ডেমোক্রেটিক এক্সেপশনালিজম

ডেমোক্রেটিক এক্সেপশনালিজম। মানে আমরা গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে চাই, কিন্তু সবার জন্য বা সব ক্ষেত্রে নয়। আমরা মানবাধিকারের নিশ্চয়তা চাই, কিন্তু সবার জন্য বা সব ক্ষেত্রে নয়। যারা আমাদের বিরোধী, বাস্তবে তাদের গণতান্ত্রিক বা মানবিক অধিকার নাই। যতটুকু আমরা দেবো, তার বেশি নয়।

দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে বলছি, আমাদের পুলিশ ব্যবস্থা একটা ফ্রাংকেনেস্টাইনিয়ান ব্যবস্থা। আজ দলমত নির্বিশেষে এ কথার জোর আওয়াজ তুলতে হবে।

অস্ত্রধারীদের মধ্যকার সবচেয়ে ভয়ানক হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অতীব দুর্ভাগ্যজনক হলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি সত্য।

আপনি ভাবছেন ওদেরকে ধরেছে, আমাকে তো ধরে নাই। একদিন প্রতিবাদ করুন কোন পুলিশীয় অপকর্মের, দেখবেন আমার কথা কতটুকু সত্য। লাইনের বাহিরে এসে এক পুলিশ টিকেট কাটতে উদ্যত হলে আমি বাধা দিয়েছিলাম। এক পর্যায়ে আমার পদমর্যাদা প্রকাশ করার পরেও আমাকে সেই পুলিশের হাতে নাজেহাল হতে হয়েছিল। ভাগ্যিস, গ্রেফতার করেনি। যদি আমি তাকে আল্টিমেটলি টিকেট নিতে না দিতাম, তাহলে হয়তোবা আমাকে ধরে মোবাইল চুরির মামলা দিয়ে রিমান্ড চাইতো।

আজ যেভাবে এক গ্রুপকে রিমান্ডে নিয়ে কথিত বিভিন্ন স্বীকারোক্তি আদায় ও গণমাধ্যমে তা প্রচার করা হচ্ছে, বছর কয়েক আগে বর্তমানে ক্ষমতাসীনদের কারো কারো প্রতি অনুরূপ আচরণ করা হয়েছিল। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের আবদুল জলিল ও শেখ সেলিমের কথিত স্বীকারোক্তির অডিও ক্লিপের কথা মনে পড়ছে।

বাংলাদেশের আজকের বিদ্যমান বাস্তবতায় নায়মোলারের অনুশোচনার কথা আজ খুব মনে পড়ছে–

“প্রথমে ওরা এসেছিল কমিউনিস্টদের ধরতে,

আর আমি প্রতিবাদ করিনি–

কারণ আমি কমিউনিস্ট ছিলাম না;

তারপর তারা সোশ্যালিস্টদের ধরতে এসেছিল,

আমি প্রতিবাদ করিনি–

কারণ আমি সোশ্যালিস্ট ছিলাম না;

তারপর তারা এলো ট্রেড ইউনিয়নপন্থীদের ধরতে,

আমি প্রতিবাদ করিনি–

কারণ আমি ট্রেড ইউনিয়নপন্থী ছিলাম না;

তারপর তারা এলো ইহুদিদের ধরতে,

তখনো আমি প্রতিবাদ করিনি–

কেননা আমি ইহুদি ছিলাম না;

তারপর ওরা আমাকে ধরতে এলো–

তখন আর আমার হয়ে প্রতিবাদ করার

কেউ অবশিষ্ট ছিল না।”

নায়মোলার প্রথম বিশ্বযুদ্ধে দুর্ধর্ষ ইউবোট (সাবমেরিন) ক্যাপ্টেন ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি নাৎসি ডিক্টেটরশিপের কঠোর সমালোচক হয়ে ওঠেন। সেজন্য ১৯৩৭ সালের ১ জুলাই তাকে গ্রেফতার করা হয়, কিন্তু আদালত তাকে হাল্কা সাজা দিয়ে ছেড়ে দিলে ক্রুদ্ধ হিটলার ব্যক্তিগতভাবে তাকে বন্দিশিবিরে আটক রাখার নির্দেশ দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যন্ত তিনি সে শিবিরে আটক ছিলেন প্রায় নিঃসঙ্গভাবে।

পোস্টটির সামহোয়্যারইন লিংক

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে পড়াই। চাটগাইয়া। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *