যৌথ পরিবার ব্যবস্থা প্রসংগে ‘ইসলামী নারীবাদ’ বিষয়ক কিছু অনুক্ত বয়ান-বৃত্তান্ত (অবশিষ্টাংশ)

১.

গত রাতে ঘুম ঘুম চোখে যে নোট লিখেছি তাতে বেশ কিছু পয়েন্ট আসে নাই। সেসব কথা সংক্ষেপে বলার জন্য এই সম্পূরক নোট।

মূল নোটে হযরত খাদীজা (রা) সম্পর্কে কিছুটা আলোকপাত করেছি। যাদের সাথে নারী অধিকার নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছি তারা জানেন, খাদীজা (রা) সম্পর্কে বলতে গেলে আমি ভীষণ আবেগতাড়িত হয়ে পড়ি। I can’t resist my emotions, even in public! খোদার কসম, উনার সম্পর্কে ভাবতে গেলেই আমার পুরো সত্ত্বা আন্দোলিত হয়ে উঠে। চোখের পানি ধরে রাখতে খুব কষ্ট হয়। হ্যাঁ, এই মুহূর্তেও আমি কাঁদছি। উনার জীবন, উনার প্রজ্ঞা, উনার নারীত্ব, উনার ঈমান…! গতকালকের নোটে লিখেছিলাম, অহী নাযিল শুরুর সময়কার ঘটনাবলির আলোকে এক অর্থে বলা যায়, তিনি রাসূলকে (সা) রেসালতের দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ ও সহযোগিতা করেছিলেন। উনাকে কেউ ঈমানের দাওয়াত দেয় নাই। কোনো প্রকার যাচাইও তিনি করেন নাই। এমন পতিপ্রাণ মহিয়সী হেদায়েতপ্রাপ্ত ছিলেন তিনি।

তো, উনার সম্পর্কে যে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টটার দিকে একটু আগে মাসুদ আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করলো, সেই সম্পর্কে বলি। আমাদের নারী নেত্রীদের কেউ কেউ বলে, স্বামীদেরও উচিত পালা করে রান্না করা। আল্লাহর রাসূল (সা) কি কখনো রান্না করেছেন? সীরাত থেকে এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারবেন? হ্যাঁ, তিনি ঘরের টুকটাক কাজে সহযোগিতা করতেন। সেটি করা উচিত। এরমানে আবার এই নয়, পুরুষরা কখনো রান্না করবে না (যেমনটা আমাদের চট্টগ্রাম অঞ্চলের লোকেরা মনে করে। তারা মনে করে, ঘরের কাজ করা পুরুষদের জন্য অবমাননা। তাই আমি যখন ঝাড়ু হাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করি তখন গ্রাম্য কেউ দেখলে হা হা করে উঠে। বলে, করো কি, করো কি, এতো মেয়েদের কাজ!) ব্যক্তি মুহাম্মদ (সা) এবং রাসূল মুহাম্মদের (সা) পার্থক্যটা বুঝতে হবে। রাসল (সা) কোনো কাজ করেছেন বলেই সেটি সুন্নত হওয়ার মর্যাদা রাখে না। পক্ষান্তরে, সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো কাজ না করা হতে রাসূল (সা)  বিরত ছিলেন বলে সেটি না করাই সুন্নতের দাবি, এমন মনে করারও সুযোগ নাই। যেমন, সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রাসূল (সা) সেলাইবিহীন লুঙ্গি বাদে অন্য কোনো পোশাক ­– যেমন, পাজামা ইত্যাদি – পড়তেন না। এরমানে এই নয়, পুরুষদের জন্য সেলাইবিহীন লুঙ্গি বাদে অন্যান্য ধরনের পোশাক পরা সুন্নতের খেলাফ।

মনে মনে এই ঘটনাটা চিত্রিত করে আবেগে অস্থির হয়ে পড়ি – নবুয়ত লাভের কয়েক বছর পূর্ব হতে প্রতি রমজানে রাসূল (সা) হেরা গুহায় গিয়ে চুপচাপ বসে থাকতেন। তাহান্নুস করতেন। He was in deep contemplation। উনার বয়স্ক স্ত্রী এত দূরে এতো উপরে উঠে উনাকে নিয়মিতভাবে খাদ্য সামগ্রী দিয়ে আসতেন। আমাদের নারী নেত্রীরা বার বার হযরত আয়িশার (রা) কথা উদাহরণ হিসাবে কোট করেন। আয়িশার (রা) বাবার পক্ষ থেকে এক মহিলাকে ঠিক করে দেয়া হয়েছিলো। ওই মহিলা আয়িশার (রা) পক্ষ হতে উনার গম-যব পেশা, আটা-ছাতু বানানো ও রুটি তৈরির কাজগুলো করে দিতেন। এটি সঠিক। কিন্তু ফাতেমার (রা) পিতার বা স্বামীর এতো টাকা-পয়সা ছিলো না। তিনি পিতার কাছে একজন সাহায্যকারী চেয়েছিলেন। আল্লাহর রাসূল (সা) অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন। এ ঘটনা হতে আমরা কী শিক্ষা পাই?

মনে পড়ে, কোনো যুদ্ধ হতে ফেরার পথে এক সাহাবী রাসূলুল্লাহকে (সা) নিজের আসন্ন বিবাহ অনুষ্ঠানের কথা বললেন। রাসূলুল্লাহ (সা) উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কুমারী মেয়ে, নাকি অকুমারী? তিনি বললেন, কনে অকুমারী। রাসূলুল্লাহ (সা) উক্ত সাহাবীকে বললেন, তুমি একটা কুমারী মেয়ে বিয়ে করছো না কেন, যার সাথে তুমি রঙ-তামাশা করতে পারবা? জবাবে উক্ত সাহাবী জানালেন, উনার মাতৃহারা অবিবাহিত বোনেরা আছে, যাদের দেখাশোনা করার জন্য একজন অভিজ্ঞ মহিলা বেটার হবে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) এ বিষয়ে একমত হলেন ও সন্তোষ প্রকাশ করলেন। এ ঘটনাটা অথেনটিক। এর থেকে আমরা কী শিক্ষা পাই?

২.

বউ-শ্বাশুড়ির দ্বন্দ্ব প্রসংগে যত ঘটনাই আপনি যাচাই করুন না কেন দেখবেন, নির্যাতনকারী সংশ্লিষ্ট নারী ক্ষমতার বিকারে ভুগছেন। প্রাপ্ত ক্ষমতার সঠিক ও ন্যায্য ব্যবহার করতে পারছেন না। যে ঘরে ছেলে মায়ের পক্ষে, সেখানে পুত্রবঁধূ নির্যাতিত। যে সংসারে ছেলে বউয়ের পক্ষে, সেখানে মা নির্যাতিত। দেখুন উভয় ক্ষেত্রেই নির্যাতনকারী কিন্তু একজন নারীই, যিনি কিনা প্রাক্তন বা সদ্য পুত্রবধূ। আবার দেখেন, বউ-শ্বাশুড়ি উভয় তরফ থেকেই, পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে নিতান্ত ব্যতিক্রম বাদে, কাজের মেয়ে নামক অসহায় নারীটা বিভিন্ন মাত্রায় করুণভাবে নির্যাতিত। নির্যাতিত বউ বা শ্বাশুড়ির পক্ষে কোনো না কোনোভাবে এক ধরনের সামাজিক আরবিট্ট্রশান করার সুযোগ থাকলেও হাউজ মেইডের কপালে সফট অর হার্ড নির্যাতন অনিবার্য ব্যাপার। কী মারাত্মক! আমি এমন একটাও ইসলামী পরিবার দেখি নাই, যে পরিবারে কাজের মেয়েটাকে চট করে চেনা যায় না। অর্থাৎ অধীনস্তদের বেলায় ইসলামের তত্ত্বগত মানবিক সমতাকে অবহেলা করার ব্যাপারে সব নারীপক্ষই এক ধরনের নীরব ঐক্যমত পোষণ করেন।

দেখুন, ঘরের বাইরে যেখানে নারীরা কোনো প্রশাসনিক কাজের অংশীদার তখন তারা খুবই একোমোডেইটিভ বিহেভিয়ার করে। কিন্তু যেখানে প্রশাসনিক দিক থেকে তিনি সর্বেসর্বা সেখানে তিনি মিনি হিটলার। এই পঞ্চাশ বছর জীবনে চব্বিশ বছর চাকুরির অভিজ্ঞতার আলোকে নির্দ্বিধায় বললতে পারি, প্রশাসনিক প্রধান হিসাবে পুরুষের তুলনায় নারীরা অধিকতর স্বৈরাচারী, নির্যাতনকারী। একচুয়েলি, প্রতিশোধপরায়ণ। কেন এটি হয়?

কারণ, অনুল্লেখ্য ব্যতিক্রম বাদে নারাীরা সাধারণত ক্ষমতার ভার বহন করতে পারে না। বাংলাদেশে বর্তমানে নারীরাই তো সশস্ত্র বাহিনীসমূহের প্রধান বাদে তদাপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ সব শীর্ষ প্রশাসনিক পদে সমাসীন। এতে এমনকি নারী নির্যাতনও বন্ধ হয়েছে? তনু হত্যার কি সুষ্ঠু সুরাহা হয়েছে? শুধুমাত্র একটা উদাহরণ বললাম। রাজনৈতিক কারণে ইসলামপন্থীরা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে স্বৈরাচারী বলেন। সেটি ঠিক নাকি বেঠিক – সেই বিতর্কে না গিয়ে আসুন নিরীহ ইনফরমাল অপজিশান লিডারের কথাটা একবার ভাবি। দেশের ক্ষমতাসীন প্রধান নির্বাহী পুত্রশোকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্য উনার বাড়িতে গেছেন। তিনি দরজাই খুলেন নাই। আপনার রাজনৈতিক অবস্থানের আলোকে বিষয়টিকে আপনি যেভাবেই দেখুন না কেন, এতে বিরোধী দলীয় নেত্রীর নারীসুলভ ভিনডিক্টিভিটিই প্রকাশিত হয়েছে। আমি কেন, যে কোনো নিরপেক্ষ লোকই এটি স্বীকার করতে বাধ্য।

অতএব দেখা যাচ্ছে, নারীরা ক্ষমতার উত্তাপ সহ্য করতে পারে না। অপব্যবহার করে। আর যেসব নারী ক্ষমতার অপব্যবহার না করে সঠিক ব্যবহার করেছে, সাবার রানী বিলকিসের মতো তাদের যোগ্য পুরুষ সভাসদ, পরামর্শদাতা ও উপদ্ষ্টো ছিলো। তাহলে তো দেখা যাচ্ছে প্রশাসনিকভাবে সফল প্রত্যেক নারীই কোনো না কোনো পুরুষ সহযোগীর সুনাম, ইমেজ ও গাইডেন্সের ছায়াতলে থেকেই কাজ করেছেন। এর মানে এই নয়, আমি নারীদের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অধিকারের বিরোধী। বরং রাষ্ট্রপ্রধানসহ নারীদের বাধাহীন প্রশাসনিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে আমি প্রবন্ধ লিখেছি। এ সংক্রান্ত ‘নারী অধিকার প্রসঙ্গে শরীয়াহর নির্দেশ বনাম নির্দেশনা’ প্রবন্ধটি পড়তে পারেন।

নারীরা অভ্যন্তরীণ কাজে ব্যাপৃত বা ফোকাসড থাকবেন। এটি হলো স্বাভাবিকতা এবং ইসলামের দৃষ্টিতে সামাজিক কর্মবণ্টনের মূল রূপ। তবে ক্ষেত্রবিশেষে বা প্রয়োজনে তারা বাইরের যে কোনো কাজেও অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এটি হলো অনুমতি বা ব্যতিক্রম। রোজা রাখাটা হলো নিয়ম। রাখতে না পারলে কাজা-কাফফারা করবেন। এটি হলো রোখসত বা অনুমতি। ইসলামের এই মেথডোলজি পাশ্চাত্য নারীবাদের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। সেখানে বিয়েটা এক ধরনের লিভিং টুগেদার। সবকিছু যদি সমান-সমান ভাগাভাগি হয়, তাহলে বিয়েরই বা দরকার কী? এবং সেজন্য সেখানে বিয়েটাই ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে।

দেখুন, পাশ্চাত্য এবং আমাদের দেশে নারী অধিকার রক্ষার নামে বিবাহিত নারীর অধিকারের উপর এতো বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে যে, এর ফলে পাশ্চাত্যের লোকেরা বিয়ে করার ব্যাপারে ভীত ও নিরুৎসাহিত। আর আমাদের দেশে অতি উচ্চ পরিমাণে মোহরানার শর্ত ইত্যাদি আরোপ করায় পুরুষেরা সহজে আইনগতভাবে তালাক দিতে পারে না। যার পরিণতি হলো নির্যাতন। ওই যে গাজীপুরে একটা তরুণী বঁধূকে হাত-পা বেঁধে মরে গেছে মনে করে ফেলে দিয়ে গেছে। কী করুণ দৃশ্য! মেয়েটার ভাষ্য মতে, স্বামী, ভাসুর, ননদ ও শ্বাশুড়ি মিলে যৌতুকের জন্য মারধোর করে মৃত মনে করে তাকে ফেলে গেছে। নির্যাতনকারীরা নাকি বলেছে, তালাক দিতে গেলে আট লাখ টাকা লাগবে। তারচেয়ে মেরে ফেলে দাও। পুলিশকে দু’তিন লাখ টাকা দিলে ‘ঝামেলা’ মিটে যাবে…!

তো, নারী অধিকার নেত্রীরা, বলুন, আপনার বিয়েতে কত খরচ হয়েছে? সমানাধিকারের সূত্রানুসারে তাতে আপনার ব্যক্তিগত উপার্জনের অংশ কত? বিয়েকে সহজ করো, ব্যভিচারকে কঠিন করো – আল্লাহর রাসূলের (সা) এই হেদায়েতকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আপনার সহযোগিতা ও ভূমিকা কতটুকু? ফেইসবুকে পাল্টাপাল্টি যুক্তি দিয়ে জয়-পরাজয়ের ব্যাপার এটি নয়। এ আমার আপনার ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের জ্বলন্ত সমস্যা। অপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনদার ছেলেকে বিয়ে করার ব্যাপারে আপনার অন্তর কতটুকু সায় দেয়? পাশ্চাত্য ভোগবাদিতার ইসলামী সংস্করণ বানাতে যারা আগ্রহী তাদের ফেরানো যাবে না। কিন্তু সৎ ও সাহসী মানসিকতার পুরুষ ও নারীদের মধ্যে যারা এখনো সংবেদনশীল মননের অধিকারী, আমার এ কথাগুলো তাদের জন্য। প্রতিক্রিয়াশীলদের সাথে আমি নাই। প্রতিক্রিয়াশীলতার পথে, ঘৃণা সৃষ্টি ও নেতিবাচক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে ইতিবাচক অর্থে সমাজ পরিবর্তন বা বিপ্লব করা যায় না।

আল্লাহর রাসূল (সা) এ প্রসংগে কী বলেছেন? তিনি বলেছেন, ইয়াসসিরু (সহজ করো), ওয়ালা তুয়াসসিরু (কঠিন করো না), ওয়াবাশশিরু (সুসংবাদ দাও) ওয়ালা তুনাফফিরু (ঘৃণা সৃষ্টি করো না)। পাশ্চাত্য নারীবাদের চলমান থার্ড ওয়েভ সম্পর্কে অন্য একদিন বিশ্লেষণ করা যাবে। আজ থাক। সবাই ভালো থাকুন।

ফেসবুকে প্রদত্ত মন্তব্যপ্রতিমন্তব্য

Mohammad Mozammel Hoque: “আমি নবী মুহাম্মদের (সা) কন্যা ফাতেমার (রা) কাহিনী পড়েছি। পড়ে দেখলাম, রান্নাবান্নার কাজ করতে করতে উনার হাত কখনো কখনো ফুলে উঠতো। পিঠে-কাঁধে করে পানি বহন করতে করতে উনার কাঁধে ব্যথা হতো। আমার মনে হয়নি, তিনি ‘নারী’ হিসাবে একজন ‘পুরুষে’র সেবা করার জন্য এসব কিছু করছেন। বরং আমার মনে হয়েছে, একজন দ্বীনদার স্ত্রী এবং একজন মমতাময়ী মা হিসাবে তিনি এসব কিছু করেছেন। তার ভালোবাসার মানুষটি এবং তাদের সন্তানদের কল্যাণের জন্যই তিনি এসব কিছু করেছেন। ফাতেমা (রা) তার গৃহে ‘পুরুষ প্রভু’র হাতে নির্যাতিত ছিলেন না। তিনি ছিলেন তার স্বামীর কঠিন সময়ের সহযোগী, অংশীদার। তারা সব কষ্ট সহ্য করেছেন দ্বীন এবং জীবনে পরষ্পরের সাথী হিসাবে।

হযরত আবু বকরের (রা) কন্যা আসমা (রা) তার স্বামী জোবায়ের ইবনুল আওয়াম (রা) সম্পর্কে বলেছেন, “আমি জোবায়ের ঘরে সব কাজ করতাম। আমি তার ঘোড়াকে পরিষ্কার করতাম এবং খাওয়াতাম। একটা পাত্রে করে কূপ থেকে পানি উঠাতাম। জমিতে সেচ দেয়ার কাজ করতাম। কয়েক মাইল দূরে অবস্থিত তার জমিতে মাথায় করে বীজ বয়ে নিতাম।” হ্যাঁ, এ কথা সত্যি যে, ফকীহদের একটা বিরাট অংশের মতে একজন স্ত্রী কর্তৃক তার স্বামীর কাজ করার আইনগত বাধ্যবাধকতা নাই। কিন্তু, সম্মানিত মুসলিম জায়াগণ, এই ফেকাহর অভিমতকে আক্ষরিকভাবে অনুসরণ করবেন না। বরং যত্ম ও ভালোবাসার মনোভাব নিয়ে নিজ নিজ স্বামীদের ঘরের কাজ কর্ম করুন।

ঘরের কাজকর্মের ব্যাপারে পুরুষই নেতৃত্বে থাকার কথা। এ কথা সঠিক। যদিও এই লিডারশীপ হলো ত্যাগের ও দায়-দায়িত্বের ব্যাপার। এটি তাদেরকে দেয়া বিশেষ কোনো সুবিধার ব্যাপার নয়। সমস্যা হলো মুসলিম বিশ্বে অজ্ঞতা হলো একটা বিরাট সমস্যা। বিয়ে সম্পর্কে অধিকাংশ মুসলমানের ধারণা হলো, এটি মূলত একটা শারীরিক সম্পর্কের ব্যাপার। ইসলামের বৃহত্তর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা ছাড়াই তারা মাতৃত্ব ও পিতৃত্ব লাভ করেন। তাদের সন্তানদেরকেও এ কারণে তারা উপযুক্ত মূল্যবোধ শিক্ষা দিতে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। তাদের কাছে বিবাহ হচ্ছে এক ধরনের চুক্তি মাত্র যাতে শক্তিশালী পক্ষ বিশেষ সুবিধা লাভ করে। এটি ভুল।”

– শায়খ মুহাম্মদ আল গাযালির “Muslim Women between Backward Traditions and Modern Innovations” হতে Ali La Pointe’র সৌজন্যে উদ্ধৃত।

Tanisha Tahsin: আপনার বাসায় এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে চাই স্যার

Mohammad Mozammel Hoque: জঙ্গি ট্রেনিং বলে কেউ আবার তেড়ে আসবে না তো…!!

প্রশান্ত আত্মা: স্যার, খুব ভালো লাগলো। এমন একটা ভারসাম্যমূলক লিখা খুঁজতেছিলাম অনেক দিন ধরে। ইদানীং অনেক ইসলামিস্ট নারী চিন্তকদের দেখতেছি পশ্চিমা আদলে নারী অধিকার তালাশ করতে। এই লিখাটা এই প্রেক্ষাপটে খুব ভালো কাজ দেবে।

Mohammad Mozammel Hoque: এ সংক্রান্ত শ্রদ্ধেয় রেজা ভাইয়ের “সালিশি পোস্টে” আমি এই মন্তব্যটা দিয়েছিলাম: “সর্বাবস্থাতেই চরমপন্থা বর্জন করতে হবে। এবং এক্সপ্রেশনে শিষ্টাচার বজায় রাখতে হবে। যদি আমরা সমাজের জন্য তেমন কিছু করতে চাই। নচেৎ যার যার জিদ বজায় রাখাই সার হবে। মাঠে টিকে থাকতে হলে, জিততে হলে কিছু কিছু বলকে ছেড়ে দিতে হয়। মাঝে মাঝে কিছুটা পিছিয়ে এসে আগাতে হয়। এই স্ট্রেটেজির ওপর আমাদের প্রমিজিং ইয়াংদেরকে যথোচিত গুরুত্বারোপ করতে হবে।” Mo Min

Sumaiya Habiba: আমি অলওয়েজ বলে থাকি আমাদের উদাহরণে হযরত আসমা (রা) খুব উপেক্ষিত! যে কোনো কারণেই হোক না কেন এটা সত্যি! সম্ভবত উনার উদাহরণে অধিকারের চেয়ে দায়িত্ব কর্তব্যের শিক্ষাটা বড় বেশি প্রকট!

দ্বিতীয়ত, ইদানীং ইসলাম মানাটা আমরা খুব এক্সপেনসিভ করে ফেলছি বলে মনে হয়! অথচ অধিকাংশের সামর্থ্যই সীমিত! তাহলে তাদের জন্য কি ইসলাম মানা নেই! যেমন, যে লোকটি সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভের কাজ করে তার আয় যতটা তা দিয়ে কি বাবা-মা-ভাইবোন-বউয়ের জন্য আলাদা বাসস্থান করা সম্ভব? কিন্তু আমি যখন চটকদার কথার মায়ায় প্রমাণ করছি আলাদা বাসস্থান, কাজের লোক ইত্যাদি ইত্যাদি না হলে বউয়ের অধিকার ক্ষুন্ন হয়! তখন এ ধরনের পরিবারগুলোর অবস্থা কী হয়! অধিকার প্রতিষ্ঠা তো দূর, সাংসারিক শান্তি কোথায় পৌঁছায় – সেটা বোধহয় ভেবে দেখছি না! অথচ এরকম সীমিত আয়ের পেশার পরিবারই সংখ্যায় বেশি! এ কথাগুলো আমি বারবার বলেছি, বলছি। আরো কয়েকজন বলছে। কিন্তু আরো কয়েকজনের, অনেকজনের বলা দরকার।

এই লেখার প্রথম অংশ: যৌথ পরিবার ব্যবস্থা প্রসংগে ‘ইসলামী নারীবাদ’ বিষয়ক কিছু অনুক্ত বয়ান-বৃত্তান্ত

লেখাটির ফেসবুক লিংক

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে পড়াই। চাটগাইয়া। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *