’। ওরা তো তরুণ দম্পতিও হতে পারে।” অযথা আমার চোখের বদনামি কইরেন না। ধরেই নিলাম তারা দম্পতি। স্বামী-স্ত্রী বললাম না। মুক্তমনারা আবার প্রথাগত, মানে পারিবারিক দাম্পত্য সম্পর্কে বিশ্বাস করেন না। ভালোবাসাই নাকি বন্ধন। সে জন্য পরিবার প্রথা আর ‘আম পাতা জোড়া-জোড়া’ তথা ফ্রেন্ডশীপ এক জিনিস না। আমিও ফ্রেন্ডশীপ চাই। তবে তা এক নম্বরের শর্ত না। ফেন্ডশীপ যেখানে একমাত্র শর্ত, সেটা আর যা-ই হোক, পরিবার নয়।

পরিবারের ক্যাচাল এখন থাক। ‘সতেজ নিঃশ্বাসের’ গল্পে ফিরে যাই। ধরে নিলাম ‘আরও বেশি কনফিডেন্স’ওয়ালা ওই জুটি বন্ধু-দম্পতি। তো, বন্ধু-দম্পতিরা ‘নাকানাকি’ ছাড়া আর কী কী করে? অথবা, নাকানাকির ফলোআপ কী? ক্লোজআপ কোম্পানি বলবে, ‘সেটা অপরাপর পণ্য উৎপাদনকারীদের ব্যাপার’। পণ্য উৎপাদনকারীরা পণ্যের বিপণন করবেন। এটি তাদের ‘সাংবিধানিক অধিকার’। ভালো কথা, পণ্য উৎপাদন ও বিপণনে যদি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আচরিত নীতি-নৈতিকতা ও বাছবিছারের কোনো বালাই না থাকে, তাহলে বলতে হয়, চুরি-ডাকাতিরও ‘সাংবিধানিক অধিকার’ থাকা উচিত। যেহেতু এর মাধ্যমে কারো না কারো অর্থনৈতিক ‘প্রবৃদ্ধি’ ঘটছে…।

পণ্যায়নের এই যুগে সবই পণ্য। লাভই হলো শেষ কথা। কিন্তু মানুষ হিসাবে আমরা সবকিছুকেই পণ্য গণ্য করতে পারি না। অর্থনৈতিক লাভই, মানবিকতার দৃষ্টিতে, শেষ কথা নয়। আসল হলো মানবতা। যদিও একদৃষ্টিতে এই মানবতাও এক ধরনের বাজারি কথা। মানুষকে যারা নিছক ভোগসর্বস্ব অর্থনৈতিক জীব মনে করে তারাও মানবতার কথা বলে। লুটেরারাও সিএসআরএরের নামে কিছু জনকল্যাণ করে। যদিও কল্যাণের ধারণা এক একজনের কাছে এক এক রকমের। এর বিপরীতে, ইসলামী মতাদর্শ অনুযায়ী মানবিক উন্নয়নের ধারণা ইহজগত ও পরজগত – উভয় জগতে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিস্তৃত।

মানুষের সংজ্ঞা নিয়ে সব মতভেদের মধ্যে একটা বিষয় অবশ্য কমন। সেটা হলো নৈতিকতা। নৈতিকতাই মানুষের মূল পরিচয়। যদিও নৈতিকতা পরিমাপের পদ্ধতি নিয়ে মতদ্বৈততা আছে।

অধৈর্য পাঠক বলবেন, ‘ধান ভানতে গিয়ে আপনি শিবের গীত গাওয়া শুরু করেছেন। খাঁজকাটা কুমিরের গল্পের মতো সাধারণ একটা বিজ্ঞাপনের আলোচনাতে মানুষের আত্মপরিচয় ও নৈতিকতার প্রসংগ টেনে এনেছেন।’ দেখেন, head of the iceberg-এর মতো আপাত তুচ্ছ সব নৈমিত্তিক বিষয়ের শিকড় প্রোথিত থাকে আমাদের জীবনবোধের গভীরে।

দেখেন, এই যে, তরুণ বন্ধু-দম্পতির ‘কাছে আসার’ একটা চিত্র আলোচ্য বিজ্ঞাপনটিতে তুলে ধরা হয়েছে, অপরাপর পণ্য উৎপাদনকারীরা স্ব স্ব পণ্যের বিজ্ঞাপনে আরো কী কী দৃশ্য উপস্থাপন করতে পারে, তার কি কোনো সীমারেখা আছে? কারো দিগন্ত যেমন সীমান্তবাসী অন্য কারো জন্য যাত্রাপথ বা শুরুর পয়েন্ট, তেমনি করে আপনার-আমার নৈতিক সীমারেখা, অন্য কারো জন্য কোনো ব্যাপারই নয়। এভাবে নৈতিকতার ধারণাগুলোকে রোল-ব্যাক করে যদি আমরা ‘শেষ পর্যন্ত’ যেতে থাকি তাহলে এক অন্তহীন পরম্পরায় আমরা হারিয়ে যাবো। ফাউন্ডেশান পাওয়া আর হবে না। কারো দৃষ্টিতে যেটা সলিড ফাউন্ডেশান, অন্য কারো দৃষ্টিতে সেটা ‘অগ্রযাত্রার’ একটা পর্যায় মাত্র।

এ জন্য আইন ও দৃষ্টিভঙ্গির দুটোই দরকারি। শুধু দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েও হয় না, শুধু আইন দিয়েও হয় না।

এবার আসেন, ‘কাছে আসার গল্প’ আর একটু খোলাসা করে বলি। এ আমার একান্ত দৃষ্টিভঙ্গি। আমাকে যারা ‘ভালো’ জানেন, তারা আমার এ কথাগুলোতে আহত হলে দুঃখিত।

“I like it, but not in public” যৌনতা নিয়ে আমার দৃষ্টিভঙ্গির এটি একটা দিক। এই কথার পরবর্তী কথা হলো, “I like it, but with social recognition”। আমারও যখন তখন চাহিদামাত্রই ‘কাছে আসতে’ কিছুমাত্র কম ভালো লাগে না। সময়ে আমরা সকলেই শ্বাপদ বটে। কিন্তু সেটার জন্য চাই (১) বিশেষ কর্মটি সম্পাদনের জন্য পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত গোপনীয়তার নিশ্চয়তা এবং (২) সম্পর্কটির সামাজিক জ্ঞাতার্থ্যতা। অর্থাৎ বাদবাকিরা যাতে জানে, কে কার সাথে সম্পর্কিত। যাতে করে পরস্পর পরস্পরের দায়িত্ব নিতে পারে।

এই দুইটা বিষয় হলো পারিবারিক ব্যবস্থার ভিত্তি। বাংলাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মিডিয়া যারা নিয়ন্ত্রণ করে, তারা সর্বোতভাবে দিনরাত যেসব ‘কাছে আসার গল্প’ ফেঁদেছে, তার লক্ষ্য হলো এই দ্বিবিধ বিষয়কে নষ্ট করে দেয়া। অভ্যস্ততা এমন এক হজমিকারক মাদকতা যা প্রয়োগ করে যে কোনো বাধাকেই গুড়িয়ে দেয়া সম্ভব। সামাজিক সংস্কৃতির নামে গড়ে উঠা অভ্যস্ততা, যে কোনো ‘অগ্রহণযোগ্য’কে এক পর্যায়ে মানুষের কাছে সহনীয় করে তোলে। তাই, এক সমাজে যা অবৈধ, অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য, অন্য সমাজে তা-ই বৈধ, ন্যায়সংগত ও গ্রহণযোগ্য।

এরই সাথে যোগ হয়েছে আমার শুভানুধ্যায়ী পক্ষের তথা ইসলামিস্টদের যৌন অবদমন ও ব্যক্তিগত সূচিতার নামে বলপূর্বক চাপিয়ে দেয়া সব স্বভাববিরুদ্ধ ও বিকৃত রুচির প্রথা, সামাজিকতা ও কাজকর্ম।

ধারণা করছি, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহশিক্ষা সংস্কৃতির সাথে পরিচিত ও অভ্যস্ত নয় তারা ভুল করে মনে করে, এই যে ছেলেমেয়েরা ক্যাম্পাসজুড়ে এভাবে মেলামেশা করছে, তারা চান্স পাইলেই ‘ওই কাজে’ লিপ্ত না হয়ে পারে না। ‘ঐ কাজ’ ছাড়া নারী-পুরুষের সুস্থ, মানবিক ও নির্দোষ পেশাগত সম্পর্কের কথা তারা ভাবতে পারে না। সহজীবনযাপনে যারা অভ্যস্ত তারা জানে, এই ধরনের কুচিন্তা বাস্তবতার বিপরীত। একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে সহজেই প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদন করা যায়। ঘনিষ্ঠতার মাত্রাগত ‘ঝুঁকি’কে বিবেচনায় নেয়ার সাথে সাথে সুস্থ মন-মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপারটাও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

আবার এর বিপরীত কথা হলো, এই যে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যারা গণহারে ‘বন্ধুত্ব চর্চা’ করছে তারা নিজেদের একান্ত চাওয়া-পাওয়ার সহজাত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে যতই নিষ্কলুষতার দাবি করুক, ওয়াকিবহাল মহল জানে, আসলে তারা ততটা ‘ভালো’ থাকতে পারে না যতটা তারা দাবি করে থাকে। ‘ব্যাপার-স্যাপার’ এখানে ঘটে না যে তা নয়। বাইরের লোকেরা যেভাবে মনে করে সে রকম গণহারে ঘটে না, এই যা।

এসব ব্যাপারে আমার প্রপজিশন হলো, “not so so”। তারমানে, “যতটা…, ততটা নয়”। অর্থাৎ যতটা খারাপ মনে করা হয় ততটা খারাপ নয়। আবার যতটা ভালো দাবি করা হয় ততটা ভালোও নয়। ভালো-মন্দ মিলিয়ে যা… মাঝামাঝি, মানবিক।

মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Tanvir Shahriar: Vulgarity and lust have been contemporary to so called love now a days.

Mohammad Mozammel Hoque: young one’s love can’t be platonic love. It was, is and must be vulgar and lustful. That’s why, they need to get marriage. whoever has the right to do it, must get married. This is prophetic injunction. clear. If any society doesn’t consist with this order, then it is the duty of the social workers to remove the social barriers.

Tanvir Shahriar: But sir I think no one (man) should marry before confirming a stable source of income. I have seen many people having early marriage to suffer and to repent for the temporary/immatured emotion (however it is from Islamic sense or so-called love. Islamists refer Islam to validate their demand though sexuality is the main cause behind it I think). One should keep patience about marriage before getting a stable income source otherwise sufferings will be written in his lot.

Mohammad Mozammel Hoque: হ্যাঁ, বিয়ে করার হুকুম আর ধৈর্যধারণের পরামর্শ, দুটা আয়াত পাশাপাশি। একটার পর পরই আরেকটা। অতএব, সিদ্ধান্তটা ব্যক্তির বা ব্যক্তিগত।

Abdullah Al Noman: বিষয়টি সম্পর্কে আরো পরিষ্কার হবার জন্য জিজ্ঞাসা…

তাহলে ‘সামাজিকভাবে স্বীকৃতি প্রাপ্তি’ নামক যে মৌখিক বা লিখিত চুক্তিভিত্তিক রেওয়াজ চালু আছে তা কি শুধুই ধর্মীয় প্রথা, নাকি ধর্মীয় মোড়কে সামাজিক প্রথা, নাকি তা মুক্তমনাদের ধর্মহীন (ওহীভিত্তিক নয়) সামাজিক প্রথা (যা সময়ের প্রয়োজনে পরিবর্তনশীল/নৈতিকতার ভিত্তি ধার্মিকদের মত ওহীভিত্তিক না অথবা ওহীভিত্তিক আইন দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়)। যেমন সমমনা দুজন মানুষ লিভটুগেদার (শুধুই শারীরিক বা শুধুই মানসিক অথবা উভয়ই) করেন এবং এর পিছনে একটি সুস্থ মানব বংশকে টিকিয়ে রাখার মহৎ মানসিকতাও কাজ করে। সেক্ষেত্রে কোন ধার্মিকের (ব্যক্তি ঈশ্বরে বিশ্বাসী এবং নবুওয়াতে বিশ্বাসী) মনে করা যে সেই (দম্পতি) ১ ও ২ দুটোই করলো ফলে তাকে সতর্ক করা তার দায়িত্ব!

১. (ক) পরকাল ভিত্তিক পাপ (sin) করলো; (খ) ইহকাল ভিত্তিক পাপ (sin) করলো যার Metaphysical Impact রয়েছে (কিন্তু যেটা ব্যাখ্যাতীত) এর ভিত্তিতে!

২. অপরাধ (crime) ইহজাগতিক (যা সামাজিক বিশৃংখলা), কিন্তু এক্ষেত্রে বাংলাদেশী ব্লগীয়, ফেসবুকীয় সো কলড মুক্তমনাদের (philosophical god এবং atheist/skeptic)) ভাষ্য হচ্ছে-

১. (Sin ব্যাপক অর্থে) এর মেটাফিজিকাল impact রয়েছে কিন্তু উপরে উল্লেখিত উদাহরনটি (‘লিভটুগেদার’ একটি Selective exception) তার সাথে পরকাল সংক্রান্ত স্রষ্টিকর্তার ধারনা টেনে আনা যাবে না

২. অপরাধ (Crime) (‘লিভটুগেদার’ উদাহরনে/selective exception) হিসেবে ধারনাটা আপেক্ষিক, সময়ের পরিক্রমায় পরিবর্তনযোগ্য যা মানুষের Aesthetics প্যারামিটারে বিবেচনা করতে হবে!

 “লিভটুগেদার’ একটি নিরীহ গোছের আনন্দদায়ক এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানভিত্তিক সৃষ্টিশীল কর্মে (যা মানবসভ্যতা চরম উৎকর্ষ সাধনের উদ্দেশ্যে) উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে কিন্তু পরকালভিত্তিক ধর্ম এটাকে সমাজস্বীকৃত বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে আনন্দকে প্রাধান্য না দিয়ে দুঃখকে মেনে নিতে ও বরন করতে উতসাহ প্রদান করে।

ফলে পরকাল বিশ্বাসী ধার্মিক স্থবির (static) হয়ে পরে ও মানসিক কোন তাড়না অনুভব করে না জ্ঞান-বিজ্ঞানভিত্তিক সৃষ্টিশীল কর্মে। যা মানবসভ্যতা চরম উৎকর্ষ সাধনের উদ্দেশ্যেকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ও তা অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ।

আমার করা আর্গুমেন্টের ফাঁক ফোকর গুলো যদি ধরিয়ে দিতেন তাহলে কৃতজ্ঞ থাকতাম! আর শেষে বলবো ….নবুওয়াতের যৌক্তিকতা নিয়ে আপনার লেখার অপেক্ষায় আছি! ভালো থাকবেন !

Mohammad Mozammel Hoque: বিয়ে সম্পর্কে ইসলামের বিধি এতটাই (সহজ অর্থে) শিথিল যে কেউ বিবাহযোগ্য কারো সাথে জ্ঞাতসারে বসবাস করলেই বিয়ে কায়েম হয়ে যাবে। এমনকি কেউ কাউকে দু’জন সাক্ষীর সামনে ঠাট্টা করে স্বামী বা স্ত্রী বা এ ধরনের সম্পর্ক বুঝায় এমন কোনো কথা বললে, মোহরানা ঠিক না করা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে বিয়ে কায়েম হয়ে যাবে। সে অর্থে তুলনামূলকভাবে স্থায়ী ‘লিভ টুগেদার’ও এক ধরনের বিয়ে বটে। পরস্পরের জন্য হালাল হওয়ার বাইরে, আসলে বিয়ের দুটি প্রধান শর্ত: (১) পারস্পরিক সম্মতি, (২) ন্যূনতম সাক্ষী। conjugal life is actually a kind of lawful living together.

যখন লিভ-টুগেদারটা বিয়ের খেলাফ হিসাবে প্র্যাকটিস করা হয় তখন মুসলমানদের জন্য লিভ-টুগেদারের সুযোগ নাই। যেহেতু তারা মুসলমান। ইসলামের অনুসারী দাবীদারদের ইসলামের বিধি লংঘন করার সুযোগ থাকাট কন্ট্রাডিকটরি। অতএব, তাদের জন্য এমন কাজ পাপ ও অপরাধ উভয়ই। অন্যদের জন্য তা অপরাধ হিসাবে গণ্য হওয়া উচিত।

ইসলাম এমন কোনো উদ্দীপনাকে বৈধ হিসাবে স্বীকার করে না যা মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন, মাদক দ্রব্য সেবন। বিয়ের সহজতা সত্ত্বেও ব্যভিচারের সম্পর্ক বা লিভ টুগেদারকে যারা নির্দোষ মনে করে, তারা ইসলাম নির্দেশিত বিয়েটাকেই বুঝেন নাই। এমন লোকেরা আশপাশের লোক-ইসলাম দেখে ইসলামের বিরোধিতা করে। ইসলামের অনুসারীদের আচরণ আর ইসলাম এক নয়। আমি ইসলামী মতাদর্শের কথা বলছি। মুসলমানদের সামাজিক অচলায়তনের সূত্রে ইসলামকে অভিযুক্ত করা ঠিক নয়।

আপনার প্রশ্নগুলোর ওভারঅল একটা উত্তর দিলাম। বুঝে নিবেন, আশা করি। আর নবুয়তের যৌক্তিকতা নিয়ে একটা ছোট নিবন্ধ লিখবো, ইনশাআল্লাহ। দোয়া করবেন। ভালো থাকেন।

লেখাটির ফেসবুক লিংক

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে পড়াই। চাটগাইয়া। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *