মন্তব্যের উত্তরে: ধর্ম, সংস্কৃতি, মননশীলতা ও ইসলাম প্রসঙ্গ

১. আলেম সম্প্রদায় ও ইসলামঃ আলেমদের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ, অতিপ্রয়োজনীয় ও প্রত্যাশিত ভূমিকা সত্বেও ইসলামে কোন ‘যাজক শ্রেণী বা সম্প্রদায়’ ব্যবস্থা নাই। যার ফলে, ইসলামে কারো ‘কপি রাইট’ জাতীয় কোন ‘একক কর্তৃত্ব’ থাকারও কথা নয়। বিশেষজ্ঞ হিসাবে দাবী না করে যে কোন শিক্ষিত ও কান্ডজ্ঞান সম্পন্ন মুসলমান ইসলাম সম্পর্কে তাঁর বুঝ-জ্ঞান নিয়ে মত-বিনিময় করতে পারেন।

২. ইসলামে মাত্রাজ্ঞানঃ গান-বাজনা ও খেলাধূলা কেন, ইবাদতের মতো বিষয়কেও মাত্রাতিরিক্ত করার সুযোগ নাই। ইবাদাত নিয়ে বাড়াবাড়ি করা তিন গ্রামবাসী সাহাবীর ঘটনা আমরা জানি। ইবাদতসহ কোনক্ষেত্রেই অতিরিক্ত না করা, বাড়াবাড়ি না করাই সুন্নাত। আল্লাহ তায়ালা ফরজ জুমা’র নামাজ শেষ করার পর মসজিদ হতে বের হয়ে দুনিয়াবী কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই না?

ইসলামে কোন বিষয়েই বাড়াবাড়ির সুযোগ না থাকায় শুধুমাত্র সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মননশীলতার মতো বিষয়গুলোকেই কেন একতরফাভাবে সমালোচনার আড়ালে গিলোটিন করা চেষ্টা করা হচ্ছে?

৩. হারাম কোন্ বিষয়গুলো? আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ী সুস্পষ্ট [আল হারামু বাইয়িনুন…]। দেড় হাজার পরেও স্বীকৃত মানের স্কলারদের মধ্যে যে সব বিষয় হারাম হওয়ার ব্যাপারে মতবিরোধ রয়ে গেছে, তা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করাই ভাল।

৪. হুবহু ইসলামঃ “আমাদের দায়িত্ব হলো ইসলামকে হুবহু প্রচার করা। যিনি গ্রহন করবেন তিনি সৌভাগ্যবান। …” – এই ধরনের কথাবার্তা আপাতঃদৃষ্টিতে খুব যুক্তিসংগত মনে হলেও ক্ষেত্রবিশেষে এর এমন প্রয়োগ দেখা যায় যা ইসলামের মর্মবাণীর বিপরীত। এই ‘হুবহু ইসলাম’ কথাটাকে যদি ‘ইসলামী শরীয়াহ’র বাস্তবায়নে ক্রমধারার অপরিহার্য্যতার’ আলোকে বিবেচনা করা না হয় তাহলে মুসলমান দাওয়াহ ও ইসলাহের সকল কাজ ইতিবাচক ও গঠনমূলক না হয়ে নেতিবাচকতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতার রোগে আক্রান্ত হওয়ার সমূহ সম্ভাবণা।

ইসলামের মতো আদর্শের পক্ষে একজন সমাজকর্মী হিসাবে কোন অবস্থাতেই আমি নিজেকে রি-এক্টিভ হিসাবে দেখার কথা ভাবি না। সর্বদাই চাই প্রো-এক্টিভ থাকতে।

৫. হারাম ও কুফরঃ হারাম ও কুফরের মতো মারণাস্ত্র নিয়ে যারা সবসময়ে ফায়ারিং -এ অভ্যস্ত, আমি তাঁদের ভয় পাই, এড়িয়ে চলি। হারাম ও কুফরের সীমাকে যতটা সম্ভব সংকুচিত রাখার পক্ষপাতী। কারন, ওই যে উপরের ৩ নং পয়েন্টে বলেছি, রাসূলূল্লাহ (স.) এর সেই হাদিস ‘‘… আল হালালু বাইয়িনুন, ওয়াল হারামু বাইয়িনুন ….”।

৬. তরুণদের ইসলাম-জ্ঞানের ঘাটতিঃ একজন সম্মানিত মন্তব্যকারী বলেছেন যে, আমাদের তরুণরা ইসলাম সম্পর্কে কম জানেন। তাই, তাঁর ভাষায়, তাঁরা বিনোদন নিয়ে বাড়াবাড়ি করেন। এটি ঠিক যে, বয়স্কদের জ্ঞান পরিমাণগত দিক থেকে অপেক্ষাকৃত বেশী। তরুণদের জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ ও আন্ডারস্ট্যান্ডিং অনেক বেশী। তাঁদের মধ্যে দ্বীন ও আদর্শের ব্যাপারে যে ধরনের কমিটমেন্ট দেখা যায় তা বয়স্কদের মধ্যে বিরল।

তরুণদের যে আল্ট্রা-সেনসিটিভিটিকে মোকাবিলা করতে হয় তা বয়স্কদের থাকেনা। এতদ বিবেচনায় বার্ধক্যের নিরাপদ অবস্থানে থেকে একধরনের ‘আপোষহীন’ ও আধ্যাত্মবাদী ধর্মচর্চা করা সহজ।

৭. ইসলামকে ধর্ম মনে করার ভ্রান্তিঃ ধর্মীয় আবেদনের মাধ্যমে মননশীলতার মতো ‘বে-দ্বীনি’ প্রবণতাকে যথাসম্ভব নিয়ন্ত্রণের দৃশ্যমান প্রবণতার মূলে রয়েছে ইসলাম-কে ধর্ম মনে করার মতো ঐতিহাসিক বিভ্রান্তি।

ইসলাম কে ধর্ম না বলে দ্বীন বলাটাই যুক্তি সংগত। দ্বীন শব্দটির বাংলাকরণের অনাবশ্যক পন্ডিতি করতে গিয়ে ধর্ম শব্দটির বুৎপত্তিগত অর্থ নিয়ে টানাটানি করার কী দরকার? ধর্ম বলতে সাদামাটাভাবে যা বোঝানো হয়, ইংরেজীতে রিলিজিয়ন শব্দটি এর সমার্থক।

ইসলামকে ধর্ম বা রিলিজিয়ন হিসাবে দাবী করার ফলশ্রুতিতে ধর্মের সকল ‘বেড ট্রেক রেকর্ড’কে অনর্থক কাঁধে চাপিয়ে নেয়ার কোন মানে হয় না। ইসলাম এমন ধর্ম যার মধ্যে রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি ইত্যাদি সব আছে – এ ধরনের কষ্টকর দাবী করার চেয়ে ‘ইসলাম একটা পূর্ণাঙ্গ আদর্শ যার মধ্যে ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতিসহ মানব সমাজের জন্য প্রয়োজনীয় সব দিকের সমাহার বিদ্যমান’ – এমন দাবী করাট অনেক বেশী বাস্তব যুক্তি সম্মত মনে করি।

৮. সাহিত্য-সংস্কৃতিকে শির্কমুক্তকরণ প্রকল্পঃ সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মননশীলতা চর্চার ক্ষেত্রে ‘শির্ক হান্টার ওয়াচ-ম্যান’ দেরকে আমি এড়িয়ে চলি। সর্বদা ‘জিহাদী আমেজে’ থাকা এসব ‘আমলদার’ শ্রদ্ধেয়গণ প্রায়শঃ কোন যুক্তি শুনতে নারাজ। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মননশীলতার বিষয়গুলোকে যারা বুঝতে অপারগ, প্রায়শঃ ই দেখা যায়, ধর্মবাদীতার বর্মের আড়ালে থেকে ‍উনারা উপন্যাসকে প্রবন্ধের ফরমেটে, কবিতাকে রাজনৈতিক দলের বিবৃতির ফরমেটে, সংগীতের কথামালাকে বক্তৃতার মঞ্চের বক্তব্যের ফরমেটে বিবেচনা করেন।

সাহিত্য-সংস্কৃতিকে শির্ক মুক্তকরণের এই ‘মহান’ কাজে উনারা শব্দ আর উপমার পার্থক্যকে গুলিয়ে ফেলেন। ভাবেন না যে, বুৎপত্তিগত অর্থ হতে বিচ্ছিন্ন করে প্রচলিত অর্থে কোন শব্দ বা পদ ব্যবহার করা যায়। কোন কথার বাহ্যিক অর্থকে পাশকাটিয়ে কোন দূরবর্তী ও ভিন্নতর অর্থে কোন শব্দ বা বাক্যকে ব্যবহার করা সম্ভব – এটি এসব ‘রিলিজিয়নিস্ট-পিউরিটানিস্টগণ’ কখনো বুঝতে চান না।

৯. কেন আমি ‘এসব কথা পাবলিকলি বলিঃ একজন পাঠক বলেছেন, এসব বিশেষ ধরনের কথাবার্তা আমার পরিচিত মহলে নিতান্তই অনাকাঙ্খিত হিসাবে বিবেচিত হয়। সেজন্য অনেকেই আমার লেখায় কোন মন্তব্য প্রদানে বিরত থাকেন। উনার কথা হলো, অডিয়েন্সকে বিবেচনায় নিয়েই আমার কথা বলা উচিত।

হ্যাঁ ভাই, যে কোন বক্তাকে তাঁর সম্ভাব্য শ্রোতৃমন্ডলীকে সামনে রেখেই কথা বলতে হয়। ‘‘একবিংশ শতাব্দীতে ইসলামী আন্দোলনের কাজের ধরনঃ প্রেক্ষিত আজকের বাংলাদেশ” শীর্ষক সাম্প্রতিক ফেসবুক নোটে ব্যাখা করে বলেছি, কেন আমি আমলের দিক থেকে ৩০% হিসাবে তথা ‘গ’ গ্রুপ হিসাবে চিহ্নিত সাধারণ মুসলমানদেরকে আমার সব অনলাইন কথাবার্তার মূল টার্গেট অডিয়েন্স মনে করছি। তাই, আমাকে নিয়ে ‘আমাদের’ লোকজনের সম্ভাব্য হতাশাবোধের জন্য দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আমার কিছু করার নাই।

১০. অভিজ্ঞতার ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ হতে তাত্ত্বিক আলোচনার বৈধতাঃ আমার যত কথা, তার পুরোটাই আমার অভিজ্ঞতা প্রসূত। রাসূল ও নবীগণ ছাড়া এটি যে কারো জন্যেই প্রযোজ্য। তাই না? এক্ষেত্রে কার কথা ঠিক – তা নির্ধারণ করার একমাত্র মাপকাঠি হচ্ছে যুক্তি। আমরা যখন অভিজ্ঞতার সূত্রে কোনকিছু বলি, তখন তা কোন না কোন যুক্তির আকারেই পেশ করি। এমনকি, কোনকিছু কোরআনে বা হাদীসে থাকাটাও একটা যুক্তি। যুক্তি ছাড়া কোরআন ও হাদীসের পূর্বাপর ও ক্ষেত্রবিশেষে আপাতঃ বিরোধপূর্ণ বিষয়াদির মীমাংসাও সম্ভব নয়।

আমি যুক্তির পক্ষে অকপট। আর্গুমেন্ট ভার্সাস ফ্যাক্ট তথা রিজন ভার্সাস রেভিলেশান – টাইপের আলোচনা নিতান্তই শ্রেণী বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছু নয়। কারন, কোন তথ্য বা ফ্যাক্ট স্বয়ং একটা যুক্তি। এই দৃষ্টিতে প্রত্যাদেশ বা ওহীর নির্দেশ ও নির্দেশণাবলীও হলো একপ্রকারের যুক্তি বিশেষ যদিও একজন তা সর্বোচ্চ পর্যায়ের।

যেখানে যুক্তি চলবেনা সেখানে যুক্তি দিয়েই দেখাতে হবে কেন সেখানে (এ ধরনের) যুক্তি চলবে না। তাই, দিন শেষে  আপনি আমি বা কেউ কি যুক্তির বাহিরে যেতে পারলো?

১১. ইসলাম কি সর্বোচ্চ আদর্শবাদ হিসাবে থাকবে না সমকালীন সমাজে বাস্তবায়ন যোগ্য হিসাবে বিবেচিত হবে? বাক স্বাধীনতা, মুক্ত বুদ্ধি ও মননশীলতা ছাড়া কোন আদর্শ হতে পারে না। ইউটোপিয়া তথা দার্শনিক রাজার ধারনার মতো কল্প-আদর্শ হিসাবে নয়, ইসলামকে একটা টেকসই বা চলনসই মতাদর্শ হিসাবে গ্রহন করতে হবে। যার নসীবে হিদায়াত আছে, যিনি সত্য সন্ধানী তিনি আবু যর গিফারী (রা.) –এর মতো ‘দ্বীন’-এর সন্ধানে অপরিচিত এলাকায় ছুটে আসবেনই – এমনটা ভেবে বসে থাকলে চলবে না।

১২. অলওয়েজ বকওয়াজগিরিঃ সেদিন বাজেট বক্তৃতার সময় হঠাৎ করে মনে হলো, ক্রমাগত একতরফা সাফল্য দাবীর এই প্রবণতাতো প্রচলিত ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে হরহামেশাই দেখা যায়। কতজনের মধ্যে আপনাদের কতজন, অন্যরা কত সংখ্যক কাজ বের করেছে আর আপনারা কত – তার কোন হদীস নাই। এ কথার প্রসংগ হলো, ইসলামিস্টদের কালচারাল এক্টিভিটিজ নিয়ে।

তাঁরা প্রায়শঃই বলেন, আমরা এতটা এলবাম বের করেছি, এতটা প্রোগ্রাম করেছি। বছরে প্রায় ১০০ এলবাম বের হচ্ছে। গণমানুষের কথা বাদ দিলেও ইসলামিস্টদের বিশেষ রূচিবোধেও সেগুলো তেমন রোচে না, দেখছি।

১৩. ইসলামে সবকিছুই কোয়ান্টিট্যাটিভঃ বিশেষ করে প্রশ্ন উত্থাপনকারী ও দ্বিমত পোষণকারীদের সংখ্যাধিক্যতার কথা বলে ঘায়েল করতে চাওয়ার একটা উৎকট প্রবণতা ইদানীং খুব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বলা হয়, এত ভুল হলে আপনি একটা সঠিক করে দেখান তো দেখি। সংখ্যাগত সফলতা কোন আদর্শ ও যুক্তির সঠিকত্বের মাপকাঠি বা প্রমান হতে পারেনা। ইসলাম সংখ্যার বিষয় নয়, গুণের বিষয়। তাই, ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের কোন বিষয়ে যেখানে কোয়ান্টিট্যাটিভ এপ্রোচের কথা বলা হয় সেখানে আমি নাই।

১৪. প্রাইভেসি বনাম সিক্রেসিঃ ‘‘ধর্ম, সংস্কৃতি, মননশীলতা ও ইসলাম’’ – শীর্ষক অব্যবহিত পূর্ববর্তী নোটের শেষের দিকে উক্ত বোদ্ধা পাঠক যথার্থই বলেছেন যে, আমি ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের বিষয়ে প্রচলিত রাখ-ঢাক বা গোপনীয়তা নীতির ঘোর বিরোধী। প্রচলিত বৃহত্তর ইসলামী আন্দোলনের (কম্যুনিস্টিক) ক্যাডার সিস্টেম উদ্ভূত সপ্ত আসমানের পারষ্পরিক রহস্যের মতো কঠোর গোপনীয়তার নীতিকে আমি স্পষ্টতঃ ই ভুল মনে করি।

সিক্রেসীর পক্ষে তিনি প্রাইভেসীর প্রসঙ্গ তুলে আমার এই ‘খোলা নীতি’র বিরোধীতা করতে গিয়ে তিনি প্রাইভেসী ও সিক্রেসীর মধ্যে গুলিয়ে ফেলেছেন। প্রাইভেসী হলো একধরনের সিক্রেসী। প্রাইভেসী থাকতেই হবে। তাই বলে, সর্বাত্মকবাদী আদর্শ যেমন কম্যুনিজম-এ যে ধরনের সাংগঠনিক সিক্রেসী মেনটেন করা হয় তার সাথে ইসলামের সম্পর্ক দূরবর্তী।

১৫. ‘বিধিবদ্ধ ফোরামে’ ডিসকাশশনের সুযোগঃ উক্ত শ্রদ্ধেয় পাঠক আমার ভাবনাগুলোকে নিয়ে সিরিয়াস ডিসকাশশনের কথা বলেছেন। সেটির সুযোগ কই? আমি যখন প্রচলিত ইসলামী আন্দোলনের ছাত্র-কর্মী ছিলাম, তখন দেখেছি আমাদের দায়িত্বশীলেরা ঘন্টার পর ঘন্টা কথা শুনেছেন, আলোচনা করেছেন। এখন গত দু দশক হতে বৃহত্তর ইসলামী আন্দোলনে দেখছি, কোন অনাকাংখিত মন্তব্যতো দূরের কথা, কোন প্রশ্ন শুনতেও কেউ আগ্রহী নন। উনাদের টাইম নাই। পরিস্থিতি নিয়ে কোন সাংগঠনিক ব্রিফিং নাই। আছে খালি আনুগত্যের দরস।

নেতৃত্ব ও আনুগত্যের ভারসাম্যের কথা খুব বলা হয়। অথচ পরামর্শকে শুধুমাত্র ‘ফোরামে’র সাথে সংশ্লিষ্ট করা হয় যা ইসলামের সমালোচনা নীতির খেলাফ। বেশী বেশী হওয়া উচিত ছিল পরামর্শ, নেতৃত্ব ও আনুগত্যের ভারসাম্যের দারস।

১৬. প্রশ্ন করার অধিকারঃ ইসলামে নীতি ও আদর্শের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন প্রশ্ন করার সুযোগ অবারিত। এমনকি যুদ্ধের মাঠেও যদি শত্রু পক্ষের কোন সৈনিক কোন নীতি ও আদর্শ সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন করে তাহলে তাঁকে নিরাপত্তা দিয়ে, প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তাঁর সীমানায় পৌঁছিয়ে দিতে হবে।

খুতবাতে কথা বলা নিষেধ সত্বেও আমরা হযরত উমার (রা.) কে প্রশ্নের জবাব দিতে দেখেছি। আর এখনকার অতি ব্যস্ত ইসলামী দায়িত্বশীলদের সাধারণরাতো দূরের কথা, তাঁদের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরাও প্রশ্ন করা সুযোগ পান না। যদিওবা কোন প্রশ্ন-উত্তরের সুযোগ হয় সেখানে শুধুমাত্র ‘বাছাইকৃত’ প্রশ্নেরই একতরফা ‘জওয়াব’ দেয় যার শেষ কথা হলো সংগঠন ও দায়িত্বশীলরা সর্বদাই সঠিক(?)।

১৭. কেন এই লেখাঃধর্ম, সংস্কৃতি, মননশীলতা ও ইসলাম” শীর্ষক অব্যবহিত পূর্ববর্তী নোটে জনাব শেখ মোজাম্মেল আল-হক এর কয়েকটি মন্তব্যের উত্তরে এই লেখা।

@Shaikh Muzammel Al-hoque আপনার কথাগুলোর বিস্তারিত জবাব দেয়ার মতো সময়-সুযোগ না থাকায় অতি সংক্ষেপে কিছু বলেছি। এতে আপনার কথার জবাব হোক বা না হোক, সমঝদার পাঠকবৃন্দ বুঝবেন, আমি কী বলতে চেয়েছি। ধন্যবাদ।

ফেসবুকে প্রথম প্রকাশিত

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে পড়াই। চাটগাইয়া। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *