ইসলামিক অর্গানাইজেশন অ্যান্ড প্লুরালিজম: টেনশনস অর/অ্যান্ড প্রপোজালস অফ ডিজিটাল ওয়ানস ফর জামায়াত রিফর্মস

এসবি ব্লগের সকল তাত্ত্বিকদের সমীপে প্রশ্ন– একটা জনপদে একই সময়ে একটি মাত্রই শাসন-কর্তৃত্ব থাকে বা থাকতে পারে। দুজন রাজা বা প্রশাসক এক জায়গায় থাকতে পারে না। তেমনি একটা জনপদে ইসলামী হুকুমতও সিঙ্গুলারই হবে। প্রশ্ন হলো– একটা জনপদে ইসলাম কায়েমের প্রচেষ্টাকারী দল কি শুধু একটাই হবে? আর যদি আলাদা আলাদা হয়, তাহলে মূল দলটির অনুমোদন কি বাধ্যতামূলক?

যদি তা হয়, তাহলে কি ইসলামী রাষ্ট্রে বহুদলীয় বা বহুমতভিত্তিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা থাকবে? নাকি কম্যুনিস্টিক ধাঁচের সর্বাত্মকবাদী ব্যবস্থা থাকবে?

একটা জনপদে ইসলাম কায়েমের প্রচেষ্টাকারী দল বা গোষ্ঠী একাধিক হওয়াটা যদি শরিয়াহ বিরোধী না হয়, তাহলে জামায়াতে ইসলামী ছাড়া অন্য দল থাকতে পারবে না কেন? ইসলাম কায়েমের পরে প্লুরালিজম অনুমোদন করবেন বলে যারা বলছেন, তারা এখনই সেটি করছেন না কেন?

যেহেতু আমি রুকন নই, তাই জামায়াতের গঠনতন্ত্র নিয়ে কথা বলবো না। শিবিরের সদস্য ছিলাম ক’বছর, সেই সুবাদে বলছি – ইসলামবিরোধী নয় এমন যে কোনো সংগঠন বা সংস্থার সাথে জড়িত হওয়ার বিষয়ে শিবিরের সংবিধানে কোনো বাধা নাই (বা আমাদের সময়ে ছিলো না)।

দেখবেন, একই মার্কেটে একই মালিকের ভিন্ন ভিন্ন দোকান থাকে। মানুষ ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা করতে পছন্দ করে। ইসলাম বা যে কোনো আদর্শের জন্যও তা প্রযোজ্য নয়কি?

আসলে ‘ইসলামী’ বলতে কী বুঝায়? একদল মনে করেন, যা কিছুতে ইসলামের সিল মারা আছে তা ইসলামী, আর বাদবাকি সব অনৈসলামী। আরেক দল মনে করেন, ক্যাপসুল ফর্মূলাই ভালো। প্রথমেই সিল মারার দরকার নাই। কামের ইসলাম আগে, নামের ইসলাম হোক পরে বা ভিতরে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাই দেশের জনগণের মনমানসিকতায় এই আকাশপাতাল ফারাক সৃষ্টি করেছে। উপমহাদেশের সর্বপ্রাচীন দ্বীনি প্রতিষ্ঠান কলিকাতা আলীয়া মাদ্রাসা বেদ্বীনি ইংরেজরা প্রতিষ্ঠা করেছিল। বলতে পারেন, কেন?

যদিও প্রচলিত ইসলামী আন্দোলনের ধারাগুলো মাদ্রাসা ও কলেজ শিক্ষিতদেরকে এক করে চলছে, কিন্তু বাস্তবে তা এখনো দুই মেরুতে অবস্থান করছে। আপনি কীভাবে একজন মেডিকেল পড়ুয়ার কাছ হতে মাদ্রাসার ছাত্রদের মতো বিষয়াদি প্রত্যাশা করবেন? পর্দার প্রসঙ্গ এর অন্যতম উদাহরণ হতে পারে।

আমার মতে, জামায়াত কখনো চেঞ্জ হবে না। পরিস্থিতির চাপে কিছুটা হতে পারে বটে, তবে তাতে কোনো তাত্ত্বিক পরিশুদ্ধি নেই, থাকবে না। তাই, জামায়াত জামায়াতই থাকবে। এটি চেঞ্জ হবে কি হবে না, বা হওয়া উচিত কিনা – এসব আমার দৃষ্টিতে তেমন অর্থবহ কোনো আলোচনা নয়।

জামায়াত একটি উন্নতমানের তাবলীগ। ‘নো অল্টারনেটিভ থিওরি’ একটা ভুল তত্ত্ব। ধর্মবাদিতার রোগ এ দেশের ছোট-বড় সব ইসলামওয়ালাদেরই আছে। আর জামায়াত বুদ্ধিজীবীদের সেলফ স্যাটিসফ্যাক্টরি অটো-সাজেশন হচ্ছে হালনাগাদের টার্কিশ মডেল কপচানো। বাংলাদেশ বাংলাদেশই।

তাহলে এখন হয়তো বলবেন, আপনি কী বলতে চান? আপনার আইডেন্টিটি/মেসেজ পরিষ্কার করুন।

আমি বলতে চাই– যে যেখানে আছেন থাকুন। সব ভালো কাজে অংশগ্রহণ করুন। প্রতিযোগিতা করুন ন্যায় ও সৎ কাজে। ভাবতে থাকুন সমাজকে নিয়ে। বাস্তবকে নিয়ে, আদর্শ তথা ইসলামের আলোকে। আপনি, যিনি এই লেখাটি পড়ছেন, আপনি নিজেই একটা প্রতিষ্ঠান। তাই বলে একমাত্র বা স্বয়ংসম্পূর্ণ নন। আপনি আল্লাহর খলিফা। নাকি নন? দ্বীন কায়েম আপনার একক ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব। নাকি নয়? যদিও একক প্রচেষ্টায় তা কায়েম হবার নয়।

‘ওয়াতাসিমু বিহাবলিল্লাহি জামিয়া’ মানে একজন আরেকজনের হাত ধরা নয়। প্রত্যেকেই স্বাধীন, তবে একই আদর্শের অনুসারী। আপনার এলাকায় যে সংগঠন আছে বা যেটিকে আপনি বেটার মনে করেন তার সাথে থাকেন, তাদের সকল ভালো কাজে পূর্ণ অংশগ্রহণ করুন। যেমনটি আমরা করি মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার ব্যাপারে।

হালজামানার সকল সমস্যা সমাধানের সর্বরোগবটিকা হচ্ছে, আমার মতে, ইন্টার‍্যাকটিভ ইনটেলেকচুয়্যালিটি। মানে সবসময়ে বুঝজ্ঞান অনুসারে কাজ করা। প্রশ্ন করা। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উত্থাপিত বা উত্থাপনযোগ্য যে কোনো প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দেয়া। এমনকি প্রশ্নটি নিতান্তই ভুল হলেও। সেক্ষেত্রে প্রশ্নটা যে ভুল তা বুঝিয়ে দেয়া। এক কথায়, সর্বদা যুক্তি ও বিচার-বিবেচনাভিত্তিক কাজ করা। যেখানে যুক্তিবুদ্ধি চলবে না, সেখানে কেন সেটি চলবে না তা বুঝিয়ে দেয়া।

মূল পোস্টের ব্যাকআপ লিংক

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে পড়াই। চাটগাইয়া। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *