ইসলামী আন্দোলন হিসেবে ইসলামকে বুঝার জন্য যা গুরুত্বপূর্ণ

ইসলামী আন্দোলন হিসেবে ইসলামকে বুঝার জন্য যা গুরুত্বপূর্ণ

চবি কলা ভবনের ১০২ নম্বর রুমের ভিতরে একটা ছোট হোয়াইট বোর্ডে চার্ট আকারে এই লেখাটা বহু বছর ধরে ঝুলছে। না মুছতে মুছতে কাউকে বুঝানোর জন্য হোয়াইট বোর্ড মার্কার দিয়ে লেখা এই লেখাগুলো এমন শক্ত করে বোর্ডের সাথে লেগে গেছে যে, সাধারণ ডাস্টার দিয়ে এটি মোছা যাচ্ছে না।

রুমে গেলে মাঝে মাঝে দেখি। আজও দেখলাম। কাঁচা হাতের লেখা। দেখলে ভালো লাগে। ভাবলাম, পাঠকদের জন্যও এই ওয়ার্ক-প্ল্যান বা চার্টটা এভেইলেবল করি। আমি তো অনেক বড় বড় লেখা দেই। তাই বিস্তারিতভাবে কোনো কিছু না লেখেই এই লেখাছবিটা পোস্ট করলাম।

ফেসবুকে প্রদত্ত মন্তব্যপ্রতিমন্তব্য

Masuk Pathan: তাওহিদে বাইনারি দ্বারা তো স্যার তাওহিদ ও কুফরের প্রান্তিক বিপরীত অবস্থানের কথা বুঝানো হয়েছে। তাই না?

সমাজ সাজানোর ক্ষেত্রে তাওহিদের পিলার হতে দূরে অবস্থানকারি চেনতাধারিরাও থাকবে। সকলকে নিয়ে রংধনু বিচিত্রতার সমাজ। শান্তি যেখানে মুখ্য। বাইনারির চমশাটাই একমাত্র নয় কেননা সুসংবাদ, সতর্ক, ভয়ের খবর দিয়ে জীবন গোঁছানোর পয়গামই রাসুলগণ দিতেন, আর মনের পরিবর্তন কেবল আল্লাহরই নিয়ন্ত্রণে। আমি শেষ পয়েন্টটা এমনই বুঝেছি স্যার। ধারা কি ঠিক আছে, স্যার?

Mohammad Mozammel Hoque: একমত।

Masuk Pathan: ধন্যবাদ, স্যার

Mohammad Mozammel Hoque: ইসলাম মাত্র একটা ব্যাপারেই ভীষণ অসহিষ্ণু, আনকম্প্রোমাইজিং। কনসেপ্ট অব তাওহীদ। তাওহীদ প্রশ্নে ইসলাম সোজা বাইনারি। ইসলাম যেভাবে তাওহীদকে ইন্টারপ্রিট করে ঠিক সেভাবেই যদি তা গ্রহণ করা হয় তবেই তা গ্রহণযোগ্য। এ ছাড়া বাদবাকী সব ফেইল, বাতিল।

ইসলামে আক্বীদাগত এই সুপারসেনসিটিভিটির প্রভাব পড়েছে মৌলিক ইবাদতের বিষয়গুলোতে। এ ছাড়া সব মুয়ামালাতগত বিষয়ে ইসলাম কখনো একটিমাত্র অপশন বা ওয়ান-টু-ওয়ান এপ্রোচে আসে না। প্রতিটা সামষ্টিক বিষয়ে ইসলাম নানা বিকল্প ও বৈচিত্র্যকে অনুমোদন করে, উৎসাহিত করে।

এ জন্য ইসলামী সমাজ অন্তর্গতভাবে প্লুরালিস্টিক। অমুসলিমদের সাথে সমনাগরিক অধিকার ভোগ করার বিষয়টি এই সোশ্যাল প্লুরালিটির তাৎপর্যপূর্ণ উদাহরণ।

Masuk Pathan: কৃতজ্ঞতা, স্যার।

Farid A Reza: চমৎকার! সংগ্রহে রাখলাম। চারটি পয়েন্টের কোনটাই উপেক্ষা করা যায় না। সমস্যা হলো, আমরা গভীর বিষয় তলিয়ে দেখতে আগ্রহী নই। কিছু বিষয় আমাদের মাথায় গেঁথে আছে, এর বাইরে চিন্তা করার ধারণাই আমাদের মাথায় নেই। মানসিকভাবে কেউ অন্ধ এবং বধির হলে তাকে পথ দেখানো যায় না।

Abdus Salam Azadi: সুন্দর! চোখ মেলে, তবে সব সময় খোলে না। এখন খুললো। অনেক ধন্যবাদ ভাইজান

পোস্টটির ফেসবুক লিংক

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে পড়াই। চাটগাইয়া। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *