ইসলামিক অর্গানাইজেশন অ্যান্ড প্লুরালিজম: টেনশনস অর/অ্যান্ড প্রপোজালস অফ ডিজিটাল ওয়ানস ফর জামায়াত রিফর্মস

এসবি ব্লগের সকল তাত্ত্বিকদের সমীপে প্রশ্ন– একটা জনপদে একই সময়ে একটি মাত্রই শাসন-কর্তৃত্ব থাকে বা থাকতে পারে। দুজন রাজা বা প্রশাসক এক জায়গায় থাকতে পারে না। তেমনি একটা জনপদে ইসলামী হুকুমতও সিঙ্গুলারই হবে। প্রশ্ন হলো– একটা জনপদে ইসলাম কায়েমের প্রচেষ্টাকারী দল কি শুধু একটাই হবে? আর যদি আলাদা আলাদা হয়, তাহলে মূল দলটির অনুমোদন কি বাধ্যতামূলক?

যদি তা হয়, তাহলে কি ইসলামী রাষ্ট্রে বহুদলীয় বা বহুমতভিত্তিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা থাকবে? নাকি কম্যুনিস্টিক ধাঁচের সর্বাত্মকবাদী ব্যবস্থা থাকবে?

একটা জনপদে ইসলাম কায়েমের প্রচেষ্টাকারী দল বা গোষ্ঠী একাধিক হওয়াটা যদি শরিয়াহবিরোধী না হয়, তাহলে জামায়াতে ইসলামী ছাড়া অন্য দল থাকতে পারবে না কেন? ইসলাম কায়েমের পরে প্লুরালিজম অনুমোদন করবেন বলে যারা বলছেন, তারা এখনই সেটি করছেন না কেন?

যেহেতু আমি রুকন নই, তাই জামায়াতের গঠনতন্ত্র নিয়ে কথা বলবো না। শিবিরের সদস্য ছিলাম ক’বছর, সেই সুবাদে বলছি– ইসলামবিরোধী নয় এমন যে কোনো সংগঠন বা সংস্থার সাথে জড়িত হওয়ার বিষয়ে শিবিরের সংবিধানে কোনো বাধা নাই (বা আমাদের সময়ে ছিলো না)।

দেখবেন, একই মার্কেটে একই মালিকের ভিন্ন ভিন্ন দোকান থাকে। মানুষ ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা করতে পছন্দ করে। ইসলাম বা যে কোনো আদর্শের জন্যও তা প্রযোজ্য নয় কি?

আসলে ‘ইসলামী’ বলতে কী বুঝায়? একদল মনে করেন, যা কিছুতে ইসলামের সিল মারা আছে তা ইসলামী, আর বাদবাকি সব অনৈসলামী। আরেক দল মনে করেন, ক্যাপসুল ফর্মূলাই ভালো। প্রথমেই সিল মারার দরকার নাই। কামের ইসলাম আগে, নামের ইসলাম হোক পরে বা ভিতরে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাই দেশের জনগণের মনমানসিকতায় এই আকাশ-পাতাল ফারাক সৃষ্টি করেছে। উপমহাদেশের সর্বপ্রাচীন দ্বীনি প্রতিষ্ঠান কলিকাতা আলীয়া মাদ্রাসা বেদ্বীনি ইংরেজরা প্রতিষ্ঠা করেছিল। বলতে পারেন, কেন?

যদিও প্রচলিত ইসলামী আন্দোলনের ধারাগুলো মাদ্রাসা ও কলেজ শিক্ষিতদেরকে এক করে চলছে, কিন্তু বাস্তবে তা এখনো দুই মেরুতে অবস্থান করছে। আপনি কীভাবে একজন মেডিকেল পড়ুয়ার কাছ হতে মাদ্রাসার ছাত্রদের মতো বিষয়াদি প্রত্যাশা করবেন? পর্দার প্রসঙ্গ এর অন্যতম উদাহরণ হতে পারে।

আমার মতে, জামায়াত কখনো চেঞ্জ হবে না। পরিস্থিতির চাপে কিছুটা হতে পারে বটে, তবে তাতে কোনো তাত্ত্বিক পরিশুদ্ধি নেই, থাকবে না। তাই, জামায়াত জামায়াতই থাকবে। এটি চেঞ্জ হবে কি হবে না, বা হওয়া উচিত কিনা– এসব আমার দৃষ্টিতে তেমন অর্থবহ কোনো আলোচনা নয়।

জামায়াত একটি উন্নতমানের তাবলীগ। ‘নো অল্টারনেটিভ থিওরি’ একটা ভুল তত্ত্ব। ধর্মবাদিতার রোগ এ দেশের ছোট-বড় সব ইসলামওয়ালাদেরই আছে। আর জামায়াত বুদ্ধিজীবীদের সেলফ স্যাটিসফ্যাক্টরি অটো-সাজেশন হচ্ছে হালনাগাদের টার্কিশ মডেল কপচানো। বাংলাদেশ বাংলাদেশই।

তাহলে এখন হয়তো বলবেন, আপনি কী বলতে চান? আপনার আইডেন্টিটি/ম্যাসেজ পরিষ্কার করুন।

আমি বলতে চাই– যে যেখানে আছেন থাকুন। সব ভালো কাজে অংশগ্রহণ করুন। প্রতিযোগিতা করুন ন্যায় ও সৎ কাজে। ভাবতে থাকুন সমাজকে নিয়ে। বাস্তবকে নিয়ে, আদর্শ তথা ইসলামের আলোকে। আপনি, যিনি এই লেখাটি পড়ছেন, আপনি নিজেই একটা প্রতিষ্ঠান। তাই বলে একমাত্র বা স্বয়ংসম্পূর্ণ নন। আপনি আল্লাহর খলিফা। নাকি নন? দ্বীন কায়েম আপনার একক ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব। নাকি নয়? যদিও একক প্রচেষ্টায় তা কায়েম হবার নয়।

‘ওয়াতাসিমু বিহাবলিল্লাহি জামিয়া’ মানে একজন আরেকজনের হাত ধরা নয়। প্রত্যেকেই স্বাধীন, তবে একই আদর্শের অনুসারী। আপনার এলাকায় যে সংগঠন আছে বা যেটিকে আপনি বেটার মনে করেন তার সাথে থাকেন, তাদের সকল ভালো কাজে পূর্ণ অংশগ্রহণ করুন। যেমনটি আমরা করি মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার ব্যাপারে।

হালজামানার সকল সমস্যা সমাধানের সর্বরোগবটিকা হচ্ছে, আমার মতে, ইন্টার‍্যাকটিভ ইন্টেলেকচুয়্যালিটি। মানে সবসময়ে বুঝজ্ঞান অনুসারে কাজ করা। প্রশ্ন করা। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উত্থাপিত বা উত্থাপনযোগ্য যে কোনো প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দেয়া। এমনকি প্রশ্নটি নিতান্তই ভুল হলেও। সেক্ষেত্রে প্রশ্নটা যে ভুল তা বুঝিয়ে দেয়া। এক কথায়, সর্বদা যুক্তি ও বিচার-বিবেচনাভিত্তিক কাজ করা। যেখানে যুক্তিবুদ্ধি চলবে না, সেখানে কেন সেটি চলবে না তা বুঝিয়ে দেয়া।

এসবি ব্লগ থেকে নির্বাচিত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

ঈগল লিখেছেন: এক বা একাধিক সংগঠনের ব্যানারে যতই আমরা কাজ করি না কেন, আমার মনে হয় আল্লাহর সার্বভৌমত্বের রাষ্ট্র কায়েম সম্ভব নয় যতক্ষণ না ইমাম মাহদীর (আ) আগমন ঘটছে।

সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রচুর ভবিষৎবাণী করে গিয়েছেন, বিশেষ করে ইমাম মাহদী আলাইহিস সালামের আগমনের পূর্ব সময়কার পরিস্থিতি সম্পর্কে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হচ্ছে গণতন্ত্রপন্থী (গণতন্ত্রে আমার অ্যালার্জি আছে) দলগুলো এই ভবিষৎবাণীগুলোর প্রতি চরমভাবে অবহেলা করছে। তারা যদি গবেষণা করত কোন প্রেক্ষাপটে ইমাম মাহদী এবং ঈসা আলাইহিস সাল্লামের আগমন ঘটবে তাহলে মনে হয় একটি সহী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হতো।

হাদীসের আলোকে ইমাম মাহদী আলাইহিস সাল্লামের প্রেক্ষাপটকে বাদ দিয়ে আমরা যতই মধ্যমপন্থা পরিত্যাগ এবং উদারতাবাদকে গ্রহণ করে ইসলামীকরণ করার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বর্তমান শতাব্দীর চ্যালেঞ্জর মোকাবিলার চেষ্টা করি না কেন, এর ফায়দা শেষ পর্যন্ত সাম্রাজ্যবাদীদের পক্ষেই যাবে।

স্যার, একটি প্রশ্ন করবো। নাবীর নবুয়ূতপ্রাপ্তির সময় মক্কার আর্থ-সামাজিক অবস্থা ছিল মারাত্মক শোচনীয়। আমার প্রশ্ন হলো– তিনি সেই সময়কার সামাজিক সমস্যার সমাধান না করে নবুয়ুতপ্রাপ্তির পর থেকেই কেন তাওহীদের দাওয়াহ দিতে শুরু করলেন?

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন: কারণ, গোড়া থেকেই শুরু করতে হয়। ক্রমধারা ব্যতিরেকে যত বড় সৌধ নির্মাণ করা হোক না কেন, তা কার্যকর হবে না। রাজনীতি করা মানেই ইলেকশন করা বা বর্তমান ধারায় ইলেকশন করা নয়। সরাসরি প্রার্থী না দেয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক ভূমিকা রাখা যায়।

অন্যদিকে অরাজনৈতিক দাওয়াহ নামক জিনিসটা মূলত শর্টকাট (?) ইসলাম, যা স্বয়ং রাসূল (স) জানতেন না?!

গণতন্ত্র নিয়ে আপনি অযথা চিন্তা করবেন না। পদ্ধতি হিসাবে গণতন্ত্র মন্দের ভালো, লক্ষ্য বা চূড়ান্ত হিসাবে স্পষ্টতই অগ্রহণযোগ্য।

লাল বৃত্ত লিখেছেন: সামাজিক সমস্যার সমাধানে যে তিনি তৎপর ছিলেন না এমনটা নিশ্চই তারিখ ইবনে হিশাম অথবা সীরাত গ্রন্থগুলোর কোথাও স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ নেই। বরং তিনি খুব অল্প বয়স থেকেই সমাজকে পরিবর্তনকারী বা সমাজ সংস্কারক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছিলেন। আপনার প্রশ্নের এই অংশ “নবুয়ুত প্রাপ্তির পর থেকেই কেন তাওহীদের দাওয়াহ দিতে শুরু করলেন?” স্পষ্ট করে দিচ্ছে আপনার জবাব। তাওহীদের কাজটি কেবলমাত্র বিশ্বাস সংক্রান্তই যদি হতো তাহলে এটা কেবল গুরুত্বহীনই হয়ে পড়তো না, বরং এটা একটি অথর্ব প্রলাপ বা মন্ত্রই হতো যা তৎকালীন পূজারীরা জপ করতো। বরং এই তাওহীদের মধ্যেই ছিলো সকলের সাম্য জারী ও অত্যাচারীর জুলুম থেকে সামাজিকভাবে মানুষকে মুক্ত করার লক্ষ্যে ভেদাভেদ ভেঙ্গে সকলকে এক আল্লাহর বান্দা হিসেবে কাতারবদ্ধ করা।

নবুয়ত প্রাপ্তির পর থেকে মানেই হচ্ছে রাসূল (সা) তাঁর জীবনের যে অংশ থেকে সরাসরি আল্লাহর নির্দেশ পাওয়া শুরু করেছেন সেই সময় থেকেই তাওহীদের দাওয়াহ দেয়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু রাসূলের নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বের সময়টি আমরা যেভাবে আস্তাকূঁড়ে নিক্ষেপ করি সেভাবে নিক্ষিপ্ত করার মতো নয়। বরং সেই অংশটি যে বাস্তব ও যৌক্তিক শিক্ষা আমাদেরকে দিচ্ছে সেটাকে হয়তো স্বেচ্ছায় আমরা উপেক্ষা করে চলছি। নুবয়তের জন্য তাকে যে সকলের বিশ্বাসযোগ্য ও কল্যাণকামী করে গড়ে তোলা হয়েছে জনকল্যাণমূলক এবং আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে, সেই বিরাট তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়ে কোনো খেয়াল না করে আমরা কেবল ২৩ বছরকেই ধরে নিয়েছি রাসূলের জীবন হিসেবে। কই? আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যখন বলছেন তোমাদের মধ্যে রাসূলের জীবনেই রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ, তখন কি জীবনটাকে ২৩ বছরের কোনো সীমানা দিয়ে বেঁধে দিয়েছেন?

মোহাম্মদ মামুন রশীদ লিখেছেন: ঈগলের সাথে একমত খেলাফতের ব্যাপারে।

“গণতন্ত্র পদ্ধতি হিসাবে মন্দের ভালো, লক্ষ্য বা চূড়ান্ত হিসাবে স্পষ্টতই অগ্রহণযোগ্য।”

আমার মত হচ্ছে গণতন্ত্র পদ্ধতি হিসেবে মন্দের ভালোও নয়। গণতন্ত্র খুব বড়জোড় অতি কঠিন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করার ব্যতা (অপারগতা, অনীহা ও কাপুরুষতা) ঢাকার জন্য একটি ব্যান্ড-এইড ফিক্স।

কোনো অবস্থাতেই গণতন্ত্রের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে না, ইসলামের বিজয় আসবে না।

যে ব্যবস্থার মূলে রয়েছে জাতীয়তাবাদ আর সিংহভাগ মূর্খ মানুষের মতামত নেয়ার প্রক্রিয়া, তা কখনো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। আর যেখানে ন্যায়বিচার নেই, সেখানে ইসলাম নেই।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন: আসলে জাতীয়তাবাদ সম্পর্কেও আমার ‘কথা’ আছে। আমরা যদি সাম্প্রদায়িকতাবাদের সাথে জাতীয়তাবাদকে গুলিয়ে না ফেলি, তাহলে জাতীয়তাবাদ খারাপ বা ইসলামবিরুদ্ধ হওয়ার কোনো কারণ আমি দেখি না। বিষয়টা আলাদা পোস্টের গুরুত্ব রাখে।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

লাল বৃত্ত লিখেছেন: রাজনৈতিক ইসলামের যে ধারা তা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমাজতান্ত্রিক পদ্ধতির আশ্রয় গ্রহণ করেছে এই কারণে যে, এই ধারার প্রবর্তকদের সামনে কম্পারেটিভলি উন্নত আর কোনো ব্যবস্থা ছিলো না যেখান থেকে পরীক্ষামূলক ধারণা অর্জন সম্ভব।

অক্টোবর বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে পৃথিবীর সামনে একটি বিজিত আদর্শ এবং পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ও শাষণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প স্বরূপ সমাজতন্ত্রই একমাত্র মাথা তুলে দাঁড়িয়ে ওঠা ব্যবস্থা। যদিও এই ব্যবস্থার অ্যাপ্লাইড ফর্মটা শ্লোগান আর সুন্দর সুন্দর বক্তব্যের মতো অতটা ঝাঁঝ ও পরিচ্ছন্ন ছিলো না, তবুও রক্তে জাগরণ তোলা কিংবা অন্য একটি নির্যাতিত অথবা নিজ অবস্থানগত হীন পরিস্থিতির কারণে মুখ থুবড়ে থাকা আদর্শের জন্য এটা অবশ্যই একটি উদ্দীপক উদাহরণ। তাই সাইয়্যেদ কুতুব শহীদ, ইমাম হাসানুল বান্না ও আবুল আ’লা মওদূদীর চিন্তাধারা ও বিশ্লেষণীতে সমাজতান্ত্রিক ইনফ্লুয়েন্স হয়তো এই দৃষ্টিভঙ্গিকে প্লুরালিস্টিক ওয়েতে প্রবাহিত করেনি। যার ফলে তাদের চিন্তা বা রচনার কোথাও প্লুরালিজমের বিপক্ষে হয়তো যায়নি, কিন্তু পক্ষপাত করা হয়েছে বলেও উদাহরণ তেমন একটা নেই। এবং তাদের সময়ে যেখানে সার্বিকভাবেই রাজনৈতিক আন্দোলনের অনুপস্থিতি ছিলো, সেখানে তারাই ছিলেন সর্বেসর্বা বা এর প্রবর্তক, তখন তো প্লুরালিজমের কথা মাথায়ও আসার কথা নয়। কেননা, কোনো কিছুর অভাব সেই জিনিসের অস্তিত্বের অভাবকেই প্রকট করে। আর যখন সেই জিনিস উপস্থিত থাকে তখন তার আধিক্যের বিষয়ে চিন্তা করা সম্ভব (যেমনটা আমরা এই পোস্টে পেয়ে থাকি)।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন: হ্যাঁ, আপনার মন্তব্যটা বেশ বাস্তবভিত্তিক। ভালো। অনেক ধন্যবাদ।

বুলেন লিখেছেন: আমার ব্যক্তিগত বিবেচনায় মনে হয়েছে, প্লুরালিজমের ধারণাটা আমাদের ইসলামী আন্দোলনে অটোমেটিক্যালি বিরাজ করছে সেই ‘৭৮ থেকেই। কিন্তু অন্যান্য প্রভাবকের কারণে মুখ খুলে কেউ স্বীকার করতে রাজি নয়। ইসলামী আন্দোলনের মূল ধারণাটা এই শতাব্দীতে যেইসব মহান লোকদের থেকে আসা, সরকারের ধারণা প্রসঙ্গে তারা সবাই একটা কর্তৃত্ববাদী সরকারের কল্পনাই করেছেন। প্লুরালিজমের ধারণাটাও উনাদের মাঝে অনেক পরে এসেছে। আর আমরা যারা ইসলামী আন্দোলন নিয়ে পড়াশোনা করেছি, সবাই কিন্তু মনস্তাত্ত্বিকভাবে সেইভাবেই অগ্রগামী।

আমার কাছে তাই প্লুরালিজমের ধারণাটা বড় সমস্যা বলে মনে হয় নাই। যা সবচেয়ে বেশি বড় মনে হয়েছে, প্লুরালিজম থেকে রেভ্যুলোশন পর্যন্ত নিতে হলে সব সংগঠনের মধ্যে যে পারস্পরিক ব্রিজ থাকা দরকার সেইটার মানসিকতা এখনো তৈরি হয় নাই। দেশে বর্তমানে নিরেট খেদমতে ইসলামী থেকে ইকামতে দ্বীনের জন্য যেইসব সংগঠন কাজ করছেন, সেই সংগঠনগুলোর মধ্যে কমন গ্রাউন্ড নাই। আর যখনই আপনি কমন গ্রাউন্ডের কথা বলবেন, বেশিরভাগই মনে করে নিবেন, সবাইকে মিলে এক সংগঠন হবার কথা! আপনি যেইভাবে আইডিয়াটা দিয়েছেন, সবাই যদি নিজ নিজ সংগঠনে যার যার দায়িত্ব পালন করত আর আন্তঃসাংগঠনিক কাজের এজেন্ডা ধীরে ধীরে বাড়াত, তাহলে একটা সময় বড় কিছু চিন্তা করতে পারত। কিন্তু আমাদের ইসলামী আন্দোলনে কেউই মাঝখানের (ইভলুশন প্রসেস) দায়িত্বগুলো পালন না করেই সরাসরি বিপ্লবের স্বপ্ন দেখেন!

আমাদের পুবের জামায়াত যখন পাওয়ার শেয়ারিং করে, তখন পশ্চিমের ইখওয়ানেরও (আংশিকভাবে) যেন তর সইছিল না কবে ক্ষমতায় যাবে! আর আমাদের জামায়াত যখন পাওয়ার শেয়ারিং করে ক্লান্ত তখন ইখওয়ানের মতো বিপ্লবের দিকে নজর একটু বাড়বে এইটা মনে হয় খুব স্বাভাবিক একটা মনস্তাত্ত্বিক ইস্যু। তাইতো, ইসলামী আন্দোলন আর ফ্রেশ রাজনীতির মাঝখানের পার্থক্যটা দাগ দিয়ে বুঝিয়ে দেয়াটার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। টার্কিশ মডেল তাই যতটা না শখের ব্যাপার ছিল, তারচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়তা ছিল। আমাদের দেশে টার্কিশ মডেল এডাপশানের তাই আমি বিরোধী নই, তবে রাজনৈতিক চাপের মুখে করা হলে, ব্যাক্তিগতভাবে অপছন্দ করেই যাব।

লাল বৃত্ত লিখেছেন: অনেক সুন্দর বলেছেন, তবে আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে প্লুরালিস্টিক মনোভাবের অনুপস্থিতি বা এই কনসেপ্টটা গ্রহণযোগ্য না থাকাটাই ব্রিজ বা আন্তঃসংযোগের অনুপস্থিতি নিশ্চিত করছে। কারণ অন্য কেউ আমার কিংবা আমাদের মতো একই কনসেপ্টে ভিন্নভাবে কাজ করতে পারে এই বিষয়টা মেনে নেয়ার মানসিকতাটাই ব্রিজ হওয়ার জন্য সহায়ক। এরপরেই না ব্রিজ গঠন।

তাছাড়া এই পুরো রাজনৈতিক আন্দোলন সংক্রান্ত বিষয়োটিই এখনো পরীক্ষামূলক অধ্যায় অতিক্রান্ত করছে, তাও ভিন্ন ভিন্ন আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে এক ভূখণ্ডের মানুষ আরেক ভূখণ্ডের কথা বিবেচনা করে কর্মপদ্ধতি প্রণয়ন করছে। সুতরাং, মডেল সংক্রান্ত অবয়বের একটা নিরেট উদাহরণ গ্রহণের সিদ্ধান্তে ভৌগোলিক বৈপরিত্ব তো কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দের সৃষ্টি করছেই।

বুলেন লিখেছেন: আপনি প্লুরালিস্টিক মনোভাবের অনুপস্থিতি দেখেতে পাচ্ছেন। কারণটা হচ্ছে– কেউ মুখ খুলে স্বীকার করছে না, পাছে না নিজের নেতৃত্ব শেষ হয়ে যায়! আমি এইখানে ব্যক্তির নেতৃত্ব বুঝাচ্ছি না, সংগঠনের নেতৃত্ব। তবে একটা বিষয় স্বীকার করা দরকার, বাংলাদেশে যারাই প্লুরালিজমের আইডিয়া নিয়ে এগিয়ে যান, উনারাই পরে প্রান্তিক অবস্থানে চলে যান। আর এই ব্যাপারটাই বর্তমান নেতৃত্বের বৈধতা ও কর্তৃত্ব বাড়িয়ে দেয়। অন্য কোনো দেশের ইসলামী আন্দোলনে বরং উল্টোটা ঘটে, নতুন আইডিয়া নিয়ে যারা এগিয়ে যান, তারা বর্তমান নেতৃত্বের ভিত কাপিয়ে দেন। উনারা তখন বাধ্য হন প্লুরালিজমের ধারণা স্বীকার করতে। তখনি ব্রিজ তৈরির মানসিকতাটার রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় বৈধতা পায়। বাংলাদেশে আপনি খেয়াল করবেন, ব্রিজ তৈরির জোশ তখনি উঠে যখন মাইরের ভয়ে থাকে। এই ব্রিজ তৈরির কাজটাকে যদি রাজনৈতিক কর্মসূচির মতো সাময়িক না করে দীর্ঘকালীন করা যেত, তাহলে আজকে আপনি সেই মানসিকতাটা নিজের চোখের সামনে উপলব্ধি করতে পারতেন। আমি তো ব্যক্তিগতভাবে প্রতি দুইটা সংগঠনের মাঝখানে ব্রিজ তৈরির জন্য আলাদা আলাদা থিঙ্কট্যাঙ্কের কামনা করি!

আপনার দ্বিতীয় প্যারাটায় সম্পূর্ণ একমত।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন: আপনার কথাগুলোর সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত। অনেক গুছানো মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

Salam লিখেছেন: আবু জারীর ভাইয়ের পোস্টে আপনার মন্তব্য আংশিক এবং মিসলিডিং, তাই ফাটায়ে দ্বিমত পোষণ করে এসেছি। এখানে এসে দেখি সব কিছু ঠিকঠাক।

আমার কাছে মনে হয়, সময়টাই হচ্ছে নিজে কিছু করে দেখানোর। বই-খাতা-কলম নিয়ে ইউসুফ আল কারযাভী হবার সুযোগ যেমন আছে, তেমনি আছে শাহ আব্দুল হান্নানের মতো প্রফেশনাল হওয়ার, অথবা ব্যারিস্টার রাজ্জাকের মতো সফল প্রফেশনাল কাম রাজনীতিবিদ হবার দরজার উন্মুক্ত। সারাদিন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের পায়জামার নিচে কতটুকু গন্ধ, তা খুঁজে বের করতে গেলে ১৩ জন নিয়ে গঠিত চৌদ্দ দলের প্রধান হওয়া ছাড়া কাজের কাজ তো কিছুই হবে না।

“জামায়াত কখনো চেঞ্জ হবে না।”– এটা নিতান্তই আপনার পারসেপশন থেকে বেশি কিছু বলে হয় না। এটার ভিত্তি সম্ভবত বর্তমান এবং নিকট অতীতের নেতৃবৃন্দের মানসিকতা। ভুল হলে বলবেন প্লিজ। আমার কাছে মনে হচ্ছে, টাইম স্কেলটা আরেকটু বড় করলে টানেলের প্রান্তে আলোর উপস্থিতি পাওয়া যাবে।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন: ভাই সালাম, আগে নেন অনেক অনেক নরম-গরম-পরম সালাম!!

জামায়াত কখানো চেঞ্জ হবে না– এটা আমার কনভিকশন। আমি নিশ্চয়ই অপেক্ষায় থাকবো না আপনার ধারণাগত পরিবর্তন দেখার জন্য। উল্টোভাবে বললে, আমি আমার বক্তব্য সঠিক দেখার জন্য কখনো অপেক্ষা করবো না। তবে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তবে-টা এই যে, আমি প্রায় নিশ্চিত করে বলতে পারি, একদিন বুঝবেন, আমি ঠিকই বলেছিলাম।

ব্লগে আমার লেখা বেশি নয়। যদিও এসবি ব্লগে একেবারে প্রথম দিকে যারা নাম লেখিয়েছিল, আমি তাদের একজন। তবুও দেখি ব্লগে অনেকে আমাকে চেনে। এর কারণ হতে পারে আমি সেই স্বল্পসংখ্যকদের একজন, যারা নিজ নামে ও পরিচয়ে লেখে।

তবে আমি ছাড়া অন্য কেউ জামায়াতের বিষয়ে এতটা স্পষ্ট কথা কনসিসট্যন্টলি বলেনি। আমি এখনো মনে করি, আমার ফোর পয়েন্টস সম্পূর্ণ কারেক্ট!!

আসুন না দেশে থাকলে সামনাসামনি কথা বলি!!?? ডাকলে আমি যাবো, যেখানেই হোক না কেন।

 ঈগল লিখেছেন: ধন্যবাদ, গোড়া থেকেই শুরু করতে হয়।

লাল বৃত্ত ভাইকে:  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম নুবূয়তের পূর্বে ব্যক্তিগতভাবে ছিলেন ১০০% সৎ এবং অনুকরণযোগ্য। হিলফুল ফুজুল এবং ছোটখাটো সমস্যা সমাধানে তিনি যথার্থ ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু নবূয়ুত প্রাপ্তির আগ পর্যন্ত তাঁর যেসব সংস্কারমূলক কাজ, তা কিন্তু সমাজ পরিবর্তনে আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারেনি। শুধুমাত্র ব্যক্তিগতভাবে তিনি যে ভিন্নমতালম্বী, তাই তীব্রভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

কিন্তু যখনই তিনি আল্লাহর একত্ববাদের দাওয়াহ দিতে শুধু করলেন, তখনই সমাজে সৃষ্টি হলো আলোড়ন। নতুন এই দাওয়াহ মক্কার প্রভাবশালীদের হৃদয়ে কম্পন ধরিয়ে দিল। প্রভাবশালীরা এই দাওয়াহকে মুছে দিতে চাইল। শুরু হলো মুসলিমদের প্রতি নির্যাতন।

এখনও এই নির্যাতন চলছে, নির্যাতন করার পদ্ধতির ভিন্নতা থাকতে পারে। কিন্তু তখনকার নির্যাতন হালকা ছিলো– এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। তাহলে ইসলামী আন্দোলনগুলোর এই দেওয়ালিয়াপনার কারণ কী? একটু নির্যাতিত হলেই হিকমার দোহাই দিয়ে তারা তাওহীদের দাওয়াহর কাজ থেকে দূরে সরে গিয়ে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রতি এত আগ্রহ কেন? একত্ববাদের দাওয়াহ দেওয়ার সাথে সাথে সামাজিক সংগঠন প্রতিষ্ঠায় কোনো খারাবি দেখি না। কিন্তু দুঃখ লাগে তখনই যখন দেখি তারা মিল্লাতে ইব্রাহিম থেকে সরে যায়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালামও ভিন্ন কৌশল করতে পারতেন। যেমন– তখন ছিল সুদের মহামারি, তিনি পারতেন জনগণকে প্রথমেই একত্ববাদের দাওয়াহ না দিয়ে সুদের বিরুদ্ধে জনসচেতনা বাড়াতে, এতে গরিবেরা দলে দলে তাঁকে সমর্থন করতো। তিনি পারতেন নারী আন্দোলন করতে, তিনি পারতেন আরবের ভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রভাবশালীদের সঙ্গে সংলাপে বসতে। এতে একসময় তিনি আরবের প্রভাবশালী নেতায় পরিণত হতে পারতেন। তারপরে তিনি নিজে অথবা অন্যকে দিয়ে শুরু করতে পারতেন আল্লাহর একত্ববাদের প্রচার করতে। তাহলে আশা করা যায় তিনি দ্রুততম সময়ে তাঁর বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী তৈরি করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তার কিছু্ই করেননি।

এর কারণ কী? কেউ কি এর ব্যাখ্যা দিতে পারবেন?

[আইডিয়া– সাইয়্যেদ কুতুব রহ.]

স্যার এবং লাল বৃত্ত ভাই– দুজকেই বলছি, প্রথম কমেন্টের প্রথম অংশ সম্পর্কে কিছু বলুন।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন: হ্যাঁ ভাই, ইমাম মেহেদী (রহ) আসলে যে রাষ্ট্র তিনি গড়ে তুলবেন, তা শ্রেষ্ঠ ইসলামী রাষ্ট্রসমূহের একটি হবে। তবে ইসলামী রাষ্ট্র আমার ধারণায় কোনো সিঙ্গেল এনটিটি নয়। যেমন রাসূলুল্লাহ (সা) যে রাষ্ট্র মদীনায় কায়েম করে গেছেন, তা শুরুতে ছিল এক রকমের আর শেষের দিকে ছিল ভিন্ন রকমের। মসজিদে কুবা প্রতিষ্ঠা ও তাতে জুমুয়ার নামাজ আদায়কে ধরা যায় ইসলামী রাষ্ট্র ঘোষণা, আর মদীনা সনদ স্বাক্ষরকে ধরা যায় সংবিধান প্রবর্তনের মতো ব্যাপার। প্রথম হিজরীর এই রাষ্ট্র কি ইসলামী ছিল না? কিন্তু এতে তো সুদ, মদ ছিল। হিজাব ছিলো না। মীরাছ ছিল না। ক্বিসাস ছিল না। দশম হিজরীর যে মদীনা রাষ্ট্র তা উন্নততর বা পূর্ণতর।

সুতরাং, ইসলামী রাষ্ট্রে বিভিন্ন পর্যায় আছে। বর্তমানে আমরা যা-ই করি না কেন, ইমাম মাহদীর মতো উন্নত তথা মদীনা-মডেলের কাছাকাছি রাষ্ট্র আমরা কায়েম করতে সক্ষম হবো না। বিষয়টা সহজ। ব্যাপার হলো ইমাম মাহদীর জন্য অপেক্ষা করে আমরা দ্বীন কায়েমের সর্বাত্মক চেষ্টা করার দায়িত্ব থেকে কোনো অবস্থাতেই রেহাই পেতে পারি না। কোরআন ও হাদীসের বর্ণনাগুলো হতে আমি এ-ই বুঝেছি।

Salam লিখেছেন: ব্যক্তি বা ক্ষুদ্রগোষ্ঠী পর্যায়ে নতুন যে কোনো ইতিবাচক ধারা গড়ে তুলতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার সাথে জামায়াত ‘হার্ড, ব্রিটল না ডাকটাইল’ এ বিষয় অপ্রাসঙ্গিক। এজন্যই আপনার এপ্রোচকে শুরু থেকে স্যালুট করি। এটাই মোস্ট পজিটিভ এপ্রোচ বলে মনে করি।

কিন্তু আমার শ্যালো দৃষ্টিভঙ্গির আশংকা হলো– কিছু ব্যক্তিবিশেষের অতি সমালোচকীয় সমালোচনার পদ্ধতিগত কট্টরপন্থা + আপনাদের মতো লোকদের কনভিকশন + বিরাট অংশের প্রচলিত স্ট্র্যাটেজিক হোলিনেসের প্রতি অন্ধত্ব = প্যারালাল একটা ‘জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’। ছাত্রশিবিরের সাম্প্রতিক আভ্যন্তরীণ বিশৃংখলা কিছুটা সাদৃশ্যপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে।

তবে আমি সবসময় আশাবাদী হয়ে থাকার যৌক্তিক পন্থা বের করার পক্ষে। সামষ্টিক শক্তি যতটুকু আছে, ততটুকুর ম্যাক্সিমাম ইউটিলাইজেশনের মাধ্যমে এগিয়ে যাবার পক্ষে। সেটা হতে পারে (১) কম্প্রিহেনসিভ অথবা (২) কমপ্লিমেন্টারি ওয়ে’তে, কিন্তু (৩) কম্পিটিটিভভাবে নয়।

ঈমানদারদের বিজয়ী করার ব্যাপারে আল্লাহর ওয়াদা তো মিথ্যা হতে পারে না। ১ নং এপ্রোচ অনুসারে অধিকতর ঈমানদারদের বিজয় দেখার অপেক্ষায় আছি আমি। আমার ধারণায় এটাই “খায়রুন ওয়া আহসানু তা’উইলা”। তাতে কারো আপত্তি থাকলে “তায়া’ওয়ানু আলাল বিররি ওয়াত তাক্বওয়া” এই নীতির ভিত্তিতে ২ নম্বরটাও মেনে নিতে আপত্তি নেই। কিন্তু ‘মতের ভিন্নতার সাথে পথের ভিন্নতা’ তৈরি করার মতো ৩ নং এপ্রোচের জন্য ঈমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার কিছু নেই। এটা মাঠে নামার আগেই ঈমানী পরাজয় স্বীকার করে নেয়ার মতো ব্যাপার।

পরিষ্কার করতে পারলাম কিনা জানি না। আমার ধারণার ভিত্তি হচ্ছে কোরআন থেকে আমার ব্যক্তিগত আন্ডাস্ট্যান্ডিং।

ইনশাআল্লাহ দেশে গেলে একদিন আপনার বাসায় দাওয়াত নেয়ার ইচ্ছা রাখি।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন: আমাদের এক ছাত্র/ছোট ভাই, হাশমত, বাইরে থাকবার সময় ব্লগে নিয়মিত লিখতেন, বিশেষ করে হাদীস। দেশে আসার পরে উনার লেখা আর নাই। তাই, দেশে আসলে ব্লগে বা ব্লগীয় বিষয়ে কতটুকু সময় দিতে পারবেন, আমার সন্দেহ। আমি সন্দেহবাদী লোক নই, তবে না বুঝেই আল্লাহ ভরসা টাইপেরও নই। আমি জীবনবাদী তাই আমি বাস্তববাদী তথা সমাজবাদী।

যাহোক, একটু কঠিন, বেশ কঠিন তথা একেবারেই অপ্রচলিত কথা বলি–

নেতৃত্ব তথা ভূমিকা পালনের এই প্লুরালিজমকে বুঝতে না পারায় মাওলানা মওদূদীর মতো লোকও খিলাফত নিয়ে উসমান-আলী’র দ্বন্দ্ব সংক্রান্ত সহীহাইনের বর্ণনাগুলোকে নাকচ করার কথা বলেছেন।

আপনি জানেন, উমর (রা) আহত হওয়ার পর ৬ জনের যে প্যানেল ঘোষণা করেন তাতে শেষ পর্যন্ত নেতৃত্বের দাবিদার থাকেন উক্ত দুজন যারা পরবর্তীতে ঘটনাবলীর ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে খিলাফতের দায়িত্ব পালন করেন।

গত মাসের সাপ্তাহিক সোনার বাংলায় অধ্যাপক গোলাম আজমের একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার ছাপানো হয়। এতে তিনি সামাজিক তথা গণনেতৃত্বের ক্ষেত্রে অবিলম্বে দায়িত্ব না চাওয়ার প্রচলিত সাংগঠনিক ঐতিহ্যকে ত্যাগ করার পরামর্শ দেন। আমার কাছে কপিটা আছে।

তাই, আমার মূল কথা যা বলেছিলাম, তাই থাকলো– দ্বন্দ্ব হবে, একেবারে বিপরীতও হবে, কিন্তু তাই বলে কেউ খারিজ হয়ে যাবে না।

বনি কুরাইজার যুদ্ধে স্বয়ং নবীর (সা) উপস্থিতি সত্ত্বেও সাহাবারা একই হুকুম সম্পূর্ণ বিপরীতভাবে আমল করেছেন। কেউ কেউ গাছ কেটেছেন, আবার কেউ কেউ ফলন্ত গাছ কাটা খারাপ মনে করেছেন। কেউ কেউ আছরের নামাজ ক্বাযা করেছেন, আবার কেউ কেউ তা করেন নাই।

সাহাবীদের মধ্যকার দ্বন্দ্বগুলোকে আমরা এক্সিডেন্ট বলে মনে করছি কেন? কেন সেগুলো প্লুরালিজমের সর্বোত্তম নমুনা হতে পারে না? নবী-রাসূলদের পরে তাঁরা তো মানবজাতির ইতিহাসের সর্বোত্তম মানুষ হিসাবে বিবেচিত এবং ঘোষিত। তাই না?

আমরা কেন জানি সবকিছুতে এক-কে খুঁজি। সবকিছু যথাসম্ভব এক করতে চাই। এটি একটি বিভ্রান্তিমূলক মানবিক প্রবণতা। যদিও জগতটা এক হওয়া সত্ত্বেও প্রত্যেকেই নিজের জগতে বাস করে। অতএব, প্রত্যেককে নিজের জগতে রেখে সেটিকে যাতে সে কাংখিত মানে সাজিয়ে নিতে, গড়ে তুলতে পারে, সেজন্য আমরা পরস্পরকে সহেযোগিতা করি। এভাবে সমাজ গড়ে উঠে। সব আইনের এটা হচ্ছে বৈধতার ভিত্তি। ওহী হচ্ছে এর প্রত্যয়ন।

এবার একটা হালকা কথা বলি–

প্রচলিত ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক কাঠামোয় গড়ে উঠা লোকজনেরা প্রতিবাদ, দ্বিমত, বিরোধিতা, বিভক্তি ইত্যাদি ধরনের প্লুরালিস্টিক নোশনগুলোর ব্যাপারে সাধারণত রিপাগনেন্ট [প্রত্যাখ্যান করার মানসিকতা] থাকেন।

ইসলামকে কেউ যদি বিদ্যমান মুসলিম সমাজের আলোকে বুঝেন তাহলে তিনি যেমন ভুল করবেন, তেমনি প্রচলিত কোনো ইসলামী সংগঠনের কাঠামোর আলোকে সর্বদা ইসলাম বুঝতে থাকলে সেটিও ভুল হবে। ইসলামকে বুঝতে হবে কোরআন-হাদীসের আলোকে এবং অখণ্ডিতভাবে।

ধন্যবাদ।

Salam লিখেছেন: প্লুরালিজম কি পলিটিক্যাল সাইন্সের কোনো টার্ম? এর আওতা বা পরিধি নিয়ে একটা ব্যাখ্যা দেন। সময় নিয়ে আরো কিছু বলার ইচ্ছা রাখি।

ঈগল লিখেছেন: সম্ভবত আমি আপনাদের যা বুঝাতে চেয়েছি তা বুঝাতে ব্যর্থ হয়েছি। ইনশাআল্লাহ সময় সুযোগ হলে অন্য সময় আলোচনা হতে পারে।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন: শুধুমাত্র সমাজ-সংস্কারমূলক কাজের মাধ্যমে ইসলাম কায়েম– এটি তো আমি বাস্তবসম্মত মনে করি না। তবে রাসূল (সা) যদি সমাজ-সংস্কারমূলক কাজে নবুয়তের আগে ও পরে তথা সর্বাবস্থায় নিয়োজিত ও নিবেদিত না থাকতেন তাহলে তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিবলে তিনি কি সফল হতেন? না, হতেন না।

শুধুমাত্র সমাজসেবা বা রাজনীতি বা যুদ্ধ দিয়ে হবে না। এ সবই লাগবে। এর সবগুলো বা কোনোটাকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র তত্ত্ব প্রচার দিয়েও কিছু হবে না। হয়নি।

টেকসই পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল পন্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি। আশা করি এবার একমত হবেন। ধন্যবাদ।

নোমান সাইফুল্লাহ লিখেছেন: আপনি যে বহুদলীয় ইসলামী আন্দোলনের আলোচনা তুলেছেন, এটা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরেই আলোচনা-সমালোচনা চলছে বা চলবে। রাষ্ট্র বলতে আমি যা বুঝি, কিছু নির্দিষ্ট আকাংখাকে কেন্দ্র করে যে ব্যক্তি সমষ্টি একটি স্বাধীন সার্বভৌম ভূখণ্ডে একত্রিত হয়, তাই রাষ্ট্র। খেলাফত এবং রাষ্ট্রের মাঝে নিশ্চয় তফাৎ আছে। তাহলে কি বিষয়টা এমন, ইসলামী রাষ্ট্রের কনসেপ্ট এখনো ক্লিয়ার কোনো কনসেপ্ট নয়? ইসলামী আন্দোলন কেন বিকল্প খুঁজবে? সময়ের সাথে মানিয়ে নেয়ার জন্য! তাহলে কি ইসলামী আন্দোলন যুগ যুগ ধরে শুধুমাত্র সময়ের সাথে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবে? অর্থ্যাৎ গণতন্ত্র কতটা ইসলামী কনসেপ্ট? সার্বভৌম ক্ষমতার ধারণা যদি ইসলামী রাষ্ট্র এবং গণতন্ত্রের মধ্যে ফারাক সৃষ্টি করে, তাহলে তো আগে সেই ফারাকটুকু দূর হওয়া দরকার।

আমরা তথা ইসলামী আন্দোলনের সমর্থকরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আকাংখা পোষণ করি কেন, যদি সেটা পরিপূর্ণ ইসলামসম্মত না হয়? আবার যদি মূল লক্ষ্য এবং গন্তব্য পরিপূর্ণ ইসলাম বেইজ না হয়, তাহলে খামাখা এইসব নিয়ে আলোচনা করে কী লাভ? আগে তো ইসলাম আছে কি নাই, এই আলোচনা দরকার। তারপর এর প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। ইসলামী দল ক্ষমতায় গেলেই কি সংবিধান আমূল পরিবর্তন সম্ভব? আর যদি সম্ভব না হয় তাহলে সমঝোতার মাধ্যমে কিছু সংশোধন, এটা তো স্থায়ী কোনো কিছু নয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এক দলের পর অন্য দল ক্ষমতায় আসে, বিদেশী প্রভূরা ক্ষমতা নির্ধারণ করে, জামায়াতে ইসলামীও দাদাদের পায়ে তেল মারে, তাহলে পরিপূর্ণ সার্বভৌম ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা কি এই সমঝোতার গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব? আমাদের গোড়াতেই গলদ আছে কিনা, সেটা বোঝার চেষ্টা করছি…..

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন: আসলে ভাই, আমার বুঝ মোতাবেক, ইসলামী রাষ্ট্র রাসূলের (সা) সময়েও ছিল যুগ-সমস্যার সমাধান; এখনও কোথাও হলে বা হয়ে থাকলে যুগ-সমস্যার (সর্বোত্তম) সমাধান হিসাবেই হবে।

ইসলামী রাষ্ট্র প্রচলিত ধারা হতে অনেক বেশি ও মৌলিক পরিবর্তন। এর মানে এই নয়, সম্পূর্ণ নতুন বা সব পরিবর্তন।

আপনি যেসব প্রশ্ন উন্থাপন করেছেন তার সাথে আমার ঐক্যমত বা দ্বিমত যা-ই থাকুক না কেন, স্বীয় বুঝ-জ্ঞান মোতাবেক প্রশ্ন করাটাই একটা বিরাট কাজ।

একটা জনপদে ইসলাম কায়েমের চেষ্টা বা প্রাথমিকভাবে কায়েমের পর তা টিকিয়ে রাখা বা এর সংশোধনের প্রচেষ্টা আর ইসলামী শাসন-কর্তৃত্ব – এ দুটো এক নয় বলে আমি মনে করি।

কর্তৃত্ব শুধু কর্তৃপক্ষের। কর্তৃপক্ষ গড়ে তোলা এবং এর সংশোধনের দায়িত্ব সবার। প্রতিটা নাগরিকের।

সমাজে ইসলাম কায়েমের বিষয়টাকে আমরা মসজিদে জামায়াত কায়েমের মতো এককেন্দ্রিক ভাবছি কেন?

একই জনপদে বসবাস করলেও আমাদের জগতগুলো আলাদা। সাংস্কৃতিক জগতের সাথে আপনি রাজনৈতিক জগতকে মেলাতে পারবেন না। পর্দার বিষয়ে মেডিকেল পড়ুয়াদের সাথে মাদ্রাসা পড়ুয়াদের এক করে দেখলে ভুল করবেন।

মদীনার সমাজে প্লুরালিজম ছিলো কি-না– এটি হলো মৌলিক প্রশ্ন। ধন্যবাদ।

মূল পোস্টের ব্যাকআপ লিংক

Leave a Reply