এরপরও ইসলামপন্থীরা কীভাবে মজহারবাদী হয়!

বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ ‘ঈমানদার কম্যুনিস্ট’ ফরহাদ মজহার হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো বুদ্ধিজীবীতার এক হীনমন্যতাসুলভ দুর্দান্ত আকর্ষণে এ দেশের স্মার্ট ইসলামিস্টদের একটা বিরাট অংশকে তাদের নিজেদের অজান্তেই বশীভূত (indoctrinate) করে রেখেছেন। ভদ্রলোক এক ঈর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব। এই বয়সে মাশাআল্লাহ যেভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন, ভাবছি এতোদিন বাঁচবো নাকি!

যাহোক, ক’দিন আগে মজহারপন্থার মুখোশ উন্মোচন করে জনাব Shahadat Mahmud Siddiquee “তবু ইসলামের কথাই বলতে হবে” শিরোনামে একটা সুলিখিত প্রবন্ধ লিখেছেন। ইচ্ছা করেছিলাম লেখাটা শেয়ার করবো। পরে ভাবলাম লেখক যদি কখনো লেখাটা মুছে দেন তাহলে তো আমার শেয়ারিংটা মাঠে মারা যাবে। সে জন্য ভাবলাম পুরো লেখাটা কপি করে আমার টাইমলাইন হতে শেয়ার করে নিচে লেখকের নাম উল্লেখ ও ট্যাগ করে দেই। এরপরে আবার ভাবলাম, ইসলামপন্থীদের মজহারপন্থা অনুসরণের বিষয়ে আমি যেসব লেখা লিখেছি এবং/অথবা শেয়ার করেছি সেসবের একটা সংকলন আগ্রহী পাঠকদের জন্য একটা নোট হিসাবে দেই। পরে সেটি খুঁজে পেতে ও সময়ে সময়ে এডিট করতে সুবিধা হবে।

হীনমন্য উঠতি ইসলামপন্থী তরুণ বুদ্ধিজীবীদের একজনও এসব লেখার কোনো একটা যুক্তিকে হলেও গ্রহণ করবে, আমি এমনটি আশা করি না। ক’বছর যাবত এই ব্যর্থ চেষ্টা করে করে আমি ক্লান্ত ও বিরক্ত। জাতে উঠার এক উদগ্র মোহে তারা ব্যতিব্যস্ত। তৎসত্বেও ইসলামকে যারা জীবনাদর্শ হিসাবে মনে (own) করে এমন সব তরুণদের উদ্দেশ্যে এই সংকলন। এবং এতে আমার একপ্রকার দায়শোধ বা দায়িত্বপালনের মতো আত্মতুষ্টিও রয়েছে। যাহোক, আপাতত এই লেখাগুলো পড়ুন। যে কোনো প্রস্থের মন্তব্যকে স্বাগত জানাই যদি তা ব্যক্তি-আক্রমনমূলক না হয়।

কথার ওস্তাদ জনাব ফরহাদ মজহারের (একদা ও বর্তমান ভক্তকূলের ভাষায় ফরহাদ ভাই) লন্ডনের ম্যানচেষ্টারে প্রদত্ত বক্তৃতার প্রতিক্রিয়ায় এক প্রকার বাধ্য হয়ে সরাসরি বক্তৃতাটির খণ্ডন না করে এর কিছু বেসিক প্রপজিশানকে রিফিউট করে নিচের প্রথম চারটি লেখা প্রকাশ করেছিলাম। লন্ডনে তিনি কয়েকটি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। এখন দেখছি এই ভিডিওটির তখনকার ইউটিউব লিংক সার্চে দিলে “…terminated due to multiple third-party notifications of copyright infringement.” – এই মেসেজ দিচ্ছে। অবশ্য আমি তখন সেটা নামিয়ে রেখেছিলাম। যাহোক, একই সময়ে তিনি লন্ডনের ওয়াটার লিলিতে পরের দিন অনুরূপ একটা বক্তৃতা দেন যা ইউটিউবে পাওয়া যায়। সরকারবিরোধী বক্তৃতার আড়ালে তিনি যে দ্বীনে ইলাহির সবক দিয়েছেন তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। আমি যে বক্তব্যটাকে বেইজ করেছি তার অনুলিখন। এটি আমি কিছুটা মজহার ভক্ত এক অনুজের অতিআগ্রহের কারণে তৈরী করেছিলাম। এতে কালো রংয়ে আন্ডারলাইন করা বাক্যগুলো সত্য ও সমর্থন যোগ্য। আর লাল রংয়ে আন্ডারলাইন করা বাক্যগুলো ভুল ও গোঁজামিল।

সরাসরি মিথ্যা কিংবা আগাগোড়া ভুল কিছুকে মানুষ সহজে চিহ্নিত করতে পারে। কিন্তু যেসব কথায় সত্য-মিথ্যা মিশ্রিত হয়ে থাকে তা খুবই ডেঞ্জারাস। ক্ষেত্রবিশেষে মারাত্মক রকমের ক্ষতিকর। যেমন ইসলাম সম্পর্কিত মজহার বয়ান সমগ্র। উনার কিছু কথা নিতান্তই হক্ব। কিছু কথা ধোঁয়াটে, অস্পষ্ট। আর কিছু কথা অবভিয়াসলি ফলস। আমি বুঝি না উনাকে কেন লোকেরা ফিলোসফার ভাবে! প্রত্যেকেরই কোনো না কোনো ফিলোসফি থাকে। না থাকার কোনো সুযোগ নাই। কেউ কেউ নিজ দার্শনিক অবস্থানের পক্ষে কিছু দার্শনিক পরিভাষা ব্যবহার করেন। এর মানে এই নয় যে, তিনি নিজেও একজন ফিলোসফার। ফরহাদ মজহার হলেন কম্যুনিস্ট এক্টিভিস্ট। ফিলোসফার নন। উনি ফেনোমেনোলজি নিয়ে পাঠচক্র চালান। তার জন্য যদি উনাকে ফিলোসফার বলা হয় তাহলে তো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ফিলোসফি টিচারই এক একজন ফিলোসফার বটে।

প্রসঙ্গটা এজন্য টানলাম, বিশেষ করে ইসলাম নিয়ে মজহার সাহেবের চিন্তাগত অসম্পূর্ণতা ও অসততা সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করার পরে কেউ কেউ অস্বস্তিতে ভুগে বলেছেন, “উনি তো ফিলোসফার। আমি ফিলোসফি বুঝি না।” না বুঝার কী আছে? কোনো কিছু বুঝার জন্য সেই ডিসিপ্লিনের নির্দিষ্ট টার্ম ব্যবহার জরুরী নয়। বিশেষ করে ফিলোসফির সাথে ব্যক্তিগত এটাচমেন্ট এবং প্রফেশনাল অভিজ্ঞতা হতে এটি দাবী করে বলতে পাররি। আমার কথা পরিষ্কার, বুঝে শুনে যিনি ঈমান এনেছেন, ইসলামকে বুঝেছেন, অন্তত ইসলাম বুঝার জন্য তার ফিলোসফার হওয়ার দরকার নাই। সবচেয়ে নিখুঁত ফিলোসফিকে তিনি অলরেডি সবচেয়ে সঠিক পদ্ধতিতে বুঝে নিয়েছেন। হতে পারে নিজের এ বুজুর্গি সম্বন্ধে তিনি অবহিত নন।

১. “ইসলামের দার্শনিক ব্যাখ্যার সমস্যা ও ইসলামে দর্শনের পরিসর

২. “ব্যক্তি ও সমাজের অগ্রাধিকার নির্ণয়ে পাশ্চাত্য চিন্তাধারা বনাম ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি

৩. “সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই কি ইসলামের লক্ষ্য?

৪. “মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার

৫. “কেন আমি জামায়াতের সংস্কারবাদী নই: মজহারপন্থা

৬. “চিন্তার প্যারাডাইম, প্যারাডাইমের পরিবর্তন ও চিন্তাগত উন্নয়ন প্রসংগে কিছু প্রতিমন্তব্য

৭. জনাব Adnan Yusuf Hasan লিখিত “একটি কমিউনিস্ট বিপ্লবের গ্র্যান্ড প্রজেক্ট: হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালা ও ইঁদুরের গল্প

৮. জনাব জগলুল আসাদ লিখিত “বাংলাদেশে ইসলাম চিন্তার নানা ধারা ও চিন্তকগণ” পর্ব-১ এর ০২নং পয়েন্ট হতে উদ্ধৃত:

“বাংলাদেশের তরুণদের একটা অংশ বর্তমানে ইসলাম নিয়ে ভাবছেন, লিখছেন ও পড়ছেন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকটি ধারা আমি লক্ষ্য করেছি। একটি ধারা মূলত মার্কসবাদী। তারা সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার কৌশল হিসেবে ইসলামের একটা অবয়ব নির্মাণ করতে চান। তবে এদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যারা প্রথাগত বামপন্থী রাজনীতির সাথে যুক্ত নন। কেউ আবার আস্তিক। কেউ ঘোষিত বা অঘোষিতভাবে নাস্তিকও বটে। ইসলামের ইতিহাস থেকে তারা তাদের পছন্দসই ইতিবাচক উদাহরণ সংগ্রহ করে নিজেদের রাজনৈতিক ও দার্শনিক ভাবনার উপযোগী করে ব্যাখ্যা করেন। এরা মূলত ইতিহাস আশ্রয়ী। ইসলামের মৌলিক টেক্সট ‘কোরআন ও হাদীস’ থেকে তারা খুব কম উদাহরণ টানেন। ইতিহাসে ইসলাম চর্চার বৈচিত্রের ধারা উনারা সবিস্ময়ে লক্ষ্য করেন। খুব সহানুভূতি ও সংবেদনশীলভাবে তারা ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের সমালোচনা (পর্যালোচনা?) হাজির করেন। ধর্মের ঐশিত্ব (divinity) নিয়ে তারা সাধারণত প্রশ্ন করেন না। ইসলামকে সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার হিসেবে গণ্য করে ‘গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও সেক্যুলার’ সমাজের উপযোগী করে ইসলামকে উপস্থাপন করতে তারা উদ্যোগী ও উৎসাহী। ইসলাম ধর্মাবলম্বী বা ইসলাম পালনকারী একজন হিসেবে তারা কথা বলেন না। বরং compassionate observer হিসেবে ইসলাম প্রশ্নে তারা আলাপ তোলেন। এ ধারারই একটি অংশ মার্কসীয় পরিভাষা ব্যবহার করে ইসলামকে ব্যাখ্যা করেন অথবা ইসলামী পরিভাষার মার্কসীয় ব্যাখ্যা উপস্থিত করেন।”

৯. “তবু ইসলামের কথাই বলতে হবে (কমিউনিজম প্রশ্ন)” – শিরোনামে শাহাদাত মাহমুদ সিদ্দিকী’র লেখা নোটটা হুবহু উদ্ধৃত:

“আমরা যখন ইসলামকে এই দানবীয় সভ্যতার নজরদারি ও আধিপত্য উচ্ছেদে মানবজাতির শেষ এবং একমাত্র গন্তব্য বলছি। এবং বলছি যে, এ কোনো নতুন কথা নয়। ইতিহাসের প্রত্যেকটি পৃষ্ঠা সাক্ষ্য দিচ্ছে- শুধু ইসলামই ফিরে আসে। ফিরে এসেছে যুগে যুগে, ইসলাম নামেই। তার আরেক মানে হলো- মানবজাতির দ্বন্দ্ব-সংগ্রাম তথা জালিম-মজলুমের লড়াইয়ের ইতিহাস ইসলামের ইতিহাসেরই একটা বিস্তৃত ও উজ্জ্বল অংশ। কথাগুলো আমরা মোটেই আবেগে বলিনি। কমিউনিজমের ‘খোদা এবং অবতার’ কার্ল মার্ক্সকে টেনে এনেই বলেছি। মানবজাতির অজস্র সহস্র বছরের ইতিহাসকে কোনো কথা-বার্তা ছাড়াই প্রিমিটিভ কমিউনিজম নাম দিয়ে গায়েব করে ছট করে হালের দাস যুগে চলে আসা ইতিহাসের সত্যনিষ্ঠ তো নয়ই, বস্তুনিষ্ঠ পাঠও হতে পারেনা। একই কথা মধ্যযুগ/ধর্মযুগ/সামন্তযুগ ইত্যাকার প্রোপাগান্ডার ব্যাপারেও প্রযোজ্য। রক্ত-হৃদয়-বুদ্ধিবৃত্তিতে সর্বাঙ্গসুন্দর পূর্ণাঙ্গ মানবিক অনুভূতিতে রচিত ইতিহাসের উজ্জলতম পৃষ্ঠাগুলো না বোঝা কিংবা বুঝতে না চাওয়ার স্পর্ধা নিয়েও বলেছি। আমাদের শেষ কথা ছিলো- সো, যা’ই হয়েছে, আর যা’ই হচ্ছে কিংবা হোক, মানবজাতিকে, আজ হোক কাল হোক, সেই ইসলামের কথাই বলতে হবে…

তাহলে প্রশ্ন কমিউনিজমের কী হবে?…

বিশেষ করে বাংলাদেশের ‘ভালো’ ইসলাম-জানা সম্ভবত একমাত্র কমিউনিস্ট ফরহাদ মজহার যখন বলছেন- ‘তবু কমিউনিজমের কথাই বলতে হবে…’। এখন নয়, বলছেন ২০১২সাল থেকে। সে লেখা ২৪এবং ২৫ডিসেম্বর ছাপা হয়েছিলো তখনকার তুমুল জনপ্রিয় দৈনিক আমার দেশে। ভিন্ন নামে এসেছিলো নয়া দিগন্তে, ১২মে ২০১৬সালে। চিন্তা সাইটে এখনও নিশ্চয়ই আছে। তার ভাষায়-

‘…কমিউনিজম শেষ হয়ে গেছে এটা একটা বাজে গুজব’।‘বরং আমাদের দাঁড়াতে হবে কমিউনিজমেরই পক্ষে, যেখানে আস্তিক/নাস্তিকের ভেদ দিয়ে রাজনীতি ঠিক হয় না, ঠিক হয় কে জালিম আর কে মজলুম সেই বিভাজন দিয়ে’।

তারপর সেই কমিউনিজমের কর্মযজ্ঞের বিস্তৃতি নিয়ে বলেছেন- ‘…গরিব ও নিপীড়িত মানুষের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করে কমিউনিজম সন্তুষ্ট নয়,… বরং নিপীড়িতের নজর দিয়ে জগত ও ইতিহাসকে দেখা, সব কিছুকেই নিপীড়িতের নজরদারির মধ্যে আনা এবং সব মানুষের স্বার্থ রক্ষার রাজনৈতিক নীতি ও কৌশল সম্পর্কে সমাজকে সচেতন করা।’

অসাধারণ! হাউ নাইস আ ‘কমিউনিজম’! শুধু এটুকুন না, পুরো লিখাটাই অসাধারণ! বিশেষ করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনগুলোর দিক থেকে। এটি তাদের অবশ্য পাঠ্য হতে পারে। এবং যত দিন না তারা তা আত্মস্থ করতে পারছে, তত দিন সেটি নিত্য পাঠ্যও হতে পারে। আবার কমিউনিস্টদের সাথে অন্তত বাংলাদেশে ইসলামপন্থিদের কথা বলার একটু মুচকি হাসি বিনিময় করার দিগন্ত উম্মোচিত করার জন্য তিনি ব্যাপক সাধুবাদও পেতে পারেন। পেতে পারেন নয়, আমরাও উনাকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রসন্ন বোধ করতে চাই।

কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখবেন, ‘তবু কমিউনিজমের কথাই বলতে হবে…’ বললেও, উনার আত্মবিশ্বাসে ‘মজাদার’ রকমের ঘাটতি আছে। সেই সাথে অন্যের মাথায় কাঠাল ভেঙে খাওয়ার চিন্তাও লক্ষণীয়। দেখুন-

‘…কমিউনিজম শেষ হয়ে গেছে এটা একটা বাজে গুজব। জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াই যতদিন থাকবে ততদিন কমিউনিজম কায়েমের জন্য মানুষের আকাঙ্ক্ষার কোনো ঘাটতি হবে না। হতে পারে ভিন্ন নামে, হয়তো ভিন্ন পতাকা হাতে তার আবির্ভাব ঘটবে। হয়তো ভিন্ন ঐতিহাসিক আর বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তাকে যেভাবে বুঝেছি সেই বোঝাবুঝির মধ্যে ভুল আছে, অসম্পূর্ণতা আছে’।

কমিউনিজম শেষ হয়ে গেছে এটা একটা বাজে গুজব। ঠিক কথা। আমরাও বলি- কমিউনিজম মোটেই শেষ হয়নি। বাংলাদেশের মতো একটি বিপুল সংখ্যাধিক্যের মুসলিমদেশে ইসলাম সম্পর্কে সমূহ জ্ঞানের অধিকারী ফরহাদ মজহারের মতো চিন্তাবিদ দার্শনিক যদি নিজেকে কমিউনিস্ট পরিচয় দিতে অধিকতর সাচ্ছন্দ বোধ করেন, সেখানে আমরা কি করে বলি যে কমিউনিজম শেষ হয়ে গেছে!… ‘জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াই যতদিন থাকবে ততদিন কমিউনিজম কায়েমের জন্য মানুষের আকাঙ্ক্ষার কোনো ঘাটতি হবে না’। তাও সত্য, আসলে কিছু মানুষ তো থাকবেই। কিন্তু গন্ডগোল হলো- ‘হতে পারে ভিন্ন নামে, হয়তো ভিন্ন পতাকা হাতে তার আবির্ভাব ঘটবে’ নিয়ে, এর মানে কি? এ কথাটাই বেশী গুরুত্বপূর্ণ! এটা বুঝলে আমরা হয়তো পরের লাইনটিও বুঝে ফেলতে পারবো। তো ‘ভিন্ন নামে’ ‘ভিন্ন পতাকা হাতে’র… মানে কী হতে পারে? মানে কি এই নয় যে, হে দুনিয়ার কমিউনিস্টরা! জালিমের বিরুদ্ধে মজলুম যদি কোথাও লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়, হতে পারে ‘ভিন্ন নামে’ ‘ভিন্ন পতাকা হাতে’- তাদেরকে তোমরা অপর ভেবো না? চমৎকার ব্যাপার! এতো প্রসঙ্গান্তরে আল্লাহর কথারই প্রতিধ্বনি।

(‘স্মরণ করো, যখন আল্লাহ নবীদের থেকে এই মর্মে অংগীকার নিয়েছিলেন, আজ আমি তোমাদের কিতাব ও হিকমত দান করেছি, কাল যদি অন্য একজন রসূল এই শিক্ষার সত্যতা ঘোষণা করে তোমাদের কাছে আসে, যা আগে থেকেই তোমাদের কাছে আছে, তাহলে তোমাদের তার প্রতি ঈমান আনতে হবে এবং তাকে সাহায্য করতে হবে …’০৩:৮১)

যদি তাই হয়, এবং যদি কমিউনিজমের উপর আমরা এতোদূর আস্থা না রাখতে পারি যে- কমিউনিজম স্বনামে, স্ব-নীতি কৌশলসহ হাজির হবে, তাহলে ‘তবু কমিউনিজমের কথাই বলতে হবে…’ বলার কী অর্থ?… জালিমের প্রতিপক্ষে যদি ‘অন্যকিছু’ই অন্যপতাকা হাতে অন্যনীতি-কৌশল নিয়ে আরো প্রবলভাবে মজলুমের পক্ষে হাজির হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায় তাহলে শুধু শুধু কমিউনিজমের কথাই-বা বলতে হবে কেনো? এটা কি ফরহাদ ভাই প্রতীকী অর্থে বললেন? নাকি এর আভিধানিক অর্থ সাম্য, সমতা ইত্যাদি অর্থে? সে রকম কিছু হলে তো অতো ঢাক-ঢোল পিটিয়ে বলার দরকার নেই যে, ‘তবু কমিউনিজমের কথাই বলতে হবে…’

তাছাড়া কমিউনিজমে যেহেতু ঈমান-বেঈমানের ব্যাপার নেই, স্বর্গ-নরক টাইপ কোনো ধর্মীয় সংস্কার নেই সুতরাং, তা থেকে বেরিয়ে আসা মনস্তাত্তিক দিক থেকেও অনেক সহজ। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো তারপরও তিনি কমিউনিজম ছাড়বেন না! কারণ জালিম আর মজলুমের লড়াই মানেই কমিউনিজম! ‘কমিউনিজমকে যে নামেই ডাকি, কিছুই আসে যায় না’। যদি ভিন্ন কোনো নামে জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াই জারি হয়, সে লড়াই তিনি মেনে নেবেন বটে, কিন্তু চিহ্নিত করবেন কমিউনিজম হিসেবে! আগামীকাল যদি ইসলামও এ লড়াইয়ে নেতৃত্বের আসন গ্রহণ করে (যদিও ইসলাম সৃষ্টির প্রথম দিন থেকে, সেই হাবিল-কাবিল থেকে কোনো অবস্থায় জালিমের প্রতিপক্ষে তার লড়াই মুলতবী রাখেনি এবং ভবিষ্যতের শেষ সম্ভাবনাময় দিনটি পর্যন্ত- ইলা ইয়াওমাল কিয়ামাহ, তা নিরবিচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রাখবে, সে প্রসঙ্গে আমরা একসময় বলবো) তারপরও তিনি ইসলামকে কমিউনিজম নামেই চিহ্নিত করবেন। এবং বলবেন ইসলাম কমিউনিজমেরই অন্য নাম, ‘কমিউনিজমকে যে নামেই ডাকি, কিছুই আসে যায় না’…

এ যেনো ভুল প্রেমিকার প্রতি অর্থহীন ক্ষেত্রবিশেষে ধ্বংসাত্মক পক্ষপাতিত্ব! ওরা কখনোই সর্বান্তকরণে ইসলাম গ্রহণ করতে চায় না। প্রয়োজনে মুর্তাজা(আল্লাহর প্রিয়) অভিধায় সিক্ত হযরত আলীকেও কমিউনিস্ট বানিয়ে নেবে! উম্মতের লুকমান আবু যার’কে বানিয়ে দেবে সমাজতন্ত্রী! এবং কমিউনিস্টদের মোমিন হতে না বলে, উলটো বলে দেবে- ‘…তোমরাই মোমিন’…

প্রথম প্রেমের স্মৃতি একটু বেশিই দাগ কাটে ঠিক, কিন্তু তাকে অনর্থ আশায় নিরন্তর বয়ে বেড়ানো কতটুকু ঠিক? কিছুটা আরাম হয়তো বোধ হয়, কিন্তু প্রকৃত যন্ত্রণা লালিত হয়ে শাখা-প্রশাখা ছড়ায়! তাতে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়েরই ক্ষতি বৈ উপকার হয় না…

‘…হয়তো ভিন্ন ঐতিহাসিক আর বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তাকে যেভাবে বুঝেছি সেই বোঝাবুঝির মধ্যে ভুল আছে, অসম্পূর্ণতা আছে’। ভালো কথা। যেকোনো মতাদর্শই যখন তার ‘স্থানিক ও কালিক’ রুপায়নের ক্ষেত্রে গিয়ে বড় কোনো ব্যার্থতায় নিপতিত হয়, যা হতে পারে বলে সে মনে করতো না, সেক্ষেত্রে ব্যার্থতা-পরবর্তী সময়ে তার অনুরাগী কর্মী-সমর্থকদের মাঝে এধরণের ভাবনা উদয় হওয়া মোটেই বিচিত্র নয়। এখন কেউ যদি মনে করে সেই ‘ভুল’ এবং ‘অসম্পূর্ণতা’ নতুন বাস্তবতায় অতিক্রম করা সম্ভব, তাহলে তিনি তা তার মতাদর্শের দিক থেকে তা করতে চাইতেই পারেন।

অর্থাৎ, ফরহাদ মজহার যদি ‘বদ্ধ, সংকীর্ণ ও ইসলামী আতংকের রুগী হয়ে বাংলাদেশে হাজির’ থাকা কমিউনিজমকে নতুন করে নির্মাণ করতে চান,- সেজন্য যদি ‘কমিউনিজমের দিক থেকে ধর্মকে বিচার করবার সঠিক নীতি ও কৌশল সম্পর্কে’ নিরন্তর আলোচনায় প্রবৃত্ত হন,- এবং যদি মনে করেন- ‘আমাদের দেশে আগামী দিনে কমিউনিস্ট আন্দোলনকে শক্তিশালী আদর্শগত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হলে ইসলাম প্রশ্নের একটা মীমাংসা দরকার’। এবং কমরেডদের ‘এই বাস্তবতাটুকু’ মানানোর কায়মনো প্রয়াস চালান যে- ‘বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলাম নিয়ে আলোচনা ছাড়া কোনো গত্যন্তর নাই’। এবং ‘সেই দিক থেকে কমিউনিস্টদের মধ্যে কীভাবে আলোচনা হলে তা সবচেয়ে ফলপ্রসূ হবে সেই দিক নিয়েও’ বিস্তর চিন্তা-গবেষণা করুন। তাতে কারো কোনো বিশেষ মাথা ব্যাথার কারণ থাকতে পারেনা।

কিন্তু কেউ যদি ‘আধা ইসলাম আধা কমিউনিজমে’র নতুন কোনো দীন-ই-ইলাহী রচনার স্বপ্নে ব্যাকুল হয়ে ওঠেন, তাহলে সমূহ মাথা-ব্যাথার অবকাশ আছে বৈ কি! এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইনসাফ প্রশ্নে ইসলাম কোনো ধর্মে বর্ণে আপোস করে না। একজন একচ্ছত্র খলিফার বিপরীতে একজন সামান্য বিধর্মী ইহুদীর মামলা জেতা ইসলামে ইতিহাস নিতান্তই স্বাভাবিক দৃষ্টান্ত। একইভাবে জালিম-মজলুমের দ্বন্দ্বেও আস্তিক-নাস্তিক ভেদ ইসলামে অস্বীকার করে। ইসলাম বলে- মজলুম আর আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকেনা। আপনার মুসলমান ভাই যদি জালিম হয়, তার নির্বিচার পক্ষপাত নয়, বরং তাকে জুলুম থেকে বের করে নিয়ে আসুন – এটাই আপনার ভাইয়ের জন্য সাহায্য(হাদীস)। ইসলাম বলে- আল্লাহ নিজের উপর জুলুমকে হারাম করেছেন, হারাম করেছেন তার বান্দাদের উপরও (হাদীসে কুদসী)।

এই হলো ইসলাম। একজন মুসলমান যখন জালিমের প্রতিপক্ষে দাঁড়ায়, তার ঈমানী দায়িত্ব থেকেই দাঁড়ায়, মুসলমান হিসেবেই দাঁড়ায়, পরকালে আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার তীব্র অনুভূতি থেকেই দাঁড়ায়- মায়ের কাছে নানার বাড়ির কাহিনী বলার মতো এখন কোনো পক্ষ যদি জালিম ও মজলুমের দ্বন্দ্বে এতোটাই অনর্থ ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠেন যে, তারা আস্তিক-নাস্তিক ভেদ রাখতে চান না, বলেন ‘পরকালের কথা আল্লাহর উপর ছেড়ে দেয়াই বরং মোমিনের কাজ’। তাছাড়া- ‘পরকালের কথা তো আমরা ইহকালেই বলি’। সুতরাং, ইহকাল-পরকালের ব্যাপার একপাশে রেখে ‘রাজনীতিটা’ ঠিক করো- বাক্যের মারপ্যাঁচে ছট করে ধরা না গেলেও, এ ধরণের কথা যারা বলেন, প্রকারান্তরে তারা ইসলামের ভিত্তিমূলেই আঘাত করেন। তাওহীদ-রিসালাত-আখিরাতের ভিত্তিভূমি থেকে মুসলমানদের ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বের করে নিতে চায়।

তারা হয়তো মানবতার প্রতি কোনো সদিচ্ছা থেকেই করতে চাইছেন। কমিউনিস্ট ইসলামিস্ট এক করার অভিপ্রায় থেকেও তা হতে পারে। কিন্তু এটা যথার্থ উপায় না। উপায় পথ পন্থা নিয়ে নানা চিন্তা হতে পারে। বুঝতে হবে যে, ‘লাকুম দীনুকুম ওয়ালিয়া দীন’ মানে- সেকুলারিজম নয়। আস্তিকতা-নাস্তিকতা এক করে ফেলা নয়। ইহকাল-পরকালের ভেদ তুলে দেয়া নয়। আবার মানবিক সম্পর্কের দিক থেকে আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক অবরুদ্ধতাও নয়।

সেখানে মদীনার রাষ্ট্রের মতো অভূতপূর্ব উদার রাজনৈতিক সংস্কৃতি কিংবা পরিসর থাকতে পারে, হুদাইবিয়ার সন্ধির মতো শান্তির জন্য কুন্ঠাহীন ছাড়ও হতে পারে। হবে কিন্তু ভেদ-অভেদ বিবেচনায় রেখেই, দেউলিয়া হয়ে নয়…

যদিও ইসলাম মতাদর্শগতভাবে সেলফ-প্রটেকটেড, কেউ চাইলেই একটা ব্যাখ্যা দিয়ে পার পেয়ে যাবে তা সন্দেহাতীতভাবেই অসম্ভব। তবু যেকোনো বিকৃতির প্রতিপক্ষে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপই ঈমানদারের কাজ। কারণ ইসলাম নিয়ে মানবজাতি যেখানে যতটুকু বিভ্রান্তির শিকার হয়েছে, সেখানে আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক কিংবা আধ্যাত্মিকভাবে ততটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, হতে হয়েছে।

সুতরাং, ‘ভুল’ এবং ‘অসম্পূর্ণ’ প্রমাণিত কমিউনিজম কিংবা আধা ইসলাম আধা কমিউনিজম নয়, একত্বের ধর্ম সমস্ত খন্ডায়নের তীব্র প্রতিপক্ষে-

তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশ মানবে আর কিছু অংশ ছেড়ে দেবে?…

আমাদেরকে বরং সেই সন্দেহাতীত নির্ভূল এবং পূর্ণাঙ্গ ইসলামের কথাই বলতে হবে… এবং পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করতে হবে ইসলামেই, কুরআনের ভাষায়-

তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো, এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না…

[চলমান]

জালিম ও মজলুমের লড়াই

এ প্রসঙ্গে আমাদের বক্তব্য ছিল- জালিমের প্রতিপক্ষে ইসলামের ইতিহাস মানব ইতিহাসের প্রথম দিনের মতো পুরোনো। জালিমের বিরুদ্ধে ইসলামের অবস্থান কমিউনিজম কিংবা অন্য যেকোনো ধর্ম বা মতাদর্শের চেয়ে অনঢ় এবং অবিসংবাদিত। অনেক বেশী সূক্ষ্ণ, গভীরতর এবং ব্যাপক। সেইসাথে কুন্ঠাহীন প্রকাশ্য, দৃশ্যমান দৃঢ় এবং তীব্রতরও বটে। সেটি স্বয়ং ইসলামের প্রভূ, তাঁর কিতাব কিংবা তাঁর রাসূলের জীবন, যা-ই বলুন না কেন, সবক্ষেত্রে সমান ও সুস্পষ্টভাবে প্রযোজ্য। কিন্তু, ‘…ইসলাম একাট্টা একরকম নয়। কুরআন নিজের তাফসীর নিজে করে না, করে মানুষেরাই। আর মানুষের মধ্যে যদি জালিম-মজলুম ভেদ থাকে সেই তাফসীরের মধ্যেও জালিম মজলুম ভেদ আছে’ -ফরহাদ মজহার’রা যখন এভাবে বলে ওঠেন, তখন আমরা যারা অল্পসল্প ইসলাম জানা সাধারণ মানুষ, সহসা হয়তো বুঝে উঠতে পারি না, তিনি কী বোঝাতে চাইছেন।

তবে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকে- যে কিতাব জালিমের জন্য যন্ত্রণা ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করে না(১৭:৮২), আর যাই হোক, বোঝা-পড়া যতই যুগের ধুলোয় ধুসরিত হোক, ফিকহগত হাজারো বৈচিত্র ও ভিন্নতা থাকুক- সে কিতাবের তাফসীর জালিম পক্ষের ইন্ধন হতে পারেনা। হলে সেটি আর কুরআনের তাফসীর থাকে না। সেটি ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যানযোগ্য অন্য কিছু হয়ে উঠে।

তারপর যে বিষয়টি মাথায় আসে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন- কুরআনের একাংশ অন্যাংশের তাফসীর। অর্থাৎ, কুরআনের কোনো একটি আয়াতের এমন কোনো তাফসীর গ্রহণযোগ্য নয়, যা অন্য কোনো আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক। আগেই বলেছি- এটা সেই ধর্ম নয়- যার ‘গভীরতা আছে, কিন্তু কোনো কাঠামো নেই’। আবার সে ধর্মও নয়, নবীর তিরোধানের পর থেকেই ধর্মগ্রন্থের যেখানে বছর বছর নতুন সংস্করণ বেরোয়। এটাও বলে রাখা প্রাসঙ্গিক যে, এটি সেই মতাদর্শও নয়, যার নিজের বলে কিছু নেই, যা আছে সবই ধার করা এবং যা সমাজতন্ত্রের মতো অন্য কোনো মতাদর্শের প্রতিক্রিয়ায় উদ্ভাবিত, পরিবর্তিত এবং নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু ইসলাম, অন্য সমস্ত ধর্ম ও মতাদর্শ হতে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। অনন্য। অন্যকিছু না থাকলেও ইসলাম থাকে, তাকে থাকতেই হয়। আবার অন্যকিছু থাকলে তো তাকে থাকতে হয় আরো প্রবলভাবে, থাকেও। এজন্যই কিন্তু ইসলাম কোনো ধর্ম বা মতাদর্শের মূলোৎপাটন চায় না। বরং উল্টোটাই যেনো সত্য! ইসলাম চায় অন্য সমস্ত ধর্ম ও মতাদর্শকে সহাবস্থানে রেখে তার ভ্যালিডিটি প্রমাণ করতে। আল্লাহ তাঁর রাসূলকে কিন্তু সে জন্যই পাঠিয়েছেন! অন্য সমস্ত মতাদর্শের চেয়ে ইসলাম যে শ্রেষ্ঠতম তা তাত্ত্বিক ভাবে(মৌখিক সাক্ষ্য) এবং কায়েম করে(বাস্তব সাক্ষ্য) বিশ্ববাসীকে হাতে কলমে দেখিয়ে দেয়ার জন্য(৬১:০৯)। এবং তা করতে গিয়ে ইসলাম মোটেই জোর-জবরদস্তির আশ্রয় নেয়না, নিতে পারে না, নিলে যে মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়ে যাবে! ইসলাম বলে- ‘দীনের ব্যাপারে কোন জোর-জবরদস্তি নেই ৷ ভ্রান্ত মত ও পথ থেকে সঠিক মত ও পথকে ছাঁটাই করে আলাদা করে দেয়া হয়েছে …(০২:২৫৬)

তাহলে ব্যাপারটা কী দাঁড়ালো? ইসলাম মূলত একটাই। অখন্ড। কোনো বিশেষ বাইনারিতে কূপবদ্ধ নয়, ভারসাম্যপূর্ণ। আবার সমূহ কল্যাণকর বিবিধ-বৈচিত্রসহ কুরআনের তাফসীরও একাধিক নয়। একটাই। অন্তত ‘জালিমের তাফসীর’ ‘মজলুমের তাফসীর’ বলে কিছু নেই এখানে। কুরআন অদ্বিতীয় এক সেলফ-এক্সপ্লেইন্ড কিতাব। অন্য কিছু দরকার হয় না, সময়ে সময়ে সে নিজেই নিজেকে স্পষ্ট করে তোলে। এবং তার তাফসীরের ইতিহাস থেকে জালিমের অপব্যখ্যাসমূহ, জালিমের ইন্ধনদাতা অংশটুকু, এবংকি কারো করা অনিচ্ছাকৃত ভুলটুকু পর্যন্ত ছেটে ফেলে দেয়। অথচ, ফরহাদ ভাই এটাও আমাদেরকে সেই কমিউনিজমের মাধ্যমেই ‘দেখাতে চান’! ‘আজ আমাদের সেই কমিউনিজমের কথাই বলতে হবে যে কমিউনিজম…দেখাতে চায় কিভাবে ইসলাম যুগে যুগে নিপীড়িতের পক্ষে দাঁড়াতে গিয়ে নিজের সংস্কার নিজে করতে সক্ষম হয়েছে…’ অথচ এটি মোটেই কমিউনিজম কিংবা অন্য কারো দেখানোর বিষয় নয়, বরং ইসলামের একান্ত বিষয়। রাসূলুল্লাহ বলেছেন- ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক শতাব্দীর শিরোভাগে এ উম্মতের মধ্য এমন ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গের উত্থান ঘটাবেন, যিনি/যারা তাঁর জন্যে তাঁর দীনকে সবল ও সতেজ করবেন’। এখানে কথিত ‘সংস্কারের’ কোনো ব্যাপার নেই। এবং শুধু এখানে নয়, ইতিহাসের অন্য যেকোনো প্রান্তে যান, দেখবেন- ইসলাম সংস্কৃত হয়ে নয়, বারবার তার আদি বা নির্ভেজাল রুপ নিয়েই ফিরেছে। এটাও এক অদ্ভূদ ব্যাপার। আর সমস্ত কিছুই যুগের পীড়নে যখন বিধ্বস্ত হয়ে যায়, তাকে ফিরতে হলে নানাদিক হতে যুগের তালে সংস্কৃত হয়েই ফিরতে হয়। আর ইসলাম! সংস্কৃত হয়ে নয়, ফিরে যুগের ময়লা ঝেড়ে। এবং সংস্কৃত হতে হতে ভিন্নকিছু হয়ে নয়, সেই অকৃত্রিম ইসলাম হয়েই ফিরে। ফিরে সতেজ ও সবল হয়েই। সুতরাং, কমিউনিজমকে কিছুই ‘দেখাতে’ চাইতে হবে না। সে নিজেকেই নিজে একটু দেখভাল করুক। নিজের চরকায় তেল দিক। তার দিক থেকে সেটাই তো বেশি গুরুত্বপূর্ণ, না?… সুতরাং, কমিউনিজমের চোখে নয়, আমাদেরকে বরং দেখতে হবে ইসলামের চোখেই। এবং যুগের জারিজুরিতে তাড়িত হয়ে নয়, বরং কাঙ্ক্ষিত যুগ বিনির্মাণে- সেই পরীক্ষিত একক, অখন্ড, অকৃত্রিম ইসলামের কথা বলতে হবে…

খসড়া-০৪ (দ্বিতীয়াংশ)

আবার একথাও আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে, ইসলামের নামে জালিম-মজলুম দ্বন্দ্বের যে বয়ান ফরহাদ মজহার হাজির করেছেন, তার উৎস মোটেই ইসলাম নয়। এটি মূলত কমিউনিজমেরই আরেক রুপ। বুর্জোয়া-প্রলিতারিয়েত শ্রেণিসংগ্রামের অনুবাদ মাত্র। অর্থাৎ, বুর্জোয়া-সর্বহারার তর্জমা জালিম-মজলুম করে, তিনি তা ইসলামের উপর আরোপ করে দিতে চান। কাকের বাসায় কোকিলের ডিম পাড়ার মতো খানিকটা। এর মাধ্যমে সস্তা কিছু রাজনৈতিক ও অন্যান্য সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে, সন্দেহ নেই। কিন্তু পিছিয়ে যাচ্ছে আসল কাজ- পুঁজিবাদী দানবীয় সভ্যতার মোকাবিলায় ইসলামের সক্ষমতা যাছাই করে দেখা, কমপক্ষে তাত্ত্বিক জায়গা থেকে। সে কাজ ইসলামের দিক থেকে ইসলামকে যতদূর সম্ভব ধারণ করেই করতে হবে। কমিউনিজম বা অন্য কারো বিষয়-আশয় ইসলামের উপর আরোপ করে পর্যালোচনার মানে দাঁড়াবে ‘যে লাউ সেই কদু’। তাছাড়া কমিউনিজম থেকে আমদানি করা বুর্জোয়া-প্রলিতারিয়েত শ্রেণিসংগ্রামকে ফরহাদ মজহার যেভাবে ‘জালিম-মজলুমের লড়াই’ নাম দিয়ে ইসলামীকীকরণ করতে চাইছেন, ইসলামে জালিম-মজলুম লড়াই সবসময় সেরকম কোনো বাইনারিতে চলে না। আগেই বলেছি ইসলামে সে লড়াই অনেক বেশী সূক্ষ্ণ, গভীরতর এবং ব্যাপক। এবংকী নিজের প্রতি নিজের জুলুমকেও ইসলাম নিন্দা করে, হারাম বলে। অনুতাপযোগ্য ও ক্ষমাপ্রার্থনার বিষয় হিসেবে গণ্য করে, প্রত্যাখ্যানের পথ ও পাথেয় যোগায়(০৭:২৩)। শুধু তাই নয়, নিজের/নিজেদের উপর নিজের/নিজেদের জুলুমও ইসলামে শাস্তিযোগ্য অপরাধ(২২:১০)। এটা কিন্তু ছোটখাটো কোনো ব্যাপার নয়, এর সাথে জড়িয়ে আছে আরো অজস্র বিষয়। গোটা কমিউনিজম তন্নতন্ন করে খুঁজেও আপনি কিন্তু এরকম একটা অসাধারণ শক্তিশালী উপাদান পাবেন না, যেটি পুঁজিবাদের প্রতিপক্ষে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। আবার ইসলাম তাদেরকেও জালিম বলে যারা আল্লাহর সাথে অংশীবাদে লিপ্ত হয়। এবং সেটাই হলো জুলমুন আজীম, সর্বোচ্চ জুলুম(৩১:১৩)। এবং এই শির্ক এই জুলুমকেই ইসলাম- জলে-স্থলে বিপর্যয়ের মৌলিক কারণ হিসেবেই দেখে(৩০:৪১)। একইভাবে ইসলাম তাদেরকেও জালিম বলে, যারা আল্লাহর সর্বোত্তম ন্যায্য নির্দেশ মতো ফায়সালা করেনা(০৫:৪৫)। ইসলাম বলে- ‘এবং তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করে কিংবা আল্লাহর আয়াতসমূহকে প্রত্যাখ্যান করে?(০৬:২১,১০:১৭) কিন্তু মি.মজহারবৃন্দ যখন জালিম ও জুলুমের এই সামগ্রিক/কম্প্রিহেন্সিভ কনসেপ্ট ধারণ করেন না বা করতে চান না, নিদেনপক্ষে এর কোনো ‘রাজনৈতিক’ উপযোগীতা আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন মনে করেন না, তখন এটা ভাবা অন্যায্য নয় যে, ডাল মে কুচ কালা হ্যায়। তখন ইসলামের নামে উনি বা অন্য কেউ যতই ‘জালিম মজলুম’ বাতচিৎ করুন সেটা- ঐযে বললাম কমিউনিজমের বুর্জোয়া-প্রলিতায়েতের পুরোনো প্যাঁচালে পর্যবসিত হওয়া ছাড়া নতুন কোনো পথ থাকেনা। অথচ কে না জানে, পুঁজিবাদের সাথে আজকের সংগ্রাম বুর্জোয়া-প্রলিতারিয়েতের খাপে ফেলে মোকাবিলার কোনো পথ নেই। কমিউনিজমকে টনিক বানিয়ে, পরিমাণমত সেবন করে আজকের পুঁজিবাদ অনেক বেশী সপিস্টিকেটেড হয়ে উঠেছে। আরো জটিল প্রক্রিয়ায় আরো ভয়ংকর দানব হয়ে উঠেছে। সো, যে এন্টিবায়োটিকের সাথে ক্যাপিটালিজমের জীবাণু একবার জিতে গেছে সে এন্টিবায়োটিক আজ অকার্যকর। এখন নতুন সম্ভাবনাকে আমাদের নতুন জায়গা থেকে নতুন ভাবে নতুন প্রক্রিয়ায় দেখতে হবে। নতুন করে লালন করতে হবে নতুন স্বপ্ন। উজ্জীবীত হতে হবে নতুন বিশ্বাসে। ০২. তাহলে সারকথা হলো- ইসলাম কমিউনিজমের তরিকায় জালিম মজলুম ভেদ করেনা। এরচেয়ে ঢের শক্তশালী সুন্নাহ তার আছে! আবার ফরহাদ মজহার সমাজতন্ত্রী কায়দায় জালিম-মজলুমের যে ভেদ-বিভেদ টেনেছেন, তর্কের খাতিরে তা মেনে নিলেও বলা যায়, ইসলামের জালিমবিরোধী মৌলিক প্রকৃতিগত কারণেই জালিমের পক্ষে এখানে কোনো তাফসীর থাকতে পারেনা। ইসলাম প্রতিনিয়ত সে সব বর্জ্য সংশ্লিষ্ট জালিমের দিকেই নিক্ষেপ করে। তবে হ্যাঁ, একথা সত্য যে, ইতিহাসে ‘একটি পক্ষ আছে জালিম রাজা-বাদশা’ জমিদার মুনাফাখোরদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে, নানা ছুঁতোয়, নানা মুখোশ পরে। এবং ‘হতে পারে’ নয়, এটাই সত্য। খিলাফাতে রাশেদার পর থেকে তারাই উম্মাহর আর্থ-রাজনৈতিক শক্তি কেন্দ্রসমূহ জবর দখলের ধিকৃত অংশীদার। নিজেদের প্রয়োজনে নানা কূট-কৌশলে তারা ইসলামের সংশ্লিষ্ট উপাদানের বিভিন্ন অপব্যাখ্যা হাজির করেছে। কিন্তু সেরকম নানা অপব্যাখ্যার ইতিহাস নেই কোথায়?… বলা যায়, পৃথিবীর কোনো কল্যাণপ্রয়াসী ধর্ম বা মতাদর্শই এই ‘ভেতরের পুঁজিবাদী’ শয়তানি শক্তিসমূহের অপব্যাখ্যা হতে রেহাই পায়নি। কমিউনিজমও কী পেয়েছে রক্ষা?…

ট্রাজেডী হলো- এই সব ধর্ম বা মতাদর্শ, প্রথমত হাজারও অপব্যাখ্যায় পিষ্ট হয়, শেষে সেই অপব্যাখ্যাই তাদের নতুন করে নির্মাণ করে। এবং দেখা যায়, সেই শয়তানি শক্তিই হয়ে উঠেছে তাদের অস্তিত্বের গন্তব্য। বড়ই নিদারুণ সত্য বটে। কিন্তু এরচেয়ে সুখোষ্ণ সুসংবাদ হলো- মুয়াবিয়ার(আমরা দু:খিত ইতিহাসের প্রয়োজনে মুয়াবিয়াকে আনতে হলো) মতো কূট-কৌশলী হোক, এজিদের মতো নরপিশাচ হোক, হাজ্জাজ বিন ইউসুফের মতো জালিম হোক কিংবা হারুন আর রশিদের মতো মোলায়েম হোক, কেউই ইসলামের অজেয় দূর্গে তাদের কোনো আঁছড় কাটতে পারেনি। তাদের সবই সর্ববৈ ব্যর্থ হয়েছে। তাদের বিপুল সৈন্য-সামন্ত, প্রভাব প্রতিপত্তি, দববারি আলেম কিংবা বুদ্ধি-বিক্রেতা লাঠিয়ালসহ আরো যা যা… কিছুই তাদের কোনো কাজেই আসেনি। ইসলাম সেই একক, অখন্ড, অবিকৃতই রয়ে গেছে। শুধু ইসলামই অমন থাকতে পেরেছে, আর কিছুই নয়। শুধু গলি-গুপ্সি পেরিয়ে খোলামনে তাকে ডেকে নিতে হয়, এই যা। আমাদের পূর্বসূরীরা- রাসূলুল্লাহর সত্যপন্থি সাহাবী, আহলে বাইতের সংগ্রামী ইমাম ও সদস্যগণ, তাদের অকুতোভয় সাথীরা, এবং যুগে যুগে মুজতাহিদ মুজাদ্দিদরা তাদের নিরন্তর সাধনা, কলিজার শেষবিন্দু খুন দিয়ে অক্ষত করে রেখেছে ইসলামের পরশ পাথর। সুতরাং তাফসীর যতই মানুষ করুক, যে কিতাব জালিমের ক্রমবর্ধমান যন্ত্রণার উৎস, তার তাফসীর জালিমের পক্ষালম্বন করতে পারেনা। কোনটি কুরআনের তাফসীর, কোনটি জালিমের বরকন্দাজ তা একটু বুঝে নিতে হয় মাত্র। কিন্তু ফরহাদ মজহার কেন অতো বুঝতে যাবেন? ইসলামকে দু’ভাগ করে ফেললেই বরং তার সুবিধে। এতো সব সত্যোদ্ধারের ঝামেলায় যেতে হয় না। তাফসীরকে ‘জালিমের তাফসীর’ ‘মজলুমের তাফসীর’এ দ্বিখন্ডিত করে ফেললেই আসল তাফসীর ফরখ করার পরিশ্রম বেঁচে যায়! তারপর দুটোর মধ্যে তার কমিউনিজমের জন্য যেটি উপাদেয় সেটির যেটুকুন লাগে কেটে-কুটে নিয়ে নেবেন, নতুন বয়ানের জন্য এর বেশী আর কী লাগে?… তারপর বলে দেবেন- ‘তবু কমিউনিজমের কথাই বলতে হবে…’ আসুন ফরহাদ মজহারের সমুহ প্রতিভার প্রতি সশ্রদ্ধ সমীহ রেখেই একটু হেসে উঠি… তার থেকে আরো যা কিছু শেখার আছে সেসবের প্রতি বিরাগ পোষণ না করেই আরো একবার প্রাণ খুলে হেসে উঠলে ক্ষতি নেই… তারপর প্রশ্ন করুন- ফরহাদ ভাই, যদি জালিম-আশ্রয়ী তাফসীর ইসলাম প্রত্যাখ্যান করে, যদি মজলুম-পক্ষীয় তাফসীরই কুরআন গ্রহণ করে, তখনও কী আপনি তাফসীরের বিবাদ তুলে ইসলাম থেকে সরে আসবেন……সত্য বলতে কী, তখন আপনার যতই অপছন্দ হোক, তবু ইসলামের কথাই বলতে হবে…

ফেসবুকে প্রদত্ত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Shakhawat Hossain: স্যার, চিন্তার বিশুদ্ধায়ন ঘটানোর দরকার, নইলে এরকম ফরহাদ মজহারের খপ্পরে আমাদের ভাইরা আরো পরবে

Mohammad Mozammel Hoque: হ্যাঁ, চিন্তার পরিশুদ্ধি অতি জরুরী। এবং সেটি হতে হবে ইসলামের ভিতর থেকে। অথবা অন্যভাবে বললে, জীবনবোধ হতে প্রত্যক্ষভাবে। পাশ্চাত্যের বরাতে ইসলাম বোঝার চেষ্টাটা স্বয়ং একটা ভুল পদ্ধতি। অন্তত ইসলামের দিকে থেকে। প্রতিটা মানুষই তার জীবন, অভিজ্ঞতা ও প্রাকৃতিক বুঝ-জ্ঞান দিয়ে পরম সত্যকে সরাসরি জানতে পারে। এসবের জন্য অতিবড় বুদ্ধিজীবী হওয়া লাগে না।

Syed Khashrul Hasan: ভাই, কিছুই বুঝি নাই। ফরহাদ সাহেবের দোষ খুজে পাইনি আমি। আর ইসলাম নিয়ে আমিই একমাত্র সঠিক ব্যাখ্যাদাতা তাও বেঠিক পথ। ধরেন আমরা কি কারো মত দেবার পথকে রুদ্ধ করতে পারি? এই যে রুদ্ধ করার প্রচেষ্টা কতটা গ্রহণযোগ্য? মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সিন্ধী ইসলাম আর সাম্যবাদকে ব্যাখ্যা করেছেন, একটা মত দাড় করিয়েছেন, সেই স্টাডিকে কি ডিলিট করব? আমি ভয়াবহভাবে ইসলাম ইস্যুতে সিন্ডিকেশন আর রিজার্ভ শিক্ষার ওনারশিপ দেখতে পাই, সেটাও মারাত্মকভাবে ত্রুটিপূর্ণ মত বৈকি। ইসলাম অধ্যয়ন এবং মত দেয়া আমার অধিকার আর তাকে রুদ্ধ করার অধিকার আল্লাহ কাউকে দেয়নি। সিলসিলার কথা বলে যখন চিন্তাকে রুদ্ধ করা হয় তখন সেটাও প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। আজ হাজার হাজার স্কলার মত দিচ্ছেন তাহলে মজহার সাহেব দিলে দোষ কি? আমি পড়বো গ্রহণ করবো এটাও আমার চয়েজ। ধন্যবাদ স্যার, আপনার নিজের কথাটা বলুন। বাছাই করার অযোগ্যতা আমার সমস্যা, আপনার বা মজহার সাহেবের না।

Shahadat Mahmud Siddiquee: ঠিকই বলেছেন ভাই। আপনি আসলে কিছুই বুঝেননি। ফরহাদ সাহেবের দোষ পাবেন কোত্থেকে, দোষ করলেই তো পাবেন। কেউ বলেছে উনি দোষ করেছেন?… বলেছে ফরহাদ মজহার যা করেছেন তা করতেই পারেন। আমরা কি বলেছি- ‘ফরহাদ মজহার যদি ‘বদ্ধ, সংকীর্ণ ও ইসলামী আতংকের রুগী হয়ে বাংলাদেশে হাজির’ থাকা কমিউনিজমকে নতুন করে নির্মাণ করতে চান, সেজন্য যদি ‘কমিউনিজমের দিক থেকে ধর্মকে বিচার করবার সঠিক নীতি ও কৌশল সম্পর্কে’ নিরন্তর আলোচনায় প্রবৃত্ত হন, এবং যদি মনে করেন– ‘আমাদের দেশে আগামী দিনে কমিউনিস্ট আন্দোলনকে শক্তিশালী আদর্শগত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হলে ইসলাম প্রশ্নের একটা মীমাংসা দরকার’ আর কমরেডদের ‘এই বাস্তবতাটুকু’ মানানোর কায়মনো প্রয়াস চালান যে– ‘বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলাম নিয়ে আলোচনা ছাড়া কোনো গত্যন্তর নাই’ এবং ‘সেই দিক থেকে কমিউনিস্টদের মধ্যে কীভাবে আলোচনা হলে তা সবচেয়ে ফলপ্রসূ হবে সেই দিক নিয়েও’ বিস্তর চিন্তা-গবেষণা করতে থাকেন, তা তিনি করতেই পারেন। তাতে কারো কোনো বিশেষ মাথা ব্যাথার কারণ থাকতে পারে না।’

সমস্যা হলো অন্য জায়গায়- ‘কিন্তু কেউ যদি ‘আধা ইসলাম আধা কমিউনিজমে’র নতুন কোনো দীন-ই-ইলাহী রচনার স্বপ্নে ব্যাকুল হয়ে ওঠেন, তাহলে সমূহ মাথা-ব্যাথার অবকাশ আছে বৈ কি!’

..’একজন মুসলমান যখন জালিমের প্রতিপক্ষে দাঁড়ায়, তার ঈমানী দায়িত্ব থেকেই দাঁড়ায়, মুসলমান হিসেবেই দাঁড়ায়, পরকালে আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার তীব্র অনুভূতি থেকেই দাঁড়ায়-

মায়ের কাছে নানার বাড়ির কাহিনী বলার মতো এখন কোনো পক্ষ যদি জালিম ও মজলুমের দ্বন্দ্বে এতটাই অনর্থ ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠেন যে, তারা আস্তিক-নাস্তিক ভেদ রাখতে চান না, বলেন ‘পরকালের কথা আল্লাহর উপর ছেড়ে দেয়াই বরং মোমিনের কাজ’। তাছাড়া- ‘পরকালের কথা তো আমরা ইহকালেই বলি’। সুতরাং, ইহকাল-পরকালের ব্যাপার একপাশে রেখে ‘রাজনীতিটা’ ঠিক করো- বাক্যের মারপ্যাঁচে চট করে ধরা না গেলেও, এ ধরনের কথা যারা বলেন, প্রকারান্তরে তারা ইসলামের ভিত্তিমূলেই আঘাত করেন। তাওহীদ-রিসালাত-আখিরাতের ভিত্তিভূমি থেকে মুসলমানদের ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বের করে নিতে চায়’।…

এটাও ফরহাদ মজহারে সমস্যা নয়, একজন কমিউনিস্ট হিসেবে তিনি তাও করতে পারেন। তাওহীদ-রিসালাত-আখিরাতের ভিত্তিভূমি থেকে কাউকে বের করে নেয়ার চেষ্ঠা করতেই পারেন। একইভাবে ঈমানদারদের সতর্ক করার কাজও অন্য কোন পক্ষ করতেই পারেন। কে কাকে কেন গ্রহণ করবে বা করবে না, সেটা একান্ত তার ব্যাপার… সমস্যা হলো ফরহাদ মজহার ইসলামকে দেখছেন কমিউনিজমের জায়গা থেকে, ক্ষেত্রবিশেষে কমিউনিজম ব্যাপারটি মুসলমানদের নিকট গ্রহণযোগ্য করার কৌশল হিসেবে জালিম-মজলুমের দ্বন্দ্ব হিসেবে হাজির করছেন, আর আমরা বলছি তিনি ইসলামের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন…

যেকোনো মতাদর্শেরই ব্যাখ্যা হবে সে মতাদর্শের ভেতরে থেকে, তার মূলনীতির সীমানায় অবস্থান করেই। মূলনীতি থেকে বেরিয়ে এসে ব্যাখ্যা করলে সেটা ব্যাখ্যা হয় না, সেটা হয় নতুন কোনো কিছু একটা, মেনডেলের জীনতত্ত্বের ক্রসিংয়ের মতো খানিকটা… তাছাড়া বাইরে থেকে ব্যাখ্যা করার উদ্দেশ্য হতে পারে সংশ্লিষ্ট মতাদর্শটি হতে নিছক জ্ঞানতাত্ত্বিক/বুদ্ধিবৃত্তিক ফায়দা হাসিল অথবা তা’কে মোকাবিলার প্রয়োজনে অথবা দুটোই উদ্দেশ্য হতে পারে। সুতরাং, ব্যাখ্যা যে কেউই করতে পারেন, মুসলমানদের জন্য সেটি অবশ্যই ভেতর থেকে হতে হবে, ইসলামকে own করেই হতে হবে, এবং অবশ্যই অপরিবর্তনীয় মূলনীতির সীমা অতিক্রম না করেই হতে হবে… আর বাইরের কেউও ব্যাখ্যা করতে পারেন, কিন্তু সেটা তার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তার প্রয়োজনেই করা… ইসলামের জন্যও না, ইসলামের প্রয়োজনেও না… ধন্যবাদ তবে।

Syed Khashrul Hasan: ওন না করেও ব্যাখ্যা হতে পারে

Shahadat Mahmud Siddiquee: ওন না করে হওয়া মানে কী?… আপনি প্রতিশ্রুত না। আমি এমন কারো কথা এমন কারো ব্যাখ্যা কেন শুনবো- তিনি যা ব্যাখ্যা করছেন তা ওন করেন না? কুরআন বলছে- তোমরা এমন কথা কেন বলো, যা ওন করো না, অর্থাৎ, যা মানো না… ইসলামের ইতিহাস কি বলে? একটি হাদীস গ্রহণ করার জন্য হাদীসবেত্তারা তার গোটা জীবন বিশ্লেষণ করেছেন, শুধু ওন করা নয়, তার জীবনে আল্লাহ ভীতির গভীরতা পরিমাপ করার মতো জটিল ও কঠিন কাজটি করতেও আলস্য করেনি… আর আপনি এমন কারো কথা অনায়াসে মেনে নেবেন যিনি সে কথার/ব্যাখ্যার উৎস ওন করেন না? নিতে পারেন যদি ব্যাপারটি আপনার কাছে অতোটা গুরুত্বপূর্ণ মনে না হয়…

Mohammad Mozammel Hoque: হ্যাঁ, যার যার কথা তিনি বলবেন। যে বা যাহারা শোনা ও মানার জন্য উপযুক্ত মনে করবেন, তারা শুনবেন, মানবেন। তাতে আমার না করার কী আছে? আমি তো কাউকে মজহার পাঠে নিষেধ বা নিরুৎসাহিত করছি না। জনাব মজহারের আমি একজন নিয়মিত পাঠক। উনার সম্ভবত প্রতিটা লেখার নিয়মিত সংগ্রাহকও বটে।

নোটের শিরোনামে যেমনটা বলেছি, আমার খুব অবাক লাগে ইসলামিস্টরা কীভাবে এ রকম একজন স্বঘোষিত মার্ক্সসিস্ট-কম্যুনিস্টকে ইসলামিস্ট মনে করেন…!!!?? মজহার সাহেবের দিক থেকে নিজের অবস্থানের ব্যাপারে তিনি কন্সিসটেন্ট। সব কিছুর পরেও তিনি শেষ পর্যন্ত নোট লিখেন, “তবুও কমিউনিজমের কথাই বলবো”। তো বলেন। সমস্যা কী?

সমস্যা হলো যারা কমিউনিজম ও ইসলামকে এক করে দেখেন, তাদের কাণ্ডজ্ঞানের সমস্যা। ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের একটি হলো যাকাত। অথচ কমিউনিজমের অন্যতম মূল কথা হলো ব্যক্তি মালিকানার বিলুপ্তি। ঈমানের যে ছয়টি মূল বিষয় অবশ্য-স্বীকার্য, তা সাম্যবাদে denied or considered as irrelevant or additional. Am I wrong on this?

হ্যাঁ, Syed Khashrul Hasan ভাই, আপনি ফরহাদ সাহেবের দোষ খুঁজে পান নাই। তাতে আমি অবাক হই নাই। কেন অবাক হই নাই, তা আর নাইবা বললাম। থাক ওসব। ভালো থাকেন।

Syed Khashrul Hasan: দোষ খুজে পাইনি মানে তার প্রক্রিয়ার, কাজের। সেটা তিনি করতেই পারেন। আর পারেন বলেই তার দোষ নাই। কিন্তু অনেকেই স্বীকারই করেন না যে তার বলার আর করার অধিকার আছে। আমি ঠিক এটাই মিন করেছি স্যার। ভাল থাকবেন স্যার।

Masuk Pathan: মার্ক্সের কমিউনিস্ট মেনোফেস্টোটা আবার পড়েছি।

চিরন্তন এক দুঃখবাদ নিয়ে এই প্রগতিটা মাথা ঠুকে মরছে। দুনিয়ার কাউকেই বিশ্বাস করতে পারছে না গোষ্ঠিটা!।

কখনও সামন্তবাদের বিরুদ্ধে, প্রলেতারিয়েতদের পক্ষে। কখনও বুর্জোয়াদের বিরুদ্ধে, এমনকি প্রলেতারিয়েত যখন কিছু পুঁজির মুখ দেখে তখন তাদেরকে বুর্জোয়া খেতাব দিয়ে তাদের বিরোধিতা করে।

হয়ত বলবে যখন যে মজলুম হবে তাদের পাশেই তো বিপ্লবি কমিউন তৈরি করে পাশে দাঁড়াবো!
পুঁজি দেখলেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে। এটাও হয়ত খারাপ হতো না, কেননা পুঁজির তো সুষম বন্টন দরকার।

মানুষের কাছে পুঁজি দেখলে বেজায় মন খারাপ, অনান্থা, বিপ্লব হতে হবে। তো মানুষ কেন মুষ্টিমেয় পলিটব্যুরোর সদস্যকে জনপদ/ রাষ্ট্রের সকল সম্পদ পুঞ্জিভূত রেখে নাকে তেল দিয়ে ঘুমুতে যাবে!

শুধু কিছু পর্যবেক্ষণেরর নমুনা দেখা যায় সেখানে, মুক্তির কোন বাস্তবসম্মত, আশাদায়ক টিপস কমিউনিস্টদের নেই।
মজহার ভাই, মার্ক্সকে এত ভালোবাসেন যে হেগেল, ফয়েরবাখ, এঙ্গেলকে দোষারোপ করলেও কখনও মার্ক্সকে ফুলের টোকাটা দিতে কষ্ট পান! মজহার ভাই মুসলিম কার্ডটা তাদের বিপ্লবের দিকে ব্যবহারের চেষ্টা হয়ত করবেন কিন্তু মার্ক্স অর্থনীতির কঠিন চাল দিয়ে মানবতার জন্য আদর্শ বানানোর সময়ে ইসলামকে জানার সময় পাননি। তার সমাজ, ধর্মের মানুষকে যেচেই সকল ধর্মের সাধারণিকরণ করে ফেলেছেন।

হয়ত মার্ক্স মহৎ উদ্দ্যেশ্যে উৎপাদনকেন্দ্রিক অর্থনীতির সুত্রেই জগতের মহা আয়েজন মাপতে চেয়েছিলেন। তাছাড়া একজন মানুষ এর চেয়ে বেশি আর কিই করবেন যদি তিনি বা তারা মহান স্রষ্টার প্রভুত্ব না মানতে পারেন।

কমিউনিষ্ট মেনোফেস্টো যে ম্যাকানিজমে চলে যে বাস্তবতায় সেখানে সামনের পিরিয়ডটা হলো কমিউনিস্টদের জন্য বিপ্লবি উদ্দ্যোগ নেয়ার! এবং সব বামপন্থিগণ জান বাজি রেখে বিভিন্ন সুরতে তাই করে যাচ্ছেন।

মজহার ভাই হয়ত কোন একটা রোল প্লে করতে চাইলে চাইতেও পারেন।

তবে মজহার ভাই ইসলাম ইস্যুটাকে নিয়ে ঘেঁটে কমিউনিজমের প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতে গিয়ে যদি তিনি সত্যিই মানবতার মুক্তির সনদ কুরআনের সুশোভিত ছায়াতলে ভিড়তে পারেন মুত্তাকি হয়ে। সেটা হবে সুখবর। সে দোয়া আমাদের কথা উচিত।

Mohammad Al-Amin: ফরহাদ মাজহারের বক্তব্য নিয়ে যখন বিচলিত হন তখন মনে হয় আপনি খুব ইনফেরিয়র কমপ্লেক্সিটিতে ভুগছেন। এটা হয়। কারণ, আপনি তার মতো করে বলতে পারেন না, লিখতে পারেন না, বুঝাতেও পারেন না (যা আপনার লেখায় ফুটে উঠেছে)। কেউ যখন আপনার কথা শুনছে না তখনই এ ধরনের ফেনোমেনা জন্মায়। ফরহাদ মাজহার কিন্তু আপনাকে গুনায় ধরে না কিন্তু আপনি তারে গুনেন। এটাই ফরহাদ মাজহারের বিশেষত্ব, আপনার দূর্বলতা। আপনার নিজস্ব কথা না বইলা যখন ফরহাদ মাজহারের লেখা নিয়ে ক্রিটিসাইজ করেন তখন আপনি কিন্তু ‘আপনি’ থাকেন না, ফরহাদ মাজহারের ক্রিটিক হয়ে যান। নিজের অজান্তেই তখন আপনি ফরহাদ মাজহারের চাইতে ছোট হয়ে যান। আমি অন্তত এইটা আপনার কাছে আশা করি না। আপনার নিজের কথা বলুন। নিজস্ব আইডিয়া প্রপোজ করুণ। মানুষ-ই যাচাই করবে কে ভুল আর কে সঠিক। সরি, অনেক কঠিন ভাষায় আমার ব্যক্তিগত মতামত দিলাম। কষ্ট নিবেন না। আমি আপনার লেখার একজন নিয়মিত পাঠক এবং শুভাকাংখী। আমি ফরহাদ মাজহারকেও পড়ি।

Mazharul Islam Khondokar: উনি যদি উনার দৃষ্টিতে কাউকে বিপথগামী মনে করেন, সেক্ষেত্রে সাবধান করার জন্য ক্রিটিসাইজ করতে পারেন। ইসলামিষ্টদের জ্ঞান গরিমা কম, পড়ালেখা কম। এ কারনে কারও মিষ্টি কথায় ভুল পথে যেতে পারে। তবে ফরহাদ মাজহার আগাগোড়া কমিউনিষ্ট, তাকে কবি আল মাহমুদ মনে করা ভুল।

Mohammad Al-Amin: আমার ধারনা ফরহাদ মাজহারকে কেউ ইসলামিক স্কলার মনে করে না, আবার তিনি নিজেকেও ইসলামিক স্কলার বলে দাবী করেন না। তাহলে শুধু শুধু আমরা কেন প্যাঁচ লাগাবো? দেশে কী ইসলামিক স্কলারের অভাব পড়ছে? তার কথা যদি শরিয়ার সাথে সাংঘর্ষিক হয় তাহলে তুড়ি মেরে ফেল দিব, সমস্যা কী? ফরহাদ মাজহারকে নিয়ে ক্রিটিসাইজ করা মানেই আপনি তারে বড় বানাইতেছেন। ইসলামিক স্কলার বানাইতাছেন। নিজের অজান্তেই।

Syed Khashrul Hasan: মজহার সাহেব একটা অবস্থান নিচ্ছেন। তিনি ইসলামকে দেখছেন আবশ্যিক সত্য হিসাবে বাংলার রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক গঠনে। তার স্পষ্ট মত হল যে দেশের ৯০ ভাগ মানুষের ভাষা, জীবনাচরণ ছাড়া দেশের সংস্কৃতি আর রাজনীতি গড়ে উঠতে পারে না। তিনি নিজেকে একজন মার্ক্সবাদী বলেন সেক্ষেত্রে মার্কস অধ্যয়ন, সেক্যুলারিজম এবং ধর্মের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন চিন্তা পেশ করে কমিউনিজমকেই প্রান দিয়েছেন। তার এই পাঠ চায়না বা রাশিয়াতেও নাই। আবার লালন, চৈতন্য আর বাংলা নিয়েও নতুন পাঠ দিচ্ছেন। তার নিজস্ব বয়ানে জালিম আর মজলুমের সংগ্রামকে মূখ্য করে তোলা হয়েছে যা আবার মার্ক্সের শোষক-শোষিতের পাঠেরই প্রতিধ্বনি। সর্বক্ষেত্রে কলোনিয়ালিজমের ধারণা প্রতিষ্ঠার ভিতর দিয়ে ওরিয়েন্টালিজমের প্রবল সুর বিদ্যমান। সেক্ষেত্রে ইসলামের মৌলিক দর্শনকেই অনেক ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ করে। এই সামগ্রিক কাজ বা তার দেয়া দর্শন পিউর ইসলামিস্ট, মার্ক্সবাদী, ডেমোক্র‍্যাটিক, বাঙালী জাতীয়তাবাদী অনেক ক্ল্যাসিককেই চ্যালেঞ্জ করছে। সুতরাং মজহার সাহেবের কৃটিসিজম অনেক গভীর থেকেই করতে হবে। আবার কৃটিসিজম না করে বরং নিজের বয়ানটা দেয়াই আরেক স্কলারের কাজ হওয়া উচিৎ। সলিমুল্লাহ খান মজহার সাহেবের কৃটিসিজম করতে গিয়ে নিজেই হারিয়ে গেছেন বুদ্ধিবৃত্তিকতা থেকে। সুতরাং চিন্তার সুযোগ আছে

Shahadat Mahmud Siddiquee: ফরহাদ মাজহারের বক্তব্য নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নাই। ইনফেরিয়র কমপ্লেক্সিটিতে ভোগারও কিছু নাই। তার মতো করে বলতে, লিখতে, বুঝাতেও পারারও দরকার নেই। সে প্রশ্ন আল্লাহ আমাকে করবেন না। আমার যোগ্যতানুসারে আমি সত্যের পক্ষে মিথ্যার প্রতিপক্ষে দাঁড়িয়েছি কিনা সেটাই আমার দায়, আপনার দায়, স্যারেরও দায় সেটাই! কার কথা কে শুনছে, কে শুনছে না সেটাও বড় কথা নয়। ফরহাদ মাজহারের সমূহ বিশেষত্ব থাকতে পারে, এবং আমার-আপনার-স্যারের সমূহ দূর্বলতা থাকতে পারে। আলোচনা বিশেষত্ব ও দূর্বলতা বিষয়ক না, কে কাকে গুনলো কি গুনলো না, তাও না। আপনার সম্ভবত জ্ঞান-বিজ্ঞান-দর্শনের বিবর্তন ও বিকাশের ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা নেই, ওটা কোন ব্যাপার না। তা এই সমস্তরই বিকাশ কিন্তু এই ক্রিটিকের ভেতর দিয়েই। স্বয়ং কমিউনিজমও একটা ক্রিটিসিজম মাত্র, অনেকেই বলেছেন, আপনিও হয়তো জানেন তা। কার্ল মার্ক্সের উদ্ভবও সেই ক্রিটিসিজমের বন-বাঁদাড়ে। ফরহাদ মজহারের মতো হওয়া কিংবা তার চেয়ে বড় হওয়া ঈমানদারের লক্ষ্য হতে পারে না… ইসলাম চায় প্রত্যেক মানুষ মানুষের মতো অনন্য হয়ে উঠবে… মানুষ হয়ে উঠতে দার্শনিক কিংবা জ্ঞানের জাহাজ হয়ে উঠতে হয় না… একথা নিশ্চয়ই মানবেন। যা’ই হোক, বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতা অতিক্রম করে ব্যক্তিগত পক্ষপাতিত্বে আপনার কমেন্ট আক্রান্ত। এজন্যই স্যার হয়তো রিপ্লাই দেন নি। স্যারকে ধন্যবাদ। ধন্যবাদ আপনাকেও…

Masuk Pathan: আলামিন সাহেব, আপনার লাফটাও কিন্তু কুয়ার উচ্চতার সমমানেরই হোল। আপনিও সমালোচনাটা করলেন একটা স্টেরিওটাইপ মাথায় নিয়েই।

আপনিও বুঝতে পারছেন না, যখন একটা সমাজে একটি ক্রান্তিকালে তরুণরা বিশেষ করে নতুন ধাঁচে সংকট মোকাবিলায় কোন ভাবাদর্শ নিয়ে ভাবতে থাকে এবং জ্ঞানিদেরকে সরল প্রাণে নিজেদের ছায়া প্রদানকারি ভেবে কাছে ভিড়ে তখন প্রাজ্ঞগণ যদি মজহার ভাইয়ের মতো দর্শনের প্যাচে আশায় গুঁড়ে বালি দেয়ার চেষ্টা করেন তখন জনাব মোজাম্মেল হকের মতো প্রজ্ঞাবানদের জীবনবোধের দায়িত্ব হয়ে যায় তরুণ সজাগ করে দিতে।

তবে হ্যাঁ। হেগেল যেভাবে একটি সমাজে খ্রিস্টবাদ, স্বাভাবিক করে তোলেছেন, করে দিয়েছেন মানুষের মজ্জাগত মজহার ভাই সেসবের জন্য যদি সংগ্রাম করেন, এ জনপদের অধিকাংশ মানুষের শেঁকড়, বিশ্বাসকে ওন করে যদি প্রকৃত ভালোবেসে সমাজটা বদলে দেয়ার কৌণিক চূঁড়ার নেতা হতে পারেন তবে এটা সবার আগে মোজাম্মেল স্যারদের সুখের বিষয় হবে।

না বোঝে দোষারোপ করবেন না। ভালো থাকবেন।

Mohammad Al-Amin: Masuk Pathan ভাই, আমার কমেন্ট প্রাসঙ্গিক করে তোলার জন্য ধন্যবাদ।

Mohammad Al-Amin: Shahadat Mahmud Siddiquee ভাই, আমি মনে করি না যে মোজাম্মেল স্যার আমার কমেন্ট পড়েন নাই। তিনি পড়েছেন, চিন্তা করেছেন, এবং সম্ভবত আমার ক্রিটিসিজম মেনেও নিয়েছেন। যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো, আপনারা। কত কষ্ট কইরা আমার কমেন্টকে প্রাসঙ্গিক এবং খুবই গুরুত্বপূর্ন কইরা তুলছেন। আই লাভ ইট। স্যার যদি আমার কমেন্টকে আপত্তিজনক মনে করতেন তাহলে হয়তো ডিলিট করতেন অথবা আমাকে বলতেন। তা যেহেতু করেন নাই অতএব ধরে নেয়া যায় যে আমার বক্তব্যের প্রাসঙ্গিকতা আছে। গুনী যাঁরা তাদেরকে সমালোচনা সহ্য করবার ক্ষমতা রাখতে হয়। আমি স্যারকে গুনী মনে করি। তাঁর ভেতর প্রতিভা আছে কিন্তু কেন সেই প্রতিভা ফরহাদ মাজহারের পিছনে ব্যয় করছেন, সেটাই আমাকে অবাক করে!

Mohammad Mozammel Hoque: মজহার সাহেবের কথাবার্তার তাত্ত্বিক ভিত্তি নিয়ে এতগুলো মৌলিক লেখার লিংক দিলাম তারপরেও যদি শুধুই সমালোচনা করার অভিযোগ তোলেন, কী আর করা! আপনি বলেছেন, আপনি আমার লেখা পড়েন। তাহলে তো আপনার জানা থাকার কথা আমি মৌলিক লেখা ও সমালোচনামূলক লেখার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলি।

যদি আপনি মনে করেন, এক সময়ে আমিও এমনটা মনে করতাম, কারো সমালোচনা না করে শুধুমাত্র ইতিবাচক কথাবার্তা দিয়ে নতুন একটা ধারা তৈরী করার চেষ্টা করাই উত্তম, তাহলে আপনি ভুল করছেন। এটি সরল কিন্তু অবাস্তব চিন্তা।

প্রতিষ্ঠিত ধারা বা চিন্তার সাথে আপনার চিন্তার ফারাক ও এর বিশেষত্বকে ক্লিয়ার না করে নতুন কিছু করা বা গড়ে উঠা তথা কায়েম হওয়া, অংকের নিয়মেই অসম্ভব।

আমার এই লেখার উদ্দীষ্ট পাঠক ফরহাদ মজহার বা উনার পক্ষের লোকেরা নয়। যারা আমাকে নানা বিষয়ে সমর্থন করেন, তাদের কাউকে কাউকে ক্ষেত্রবিশেষে মজহার অনুসারী হিসাবে দেখা যায়। তারা এবং যারা এসব প্যাঁচের মধ্যে এখনো পড়ে নাই সেসব ইনোসেন্টদের জন্য এই লেখা।

অশ্লীল গালি ছাড়া আমি জীবনে কোনো কমেন্ট ডিলিট করি নাই। গত সাত বছরের ব্লগিংয়ে আমি দাবী করে বলতে পারি, এটি মেইনটেইন করেছি। অবশ্য কোনো কমেন্ট যদি দ্বিরুক্তিমূলক অর্থাৎ রিপিটেশান হয় তখন তা ডিলিট করেছি। কিংবা কোনো পরামর্শ দেয়া হলে সেটি যদি আমি মেনে নিয়ে লেখাকে সংশোধন করেছি, এমন হয় তখন উক্ত পরামর্শ বা সংশোধনীমূলক কমেন্ট ডিলিট করেছি। এটি আমার জানা মতে বছর দুয়েক আগে কোনো একটা পোস্টে একবার মাত্র হয়েছে। আমি মতামত গঠনের জন্য লেখালেখি করি। শো-অফ বা আমিত্ব জাহির করার জন্য ব্লগিং করি না। ধন্যবাদ। সবাই ভালো থাকেন।

Syed Khashrul Hasan: কিছু বা অংশত গ্রহণ করার ভিতর দোষের নাই। তার নয়াকৃষির বড় অংশই গ্রহণ করার মত। জালিমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অবশ্যই মানবিক দ্বায়িত্ব। ভাষার গঠনশৈলী দারুণভাবে অনুসরণযোগ্য। ইনসাফ, ইজ্জ্বত আর সাম্যের পক্ষে অবস্থান নেয়াও আমাদের চেতনার অংশ।

Mohammad Mozammel Hoque: রিপন ভাইয়ের মন্তব্যে এ বিষয়ে এইমাত্র একটা রেসপন্স দিয়েছি। হ্যাঁ, আমি মনে করি আমি বা যে কারো জন্য তিনি একজন ঈর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব। এই বয়সে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। কারো কোনো বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করার মানে তিনি অল ব্যাড এমন নয়। আমি কাউকে ভিলিনাইজ বা গ্লোরিফাই করার কাজে বরাবরই অনাগ্রহী।

Shahadat Mahmud Siddiquee: Mohammad Al-Amin স্যার অনেক সুন্দর বলেছেন। আর কিছু বলা সমীচীন মনে করছি না। আপনার কমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ বা প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে অন্যদের রিলিফ দরকার হবে কেন?… আমাদের কাছে আমাদের সব ভাই’ই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বিশ্বাস করি আপনি এরচেয়ে ঢের বেশী দরকারী কমেন্ট করার যোগ্যতা রাখেন, অবভিয়াসলি…

Mohammad Al-Amin: ধন্যবাদ স্যার সুন্দর কমেন্টের জন্য।

Mohammad Al-Amin: Shahadat Mahmud Siddiquee, ধন্যবাদ। আপাতত এই বিষয়ে আর কিছু লিখতে চাচ্ছি না। অন্যকে সুযোগ দেয়া উচিৎ, তাই। আবারো আলাপ হবে অন্য কোন সাবজেক্টে।

Masuk Pathan: al amin bhai, আমিও চাই সকল সঠিক বোধের মাঝে প্রাসঙ্গিক হোন। আপনার জ্ঞান, চিন্তা, কর্ম দ্বারা অনেকে লাভবান হোক।

Sharif Hossain: ফরহাদ মজহার সাহেব ইসলামিস্ট হলে, হয়তো জেলখানায় থাকতেন, নতুবা দৌড়ের উপর থাকতেন। তিনি টিপিক্যাল বুদ্ধিজীবী, বাড়ি নোয়াখালী, দুই নৌকায় পা রাখেন। সহজে ইসলামপন্থীদের প্রিয় হতে পারেন মিডিয়ায় ইসলামিস্ট বুদ্ধীজীবীর অনুপস্থিতির কারণে। এটা মজহার সাহেবের দোষ না, তিনি কখনও বলেননি যে ডানপন্থি। তবে উনার কমিউনিজম ইসলামের মৌলিকতার সাথে সাংঘার্ষিক না হলে তা গ্রহণে আপত্তি থাকার কথা নয়। ফরহাদ মজাহারসহ ট্র্যাডিশনাল মুসলিমরা বা মুসলিম শাসকরা ইসলামের সুফিজমকে বেশ পছন্দ করেন। কারণ, ইসলামের শাসক শাসিতের সম্পর্ক ও জবাবদিহিতা, ন্যায় ও কল্যাণভিত্তিক সমাজ গঠনকে পাশ কাটিয়ে সুফিজম আধ্যাত্মিকতার নামে জীবনবিমুখ এক সম্প্রদায় সৃস্টি করে যারা অন্যায় শাসকের দাসত্বকে বিনা বাক্যে বরণ করে নেয়। সমাজে ব্যাপকভাবে দাস তৈরি করে দাসদের নিয়ে কমুনিজম রাজনীতি খেলে।

Syed Khashrul Hasan: ফরহাদ সাহেব সূফীবাদে বিশ্বাস করেন না ভাইজান।

Sheikhul Ripon একজন কৃষিবিদ হিসেবে ফরহাদ মজহারের তুলনা মেলা ভার। সবকিছুর উর্ধ্বে দেশ মাতৃকার সেবায় তাঁর এ অবদান অনস্বীকার্য। এখানে আশা করি কোন দ্বিমত নেই।

Shahadat Mahmud Siddiquee: কৃষিতে আছে, রাজনীতিতে আছে, দর্শনে আছে, লালনবাদে আছে, বুদ্ধিবৃত্তিতে আছে, কবিতায় আছে… হয়তো আমাদের না জানা আরো অনেক বিষয়ে আছে তার অবদান, সেটা কেউ অস্বীকার করছে না, আলোচনায় বিষয়বস্তুও সেটা না… ধন্যবাদ।

Mohammad Mozammel Hoque ফরহাদ মজহার একজন অনুসরণীয় ব্যক্তি। অন্তত আমার কাছে। যেমন করে সলিমুল্লাহ খান, আবদুল্লাহ সায়িদ, মোহাম্মদ ইউনুস, আনু মোহাম্মদ ও জাফর ইকবালের মতো লোকেরা আমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তাঁরা প্রতিভাবান। স্বীয় আদর্শের জন্য নিবেদিত। তাঁদের মতো towering figure-দের কাছ হতে অনেক কিছু শিখার আছে।

ইসলামপন্থীদের মধ্যে যারা মজহার মার্ক্সসিস্ট-কম্যুনিস্ট জেনেও তার কাছে যান, তাকে সমর্থন করেন, তারা এই ক্যাটাগরির উপরোল্লেখিত কয়েকজনসহ এ ধরনের আরো যারা আছে তাদের কথা তো কখনো বলেন না…! তাদের কাছে যান না। অন্তত দেখি না। কেন? মনে হয়, এখানে একটা গোলমাল আছে। সেটা পরিস্কার করার জন্য এই নোট লেখা।

যে কোনো আদর্শের সুস্থ পরিপুষ্টির জন্য ভিন্ন ও বিপরীত আদর্শের ভালো ভালো জিনিসগুলোকে গ্রহণ করে নেয়া ভালো। এটি ততক্ষণ পর্যন্ত ভালো যতক্ষণ আপন-পর ভেদাভেদটা ক্লিয়ার থাকে। সত্য-মিথ্যার মিক্সডআপ পরিস্থিতিতে অনুরূপ ধরনের কিছুকে এভয়েড করা, ক্ষেত্র বিশেষে অপোজ করা জরুরী। রাসুলুল্লাহ (সা) কর্তৃক হযরত উমর (রা) তাওরাত-ইঞ্জীল পড়তে বারণ করার এটিই কারণ।

আপনি এসব জানেন, বুঝেন। সেটি আমি জানি। বাদবাকী পাঠকদের জন্য আমার এই ক্লারিফিকেশান।

Shekh Alamgir: ফজরের আজানের সময় তার ‘গোষ্ঠ’ গান করা নিয়ে তাকে আমি একবার বিভ্রান্ত মানুষ বলেছিলাম। ফরহাদ মাজহার আমাকে গালি দিয়েছিলেন। তারপরও এখন পর্যন্ত তার লেখায় এমন ইতরবিশেষ কিছু খুঁজে পাইনি যে তাকে পড়েই যাব। তবে তার মতামতের জন্যে তাকে আমি কখনও অসম্মান করতে চাই না।

Ahmad Musaffa: সমাজতন্ত্রের পাশাপাশি যে লালনবাদকেও প্রমোট করতে চায় তার পক্ষে পূর্ণ ইসলামে প্রবেশ করা কিভাবে সম্ভব আমার বুঝে আসে না।

মুহাম্মদ আফসার: ফরহাদ মজহারের নেতৃত্বে “চিন্তা ও তৎপরতার পত্রিকায়” বা “নারীগ্রন্থ প্রবর্তনায়” ইসলাম জানতে আগ্রহী নতুন বুদ্ধিজীবীদের যে পাঠচক্র চলছে, তাতে খোদ ফরহাদ মজহার নতুন করে অনুসরণীয় হয়ে উঠছে কি না, তারচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল একজন খাঁটি কমিউনিষ্টের নেতৃত্বে “মাকাসিদে শরীয়াহ” সহ ইসলামের নানান বিষয় আশয় বুঝবার এবং সমাজ দর্শনে তার উপযোগিতা মাপবার যে প্রচেষ্টা চলছে, তা জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামের প্রাসঙ্গিকতাকে আরো বলিষ্ঠ করছে। ব্যক্তি ফরহাদ মজহারের কমিউনিজমের দিকে ঝুঁকে থাকা বা কমিউনিজমে থেকেও ইসলামের দিকে হাত বাড়ানোর বিষয়টা এই প্রবাহমান জ্ঞান পর্যালোচনা পর্বে ব্যক্তি-টু-ব্যক্তিতে কতটা প্রভাব বিস্তার করবে তা চিন্তার বিষয়। তবে আশার বিষয় হল যাদের নিয়ে আপনার আমার আশঙ্কা তাদের মধ্যে বিষয়বস্তুকে বুঝবার জ্ঞানভিত্তিক যে লড়াই হাজির আছে, তাতে বিষয়বস্তু যদি ইসলামী হয়, তাহলে কমিউনিজমের ধাক্কা দিয়ে তাকে প্রতিষ্ঠিত করার আগেই ইসলাম তাকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলবে। এখানেই ইসলামের জয় এবং কমিউনিজমের পরাজয়।

ইমানদারের স্বভাব হল আশাবাদি হওয়া, সেই সুত্র থেকেই হয়তো আপনি ফরহাদ মজহারের ইসলামি বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করা, অথচ কমিউনিজম ছেড়ে পুরোপুরি ইসলামের দিকে আত্মসমর্পিত হচ্ছেন না কেন? সে প্রশ্ন তুলেছেন এবং অন্যদের এ বিষয় ভাবতে উৎসাহিত করছেন। ইতিহাসে মনে হয় এ পদ্ধতি নতুন নয়। অতীতে অনেকেই মৃত কমিউনিজমের চেয়ে অনেক শক্তিশালী ইসলাম বিরোধী দর্শন নিয়ে খাটি ইসলামী বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করেছেন। সুখের বিষয় হলো সময়মত পাঠক বিভ্রান্ত না হয়ে তার নাড়িভুড়ি বের করে নিয়ে এসেছে… এবং ইসলাম তার সরল রেখার উপর অন্ততকাল ধরে চলছে…।

Shahadat Mahmud Siddiquee: …’তাদের মধ্যে বিষয়বস্তুকে বুঝবার জ্ঞানভিত্তিক যে লড়াই হাজির আছে, তাতে বিষয়বস্তু যদি ইসলামী হয়, তাহলে কমিউনিজমের ধাক্কা দিয়ে তাকে প্রতিষ্ঠিত করার আগেই ইসলাম তাকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলবে’।… …’সুখের বিষয় হলো সময়মত পাঠক বিভ্রান্ত না হয়ে তার নাড়িভুড়ি বের করে নিয়ে এসেছে… এবং ইসলাম তার সরল রেখার উপর অন্ততকাল ধরে চলছে’… চমৎকার বলেছেন। আশা থাকুক, নিরন্তর জ্ঞানের সাধনা থাকুক, প্রতিরোধ-বিতর্ক থাকুক, এর মাঝে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাক সিরাতুল মুস্তাকীম… একটু না হয় আবেগ প্রশ্রয় পেলো, ধন্যবাদ ভাই…@মুহাম্মদ আফসার

Rezaul Karim Rony: মজহার একটি সামাজিক ব্যাধি। এই ব্যাধির বিরুদ্ধে আমি গত ৫ বছর ধরে তাত্বিক লড়াইয়ের কথা বলে আসছি, তা নিয়ে অনেকে আমাকে গাল-মন্দ করেছেন। বাট এখন ধীরে ধীরে এটা চারদিক থেকে পরিস্কার হওয়াতে ভাল লাগছে। আমি মজহারকে কাছ থেকে ৬/৭ বছর দেখেছি। চলেছি। বিদেশ সফর করেছি। একটা নাটকের চরিত্র ছাড়া আর কিছু মনে হয়নি তাকে। কিন্তু একটি সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক সততার জন্য, থিওরিটিক্যাল ইনটারভেনশনের মেচুরিটির জন্য মজহার ফেনোমেনার অবসান আমি ঘোষণা করেছিলাম ওদের গ্রুপের সাথেই ২ বছর আগের এক প্রচন্ড তর্কে। মজহারদের মতো অবর্জনা একটা ফেইক ইমেজ আকারে পুলাপানদের সমানে হাজির হয়, এটাতে অনেকে বিভ্রন্ত হন, মজহারের মতো সেল্ফ-ইমপোজিং ও ফ্যাসিস্ট চরিত্র কোন দিনও জ্ঞান সাধক হতে পারে না। সে বড় জোড় একটা জোকার। তার তাবৎ কথাবার্তা রেটরিক্যাল। বাজার মাত করার জন্য ওর জন্ম হয়েছে। ওর চেয়ে একটা পশুর কান্ডজ্ঞানও অনেক ভাল।

Shahadat Mahmud Siddiquee: সাংঘাতিক ব্যাপার। আমি অবশ্য অতদূর জানি না। লিখা পড়তে ভালো লাগতো পড়তাম এটুকুই। ভালোই হলো এক উছিলায় আপনাদের সাথে পরিচিত হয়ে, আরো অনেক ব্যাপার হয়তো উঠে আসবে। ধন্যবাদ আপনাকে…

Md Saifuddin: বুঝলাম, আমাদের দেশের তরুণ ইসলামপন্থিদের জ্ঞানের গাঢ়ত্ব এখনো ‘মজহার সমালোচনা’ করার পর্যায়ে পৌছায় নাই।

Shahadat Mahmud Siddiquee: @Md Saifuddin,

১। তবু ইসলামের কথাই বলতে হবে… খসড়া-০৪ (শেষাংশ)

২। খসড়া-০৫ (এপ্রোচের মামলা) –

৩। তবু ইসলামের কথাই বলতে হবে… খসড়া-০৫ (এপ্রোচের মামলা, দ্বিতীয়াংশ)

৪। তবু ইসলামের কথাই বলতে হবে… খসড়া-০৫(শেষাংশ) (এপ্রোচের মামলা- ভাসানী প্রসঙ্গ)

৫। তবু ইসলামের কথাই বলতে হবে… খসড়া-০৪ (মজহারপন্থা প্রসঙ্গে)

৬। তবু ইসলামের কথাই বলতে হবে… খসড়া-০৫ (এপ্রোচের মামলা এবং মাওলানা ভাসানী প্রসঙ্গ)

৭। ফরহাদ মজহারকে নিয়ে দিগন্ত ইসলামপন্থিদের করুণ দেউলিয়াপনা

লেখাটির ফেসবুক লিংক

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে পড়াই। চাটগাইয়া। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *