ইসলামী আন্দোলন, জন-জবাবদিহিতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার

ভার্চুয়াল টাইম: প্রযুক্তি ব্যবহার করে দৈনিক তিরিশ ঘণ্টা কাজ করা যায়। ভার্চুয়াল টাইম ব্যবহার করে এটি করা সম্ভব। আজকের করণীয় বিষয়গুলো এবং সেসবের জন্য সর্বোচ্চ বরাদ্দ সময়ের হিসাব করলে যদি আপনার কর্মঘণ্টা চব্বিশের ঘর পেরিয়ে যায় তখন কাজগুলোকে এভাবে গুছিয়ে নিন যাতে কোনো কোনো কাজকে অপর কোনো কোনো কাজের ফাঁকে ফাঁকে করে নেয়া যায়। তখন দেখবেন, এক কর্মদিবসে আপনি যেসব কাজ করেছেন তা আলাদা আলাদা করে সম্পন্ন করলে চব্বিশ ঘণ্টার বেশি লাগতো। টাইম ম্যানেজমেন্টের অন্যতম সাধারণ ও অতি কার্য্কর টিপস হচ্ছে ‘পুটিং দ্য বিগ রকস ফার্স্ট’।

পুটিং দ্য বিগ রকস ফার্স্ট: মনে করুন, একটি ছোট পাত্রে আপনাকে ছোট-বড় অনেকগুলো পাথর একসাথে রেখে এর মুখ বন্ধ করতে হবে। যদি আপনি বড় পাথরগুলোকে পাত্রের মধ্যে আগে রাখেন তাহলেই কেবল সব ছোট পাথরকেও এই ক্ষুদ্র পাত্রের মধ্যে রাখতে পারবেন। তা না করে প্রথমে ছোট পাথরগুলোকে পাত্রের তলায় একসাথে জমিয়ে রাখলে কোনো একটা বড় পাথর রাখার মতো পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা আপনার পাত্রে নাও থাকতে পারে। প্রাচীনকাল হতে অবসর সময়কে কাজে লাগানোর কথা বলা হয়। এই লেখার প্রতিপাদ্য হচ্ছে, কাজের সময়কে কর্মরত অবস্থাতেই ‘অবসরে’ পরিণত করে বা অবসর হিসাবে গণ্য করে চলমান কর্মকে ব্যাহত না করেই (অন্য) কাজে লাগানো।

একটা যুৎসই স্মার্টফোন: এ কাজে প্রযুক্তিই হচ্ছে সমাধান। আপনার হাতে যদি একটা যুৎসই স্মার্টফোন থাকে তাহলে দেখবেন, কেল্লা ফতে! প্রেসিডেন্ট ওবামা প্রথম দফায় হোয়াইট হাউসের বাসিন্দা হবার সময় ব্লাকবেরি ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনটি সাথে নিতে না পারার জন্য আফসোস করেছিলেন! এই ফোনটির মাধ্যমেই তিনি অবিশ্বাস্য সংখ্যায় সাধারণ মানুষের সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করতেন। এর মাধ্যমেই তিনি অজস্র মেইল পড়তেন এবং যথাসম্ভব ব্যক্তিগতভাবে জবাব দিতেন। যতজনের সাথে আপনি ফোনে কথা বলেন, ততজনকে যদি উপযুক্ত পোশাক পরে, উপযুক্ত পরিবেশে সাক্ষাৎ দিতেন, তাহলে ভাবুন তো আপনার কত সময়ের প্রয়োজন হতো! যোগাযোগের জন্য মৌখিক কথা একটি মাত্র মাধ্যম, যার আছে অনেক সীমাবদ্ধতা। ইমেইল, চ্যাটিং, স্ট্যাটাস, নোট ইত্যাদি অত্যাধুনিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফোনালাপের সীমাবদ্ধতাকে কাটানোর রয়েছে চমৎকার সুবিধা, যা তরুণ প্রজন্ম ইতোমধ্যেই পূর্ণমাত্রায় ‘আমল’ করছে।

ঊর্ধ্বতনদের প্রযুক্তিবিমুখতা: এই লেখায় আমি একটি কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই। যারা ইসলামের কথা বলে, ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্বশীল হিসাবে প্রোগ্রামাদিতে হেদায়েতি বক্তব্য দেন, ব্যতিক্রম বাদে, তাদেরকে দেখেছি প্রযুক্তিবিমুখ হতে। আমার মতো মধ্যবয়সীদের প্রযুক্তিপ্রবণতাকে তারা নিছক ফান ও টেকনোম্যানিয়া হিসাবে দেখে। ভাবখানা এমন, যেন ওসব তো পোলাপানদের কাজ! অথচ, ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্বশীল তো বটেই, প্রতিটি কর্মীই হচ্ছেন একেকজন আপাদমস্তক ও পূর্ণকালীন সমাজকর্মী। সামাজিক গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ ব্যবহার তাদেরই সবচেয়ে বেশি করার কথা!

সালামের উত্তর দিলেও ইমেইলের জবাবদানে অভ্যস্ত নন: সমাজের হতদরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিতদের জন্য এ ধরনের প্রযুক্তিগত সুবিধার সদ্ব্যবহার সম্ভব নয় বিধায় তাদের কথা বাদ দিয়ে আমি অপরাপর মধ্যবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণীর দায়িত্বশীলদের কথা বলবো, যাদের বৃহত্তর অংশের হয়তো কোনো ইমেইল আইডি নাই অথবা নিয়মিত চেক করেন না। যাদের ইমেইল একাউন্ট আছে, নিয়মিত/অনিয়মিত মেইল চেক করেন, তাদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ প্রায়শ মেইলের উত্তর দেন না। দেখা হওয়ার পরে জিজ্ঞাসা করলে বলেন, আপনার মেইল পেয়েছি। এ ধরনের ক্ষেত্রে আমি পাল্টা প্রশ্ন করতে ভুলি না– ‘ওকে’ লিখে সেন্ড বাটনে টিপলেই তো পারতেন, উত্তর দেননি কেন? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বলতে যা বুঝায় সেসবের মধ্যে আমি গত কয়েক বছরে কোনো ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলকে পাইনি।

ইসলামী আন্দোলনের ন্যূনতম মানের ভালো দায়িত্বশীল হওয়ার পূর্বশর্ত: যারা ব্লগ পড়েন, লিখেন, যারা ফেসবুক একাউন্ট নিয়মিত খুলেন, আইছি, গেছি, ওমা, কী জানি, মন খারাপ, মাথাব্যথা ইত্যকার লঘু মানসিকতার স্ট্যাটাস না দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্ট্যাটাস দেন বা নোট লিখেন, তাদের প্রায় সবাই হচ্ছেন প্রাক্তন কিম্বা অবসরপ্রাপ্ত কিম্বা ছাত্র দায়িত্বশীল। ইসলামী আন্দোলনের ন্যূনতম মানের ভালো দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য যেসব পূর্বশর্ত রয়েছে তারমধ্যে রয়েছে – (১) গণযোগাযোগ ও এর মাধ্যমে দাওয়াহ ও ইহতিসাবের দায়িত্ব পালন। (২) জনশক্তির মান ও বণ্টিত দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তদারকি। (৩) পাঠাভ্যাস, যার মধ্যে রয়েছে পত্রপত্রিকা থেকে শুরু করে কোরআন-হাদীস-ইসলামী সাহিত্যসহ বিরোধীদের লেখা ও সমালোচনা (৪) যথাসময়ে যথা কাজ করার অভ্যাস গড়ে তোলা, এক কথায় নিয়মানুবর্তিতা।

টেকনোফোবিয়া নাকি ফাঁকিবাজি? যারা কম্পিউটার, ল্যাপটপ, আইফোন বা কোনো ভালো স্মার্টফোন কিম্বা আইপ্যাড ব্যবহার করেন, তারা জানেন, কত সহজ ও সুচারুভাবে একটা ছোট্ট হ্যান্ডসেট উপরোক্ত বিষয়সমূহের জন্য ওয়ানস্টপ সার্ভিস দিতে সক্ষম। তাই ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলদের দৃশ্যমান টেকনোফোবিয়াকে আমি নিছক ফাঁকিবাজি হিসাবেই দেখি। এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের জন্য দুঃখিত। কাজ না করার জন্য, ‘আমি পারি না’র চেয়ে উত্তম (?) কোনো অজুহাত হতে পারে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্পৃক্ততার সাথে জন বা গণজবাদিহিতার সম্পর্ক আবশ্যিক। সম্ভবত উনারা জন-জবাবদিহিতাকে ভীষণ অপছন্দ করেন।

শাহ আবদুল হান্নানের আইকন অফ ইসলামিক পারসোনালিটি: এ বিষয়ে শ্রদ্ধেয় শাহ আবদুল হান্নান স্যারকে অধিকতর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। তিনি মাস কয়েক পূর্বে এক অনুষ্ঠানের আগে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় যা বলেছেন তা উনার সম্পর্কে যারা জানেন তাদের কাছে নতুন কিছু নয়। যারা জানেন না, তারা শুনে অবাক হবেন যে, প্রায় পঁচাত্তর বছর বয়সী জনাব শাহ আবদুল হান্নান প্রতিদিন কয়েক শত ইমেইল পান, যেগুলোর মধ্য হতে প্রায় পঞ্চাশটির মতো মেইলের তিনি জবাব দেন।

কবে নাগাদ বা কীভাবে বাংলাদেশে ইসলামের মতো যুগের অগ্রগামী মতাদর্শের পতাকাবাহী নেতৃবৃন্দ (এ ধরনের) গণমুখী হবেন– এই প্রশ্নের আদৌ কোনো প্রাসঙ্গিক বা কোনো জবাব কারো কাছে কি আছে?

এসবি ব্লগ থেকে নির্বাচিত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম: শাহ আবদুল হান্নান। তাঁর মতো অগ্রসর চিন্তাশীল লোক বাংলাদেশই নয়, বিশ্বে বিরল। তাঁর মতো লোকের আধিক্য কম বলেই ইসলামী সংগঠনগুলোর এই করুণ দশা। আর ইসলামী সংগঠনগুলোও তাঁর মতো লোকদের বিন্দুমাত্র মূল্যায়ন করে না। চরম গোড়া লোকগুলোই ইসলামী সংগঠনগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে আছে। ইসলামী সংগঠনগুলোর শীর্ষ পর্যায়ে এমন লোকও আছেন যারা মোবাইলটাও ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন না। এমন লোকও আছেন যিনি বলেন, টেলিভিশন নাজায়েজ (নাম উল্লেখ করবো না)।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: হ্যাঁ, এমন লোকজন থাকতে পারেন, যারা সমাজবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহারে ততটা দক্ষ নন। সবাই প্রযুক্তিমনা হবেন, এমন কথা নাই। সমস্যা হলো মান্ধাতার আমলের ধ্যানধারণা লালন করা, নতুন কোনো কিছু, বিশেষ করে গণমানুষ সংশ্লিষ্ট ও প্রযুক্তিনির্ভর কোনো কিছুকে অন্যদের বা পাশ্চাত্যের বলে অবহেলা করা। ইসলামী আন্দোলনের কর্মী ও নেতৃত্বের উদাহরণ হলো বুকে বোমা লাগিয়ে ছেড়ে দেয়া নিরীহ মানুষের মতো, যে শর্তপূরণ করে বাঁচার জন্য যে কোনো কাজ অবলীলায় করে। পারি না, পারব না– এসব হলো সমাজসংশ্লিষ্ট হওয়া ও থাকার ব্যাপারে স্পষ্ট নির্লিপ্ততা মাত্র। সামাজিক বিপ্লবের পূর্বশর্ত হলো মানসিকতার পরিবর্তন।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

আধা শিক্ষিত মানুষ: জাযাকাল্লাহু খাইরান। সুন্দর উপস্থাপনা, মূল্যবান মূল্যায়ন, প্রাণবন্ত নিবেদন। বিষয়বস্তুর সাথে একশতে একশ পাসের্ন্ট একমত।

যাদের সমালোচনা করা হলো, বিষয়টা বুঝানোর জন্য তাদের সমালোচনা না করেও বুঝানো যেতো। এমন লিখনীর হাত আপনার আছে বলেই মনে হচ্ছে।

আমার মরহুম আব্বা এবং মরহুমা আম্মা ল্যাপটপ নিয়ে আমার সারাদিনের কর্মব্যস্ততাকে বাঁকা চোখে দেখতেন। এটা তাদের দোষ নয়। তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী আমাকে একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করে দেয়ার কারণে আমি এতদূর পর্যন্ত চিন্তা করতে পেরেছি। তাই বলে কি আমার আব্বা-আম্মা সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলতে হবে?

আপনার এই লেখাটার বহুল প্রচার কামনায় ফেইসবুকে শেয়ার করলাম।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: পঞ্চাশোর্দ্ধদের আধুনিক গণমাধ্যম বিচ্ছিন্নতাকে কোনোভাবে মানা যায়। কিন্তু আমার সমবয়সী বা এর কমবয়সী, সচ্ছল ও উচ্চশিক্ষিতদের ক্ষেত্রে এটি কোনোভাবেই মানা যায় না।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি, দায়িত্বশীলদের অধিকাংশই আন্দোলনের কাজে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে উন্নাসিকতায় ভোগেন। যারা দেশের বাহিরে আছেন, তাদের কথা ভিন্ন। ব্যক্তিগত যোগাযোগ, বই বিলি ইত্যাদির স্থলে বা পাশাপাশি পোস্ট দেয়া, ইমেইল প্রেরণ, সফট কপি বিতরণ– এসব কি রিপোর্টিং বা পারস্পরিক আলোচনায় আসতে পারে না?

এসব নিয়ে কথা বললে উনারা প্রায়শ বলেন– হবে, ইনশাআল্লাহ হবে। এই দেখেন না, এক সময় এই এই বিষয় ছিল না, এখন হয়েছে। ইত্যাদি। মুখে হামেশা বিপ্লবের কথা বললেও (এখন তাও শুনি না!) বাস্তবে কীভাবে পরিবর্তন ঘটে বা ঘটতে পারে বা ঘটে চলেছে, সে সম্পর্কে এসব কথিত ঐতিহ্যবাদী সনাতনীদের কোনো বাস্তবজ্ঞান ও রিয়ালাইজেশন নাই।

চোখে প্রখর সূর্যকিরণ পড়লে সবাই জেগে উঠে। বুদ্ধি ও কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্নরা তার আগেই সুবেহ সাদিক দেখে টের পায়, উঠে পড়ে। পরিবর্তন একটা অনিবার্য বিষয়। পরিবর্তন একটা চলমান প্রক্রিয়া। কিয়ামত ছাড়া পরিবর্তনকে রোধ করা অসম্ভব।

আদর্শ, উদ্দেশ্য, পারিপার্শ্বিকতা, যুগের সেন্টিমেন্ট ইত্যাদিকে বিবেচনায় রেখে পরিবর্তনকে পরিচালনা করাই হলো কৃতিত্ব।

আধা শিক্ষিত মানুষ: আবারও আপনার সাথে একশত ভাগ একমত। আপনি যত সুন্দর করে উপস্থাপন করলেন, সেভাবে উপস্থাপনের যোগ্যতা আমার নাই।

একটা কথা ধরে নিলে কেমন হয়? যেমন– একটি কোম্পানিতে সবাই আইটি বিভাগে কাজ করে না, কিছু সংখ্যক বড় বড় ব্যক্তির সাইটে গিয়ে কাজ তদারকি করতে হয়।

যেমন ধরুন: দাওয়াতী পক্ষ, সাংগঠনিক পক্ষ, বৃক্ষরোপন– এসব তো এক সময় ছিলো না। এক সময় প্রোগ্রামগুলোতে প্রজেক্টরই ব্যবহৃত হতো না। কিন্তু এখন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনেক প্রোগ্রাম একসাথে আমরা করছি।

অসুবিধা কী? আপনি-আমি যুবক হিসাবে ভালো কিছু করিয়ে উনাদের দেখাই। তখন উনারা তৃপ্তির হাসি হাসবেন।

বলা হয়েছে না– মা বাবা যদি অমুসলিম হন, তবুও তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করতে হবে?

এই যে আমাদের ফরিদ ভাই, পুরাতন ব্যক্তিদের মাঝে একজন। কিন্তু যেদিন একটি টেলিভিশন চ্যানেলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখলেন, সেদিন তিনি কী করলেন। আমরা সুন্দর অনুষ্ঠান উপভোগ করছি। আর ফরিদ ভাইয়ের চোখের অশ্রুতে বুক ভাসছে। তিনি তার অনুভূতি ব্যক্ত করলেন এইভাবে: ভিতরে ভিতরে আমাদের যুবক ভাইয়েরা এতটুকু এগিয়ে গিয়েছে, আমি তো তা কখনো ভাবিনি। আমার তো এখন মনে হচ্ছে মরার আগে ইসলামী হুকুমাত দেখে যেতে পারবো।

তাই…

আপনার বিরক্তির কারণ হয়ে থাকলে দুঃখিত।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: কর্মই হলো সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী বক্তব্য। ডিডস আর [ট্রু] ওয়ার্ডস।

অতি-মুরুব্বীদের নিয়ে আমার কোনো কথা নাই। কিন্তু আধা-মুরুব্বী ও তরুণদেরকেও তো দেখি, সেলফোন-নির্ভর তদারকীতে ব্যস্ত। আমি জানি না, ক’জন ইসলামী সংগঠনের ছাত্রনেতা দিনে অন্তত বার কয়েক মেইল চেক করেন। হয়ত তারা করেন, আমরা টের পাই না। কিন্তু সামাজিক যে কোনো বিষয় গণ্ডিবদ্ধ বা গোপন হতে পারে না। চবির শহীদ মাসুদ বিন হাবিবকে দেখেছি ব্যতিক্রম হিসাবে। সে যথেষ্ট প্রযুক্তিপ্রবণ ছিল।

ইসলামপন্থী তরুণরা কেন এফএম রেডিও চালু করছে না, বুঝতে পারছি না। সরকার ফ্রিকোয়েন্সি না দিলে ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি দিয়েও তা করা যায়। প্রকৌশলীর দেয়া লেআউট অনুসরণ করে রড, বালি, সিমেন্ট ও কংক্রিটের সমন্বয়ে যেমন পিলার বা কলামের সারি তৈরি করে ইটের গাঁথুনি দিয়ে ইমারত নির্মাণ করা হয়, তেমনি আদর্শ ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে বিপ্লবের সৌধ গড়ে তুলতে হবে।

মজার ব্যাপার হলো, প্রযুক্তির প্রয়োজন নাই– এ কথাটাও উচ্চ প্রযুক্তিগত সহায়তা ছাড়া বলা এখন অসম্ভব প্রায়! কয়েক শতাব্দী আগেই মৌলিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় মুসলিমরা গণহারে ফেল মেরেছে, এখন অন্তত রেডিমেড প্রযুক্তিটুকু রপ্ত করে যদি কিছু একটা করা যায়!!!

আধা শিক্ষিত মানুষ: স্যার, সবকিছুই বুঝেছি। বাট এটা করতে হবে আপনাকে ও আমাকে বা এই ধরনের ২/৪ জনকে। এটা কেউ করবে বা করে দেবে– এমনটা মনে করে আশা-আকাংখা নিয়ে বসে থাকলে চলবে না।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: আচ্ছা, ট্রেন্ড-সেটার হিসাবে ভূমিকা পালন করতে হবে দেখছি। দেখা যাক।

কোনো প্রতিষ্ঠিত ধারায় নিজেকে একাত্ম করে অনেক কিছু করা বা অনেক দূর যাওয়া সহজ। কিন্তু নতুন কোনো ধারা তৈরি করা অতীব কষ্টসাধ্য, কঠিন। নতুন পথে এগুনো মুশকিল। অবশ্য যত মুশকিলই হোক না কেন, মনের টান থাকলে বনও পেরিয়ে যাওয়া যায়। এমনকি একা হলেও।

ভালো থাকুন। দোয়া করবেন।

আধা শিক্ষিত মানুষ: আমি আপনাকে নতুন ধারা তৈরি করতে বলিনি। আমি বলছি সেই পুরাতন ধারাতেই নিজেকে একাত্ম করুন। আপনি আপনার পারফরমেন্স দিয়ে চলে আসুন নীতি-নির্ধারকদের একজনের মাঝে। আজ যারা নীতি-নির্ধারক, তাদের অনেকেই আপনার চেয়ে বয়সে অনেক ছোট। কিন্তু তারা তাদের ত্যাগ, আনুগত্য, পরমত শ্রদ্ধা, আন্তরিকতা, ভালোবাসা, সীমাহীন শ্রম দিয়ে ওখানে গেছেন। আপনিও চলুন তাদের সাথে। আমাদের মতো বসে না থেকে এগিয়ে নিয়ে যান এই কাফেলাকে।

জাগরন: বর্তমান প্রজন্ম নেতৃত্বে না আসা পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনের সর্বস্তরে প্রযুক্তির ব্যাবহারের জন্য আমাদেরকে হয়ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। ধন্যবাদ অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য একটি মৌলিক বিষয় নিয়ে লিখার জন্য।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: শীর্ষতম কয়েকটি পদ ছাড়া সবই তো ‘বর্তমান প্রজন্মের’ হাতে। সিস্টেমটা হলো এনালগ। তাই, তরুণরাও সেখানে গিয়ে এনালগ চর্চাই করেন। স্বীয় পদ-পদবী হারানোর আশংকায় এসব ডিজিটাল চর্চাকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখেন।

এক দৃষ্টিতে আওয়ামী নির্বাচনী বিধিমালাকে ধন্যবাদ জানাতে হয়। জনশক্তির অর্ধাংশ নারীকে এর চাপে পড়ে হলেও অন্তত এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত সামষ্টিক ও মূল নেতৃত্বে নেয়ার ব্যাপারে উনারা লিখিত সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।

প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে যদি কোনো আরপিও হতো, তাহলে কতই না ভালো হতো!

আবু আফরা: শাহ হান্নান চাচাকে জনৈক আলিম ও শূরা মেম্বার কোনো একটা আর্টিকেলের জবাবে বলেছিলেন: আপনার বেদ্বীন হয়ে মরার সম্ভাবনা আছে। মজার কথা হলো উক্ত আলিম যখন আমাদের সামনে এ কথা বলছিলেন, তখন আমি কটাক্ষ করে বললাম– আপনি কি উনার মতো গবেষণা করেছেন কখনো? আমাদের আলিম সাহেব সদর্পে বললেন, ইংরেজি শিক্ষিতরা ইসলামের কী বুঝবে?

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: শাহ আবদুল হান্নান সাহেব সম্পর্কে আমার মজার অভিজ্ঞতা হলো, প্রথমেই আমি উনাকে আক্রমণ করে কথা বলেছি। বলেছি, দুবছর আগে আপনি ব্লগের মতো পাবলিক প্লেসে ইসলামী আন্দোলনের বিষয়ে পর্যালোচনামূলক কথা বলার বিরোধিতা করেছেন। এটি ঠিক নয়। শুধুমাত্র দায়িত্বশীলদের ব্যক্তিগত বিষয়াদি ব্যক্তিগতভাবে বলা উচিত। ফোরামের লোকেরা ফোরামে বলবেন। কাজ না হলে, বিষয়টিকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সঠিক মনে করলে, জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন, মতামত গঠন করবেন। এই ধারাটাই ইসলামী শরিয়তসম্মত ও কাণ্ডজ্ঞানের দাবি। উনি আমার এইসব কথাবার্তাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে বলেছিলেন, এই বিষয়ে বারণ করা হয়ত আমার ভুল হয়েছে। তোমার সাথে কথা বলে মনে হচ্ছে, তুমি এই বিষয়ে লিখতে পারো। উনি প্লুরালিজমের উপর জোর দিচ্ছিলেন। সেদিনের পুরো আলোচনাতে বেশ কয়েকটি বিষয়ে দ্বিমত প্রকাশ করলেও তিনি শীর্ষতম দায়িত্বশীলদের মতো ক্ষেপে উঠেননি। উনার যুক্তি তুলে ধরেছেন, বিরোধী মতকে শ্রদ্ধা করেছেন, ক্ষেত্রবিশেষে গ্রহণও করেছেন।

ইংরেজী শিক্ষিতদের ইসলাম জ্ঞান নিয়ে কটাক্ষকারীদের জন্য শুধু এটুকুই বলতে পারি, (ক’দিন আগে এক কমেন্টে যা বলেছিলাম)– মাদ্রাসা হতে টাইটেলপ্রাপ্তরাই কেবল ‘মান ইউরিদুল্লাহু বিহী খাইরান, ইউফাক্কিহু ফিদদ্বীন’-এর মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হবেন– এমনটা নাও হতে পারে।

আবূসামীহা: ভালো লিখেছেন। কিছু লোকদের চিন্তা চেতনা কখনো উন্নতি লাভ করে না। নিজেদের কমফোর্ট জোনে অবস্থান করতেই তাঁরা পছন্দ করেন। আর এভাবে তৈরি করেন নতুন প্রজন্মের সাথে দূরত্ব, ভুল বুঝাবুঝি ও চিন্তার সংঘাত।

অনেক ধন্যবাদ।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

ramir: Sir, the main fact is not their mentality. I was thinking for this for several years. But I didn’t find any answer. Recently, a representative of them has entered into my house being the owner of my house. She is the prototype of the so-called leaders. The most interesting matter is that the type of man against whom I fought for my life, she, the exact type of woman, be my life partner. So, the fighting became frequent though she is very modest and nice as a person. The most important fact I found after fighting with her is that the so-called man i.e. leaders can’t think beyond the border because of their (i) mundane quality which is certainly not more than primary level though some of them carrying Master’s degree or something like that, (ii) the misunderstanding of some Qur’anic verses and Hadith and (iii) some stereotyped thought which can be considered as personal interest though unconsciously. The main fact after it is that the non-reading any advanced Quranic explanations and Hadiths.

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: আচ্ছা, আপনার বক্তব্য খুবই ইন্টারেস্টিং! ঘরে ঘরে বিদ্রোহ বিপ্লব! সাংঘাতিক কথা। আপনি ধৈর্য্য ধরে লেগে থাকুন। বাড়িওয়ালীকে নামকরা ইসলামী ব্যক্তিত্বদের লেখা পড়তে দিন। বিশেষ করে ইউসুফ কারযাভীর। আপনি যেসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন তা বাস্তবানুগ, অপ্রিয় সত্য। আলাপ-আলোচনা ও চিন্তাভাবনাই সমাধান। যারা যত বেশি এক্সচেঞ্জ করবেন, তারা তত বেশি চিন্তার গভীরতা লাভ করবেন। খেয়াল করলে দেখা যায়, ভুল চিন্তা বা ম্যাল-প্রপজিশনে আক্রান্ত ব্যক্তিবর্গ অসহিষ্ণুতায় ভোগেন। দোয়া করবেন। ভালো থাকুন।

আবু জারীর: “আমার মতো মধ্যবয়সীদের প্রযুক্তিপ্রবণতাকে তারা নিছক ফান ও টেকনোম্যানিয়া হিসাবে দেখে।”

আর আপনার বয়সী কিন্তু যোগ্যতাসম্পন্ন বড় দায়িত্বশীল যদি প্রযু্ক্তি ব্যবহারে উদাসীন হন তাহলে কী বলবেন? শ্রদ্ধেয় একজন মুরুব্বি আমার দৃষ্টি আকর্ষণীর জবাবে বলেছিলেন, তিনি বাংলা টাইপ জানেন না! কিন্তু তার মতো ব্রিলিয়ান্টের ডিকশনারিতে ‘জানি না’ শব্দটা নাই আশা করে হতাশ হয়েছিলাম।

স্মার্টফোন ব্যবহার করে, অথচ বিভিন্ন নোট রাখে কাগুজে নোটবুকে– এটা দেখে হেসেছিলাম। দৃষ্টি আকর্ষণ করায় তিনি বাঁকা চোখে আমার বেওকুফী চেহারাটা ভালো করে আর একবার দেখে নিয়েছিলেন।

মোবাইলে ব্যক্তিগত রিপোর্ট রাখি দেখে কয়েকজনে তিরষ্কার করেছেন। এগুলো নাকি ট্র্যাডিশনের খেলাপ। অথচ রিপোর্টিং বৈঠকে তারাই আবার বলেন– ‘রিপোর্ট’ আনতে ভুলে গেছেন, অথচ মোবাইলটা হাতেই আছে। রিপোর্টটা যদি মোবাইলে থাকত, তাহলে এমন অযুহাত দেয়া লাগত না।

আধুনিকমনা একজন দায়িত্বশীল তো তার অধীনস্ত ইউনিটগুলোকে ডিজিটাল করার ঘোষণা দিলেন, আমিও আশায় বুক বাঁধলাম। শাখাকে পরামর্শ দিলাম তখনকার সর্বশেষ ভার্সন পেন্টিয়াম-৪ কম্পিউটর কিনতে কিন্তু আমাদের হতাশ করে দায়িত্বশীল মান্ধাতা আমলের একটি পেন্টিয়াম-২ কম্পিউটর পাঠিয়ে দিলেন। বুঝলাম অচল মাল চালানোর কত সুন্দর ডিজিটাল কায়দা!

সুযোগে দু’কথা শুনিয়ে দিলাম, আবার মাইন্ড করবেন না যেন।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: একটা সর্বাত্মক চিন্তা ও জ্ঞানগত বিপ্লব ছাড়া একবিংশ শতাব্দীতে ইসলামকে বিজয়ী আদর্শ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা কখনোই সম্ভব হবে না। এইসব কাজের জন্য প্রযুক্তিগত সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার অতি জরুরি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসমূহ সংগঠন পরিচালনায় বিশেষভাবে কার্যকর– এটি অনেকেই যথাযথভাবে অনুধাবন করে না।

শুধু সংগঠন পরিচালনা বা প্রচার কাজ কেন, ব্যক্তিগত মানোন্নয়নেও এর ভূমিকা দারুণভাবে ইতিবাচক। একটা স্মার্টফোন (নেট কানেকশনসহ) থাকা মানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাতে তাফহীমুল কোরআন, সিহাহ সিত্তাহ ও সিলেবাসভুক্ত সব বইসহ বিশ্বের জ্ঞানভাণ্ডারে অবাধ ও সার্বক্ষণিক প্রবেশাধিকার থাকা!

তরুণ প্রজন্মকে কাছে টানতে হলে, প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নাই। কেউ বলতে পারেন, তাবলীগের এত লোক। কই, তারা তো প্রযুক্তিনির্ভর নয়।

যে কোনো সমাজে সবসময় উল্টামুখী স্রোত থাকে। কিছু লোকের, বিনা কারণেই তা ভালো লাগে। তাই দেখা যায়, পাশ্চাত্যেও প্রযুক্তিবিরোধী কিছু ট্রেন্ড আছে। সেগুলোর এক প্রকার জনপ্রিয়তাও আছে। তাবলীগ হলো বস্তুবাদী সামাজিক স্রোতধারার একটা প্রতিক্রিয়া, যাতে ধর্মীয় ভাবধারার সংমিশ্রণে এক ধরনের আপাত জনপ্রিয়তার সৃষ্টি হয়েছে। বুদ্বুদ যত বড়ই হোক তা যেমন স্রোতের গতিধারায় কোনো প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে না, তেমনি তাবলীগের কাজ যতই বাড়ুক না কেন, তারা মানবসমাজে কোনো বাস্তব ও টেকসই পরিবর্তন ঘটাতো সক্ষম হয়নি, হবে না। সামাজিক পরিবর্তন সম্পর্কে তাদের ব্যক্তিক ফর্মূলা সমাজবিজ্ঞানসম্মত নয়। সংখ্যায় যা-ই হোক না কেন, সিস্টেমের পরিবর্তন ছাড়া ব্যক্তিক পরিবর্তন কোনো মৌলিক সামাজিক পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম নয়।

উপরে এক কমেন্টের প্রতিমন্তব্যের নিম্নোক্ত কথাটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ: “মজার ব্যাপার হলো, প্রযুক্তির প্রয়োজন নাই– এ কথাটাও উচ্চ প্রযুক্তিগত সহায়তা ছাড়া বলা এখন অসম্ভব প্রায়!”

ভালো থাকুন! আমাদের জন্য দোয়া করবেন!

রেহনুমা বিনত আনিস: ইসলামপন্থীরা প্রায়শ মেইলের উত্তর দেয়না। দেখা হওয়ার পর জিজ্ঞাসা করলে বলেন, আপনার মেইল পেয়েছি। এটা শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিদেশেও এর সত্যতা পেয়েছি। তারা প্রযুক্তি ক্রয়ই শুধু করেন, ব্যবহার করেন না। সময়ানুবর্তিতা এবং নিয়মানুবর্তিতার ব্যাপারেও অবহেলাপূর্ণ মানসিকতা ধারণ করেন। অথচ রাসূল (সা) এক জীবনে যা কাজ করেছেন তা অনেক জীবনেও করা সম্ভব হতো না, যদি না তিনি টাইম ম্যানেজমেন্টের ব্যাপারে সচেতন হতেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি মাল্টি-টাস্কিংয়ে মোটামুটি দক্ষ। তবে একথাও সত্য, মাল্টি-টাস্কিংয়ের মাধ্যমে যেমন সময়ের বরকত পাওয়া যায়, প্রচুর কাজ করা যায়, তেমনি মাঝে মাঝে এটা বেশ ক্লান্তিকর। হয়ত শরীরের জন্য হানিকর ভেবেই তারা প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বেশি কাজ করা থেকে বিরত থাকেন!

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: প্রযুক্তি-বিরোধিতার মধ্যে এক ধরনের আত্মম্ভরিতা ও জিদ কাজ করে। ‘কী দরকার এসবের? এসব যখন ছিল না তখন কি মান কম ছিল? কাজ কম ছিল?’– ভাবখানা এমন ধরনের। সামাজিক বিষয়ে যারা নেতৃত্ব দেয়, কখনো কখনো তাদের মধ্যে এক ধরনের আত্মকেন্দ্রিক শুদ্ধতার প্রবল তুষ্টি কাজ করে। এমন যখন হয়, তখন তারা অন্য কারো কাছ হতে নতুন কিছু নিতে হবে, এটি ভাবতেই পারে না। সামাজিক নেতৃত্ব যখন ধর্মভিত্তিক হয় তখনও কাজের পদ্ধতির ব্যাপারে ‘ছুম্মুন বুকমুন উমইউয়ুন’ জাতীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ইসলামপন্থী সমাজকর্মী ও নেতৃত্বের প্রযুক্তি নিয়ে দ্বিধান্বিত, কখনো বিরূপ মানসিকতার কারণ নিয়ে তাই ক্রিটিক্যালি ভাবতে হবে। অভিজ্ঞতায় দেখেছি, কোনো পরিবর্তনকে ঘাড়ের উপর এসে পড়ার আগেই ইনারা গ্রহণ করে নেয়ার সৎসাহস দেখাতে পারেন না। জিদ এবং আত্মম্ভরিতা বলতে আমি এটিই বুঝাতে চেয়েছি।

আপনার সাহিত্যঋদ্ধ লেখাগুলোতে কদাচিৎ মন্তব্য করলেও যথাসম্ভব পড়ি। আমার [তাত্ত্বিক] লেখাগুলো আপনি পড়েন কিনা জানি না। যদি পড়েন, এরকম দুয়েকটি মন্তব্য করলে খুশি হবো।

সেদিন এক দায়িত্বশীল ভাইয়ের কাছ হতে শুনলাম, ছাত্রীসংস্থার লোকজন নাকি আমার উপর খুব ক্ষেপেছে। তাদের স্টাইলিশড নিকাবের বিরোধিতা করার জন্য। যাহোক, সে কথা। কানাডায় আপনারা থেকে যাবেন এমন আশংকা করেছিলাম! ইহা কি সত্য প্রমাণিত হচ্ছে, নাকি শংকামাত্র?

দোয়া করবেন। ভালো থাকুন।

রেহনুমা বিনত আনিস: আপনার লেখা পড়ি সবসময়, কিন্তু মন্তব্য করি মাঝে মাঝে। কারণ, নিজেকে মন্তব্য করার মতো যথেষ্ট মেধাবী মনে হয় না।

আমাদের জীবনের সিদ্ধান্ত তো আসলে আমাদের হাতে নয়, আর সব সিদ্ধান্ত যার হাতে, দেশে আসা না আসার সিদ্ধান্তও তাঁর হাতেই।

আমার অভিজ্ঞতা বলে– আপনি যাই করেন না কেন, এমনকি হয়ত উদ্দেশ্যহীনভাবে কোনোদিকে তাকিয়ে আছেন, কিছু মানুষ তাতেও ক্ষেপবে। কিছু করার নেই, প্রাণ দিয়ে দিলেও কিছু মানুষ আপনার প্রতি বিরূপ হবেই। এই নিয়েই পথ চলতে হবে।

মূল পোস্টের ব্যাকআপ লিংক

Leave a Reply