জামায়াতের উচিত ছিল…

১. দলের নাম:

যখন নির্বাচন কমিশনকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ জামায়াতের গঠনতন্ত্র নিয়ে টালবাহানা শুরু করে, তখন জামায়াতের উচিত ছিল স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রাজনৈতিক দল হিসাবে নিজের অন্তর্ভুক্তিকে প্রত্যাহার করে নেয়া। এবং সাথে সাথে ‘সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার পার্টি’ টাইপের একটা পার্টি কায়েম করে সেটির নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা।

এতে যেনতেনভাবে একটা ‘কম-ইসলামী’ গঠনতন্ত্র টাইপ করে সাইন করে দিয়ে শেষ রক্ষার এই ব্যর্থ চেষ্টা হতে বাঁচা যেত।

‘কামারুজ্জামান ফর্মূলা’ অনুযায়ী এই সম্ভাব্য মধ্যপন্থী দলটি জামায়াত আর বিএনপির মাঝে সমন্বয় করতে পারতো। নির্বাচনে জামায়াত ‘সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার পার্টি’কে সমর্থন দিতো।

এখনো সেটি করা যেতে পারে।

২. নামের ফযিলত:

ছাত্রশিবির না করে যদি ‘ছাত্র সংঘ’ নাম রাখা হতো তাহলেও ছাত্রদের একাংশ সে সংগঠনটি করতো। ফুলকুঁড়ি নাম না দিয়ে যদি ‘শিশু শিবির’ টাইপের কোনো সংগঠন কায়েম করা হতো তাহলেও কিছু শিশু-কিশোর সেটিতে থাকতো। ছাত্রশিবির না করে যদি ‘জামায়াতের ছাত্র শাখা’ রাখা হতো তাহলেও কিছু হেদায়েত নসীব হওয়া আল্লাহর বান্দা সেটিতে শামিল হতো। যেভাবে জামায়াতে ইসলামী নাম রাখা সত্ত্বেও ইসলামপন্থীদের একাংশ এই ‘বিতর্কিত’ সংগঠনের পতাকাতলে শামিল হয়েছে।

বাতিলের সাথে ইসলামপন্থীদের সংঘাতের ফোকাল পয়েন্ট ইসলাম ও কুফরের মতো গ্লোবাল ইস্যুর পরিবর্তে এ দেশে ১৯৭১ সালের মতো একটা নিতান্ত লোকাল ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইসলামপন্থীদের তাবৎ ক্রিয়া-কলাপ ঘুরপাক খাচ্ছে! নির্বাচন কমিশন হতে ‘ইসলাম ইস্যু’তে নিজেকে উইথড্র করে না নেওয়ায় জামায়াত ইসলামী আন্দোলনকে মূল স্রোতে রাখার দ্বিতীয় ঐতিহাসিক সুযোগ নষ্ট করেছে।

৩. আন্দোলন-সংগ্রামের তরীকা:

চলমান রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম তথা কর্মসূচি  বাস্তবায়নের জন্য জামায়াত-শিবিরের উচিত ছিল ‘যুব কমান্ড’ টাইপের একটা প্লাটফরম করা যারা সমাবেশ, মিছিল, ঘেরাও ও হরতালের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচি দিতো। জামায়াত ও শিবির সেগুলোতে সমর্থন দিতো। তাতে, আন্দোলন ও আদর্শ – উভয়টাই অনেক বেশি রক্ষা হতো।

এখনো সেটি করা যেতে পারে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণ:

বাংলাদেশের ইতিহাসে বৃহত্তম ছাত্র আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে ১৯৯১-৯২ সালে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সিনেটের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যকে কর্মরত বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে অপসারণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ এগারো মাস বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি অচল ছিল। তখন সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের মোকাবিলায় শিবিরের একজন সদস্যের নেতৃত্বে ‘সংগ্রামী ছাত্র ঐক্য’ নামে ‘সাধারণ ছাত্রদের’ একটা ফোরাম করা হয় যারা অবরোধ, হরতাল ইত্যপ্রকারের নেতিবাচক কর্মসূচিসমূহ ঘোষণা করতো, আর শিবির সেসব কর্মসূচির সমর্থনে মাঠে নামতো।

এ ধরনের কৌশল অবলম্বনের খেয়াল কি কারো হয়নি?

৪. রাজনীতি না বুঝে রাজনীতি করা:

জোর করে লোকদেরকে নিজেদের ‘বিকল্প সঠিক অবস্থানকে’ গ্রহণ করানোর চেষ্টা না করে লোকেরা যেভাবে বুঝে সেভাবে অ্যাপ্রোচ করা উচিত নয় কি? রাজনৈতিক সিদ্ধান্তসমূহের অদ্ভূত প্রকৃতি হচ্ছে, পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তকে ডিফাইন করে, যদিও উক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় পরবর্তী ঘটনা কারো জানা থাকে না। এজন্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্তসমূহ সর্বদাই ট্যানটেটিভ হতে বাধ্য। এক্ষেত্রে বিকল্প, এমনকি বিপরীত সিদ্ধান্ত বা অবস্থানসমূহও সমভাবে সঠিক হিসাবে বিবেচিত হতে পারে।

বনু কুরাইজাকে ঘেরাও করার সময়ে যারা ফলন্ত খেজুর গাছ কাটছিলেন আর যারা এটি সঠিক মনে করছিলেন না, তাঁদের উভয়বিধ সিদ্ধান্তকেই আল্লাহ তায়ালা সঠিক হিসাবে ঘোষণা করে অহী নাযিল করেছিলেন।

এমনকি জামায়াত যদি প্রথম থেকে অব্যাহতভাবে ৭১ ইস্যুকে এড্রেস করতো, তাহলে এতদিনে এটি মাঠে মারা যেতো। জামায়াত তো একাই ‘স্বাধীনতা’র বিরোধিতা করেনি, সকল ইসলামপন্থী পক্ষই পাকিস্তান রক্ষা করতে চেয়েছিলো। এমতাবস্থায় ৭১ নিয়ে খোলামেলা আলোচনাতে জামায়াত নেতাদের এত সংকোচ কেন?

প্রসঙ্গ:

রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেয়া নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। (১ আগস্ট, ২০১৩)

কারণগুলো হলো:

১. জামায়াত নীতিগতভাবে জনগণকে সকল ক্ষমতার উৎস বলে মনে করে না। সেইসঙ্গে আইন প্রণয়নে জনপ্রতিনিধিদের নিরঙ্কুশ ক্ষমতাকেও স্বীকার করে না।

২. গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুসারে কোনো সাম্প্রদায়িক দল নিবন্ধন পেতে পারে না। অথচ কাজে কর্মে ও বিশ্বাসে জামায়াত একটি সাম্প্রদায়িক দল।

৩. নিবন্ধন পাওয়া রাজনৈতিক দল ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গের কোনো বৈষম্য করতে পারবে না। কিন্তু জামায়াতের শীর্ষপদে কখনো কোনো নারী বা অমুসলিম যেতে পারবে না।

ফেসবুক থেকে নির্বাচত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Mohammad Ahsanul Haque Arif: ভালো পরামর্শ। তবে দেরি হয়ে গেছে হয়তো পরামর্শ দিতে, অথবা যাদের দিয়েছেন তাদের বুঝতে। আল্লাহ ভরসা। ইনশাআল্লাহ পরবর্তী স্টেপ ভালো হবে।

তাছাড়া জামায়াতের সামনে কেবল নিবন্ধন বাতিলের সমস্যা ছিল না। আরো কিছু বিষয় ছিল। সব মিলিয়ে দেখা দরকার।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: these suggestions were given by so many concerned ones earlier. But Jamaat has/had no time to ‘think’ …!?

Muslehuddin Shahed: জামায়াতের নেতৃত্ব কি এগুলো চিন্তা করা বাকি রেখেছে? সবই স্পেকুলেশন। কোনটা যে কাজ করবে বলা যেত না। মেষ-শাবককে খাওয়ার জন্য নেকড়ের ছল-চাতুরির অভাব হয় না।

Mohi Uddin: ৭১ পরবর্তী সময়ে ছাত্র সংঘ যদি ছাত্রশিবির হতে পারে তাহলে জামায়াতের আইডিএল হতে কী সমস্যা ছিল আমরা বুঝি না। জামায়াত নেতাদের বার বার অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে যথেষ্ট সম্ভাবনা সত্ত্বেও বাংলাদেশে ইসলামী শক্তির ক্ষমতারোহণ বিলম্বিত হচ্ছে। আমার মনে হয় এখনো সময় শেষ হয়ে যায়নি। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এখন।

Abu Zafar: to be frank, এই টাইপ আইডিয়াগুলো ডিজিএফআই ছাড়া আর কেউ ইমপ্লিমেন্ট করতে পারবে বলে মনে হয় না। Its high time to avoid ‘ucit chilo’ type phrases in policy thought. Who would form Jubo command? Who would work on it in this turmoil situation? You not cute Islamist go under BNPs umbrella rather mixing up BJI?

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: In case of national election without Jamaat, The worst situation for Jamaat would be to participate with BNP’s logo. In such a scenario, Jamaat should give individual candidates. It will not hamper the 4-party alliance, I think.

Sayedur R Chowdhury: Jamaat should have ditched its controversial leadership long ago, and revamp the party structure, name, constitution and agenda.

Shahed Kalam: It is high time to find out a way how to march forward to the goal with a very credible and acceptable way as Dawah towards Islam is never and cannot to be stopped for the true believers (Mu`minun). I hope a nice solution is to be adopted very soon. May Allah be with us.

Shahidullah Kazi: “এমনকি জামায়াত যদি প্রথম থেকে অব্যাহতভাবে ৭১ ইস্যুকে এড্রেস করতো, তাহলে এতদিনে এটি মাঠে মারা যেতো। জামায়াত তো একাই ‘স্বাধীনতা’র বিরোধিতা করেনি, সকল ইসলামপন্থী পক্ষই পাকিস্তান রক্ষা করতে চেয়েছিলো। এমতাবস্থায় ৭১ নিয়ে খোলামেলা আলোচনাতে জামায়াত নেতাদের এত সংকোচ কেন?”

স্যার, শুধু এই ইস্যুতেই যত সমস্যা । সাধারণ ছেলেদের উপর কাজ করতে গেলে এই পয়েন্টেই যত প্রবলেম হয়। আমরা যারা সাধারণ কর্মী তাদের অনেকেরই ন্যাশনালিজম বা এসব বিষয়ে ডিফেন্স করার মতো এনাফ নলেজ থাকে না। আবার কিছু পড়াশোনার মাধ্যমে জানা থাকলেও সেগুলো সব সময় ইফেক্টিভ হয় না। সত্যি কথা বলতে কি, শুধু সংগঠনের আনুগত্যের কারণেই অনেক কর্মী এ বিষয়টা এভয়েড করে যায়। কিন্ত বন্ধুদেরকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে এ বিষয়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: কোরআন শরীফে দাওয়াতী কাজের জন্য ‘মাওইজাতিল হাসানা’ বলতে যা বোঝানো হয়েছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক বিষয়গুলোতে তথাকথিত সাংগঠনিক প্র্যাকটিস তদনুরূপ নয়।

তারা চান, মানুষকে জোর করে ‘ইসলামের খাতিরে’ নিজেদের ভুলগুলোকে শুদ্ধ হিসাবে গেলাতে!

Shahidullah Kazi: ৭১ ইস্যুতে জামায়াত যদি নিজেদেরকে এখনও সঠিক মনে করে তাহলে এ বিষয়ে আমাদেরকে এনাফ নলেজ প্রোভাইড করা হয়নি কেন? অথচ মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের এ বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকা দাওয়াতী কাজের জন্যই প্রয়োজন। বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে ভাইয়ারা ক্লিয়ার কোনো কিছু বলেন না বা স্কিপ করে যান। তবুও আমরা না হয় মেনে নিলাম। কিন্তু বাকিদের কীভাবে বুঝাবো। স্যার, আমি এ জন্যই বলতেছি যে, নতুন কারো উপর কাজ করতে গেলে সর্বপ্রথম আমরা এ বিষয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি।

Mainul Quadery Sagar: Jamaat should keep two wings. One with name of Jamaat which will not participate in any politics. Another with any other name like social welfare or justice party. This party can do all the political activity. Also, this party should have member from all groups even women or non-Muslim.

Shahidullah Kazi: This kind of idea did not work in Egypt. I think Jamaat should develop a complete Islamic version in all aspect of society. The slogan of Morsi’s election campaign was renaissance is he people’s demand. but they failed. We have to change the constitution at first. To change the constitution, you have the majority in the parliament like two-third then Jamaat go to power. But they can’t lead the country I think, because then USA and INDIA will order or army to intervein and islamist in jail like in Egypt.

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: বিপ্লবের জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রের এক বা একাধিক কলামকে সম্পূর্ণ নিজের করে নিতে হবে। ছাত্র অংগন, ব্যবসায়ী, কৃষক, সেনাবাহিনী, ধর্মীয় সেক্টর ইত্যাদি হলো এক একটি পিলার। মিডিয়া, আমলাতন্ত্র, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি – এসব হলো সহযোগী ফ্যাক্টর।

গণতন্ত্রের মাধ্যমে বিপ্লবের প্রস্তুতি নেয়া যাবে বা নিতে হবে। গণতান্ত্রিক পন্থায় বিপ্লবের ধারনা বাস্তবতা বর্জিত। সরকার পরিবর্তন মানে বিপ্লব নয় যদিও বিপ্লবের মাধ্যমে সরকার ও সরকার ব্যবস্থায় পরিবর্তন হয়ে থাকে।

বিপ্লব ও গণতন্ত্র সহ প্রয়োজনীয় নোশনগুলো সম্পর্কে শীর্ষ জামায়াত নেতৃবৃন্দ স্বচ্ছ ধারনা রাখে কিনা জানিনা। আমার সন্দেহ, তাঁরা ইসলাম ও ইসলামী রাজনীতি নিয়ে একধরনের ফ্যান্টাসীতে ভোগেন। এ ধরনের কঠোর মন্তব্যের জন্য আমি দুঃখিত!

Mainul Quadery Sagar: Islamic party gone in power in Turkey with a different name called justice party. However, there was problem in Egypt because of the long-time army influence. In Egypt army took over not because of ideology, the army thought their influence is going down as democracy goes on.

I think this is the time Jamaat should start a new party with young leadership. Jamaat can still operate but their work should limit to Dawah and research. The other party will do all the political activity. As there is a question of equali arise, this party should include women and non-Muslim. Now Jamaat should follow Turkish model.

Khandoker Zakaria Ahmed: জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ হওয়ার যে কারণগুলো বলা হয়েছে, তার মধ্যে এক নম্বর ও তিন নম্বর (শেষ অংশ) কারণে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার সাথে জামাত কি দ্বিমত পোষণ করতে পারবে? আর এ কারণগুলো যদি বিরাজিত থাকে এবং দেশে প্রচলিত সংবিধান যদি তা মানতে অপরাগ হয় তাহলে বিচারকদের রায়কে আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

Ahmad Musa: আমার মনে হয় বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী আধুনিক চিন্তাভাবনা ও বাস্তবতার আলোকে যুগোপযোগী দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা ইতস্ততবোধ করে। অথচ জামায়াতের সম-আদর্শের বা সমগোত্রীয় বিশ্বের অন্যন্য দেশের তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক দল বা শক্তিগুলো স্থান ও জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক কৃষ্টিকালচার বিবেচনায় বিভিন্ন সমস্যাসমূহ মোকাবেলায় বহুমুখী কর্মপন্থা/কর্মকৌশল অবলম্বন করে অগ্রসর হচ্ছে। আলজেরিয়া, তুরস্ক, মিশরে বর্তমানে আমরা তা দেখতে পাচ্ছি। গোটা জাজিরাতুল আরবে ইখওয়ানুল মুসলেমিন একটি প্রধান তাত্ত্বিক-রাজনৈতিক-ধর্মীয় সংবেদনশীল শক্তি হলেও আরব আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বর্তমানে ইখওয়ান একটি তাত্ত্বিক দল হলেও ভিন্ন নামে তার আরেকটি রাজনৈতিক শাখা রয়েছে। আমাদের মতো একদম মাঠ পর্যায়ের সাধারণ কর্মীদের মধ্যে কেউ ‘পাঠচক্র’ ফোরামে এসব বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করলেও তেমন গুরুত্ব বহন করে না। কারণ সে এখনো ‘মানের কর্মী’ তথা ‘রুকন’ হয়নি। তাই তার কথাও সংগঠনের উচ্চ পর্যায়ে পৌছে না। অথচ আমাদের প্রতিবেশী ভারতেও বিগত ২০১০ সালে জামায়াতে ইসলাম হিন্দের পাশাপাশি আরেকটি রাজনৈতিক দল গঠন করেছে সেখানে ‘অল ইন্ডিয়া ওয়েলফেয়ার পার্টি’ নামে। এই দলের নেতৃত্ব পর্যায়ে আছে জামায়াতে ইসলামীর বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। বেশ কয়েক জন হিন্দু, খ্রীষ্টান ও বৌদ্ধকেও ঐ দলের নেতৃত্বে রাখা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী এখনো পর্যন্ত সেরকম ম্যাচিউরড সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী হয়ে উঠেনি। বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক সমস্যা মোকাবেলায় যে পথে লড়াই করছে তা কতটুকু সুদুরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে তা আল্লাহই মালুম।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: জামায়াত কখনো আপনার মন্তব্যের ভাষায় ‘ম্যাচিউরড’ হবে বলে মনে হয় না। তাই, কিছু করতে হলে, ‘জামায়াত অনুসন্ধান’ টাইপের চর্চাকে পাশে রেখে গঠনমূলক এজেন্ডা নিয়ে অগ্রসর হওয়া দরকার। অবশ্য সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে জামায়াতের প্রসঙ্গ আসতে পারে।

ভাবনার ল্যাম্পপোস্ট: ভাই, যাহা বাহান্ন তাহাই তিপ্পান্ন। খেয়াল করুন মিশর, তুরস্ক, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, জর্ডান, মরক্কো। এটা আন্তর্জাতিক রাজনীতি। তারপর আবার ইন্ডিয়ার প্রেসক্রিপশন। এই স্টাডিটাও রাখতে হবে। সো, জামায়াত হলেই কি আর ইসলামী সাম্যবাদী দল হলেই কি?

আইন মতে কি দেশ চলে! সো, আইনের চিন্তা করে লাভ নেই।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: ষড়যন্ত্র থাকবেই। তাই বলে ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসী হওয়া ভিন্ন ব্যাপার। আমার শত্রু আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, করবে বা করত পারে – এটি তো স্বাভাবিক। আমি পারছি না, কারণ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে – এটি হচ্ছে গোঁজামিল ও হীনমন্যতা।

আর আইন মোতাবেক সব হবে – এটি মনে করা হচ্ছে বাস্তবতাকে ভুল বুঝা। স্বয়ং আইনের সংজ্ঞাই হচ্ছে ‘সবলের উপর দুর্বলের ইচ্ছা’ ধরনের একটা ব্যাপার। সো…

Mohammad Nasir Uddin: আমার মনে হয়, আল্লাহ যা চেয়েছেন তাই হয়েছে। এই মুহূর্তে কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন তা জানতে চাই।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: Jamaat should follow right now the proposals of detained leader honorable Qamaruzzamn which were sent on 10th Nov, 2010 from central jail. You can find it here– http://priyoboi.blogspot.com/2000/04/blog-post_9.html

Mohammad M R Shamim: Time will say what will happen, but we find out many wrong decisions last 50 years of JI, need new policy but one thing we must follow The Qur’an in our personal life first, only qualified persons can lead JI & take proper decision in time.

লেখাটির ফেসবুক লিংক

Leave a Reply