ভাইভা পরীক্ষা নিয়ে এসে আমার উপলব্ধি

আজ ৪র্থ বর্ষ বিএ অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার ভাইভা নেয়া শেষ করলাম। এক্সটার্নালের অনুপস্থিতি ও সিনিয়র শিক্ষকদের নানাবিধ ব্যস্ততার কারণে মূলত আমাকেই প্রায় শ’খানেক স্টুডেন্টকে সময় দিতে হয়েছে। যেমনটা কোনো এক স্টুডেন্টের স্ট্যাটাসে মন্তব্য হিসাবে বলেছি, শুরু হয়েছে B+ দিয়ে। যত সঠিক উত্তর তত নম্বর বৃদ্ধি। যা হোক, আমার কিছু রিয়েলাইজেশান হলো:

(১) আমরা ক্লাসে passive learning system-কে ফলো করি। যার ফলে স্টুডেন্টরা ইন্টারেক্টিভলি জানা-বুঝার সুযোগ পায় না। তালেগোলে কিছুটা জানলেও বলার অভ্যাস না থাকার কারণে জানা জিনিসও বলতে পারে না। সিরিয়াসলি নার্ভাস ফিল করে।

(২) শিক্ষকরা কখনো কখনো এলোপাতারি বা উপর্যুপরি প্রশ্ন করতে থাকে। তাতে একজামিনিরা হতচকিত হয়ে পড়ে। নাজেহাল বোধ করে।

(৩) অনেক স্টুডেন্ট রেজাল্টে যতটা ভালো ততটা ভালো বলতে পারে না। আবার অনেক স্টুডেন্ট বেশ ভালো বলতে পারে, যদিও তাদের রেজাল্ট ততটা ভালো নয়।

(৪) আমাদের পরীক্ষা পদ্ধতির ত্রুটির কারণে ফিলোসফি, বলা যায়, অলমোস্ট কিছুই না বুঝে অনেকেই পাশ করে যাচ্ছে।

(৫) কী করিলে কীভাবে বলিলে পঁচিশে পঁচিশ পাওয়া যাবে, তা আমি বুঝতে পারি নাই। সহকর্মীদের মনোভাব হলো, যতই ভালো বলুক, কিছুটা কমিয়ে দিতে হবে। অন্যদিকে কিছু না পারলেও সিক্সটি পারসেন্ট নাম্বার দিতে হবে। collective rationality-কে সম্মান করতে গিয়ে আমিও এটি মেনেছি। কিন্তু এর কোনো যুক্তি খুঁজে পাইনি। এ ধরনের গড়পরতা নাম্বারিংয়ে মূলত ভালো স্টুডেন্টরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

(৬) ক্লাশে খুব কমই টেক্সট পড়ানো হয়। অথচ, ভাইভাতে বিভিন্ন কোর্সের টেক্সটের নামধাম জিজ্ঞাসা করা হয়। ব্যাপারটি আমার কাছে স্ববিরোধী মনে হয়েছে।

(৭) ব্যক্তিজীবনে ইসলামিস্ট, এমন স্টুডেন্ট হতে ‘সাম্প্রতিক ইসলামী চিন্তা’ কোর্স হতে প্রশ্ন করে সদুত্তর পাই নাই। আবার ব্যক্তিজীবনে সক্রিয়ভাবে প্রগতিশীল রাজনীতি করে, এমন কোনো কোনো স্টুডেন্টকে বিংশ শতাব্দীর দর্শন কোর্স হতে মার্কসিজম সম্পর্কে প্রশ্ন করে সদুত্তর পাই নাই। বিষয়টা আমাকে অবাক করেছে। হতাশ হয়েছি। তাদেরকে বকাও দিয়েছি। জানি না, তারা এটিকে পারসোনালি নিয়েছে কিনা…!

যাহোক, সাহা নামের একটা মেয়ে সবচেয়ে ভালো করেছে। অথচ তার প্রিভিয়াস রেজাল্ট ভালো নয়…! She was astonishingly consistent in her answers.

তোমরা যারা গ্রাজুয়েশান কমপ্লিট করলে, তোমাদেরকে অভিনন্দন জানাই। ডিপার্টমেন্টে স্টুডেন্টদের ধরে রাখার মতো, আকর্ষণ করার মতো বিষয়াদির ব্যবস্থা খুবই কম হওয়া সত্ত্বেও তোমরা কমবেশি ক্লাশ করেছো, ডিপার্টমেন্টকে সরগরম করে রেখেছো, সামনের এক বছরের এমএ কোর্স তোমাদেরকে নিজেদের শুধরে নেওয়ার, এগিয়ে নেয়ার সুযোগ এনে দিচ্ছে। ভালো করার চেষ্টা করো। যারা ভালো করে পড়াশোনা করে তারা জীবনে উন্নতি করে। কোনো না কোনোভাবে। অতএব…

পোস্টটির ফেসবুক লিংক

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে পড়াই। চাটগাইয়া। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *