ধর্ম আর মতাদর্শের অন্তর্গত সম্পর্ক

আমরা জানি, ধর্ম হলো ritual এবং transcendence-এর সমষ্টি। রিচ্যুয়াল বলতে আমরা বুঝি মানুষের কিছু সুনির্দিষ্ট আচার-আচরণ যা অলঙ্ঘনীয় হিসেবে মানা হয়। যেগুলোকে দেখা হয় বিশেষ শ্রদ্ধা ও ভক্তির দৃষ্টিতে। আত্মসত্তাকে ছাড়িয়ে গিয়ে তার চাইতে উন্নততর সত্তা বা অধিকতর সত্যের সাথে মানুষের সংযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টা হলো ট্রানসেন্ডেন্স বা অতিবর্তিতা।

আপনি যদি ধর্মকে রিচ্যুয়াল এবং ট্রানসেন্ডেন্সের চর্চা হিসেবে বিবেচনা করে উপরে দেয়া সংজ্ঞাটির সাথে একমত হোন তাহলে আপনার জন্য অবাক করার মতো ব্যাপার হলো, এক অর্থে মানুষের সব জীবনাদর্শ আসলে ধর্মীয় চরিত্রের। এ কারণে সেক্যুলার ও নিরীশ্বরবাদীদের মধ্যেও জাতীয় দিবস ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে ধর্মসুলভ আচার-আচরণ অনুসরণের রীতি লক্ষ করা যায়। প্রত্যেক ব্যক্তির মাঝেই রয়েছে অসীমকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। ট্রানসেন্ডেন্স বলতে আমি এই প্রবণতাকেই বুঝাচ্ছি।

যখন একজন নাস্তিক বা অজ্ঞেয়বাদী বিশাল আকাশ, বিরাট সমুদ্র কিংবা তেমন কোনো নৈসর্গিক পরাবাস্তব বিপুলতার মুখোমুখি হয় তখন সে নিজের মনোজগতে একধরনের ব্যাখ্যাতীত অনির্বচনীয় অভিজ্ঞতা লাভ করে। আপনি যদি আরো গভীরে গিয়ে ট্রানসেন্ডেন্সের এই ব্যাপারটাকে বুঝার চেষ্টা করেন তবে শেষ পর্যন্ত এমন ‘একটা কিছুকে’ পাবেন যা ভাষা দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। এই ‘কেমন যেন’ ধরনের অনুভবকে আপনার চেনা জানা নৈমিত্তিক কোনো কিছুর সাথে পুরো মেলাতে পারবেন না।

এটি হলো আবেগ। এর চেয়ে অধিকতর মৌলিক হলো চেতনা আর অস্তিত্ববোধ। এই অস্তিত্ববোধের জায়গাটা আবেগ নামক এক ভাষাতীত তরলের উপর ভাসমান। এই অর্থে আবেগই হলো আমাদের চেতনা আর অস্তিত্বের প্রথম বহিঃপ্রকাশ বা এক নম্বর ফাউন্ডেশন। এর উপরে আমাদের অপরাপর সবকিছু।

আবেগ হচ্ছে সেই সিদ্ধান্তকারী বিষয় বা ট্রিগারিং ফ্যাক্টর যা কিনা আমাদেরকে ভেতর থেকে ধাক্কা দেয়। জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার অবিরত প্রেরণা জোগায় আবেগ। জীবন চলার এই আবেগের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো আমাদের বেঁচে থাকার অদম্য প্রেরণা বা ‘সারভাইভ্যাল ইন্সটিংক্ট’। যে কোনো পরিস্থিতিতে আমরা বেঁচে থাকতে চাই। সুখী জীবনযাপন করতে চাই। মৃত্যুর পরও অমর হয়ে থাকার যে ইচ্ছা আমাদের প্রত্যেকের অন্তরে আছে সেটা আমাদের আদি, অকৃত্রিম ও মৌলিক সহজাত প্রেরণা ছাড়া আর কিছু নয়।

অমর হবার এই যে স্বতঃস্ফূর্ত অনুভূতি বা সহজাত প্রবৃত্তি তা আমাদের অন্তর্গত মানবিক আবেগ থেকে উদ্ভূত। হ্যাঁ, প্রত্যেকেই অমর হতে চায়। ধর্মানুসারীদের অমরত্ব ধারণাকে আমরা সহজেই বুঝতে পারলেও ‘যুক্তিবাদের’ পতাকাধারী ধর্মহীন বা ধর্মনিরপেক্ষ লোকদের সম্পর্কে মনে হতে পারে, তারা বুঝি অমরত্ব নিয়ে মাথা ঘামায় না। সত্যিই কি তাই? যদি অমরত্ব বা চিরন্তনতা বলে তাদের অভিজ্ঞানে কিছু না-ই থাকতো তাহলে তারা নীতি, নৈতিকতা, আদর্শ ও মূল্যবোধ নিয়ে এতো গলদঘর্ম হয় কেন? মানবতা নিয়ে তারা এতোটা ভাবিত হয় কেন? কেন তারা মানবতাকে নিজেদের ‘ধর্ম’ হিসেবে দাবী করে?

ব্যক্তি মানুষ হিসাবে আমরা স্বল্পায়ু হলেও যখন আমরা মানবতার কথা বলি তখন আসলে মানুষের কোনো না কোনো ধরনের স্থায়িত্ব ও চিরন্তনতার কথাই বলি। চিরন্তনতা, স্থায়ীত্ব আর অমরত্ব, এগুলো একই কথা। সিনোনিম। সর্বজনীনতার ধারণা, তা যে বিষয় নিয়েই হোক না কেন, প্রকৃতপক্ষে তা মানুষের অমরত্ব চিন্তার অনিবার্য পরিণতি। নীতি, নৈতিকতা ও মানবতার মতো বিষয়গুলো একধরনের বুদ্ধিগত ও কালোত্তীর্ণ চলমানতার ব্যাপার। তাই, শারীরিক মৃত্যু ঘটার পরেও কীর্তি বা অবদানের মাধ্যমে পৃথিবীতে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার প্রবণতা সব মানুষের মধ্যে থাকে। কাজের মাধ্যমে শারীরিক মৃত্যুর পরও নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার প্রচেষ্টায় কে কতটুকু সফল বা ব্যর্থ, সেটা ভিন্ন বিষয়।

আমাকে ভুল বুঝবেন না, প্লিজ! আমি এটা দাবি করছি না যে সকল জীবনাদর্শই আসলে এক একটা ধর্ম। উপরের আলোচনায় আমি এটাই দেখাতে চেয়েছি যে প্রতিটি জীবনাদর্শের মূলে এক ধরনের ধর্মচেতনা কাজ করে।

ধর্মীয় মতাদর্শ প্রস্তাবনা মাত্রই কোমল মানবীয় আবেগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। অভিজ্ঞতার কাঁচামালকে জ্ঞান তৈরী করার কাজে যাচাই-বাছাই ও শ্রেণিবিন্যাস করার ক্ষেত্রে আবেগই আমাদেরকে বিশেষ কোনো মানদণ্ডকে গ্রহণ করার জন্য প্ররোচিত করে। মানুষের জ্ঞান লাভের এটি অভিন্ন পদ্ধতি। এ কারণে দেখবেন একই পৃথিবীতে বসবাস করেও, প্রায় একই ধরনের অভিজ্ঞতা লাভ করার পরেও এক একজন মানুষের জ্ঞান এক একরকম হয়ে থাকে।

প্রশ্ন হতে পারে, আমরা সবাই কেন একই ধরনের মানদণ্ড ব্যবহার করে জ্ঞান তৈরী করি না? কারণ, কোনো বিষয়ে আমরা সবাই সমপরিমানে নিজেদেরকে ইনভলভ করি না। একই গভীরতায় আমরা সবাই যাই না। ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে অনেকেই তুষ্ট থাকে। ততটা সিরিয়াসলি ও লজিকেলি সবাই কোনো ইস্যুতে এনগেইজ হন না। অথবা, জীবন ও জগতের মৌলিক প্রশ্নগুলোতে ততটা সিরিয়াসলি এনগেইজড হতে অনেকেই ভয় পায়।

কোন কিছুর শুরুতেই আমরা নিজেদের জন্য সুবিধাজনক যুক্তিগুলোকে বেছে বেছে গ্রহণ করি। আমাদের নিজস্ব জীবনদর্শন প্রায়শঃই খণ্ডিত বা একপাক্ষিক যুক্তির নিরিখে আমাদের শেখায়, অমুক অমুক জিনিস ভালো এবং অমুক অমুক জিনিস খারাপ। এভাবে ভালো-খারাপের স্বকীয় মানদণ্ড মানব সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

স্বভাবত:ই, একই জীবনদর্শনে বিশ্বাসী ব্যক্তিগণ সমমনাদের নিয়ে দল বা গোষ্ঠী গড়ে তুলে। জীবন ও জগতের মৌলিক বিষয়াদি নিয়ে ব্যক্তিবিশেষের যে যুক্তিধারা তাকে আমরা বিবেক বলি। চেতনার স্তরের মতো বিবেকেরও রয়েছে স্তরবিন্যাস। আবেগগত রূচি ও এর মাত্রাভেদ আমাদের জীবনদর্শনে ভিন্নতা তৈরী করে। এ কারণেই আমরা ভিন্ন ভিন্ন তত্ত্বানুসারী হিসাবে বিভক্ত হয়ে পড়ি, গ্রহণ করি নিজেদের প্যারাডাইম অব থটকে। আর ভাবতে থাকি, আমি তো মুক্ত চিন্তার অনুসারী। শেষ পর্যন্ত যে কে মুক্ত তা আমার ধারণায় ইহজীবনে নিষ্পন্ন করা অসম্ভব।

Religion is all about rituals and transcendence. By rituals we mean some fixed patterns of behavior that people know with great solemnity and sacrosanct. By transcendence we would like to mean the human tendency to go beyond and to connect with that superior entity.

If you agree with the above illustration of religion as practice of rituals and transcendence, you will be surprised to see that the life-ideologies are actually religions in their true inner sense. That’s why you see practice of rituals in even secular-atheistic life-styles. Sense of transcendence is common of each person.

When an atheist or an agnostic faces the vastness of the sea, of the sky, of the wilderness or of the cosmos, he or she instantly face something peculiar and extraordinary. He or she feels something unfamiliar but significantly special.

If you inquire into any possible source of that feel of transcendence, you will get ‘something’ that you can’t locate in or compare with. You can call that ‘something’ as emotion, which nobody can refer any further. It is very simple and indivisible. So, emotion is fundamental.

It is the triggering factor that gives us constant push from within. The biggest thrust of emotion is what we call the survival instinct. We want to live longer and lead a better life. Our desire of continuity, which we know as our aspiration for immortality is intrinsic.

This sort of inherent desire for immortality is the outcome of humanly emotions. Every one aspires for immortality. We can easily identify the religious people’s sense of immortality.

It seems that ‘rational’ ones, meaning the non-religious or irreligious peoples, don’t bother for immortality. Really? If so, then why do they bother for ethics? Why do they bother for humanity? Why do they identify themselves with something like ‘religion of humanity’?

If we take universality in the sense of going beyond our mere personal interests, anything of ethics and humanity is a kind of continuity. It’s a sense of continuity even after physical death through each one’s personal deeds.

Don’t misunderstand me, please. I am not intended to say that all life-ideologies are actually religions. What we are convinced about in the previous discussion is that all the life-ideologies have intrinsic religious aspects in their respective cores.

As a matter of fact, religious ideas or proposals are based on humanly emotions. Emotion leads us to take a balance or a criterion to weigh, justify and categorize our experiences. Knowledge is gained in this very process. Due to the difference of measuring criteria, living in the same world, getting almost the same kind of experiences, our knowledge is sometimes quite different. Why we do not use the same balance? Because, we do not engage with issues in the same extent.

At the very beginning of the process, we actually pick our convenient line of argument. Our specific life-view presents us some criteria or balance as ‘good’ or ‘right’. Each one has his or her convenient criteria or balance. Persons with the same life-view, form the like-minded groups and give rise to the corresponding preferred ideology. Conscience is nothing but a person’s line of argumentation on basic issues of life. Conscience has different levels as of our consciousness.

Its emotion that makes the difference in our life-views that leads us to different fundamental theories. By life-ideologies’ I’ve meant the fundamental theories of life. Paradigm is also a suitable term for this.