আমি এক নেকাবপন্থী ব্লগারের অসহিষ্ণুতার শিকার! প্রতিকারের দুরাশায় মধ্যরাত্তিরে এই অসহায় পোস্টানো…

কিছুক্ষণ আগে ‘সময় উপযোগী নারী সংগঠন সময়ের দাবী’ (লিখেছেন সিরাজুম রুমি) পোস্টে আমি মন্তব্য করি।

ব্লগার মহোদয় তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে যা বলেছেন তাতে মনে হতে পারে, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নেকাব পরা মেয়েরা ব্যাপকভাবে অবিচারের শিকার। আমি এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে লিখেছিলাম,

আমার এক সহপাঠিনী নেকাব পরেই ফার্স্ট ক্লাশ পেয়েছেন। নেকাব পরে চাকুরীর ইন্টারভিউ দিয়েছেন। যোগদানের মাস কয়েক পরে পরিচিতিগত সমস্যার কারণে নেকাব পরা ছেড়েছেন। এটি প্রায় বিশ বছর আগের কথা।

এ বছর আমাদের পার্শ্ববর্তী বাংলা বিভাগে রেকর্ড পরিমাণ জিপিএ নিয়ে যে মেয়েটি প্রথম হয়েছে, নেকাব পরেই সে এই রেজাল্ট করেছে।

এর ভিত্তিতে আমি মন্তব্য করেছিলাম, কোয়ালিটি ডাজ ম্যাটার।

বলেছিলাম, নিজের দীর্ঘ শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার সূত্রে দেখেছি, নেকাব পরা মেয়েরা ক্লাশে কোনো রেসপন্স করে না। আমি ক্লাশে তাঁদের ভূতের মতো বসে থাকার কথা বলেছি। এই শব্দচয়নের জন্য অব্যবহিতভাবে দুঃখ প্রকাশও করেছি।

এরপরে লিখেছিলাম, অধিকাংশ নেকাব পরা মেয়েরা নিজেদের এমনকি দাদার বয়েসী পুরুষ শিক্ষকদের সাথেও এমন ভাব দেখায়, যেন পুরুষ মাত্রই তাঁদের ‘সম্ভ্রমের’ জন্য পটেনশিয়্যাল থ্রেট!!

উক্ত ব্লগার মহোদয় আমার মন্তব্যের উত্তরে আমাকে ‘জেগে ঘুমানো, মস্তিস্কে বিকৃতিসম্পন্ন ও সিক মেন্টলিটির লোক’ বলে মন্তব্য করেন!

আমি এর উত্তরে কোরআনের একটা আয়াত উল্লেখ করে [ফা ইজা খাত্ববা হুমুল জাহিলুনা ক্বলু সালামা] বললাম, কখনো কোনো নেকাব পরিহিতার সাথে নেকাব পরা নিয়ে কোনো প্রকার বিতর্ক করি নাই। উনার লেখাটা ব্লগে দেখে মন্তব্য করেছি মাত্র।

মুখ ঢাকার দলীলকে সঠিক মনে করে এসব আধুনিক নেকাব পরিহিতাগণ শুধুমাত্র মুখের অর্ধাংশ ঢেকে চলেন কেন? তাঁদের ভাষায় সৌন্দর্যের রাজধানী (চেহারা) গোপন রাখা জরুরি মনে করা সত্ত্বেও এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটুকু (চোখ ও এর আশপাশের অঞ্চল) অরক্ষিত ও উন্মুক্ত রাখেন কেন? তাও আবার উন্মুক্ত অংশে ‘মাঞ্জা’ লাগিয়ে? এ ধরনের আচরণের যুক্তিগুলো তো জানা গেলো না।

এই প্রতিমন্তব্য পোস্টানোর পরপরই দেখলাম ব্লগারের মন্তব্য। পোস্ট খুলে দেখি আমার মন্তব্যগুলো সাফ গায়েব!!! এসবি ব্লগ চালু হওয়ার আগে সামুতে ব্লগিং করতাম। এসবি চালু হওয়ার দু-তিন দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম। এরপর হতে অদ্যবধি স্বীয় নাম-পরিচয়ে ব্লগিং করা এই বান্দার কোনো মন্তব্য কেউ হাওয়া করে দেয় নাই ! বড় দুঃখ পেলাম!!!

এরচেয়েও বেশি দুঃখ লাগে যখন ইসলামী জযবাধারী আমাদের আন্দোলনপন্থী বোনেরা সরাসরি আয়িশার (রা) মতো [শুধুমাত্র পর্দার দিক থেকে!] হতে চান!! তাঁরা যদি প্রথমেই আয়িশার (রা) মতো হওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা না করে হযরত খাদিজার (রা) মতো মহান হওয়ার চেষ্টা করতেন, তাহলে কতই না ভালো হতো!!!

মূল পোস্টের ব্যাকআপ লিংক

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে পড়াই। চাটগাইয়া। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *