ভালোবাসা ও সম্মান: স্বতঃস্ফূর্ত বনাম আরোপিত

Love grows, it cannot be made. It’s true for all other passions. It’s true for liking and disliking, respect and hatred, affection and repugnance.

ভালোবাসা গড়ে উঠে। চুক্তি করে ভালোবাসা যায় না। প্রেমের কোনো চুক্তি হয় না। চুক্তি হয় সংসার করার জন্য। বরং, চুক্তি হলো দাম্পত্য জীবনের ভিত্তি। ভালোবাসা এখানে হইলে ভালো, না হইলেও চলে; পক্ষদ্বয় যদি বৈবাহিক চুক্তির দাবি মোটামুটিভাবে পূরণ করে।

যা অন্তরের গভীরে থাকে না, তা বলাবলি করে, দিবস করে, আয়োজন করে, আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন করে দেখাতে হয়। যেমন কারো জন্য যথেষ্ট সম্মানবোধ অন্তরে না থাকলে তাকে দাঁড়িয়ে সম্মান দেখানো হয়।

সত্যিকারের মানবিক অনুভূতি মাত্রই স্বতঃস্ফূর্ত। অতিবেগুণী রশ্মির মতো অনিরুদ্ধ। উৎপন্ন হওয়া মাত্রই যা বিচ্ছুরিত হতে থাকে। সব ঠুনকো বাঁধাকে অনায়াসে মাড়িয়ে যা উপযুক্ত লক্ষ্যবস্তুতে ঠিকমতোই হিট করে।

শুদ্ধ অনুভূতি আনুষ্ঠানিক প্রকাশের অপেক্ষায় থাকে না। উদ্দীষ্ট ব্যক্তি ঠিকই জেনে যায়, তার সম্পর্কে কার কী অনুভূতি, যদি তার সেন্স নরমালি ফাংশান করে।

কাউকে দাঁড়িয়ে সম্মান না দেখানো যে আল্লাহর রাসূলের (সা.) সুন্নত, তা ক’জন জানে? হাঁটার সময়ে তিনি লোকদের পিছনে থাকতেন। অবাক কাণ্ড, তাই না? গুরুজনকে দাঁড়িয়ে সম্মান দেখানোর রীতি ভারতীয় উপমহাদেশে আচরিত ডমিন্যান্ট গুরুবাদী সংস্কৃতির অংশ।

কেউ বিদেশ হতে আসলে বা দূর দেশে রওনা করলে উনারা কখনো কখনো দাঁড়িয়েছেন, এমনটা দেখা যায়। কিন্তু স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আদবের অংশ হিসাবে কেউ কাউকে দাঁড়িয়ে সম্মান দেখানোর কাজকে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিষেধ করতেন। এমনকি উনার সম্মানেও কাউকে দাঁড়ানোর অনুমতি তিনি কাউকে দিতেন না।

[বি: দ্র: ভাবি নাই, এত অবভিয়াস বিষয়ে রেফারেন্স তুলে দিতে হবে। কিন্তু আমার একজন শ্রদ্ধেয়’র খণ্ডিত রেফারেন্স এবং আমার এক ‘দুর্বোধ্য’ বন্ধু-সহপাঠীর ততধিক বিভ্রান্তিকর রেফারেন্সের প্রেক্ষিতে ভাবলাম, মেশকাত শরীফের সংশ্লিষ্ট অংশ হতে টাইপ করে দেই। পরে ভাবলাম, কোন কোনো ‘অতি সতর্ক’ পাঠক হয়তো সেসব রেফারেন্সকে যথাযথ গুরুত্ব দিবে না। তাই মেশকাত শরীফের সংশ্লিষ্ট অংশ হতে সরাসরি দু’পাতার ছবি তুলে দিলাম। হাদীস আরও আছে। আপাতত এতটুকু। ১৪/১১/২০১৭ রাত ন’টা, চবি।]

ফেসবুকে প্রদত্ত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Shaker Ripon: ভাইয়া না দাঁড়িয়ে সম্মান দেখানো যে সুন্নাত এইটা জানতাম না। শুনিনি কখনো। অবাক হচ্ছি জেনে। ধন্যবাদ ভাইয়া। ভাইয়া একটা দলিল দিবেন, দরকার ছিল।

Mohammad Mozammel Hoque: আল্লাহর রাসূল (সা.) দাঁড়িয়ে সম্মান দেখানোকে নিষেধ করতেন। স্পষ্ট হাদীস।

Shaker Ripon: ভাইয়া, আমরা তো স্যার, বড় ভাই, মুরব্বিদের দেখলে বসা থেকে ওঠে সম্মান করি। না করলে বেয়াদব বলে। অমুকের ছেলে খুব বেয়াদব হয়ে গেছে। ভালো লাগল ভাইয়া। এই ধরনের লেখা চালিয়ে যান। আশা করি সামনে অনেক কিছু জানব।

Mohammad Mozammel Hoque: সম্মান হলো এক ধরনের ইতিবাচক মানবিক অনুভূতি। বাধ্যবাধকতা হলো নেতিবাচক প্রক্রিয়া। বাধ্য করে সম্মান আদায় করার ব্যাপারটা ‘ইচ্ছা করে ভুল করার’ মতো হাস্যকর ও অযৌক্তিক।

Masuk Pathan: রাসুল সা. যখন সাহাবীদের সামনে আসতেন তখন তারা সালাম জানাতেন। আর যাবার সময় তারা সকলে রাসুলের সা. সাথে উঠতেন এবং একটু এগিয়ে দিয়ে আসতেন।

এখন দুর্দণ্ড দানবীয় মানুষেরা বাধ্য করে সম্মান আদায় করে এবং তাতে সম্মান অনুভব করে।

Mohammad Mozammel Hoque: কেউ দূর দেশ হতে আসলে বা কারো দূর দেশে রওনা করার সময়ে, তারমানে রেয়ার অকেশনে উনারা পরস্পরের সম্মানে দাঁড়াতেন।

Sabuj Kabir: এই নিয়ে তো সেই কেয়াম এর সমস্যা!

Mohammad Mozammel Hoque: দরুদে ইব্রাহিম হলো সর্বশ্রেষ্ঠ দরুদ। সেটাই পড়া হয় নামাজের সময়ে বসা অবস্থায়। দাড়ানোর প্রভিশন কোথায়?

Sabuj Kabir: শিক্ষক হিসেবে ক্লাসে ছাত্ররা যদি দাঁড়িয়ে সম্মান জানায় তবে কি করা চিত

Mohammad Mozammel Hoque: আমি তো কখনোই কাউকে দাঁড়াতে দেই না। কেউ দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে বলি, “একটু কষ্ট করে বসে থাকেন। দাঁড়িয়ে বলতে বেটার ফিল করলে দাঁড়াতে পারেন।” ক্লাসে ঢোকার সময়ে অনুমতি প্রার্থনা, যাওয়ার সময়ে অনুমতি প্রার্থনা, এসব সব ফালতু গুরুবাদী শিক্ষাব্যবস্থার পরিণাম। গুরুবাদী শিক্ষাব্যবস্থা হলো একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা বা প্যাসিভ লার্নিং সিস্টেম। এবং সেটা অচল ও অকার্যকর। অতএব, পরিত্যাজ্য। education system must be interactive

Sabuj Kabir: এটা আমাদের মনে এমনভাবে ঢুকে গেছে যে প্রশিক্ষক হিসেবে এক জায়গায় আমি এভাবে দাঁড়াতে নিষেধ করলে অন্য প্রশিক্ষকরা আপত্তি তোলেন!

Omar Alfaruque: ঢোকবার আগে অনুমতি নেয়া তো সুন্নাত!

Mohammad Mozammel Hoque: “ঢোকবার আগে অনুমতি নেয়া তো সুন্নাত!” – এটি আনঅথরাইজড ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ক্লাসের স্টুডেন্টরা অলরেডি অথরাইজড। অনুমতি চাওয়ার মাধ্যমে ক্লাসের চলমান আলোচনাকে ইন্টারাপ্ট করা হয়। এটি দ্বিগুণ অপরাধ।

Omar Alfaruque: বুঝেছি স্যার! কমেন্ট করার পর আমারও মনে পড়েছিল ব্যাপারটি! ♥

Farid A Reza: ক্ব মু লি-সাইয়্যিদিকুম, এ হাদিসটির কথা আসা দরকার।

Mohammad Mozammel Hoque: “কেউ বিদেশ হতে আসলে বা দূর দেশে রওনা করলে উনারা কখনো কখনো দাঁড়িয়েছেন, এমনটা দেখা যায়। কিন্তু স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আদবের অংশ হিসাবে কেউ কাউকে দাঁড়িয়ে সম্মান দেখানোর কাজকে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিষেধ করতেন। এমনকি উনার সম্মানেও কাউকে দাঁড়ানোর অনুমতি তিনি কাউকে দিতেন না।”

আর আপনি যেইটা বললেন তা খাস তথা বিশেষ ব‍্যতিক্রম।

Farid A Reza: তা ঠিক। কিন্তু এটা বিবেচনায় না নিয়ে ‘না দাঁড়ানো সুন্নাত’ বললে আলোচনাটা অসম্পূর্ণ থাকবে বলে আমি মনে করছি। না দাঁড়ানো অসম্মান দেখানো নয় বা সুন্নাতের খেলাপ নয়। আবার সম্মানিত লোকদের জন্যে দাঁড়ানো খেলাফে সুন্নাত নয়। আবার এর মধ্যে দেশাচারও রয়েছে। কোন দেশাচার যদি গোনাহ না হয় তাহলে তা মানার মধ্যে কোন কল্যাণ থাকলে তা করা যেতে পারে। এটা আমার মত। ওয়াল্লাহু আ‘লাম।

Masuk Pathan: এসংক্রান্ত পুরো হাদিসটা জানার ইচ্ছা ইচ্ছে হচ্ছে। 🙂

Moinul Islam Nishat: স্যার, আমাদের ক্লাস দাঁড়ানোর অথবা না দাঁড়ানোর বিষয়ে যে স্বাধীনতা দিয়েছেন, সেটা কেবল আপনার দৃষ্টিতে আমাদের কেবল অধিকার ভাবতাম। এটা যে রাসূলের (সা) হাদীস সত্যিই আমি জানতাম না। # স্যার আপনাকে ধন্যবাদ।

Shahid Shahjada: শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করলে ছাত্র-ছাত্রীরা দাঁড়িয়ে যায়। এটির ইতিবাচক দিক আছে কি? এটি সুন্নত বিরোধী?

Mohammad Mozammel Hoque: definitely. To force to show respect is obviously bad, except in matters of spontaneous outcome of heartfelt respect.

Shahid Shahjada: তাহলে এর কোনো ইতিবাচক দিক নাই!

Mohammad Mozammel Hoque: definitely it has some minor positive aspects, so long, it is not imposed on the students as mandatory.

লেখাটির ফেসবুক লিংক

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে পড়াই। চাটগাইয়া। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *