বিয়ে হোক সহজতর। বিয়ে বহির্ভূত সব সম্পর্ক, অবাধ ‘বন্ধুত্ব’ হোক অসম্ভব-প্রায়।

তাদের সক্ষমতার প্রধান প্রকাশ ঘটে প্রজনন উর্বরতায়। তাদের জীবনে প্রধান বিনোদন হলো প্রাত্যহিক দাম্পত্য সম্পর্ক। নিত্যদিন তারা সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটায় ভূমিজ বা শ্রমঘন উৎপাদনে। তারা কারা? তারা ‘নিম্নশ্রেণীর’ খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। যাদের আমি ভালোবাসি। যাদের সাথে মিশতে ভালো লাগে। যারা আমাদের মতো শিক্ষিত পরজীবীদের চেয়ে ভালো।

“জন্মহার বৃদ্ধি ঠেকানোর জন্য এবং নারীস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য এ যুগে বাল্যবিবাহের বিরোধীতা করা হয় এবং তা করতে গিয়ে চাকুরির আগে, কখনও মিডলেভেল ক্যারিয়ারের আগে বিয়ে করাকেও নিরুৎসাহিত করা হয়। কিন্তু যৌবন বয়সে বিয়ের বিরোধীতা করা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে, কারণ তা স্বয়ং মানব জাতির অস্তিত্বকে হুমকিগ্রস্থ করে। পৃথিবীতে মানুষের এক নম্বর কাজ হলো, মানুষ হিসেবে অন্যান্য প্রাণীর সাথে প্রতিযোগিতা করে, পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে টিকে থাকা। অবশ্য এখন যে প্রাণীটির সাথে মানুষকে মরণপণ লড়াই করে বাঁচতে হয় সেটা আর কেউ নয়, মানুষই। তারপরও টিকে থাকার জন্য মানুষের বেস্ট ব্রিড, সাসটেইনাবল ব্রিডের গুরুত্ব অস্বীকার করা যাবে না। আর এই ব্রিড ও জীনগত উৎকর্ষতা বজায় রাখতে গেলে মানবজাতিকে তার পারফেক্ট বয়স সীমার মধ্যে বংশবৃদ্ধির পন্থা অবলম্বন করতে হবে।

আমরা ধান গাছ থেকে কোন বয়সে ধান চাই? কোন বয়সে একটি গরু হতে বাচ্চা চাই কিংবা ছাগল হতে ছাগল ছানা? শুধু মানুষের বেলায় কেন অন্যথা চাই? শুধু ডেমোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ করে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সাম্য আনা। কিন্তু মানুষের পক্ষে জগতের সাম্য এবং প্রকৃতির কারসাজি বোঝা দুরূহ ব্যাপার!

অনেকে গরীব ও অশিক্ষিতদের দোষারোপ করে এই বলে যে, তারা ইঁদুরের মতো বাচ্চা বিয়োয়। ভেবে দেখেন তো এ না হলে যে তাদের অস্তিত্বই থাকতো না। তাদের সক্ষমতার প্রধান প্রকাশ হলো প্রজনন ক্ষমতায়, প্রধান বিনোদন বিয়ে, সৃজনশীলতার প্রকাশ কৃষিতে। আটটা বাচ্চা নিলে চারটা মারা গেলেও চারটা থাকে বলেই তারা এখনো পৃথিবীতে টিকে আছে। তারা যদি দুইটা বাচ্চা নিতো, রোগে শোকে, দুর্যোগে, বিপর্যয়ে নির্বংশ হতে বেশিদিন লাগতো না। হয়তো যুক্তি দেয়া যাবে যে সন্তান সংখ্যা কম হলে তাদের জীবনমান উন্নত হতো, বাচ্চা মারা যেতো না। এখন নতুন বিপদের কথা শুনা যাচ্ছে, যারা উন্নত জীবন যাপন করে, কম বাচ্চা নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকে, তাদের নির্বংশ হওয়ার সময় এসেছে। এন্টিবায়োটিক বডি রেজিস্ট্যান্ট হয়ে পড়েছে। তাই দুয়েকটা বাচ্চা নিয়ে তাদের বাঁচিয়ে তোলা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এছাড়া বন্ধ্যাত্বের হারও বেড়েছে, ভবিষ্যতে যা ভয়ানক মাত্রায় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উন্নত দেশগুলো যুদ্ধব্যবসায় নিয়ে ব্যস্ত আছে বলে নতুন এন্টিবায়োটিক আবিষ্কারের দিকে তাদের মনোযোগ কম। এর ফলে অনুন্নত দেশ, যেখানে রোগের প্রকোপ বেশি সেখানে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।”

(Sarwar Kamal-এর স্ট্যাটাস। সূত্র: https://www.facebook.com/sarwar.kamal.526/posts/10208269276249868)

কাসেম না হয়ে কুসুম হওয়াটাই ছিলো তাঁর ‘অপরাধ’’ – ক’দিন আগে এই লেখাটার শুরুতে প্রসংগক্রমে বলেছিলাম, “এখনকার ষাটোর্ধ বয়সের সামাজিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত সুপার এলিট পেশাজীবীদের প্রত্যেকেই কিশোরী টিনএজ মায়ের সন্তান।”

কোনো বিষয়ে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ও প্রস্তাবনার সাথে জরুরী পরিস্থিতি তথা compatibility মুডকে যখন একাকার করে ফেলা হয় তখন এক ধরনের হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে। বিয়ে, বিশেষ করে নারীদের বিয়ের বয়স নিয়ে এখনকার সমাজ-মননে কিছু উদ্ভট মিথ তৈরি করা হয়েছে। কথা পরিষ্কার, যা প্রকৃতিবিরুদ্ধ তা কোনোক্রমেই সামাজিক রীতি হিসাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

যৌবন আসলেই যৌনজীবন শুরু হবে। এটিই তো স্বাভাবিক, তাই না? যৌবন আছে অথচ যৌনজীবন নাই, এটি কী করে হতে পারে? কেউ স্বাভাবিক দাম্পত্য যৌনজীবন যাপনে আগ্রহী, নাকি, কোনো বিশেষ ধরনের ব্যক্তিগত যৌনজীবনে অভ‍্যস্ত, সেটা প্রত্যেকের নিজস্ব ব‍্যাপার। অগত্যা পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক ধরে নিয়ে অযথা যুক্তিচর্চা করা অনুচিত! অবদমিত বা অস্বাভাবিক যৌনজীবন কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত না করলেও শেষ পর্যন্ত তা পারভার্টেড বা বিকৃত-ই বটে। এ ধরনের স্বভাববিরুদ্ধ জীবনধারাকে সমাজের ওপর আদর্শ হিসাবে চাপানোর চেষ্টা যারা করে তাদের আমি অপছন্দ করি। এড়িয়ে চলি।

কোদালকে কোদাল বলার সৎ সাহস থাকতে হবে। যৌনতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলার ক্ষেত্রে আমাদের এক ধরনের অতিসংবেদনশীলতা ও সংকোচ, ক্ষেত্রবিশেষে নৈতিক দুর্বলতা কাজ করে। উগ্র নারীবাদীরা এই সুযোগকে কাজে লাগায়।

“Feminism has downplayed the desire for women to have a family, while at the same time hyping the rewards of career and casual sex, not exactly a recipe for success or happiness.”

What Feminism Should Be/Tammy Bruce

লেখাটির ফেসবুক লিংক

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে পড়াই। চাটগাইয়া। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *