সময়ের আপেক্ষিকতা: ইসলাম বনাম বিজ্ঞান

দৃশ্যত খামখেয়ালিপূর্ণভাবে আমি এইটা ওইটা বিভিন্ন কিছু করে থাকি। আমার লেখা ও পোস্টগুলোতে গড়পড়তা এক-দেড়শ লাইক পড়ে। সেই হিসাবে আমি নিতান্তই গোবেচারা একজন ব্লগ-লেখক। এত কম রেসপন্স দেখে মাঝে মাঝে হতাশ হই।

এর বিপরীতে মাঝে মাঝে এমন হয় যে, তেমন সমঝদার-ওজনদার কেউ বলে, আপনার লেখাটা পড়েছি। অথবা, আপনার ভিডিও বক্তব্যটা মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। তখন খুব ভালো লাগে। একটু আগে সময়ের তত্ত্ববিদ্যা নিয়ে আমার দেয়া ভিডিও বক্তব্যটি সম্পর্কে এরকম একজন আমাকে জানালো, তিনি বক্তব্যটি ভালো করে শুনেছেন। বিষয়টি নিয়ে এরপর তিনি আমার সাথে কিছু আলোচনাও করলেন। বিশেষ করে তিনি আমার Omni clock hypothesis-কে সমর্থন ও সাপ্লিমেন্ট করলেন।

বেশ ভালো লাগলো।

সময়ের আপেক্ষিকতা নিয়ে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে যারা আমাকে বিভিন্ন মন্তব্য দিয়েছেন তাদের কাছে আমার প্রশ্ন,

ইসলামের বর্ণনা গুলার দিক থেকে দেখা যায় এই পৃথিবীর সামান্যতম সময় ঊর্ধ্ব জগতের জন্য অনেক দীর্ঘ সময়। অথচ আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সূত্র অনুসারে ঊর্ধ্ব জগতের সময় ধীরে চলার কথা। interstellar সিনেমাতে যেমন করে দেখা যায়, বহির্জগতের কয়েক ঘন্টা পৃথিবীর জন্য কয়েক দশকও হতে পারে।

এই phenomenon-এর ব্যাখ্যা কী হতে পারে?

ইব্রাহিম (আ), উযাইর (আ) প্রমুখ আল্লাহ তায়ালার কাছে জানতে চেয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন– যদি তোমরা না জানো, তাহলে যারা জানে তাদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করে নাও। সে হিসাবে আমি আপনাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাচ্ছি।

বিশেষ করে যারা বিজ্ঞানের সর্বশেষ আবিষ্কারকে সব সময় কোরআনের সাথে মিলাতে চান তাদের কাছ থেকে আমার জানতে ইচ্ছে করে, কোরআন হাদিসে বর্ণিত সময়ের আপেক্ষিকতা আর আপেক্ষিকতার সূত্র অনুসারে সময়ের আপেক্ষিকতা – এই দুইটা বিপরীতমুখী ও সাংঘর্ষিক কেন?

ফেসবুকে প্রদত্ত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Joynal Abedin Pathan: আমি এসএসসি-ইন্টারে বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম না, আপনি ছিলেন। ধর্মীয় গবেষণায়ও আপনি লেগে আছেন। তাই আমি মনে করি কোরআন-হাদিসে উল্লেখিত আপেক্ষিকতা আর আপেক্ষিকতার সূত্র হিসবে আপেক্ষিকতার বিষয়টি বিপরীতমুখী ও সাংঘর্ষিক কেন, এ সামান্য বিষয়টি আপনার না বুঝার কথা নয়। আপনিই বলে দিয়ে আমাদের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করে দিন। তারপর আমরা না হয় আপনাকে কোরআন-হাদীস ও বিজ্ঞানের জটিল কন্ট্রাডিকশনে নিয়ে গিয়ে আপনার কাছে আরো সমাধান চাইবো। @ Philosopher মোজাম্মেল ভাই।

Mohammad Mozammel Hoque: আমি তো ‘ইন্টারমিডিয়েট সাইন্স’। সাইন্সে যারা মাস্টার্স, বিশেষজ্ঞ ও গবেষক, তারাই তো ভালো বলতে পারার কথা।

Joynal Abedin Pathan: যারা সায়েন্সে মাস্টার্স তারা কোরআনিক সায়েন্সে ওয়াকিবহাল নাও হতে পারে। আমি মনে করি ফিলোসফির জেনুইন ছাত্র/ছাত্রীরা জ্ঞানের জগতে মোটামুটি অল রাউন্ডার। বিশেষ করে যারা স্টাডি-গবেষণা করে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক স্ট্যাটাস এমনকি লেখাপড়া কম হলেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উঁচু স্তরের লেশনধারীদেরও অনেক সময় তারা অতিক্রম করে যায়। ধর্মতত্ত্বেও দেখা যায় অনেক তথাকথিত আলেম-ওলামাও ধর্মীয় বিষয় ব্যাখ্যায় বাংলা শিক্ষিত লোকদের মতো সঠিক জ্ঞান দিতে পারে না। তাই বলছিলাম, শুধু বিজ্ঞান বুঝলেই হবে না, সাথে সাথে ধর্মীয় জ্ঞান-গবেষণা থাকতে হবে নতুবা ধর্মের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। তারা কোরআনিক সায়েন্স ও জেনারেল সায়েন্সের মাঝে সমন্বয় প্রমাণে ব্যর্থ হয়ে বিজ্ঞানকে সত্য এবং কোরআনিক সায়েন্সকে মিথ্যা বলার অপচেষ্টা চালাবে। আপনি যে এ বিষয়ে রিসার্চ করে যাচ্ছেন আমি আপনার এ মহতী প্রচেষ্টাকে সানন্দে সাধুবাদ জানাচ্ছি।

Mohammad Mozammel Hoque: জয়নাল ভাই, বাই দি বাই একটা কথা জিজ্ঞেস করি, এই ‘কোরআনিক সাইন্স’ জিনিসটা আসলে কী? ইয়ে মানে কোরআনের মধ্যে শুধু কি সাইন্স-ই আছে? আমরা যারা আর্টসওয়ালা তাদের কোরআনিক পজিশন কী? এমনিতেই, শুধু জানার জন্য জিজ্ঞেস করলাম আর কি…।

Joynal Abedin Pathan: ‘কোরআনিক সায়েন্স’ বলতে আলাদা একটা বিষয় আছে যেটি বিশেষ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়। কোরআনের ছয় হাজার ছয় শত ছত্রিশটি বাণীর মধ্যে প্রায় এক হাজার বিজ্ঞানময় বাণী আছে। কোরআনিক সায়েন্স বলতে বিশেষ করে সে সব বিজ্ঞানময় আলোচনাকে বুঝানো হয়ে থাকে। কোরআনের মধ্যে শুধু সায়েন্সই থাকবে কেনো? কোরআনে সায়েন্স ছাড়াও সাহিত্য, দর্শন, যুক্তিবিদ্যা, ইতিহাস, নৃতত্ত্ব, নন্দনতত্ত্ব, জ্ঞানবিদ্যা, ভুগোল, জ্যোতির্বিজ্ঞান, হিসাব বিজ্ঞান, গণিত, মনোবিজ্ঞান, নীতিবিজ্ঞান, রাজনীতি বিজ্ঞান, আইনবিদ্যা ইত্যাদি অগণিত বিষয় রয়েছে। কোরআন মহাবিশ্বের এক বিস্ময়কর আসমানী গ্রন্থ।

Mohammad Mozammel Hoque: তাইলে ‘Quranic arts’ এ রকম কোনো কিছু আশেপাশে দেখি না কেন?

Joynal Abedin Pathan: মোজাম্মেল ভাই, বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের যুগ। আধুনিক বিজ্ঞানের নানা বিষয়ের ব্যাখ্যার মূল সূত্র কোরআনে (সময়ের আপেক্ষিক মতবাদ/ ডিএনএ/ বিগ ব্যাং/ বিগ ক্রাঞ্চ/ গতিবিদ্যা/ স্থিতিবিদ্যা/ বিদ্যুৎ/ মধ্যাকর্ষণ/ অনু-পরমাণু/ ফিংগারিং/ উদ্ভিদ বিজ্ঞান/ ব্ল্যাক হোল ইত্যাদি) পাওয়া যাচ্ছে বিধায় কোরআনিক সায়েন্স বিষয়টাকে হাইলাইট করা হয়েছে। আপনি যদি কুরআনের কাব্য সাহিত্য নিয়ে ভাবেন, লিখেন, তখন আপনি কোরআনিক লিটারেচার বা কোরআনিক আর্টস নামেও কোরআনের সংশ্লিষ্ট বিষয়টার নামকরণ করতে পারেন। এমনি করে কুরআনের নৃতত্ত্ব, নন্দনতত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব ইত্যাদি নামেও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করতে পারেন, এমনকি গ্রন্থও রচনা কর‍তে পারেন। বস্তুত কুরআন জ্ঞানের সকল শাখার আলোচ্য বিষয়সমৃদ্ধ এক মহাগ্রন্থ।

Mohammad Mozammel Hoque: আধুনিক বিজ্ঞানের সবকিছু যদি কোরআনে থাকে ভবিষ্যতে যখন এই “আধুনিক বিজ্ঞান” নিতান্ত সেকলে হিসেবে অনাধুনিক বিবেচিত হবে এবং পরিত্যক্ত হবে, তখন কোরআনের অবস্থা কী হবে? তখন কি আমরা নতুন কোরআন বানাতে পারবো? বলাবাহুল্য, আমরা জানি, বিজ্ঞান কখনো স্থির থাকে না। এবং খুব সম্ভবত আমরা আইনস্টাইন পরবর্তী নতুন সাইন্টিফিক প্যারাডাইমের দ্বারপ্রান্তে উপনীত।

Joynal Abedin Pathan: মোজাম্মেল ভাই, বলেন কী! আপনাকে বুঝতে হবে বিজ্ঞানের আবিস্কার যত বাড়বে কুরআন ততই প্রাণবন্ত হবে, অন্য কথায় কুরআন বুঝা ততই সহজ হবে। আধুনিক বিজ্ঞানের যে তত্ত্বটি কুরআনের বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের সাথে মিলে যাবে সেটিই হবে পারফেক্ট ও চির অপরিবর্তনীয়। আর যেটি কুরআনের সাথে মিলবে না, বুঝতে হবে সেটি এক সময় না এক সময় পরিবর্তন হয়ে কুরআনের সাথে মিলে যাবে। যদি কখনো কোনোটি না মিলে তখন সেটিকে অশুদ্ধ ভেবে কুরআনেরটাই বিশুদ্ধ ধরে নিতে হবে। কারণ মানুষের বিজ্ঞান ভুল পথেও যেতে পারে, কিন্তু কুরআনের বিজ্ঞান কখনো ভুল পথে যেতে পারে না। আধুনিক বিজ্ঞান কেয়ামত পর্যন্ত কুরআনের বিজ্ঞানের কাছে ভিক্ষুকের মতো দাঁড়িয়ে থাকবে। কারণ আধুনিক বিজ্ঞান তো কেয়ামত পর্যন্ত প্রথম আকাশেরই তলা-গলা খুঁজে পাবে না অথচ কুরআনের বিজ্ঞান অনেক আগেই সপ্ত আকাশ পাড়ি দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা তো কসমিক রেডিয়েশন কোথা থেকে এসে প্রতিনিয়ত পরামাণুর ওপর ক্রিয়া করছে সেটাই বলতে পারছে না। ওপরে আপনার দ্বিতীয় কমেন্টে তো আপনি আবার অন্য প্রসংগে চলে গেলেন। আমি অসুস্থ মানুষ। এতো কিছু লিখতে আমার কষ্ট হয়। মৌখিকভাবে হলে এ বিষয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা লেকচার দিতে পারতাম। এনিওয়ে, আপনাকে আমার আর কিছু বলার নেই। আশা করি, আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তরটা ঠিকই পেয়েছেন। আল্লাহ হাফেজ।

Mohammad Mozammel Hoque: এক সময় মনে করা হতো মহাশূন্য ইথার নামক এক ধরনের ফেনোমেনা দ্বারা পূর্ণ। “ইথারে ইথারে ছড়িয়ে পড়েছে” – এ ধরনের কত সাহিত্যও রচিত হয়েছে। এখন বিশ্বের তাবৎ বিজ্ঞানীরা একসাথে হয়ে ইথারের ধারণাটা ভুল বলে বাতিল করে দিয়েছে। তো তখনকার বিজ্ঞানের ‘প্রমাণিত’ ধারণা হিসেবে “ইথারের কথা কোরআনেও আছে” – যদি এমন দাবি করা হতো তাহলে কোরআনের প্রামাণ্যতা নিয়ে এখন কি প্রশ্ন উঠতো না?

Joynal Abedin Pathan: আপনার এ প্রশ্নের জবাবটাও ওপরে দিয়েছি দেখুন। আল্লাহ প্রদত্ত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ও সত্যের কাছেই দুনিয়াবি বিজ্ঞান ঘুরে ফিরে আসতে বাধ্য। যেমন বিজ্ঞানীরা এককালে বলতেন Black hole মাত্র একটি আছে। কিন্তু কুরআন বলছে ( সূরা ওয়াকিয়া ৭৫ নং আয়াত) Black hole অসংখ্য আছে। আধুনিক বিজ্ঞানও বলছে Black hole অসংখ্য আছে। So, দুনিয়াবি বিজ্ঞানের এ তত্ত্বটি যখন কোরআনের বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের সাথে মিলে গেছে তখন এটি Universal truth-এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। যদি বিজ্ঞানের কোনো তত্ত্ব কুরআনের বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের সাথে কন্ট্রাডিক্ট করে তাহলে বুঝতে হবে কুরআনের বিজ্ঞানই সত্য, দুনিয়াবি বিজ্ঞান ভুল; নতুবা reality-কে realise করার জন্যে দুনিয়াবি বিজ্ঞানকে আরো গবেষণা চালিয়ে যেতে হবে। ধন্যবাদ।

Jahid Hasan Hridoy: স্যার, কুর’আনিক সায়েন্স বলতে কুর’আনে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি কিম্বা বায়োলজির আলোচনা বোঝায় না। বরং যে কোনো মেথডোলজিক্যাল জ্ঞানকেই সায়েন্স হিসেবে ধরা যায়। যেমন আমরা কমার্সের ছাত্ররা ‘হিসাব বিজ্ঞান’ পড়ি। এখানে লেনদেন সংক্রান্ত হিসাবের পদ্ধতিগত জ্ঞানের শাখাকে ‘হিসাব বিজ্ঞান’ বলা হয়েছে। কুর’আনিক সায়েন্সের ব্যাপারটাও ঠিক এ রকম, অর্থাৎ কুর’আনের পদ্ধতিগত জ্ঞান… 🙂

Mohammad Mozammel Hoque: তারমানে আমরা যারা আর্টস ফ্যাকাল্টির লোক আমরাও এই কোরআনিক সাইন্সের আওতাধীন? কেমন অদ্ভুত কথা! sounds like something is the ‘science of philosophy’.

Jahid Hasan Hridoy: জ্বী স্যার। ইট’স মোর লাইক সোশাল সায়েন্সেস। এই ডিসিপ্লিন মূলত ইসলামিক ট্র্যাডিশনাল স্টাডিজেরই অংশ। জাস্ট সোশাল সায়েন্সের মতো কোর’আনিক সায়েন্স নামকরণ করা হয়েছে। আসলে কুর’আনের ফিলোসফিক্যাল গ্রাউন্ড থাকলেও যখন এখান থেকে রিলিজিয়াস, সোশাল এন্ড কালচারাল কোডগুলো বের করে আনা হয়, তখন তা মূলত সোশাল সায়েন্সে পরিণত হয়! আরেকটু পার্সিয়ালি চিন্তা করলে বুঝতে পারবেন স্যার। 🙂

Mohammad Mozammel Hoque: তারমানে, আর্টস এন্ড হিউম্যানিটিজের সবকিছু শেষ পর্যন্ত ‘সোশাল সায়েন্সে পরিণত হয়’?

Joynal Abedin Pathan: মোজাম্মেল ভাই, সালাম নেবেন। বিদায় নিয়েও আপনাদের বিতর্ক দেখে পুনরায় ফিরে এলাম। আপনি ভাই সহজ জিনিসটা সহজে মেনে না নিয়ে অযথা জটিলতা সৃষ্টি করেন! অথবা আপনি নিজেকে প্রাধান্য দেয়ার জন্যে ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটা করেন কিনা তাও বুঝি না। ‘Quranic Science’ এর বঙ্গানুবাদ দাঁড়ায়– কুরআনের বিজ্ঞান। আর কুরআনের বিজ্ঞান মানে হলো কুরআনের ছয় হাজার ছয়শত ছত্রিশটি বাণীর মধ্যে কেবল বিজ্ঞানভিত্তিক বাণীগুলোর বিশেষ জ্ঞান। তার মানে পুরো কুরআনটাই বিজ্ঞান বা বিজ্ঞানের গ্রন্থ বুঝাচ্ছে না। কারণ কুরআনে সাহিত্য, দর্শন, কাব্য কলা, ভাষাতত্ত্ব, ইতিহাস, ভূগোল ইত্যাদি বিচিত্র বিষয়ও আছে। অতএব, ‘Quranic Science’-কে কুরআনের বিজ্ঞান বলেই বুঝুন। ‘Quranic Science’-এর বিকল্প অর্থ হলো ‘বিজ্ঞানময় কুরআন’। আর এটা যে প্রজ্ঞাময়/ জ্ঞান-বিজ্ঞানময় কুরআন তা তো আল্লাহ নিজেও বলেছেন। দেখুন– আল কুরআন, সূরা ইয়া-সীন, আয়াত নং ২। সবাইকে ধন্যবাদ।

Nure Elahi Shafat: কোরআনিক বিজ্ঞান/ইসলামী সায়েন্স কী, তা আমার কাছে খুব একটা স্বচ্ছ নয়। যেভাবে স্বচ্ছ নয় সেক্যুলার বিজ্ঞান কী।

আমি মনে করি, কোরআনে বিজ্ঞানচিন্তার ব্যাপারকে স্বয়ং খোদাই বলবৎ রেখেছে মানবজাতির নানা সক্রিয়তার পাশাপাশি বিজ্ঞানগত উন্নতির জন্যে। মানুষের অন্যতম খাসলতই হচ্ছে তাকে হতে হবে জ্ঞানবাদী, চিন্তাশীল, সৃষ্টিশীল। অন্যথায় সে মানবগোষ্ঠী/উম্মাহ আবিষ্কার, বিজ্ঞানচিন্তায় পিছিয়ে পড়বে। আল্লাহ কোরআনের মাধ্যমে এই সৃষ্টিশীলতাকে আগায়া নিতে নানান এঙ্গেল থেকে ইনসানদের আবিষ্কারের জন্য সমূহ চিন্তার প্রবৃত্তি কোরআনে কোড করেছেন। সেসব ইন্সট্রাকশনই বৈজ্ঞানিক চিন্তা। হতে পারে বিজ্ঞান। এখন তাকে বস্তুরূপে অন্বেষণ কিংবা আবিষ্কারের দায়িত্ব মানুষের। এটা কোরআনে বিজ্ঞানভাবনার সারকথা খুব সম্ভবত।

Mohammad Mozammel Hoque: কোরআনে বিজ্ঞান থাকা না থাকার কথা নয়। কথা হলো, আমরা লেখাপড়াকে যেভাবে নানান জ্ঞানকাণ্ড তথা ডিসিপ্লিনে ভাগ করি, কোরআনের জ্ঞানকে সেভাবে, অর্থাৎ, আর্টস, সায়েন্স, সোশাল সায়েন্স ও কমার্স হিসাবে স্বতন্ত্রভাবে ভাগ করতে পারি কি না?

Nure Elahi Shafat: কেন পারবেন না? কোরআন নাযেলের যেহেতু প্রেক্ষাপট, প্রসঙ্গ আছে। সে হিশাবে কোরআনের আয়াতের মধ্যেও নানান সিলসিলা, শ্রেণী আছে। যেমন জিহাদের আয়াত, আইনি আয়াত, বৈবাহিক আয়াত, বুদ্ধিবৃত্তিক তৎপরতাসহ ইত্যকার সম্পর্কে নানান কালাম। এভাবে সমাজবিজ্ঞান, আর্টস ইত্যাদিতে ক্লাসিফাইড হতেই পারে; কিন্তু তার মানদণ্ড/পরিচয় পশ্চিমা ঘরানা দিয়েই হতে হবে এমন কিন্তু নয়। যুগের সময়ে স্থানের পরিবর্তনে এর নানা এপিস্টেমোলজি, ভাব, চরিত্র নানাভাবে হবে। কারণ ফ্যাকাল্টিরর দিক দিয়ে কোরআন কোন সিঙ্গুলার পদ্ধতি নয়। প্লুরাল। সে হিশেবে এইটারে শুধু সমাজ বিজ্ঞান হিশাবে/আর্টস আকারে দেখা কোরআনের ভুল আন্ডারস্টেন্ডিং।

H Al Banna এটা পড়তে পড়তে হঠাৎ মনে হলো, আমরা মাথার মধ্যে অনেক কিছু কেমন হুট করে ভেবে ফেলি, অথচ ভাবনার জিনিসগুলোই কর্মের হিসাবে বা দুনিয়ার সময়ের হিসাবে অনেক লম্বা।

দুনিয়ার সময় জিনিসটাই আখেরাতে নাই বলে আমার ভাবনা। এইখানে সময় ছাড়া যেহেতু আমরা বুঝবো না, তাই সময়ের ডাইমেনশনের প্রাণী ঊর্ধ্বলোক থেকে ঘুরে আবার এখানে আসার কারণে এখানের সময়টা পার হতে না হতে সেখানের অভিজ্ঞতাগুলো অর্জিত হয়ে গেল। আমি ব্যপারটাকে দেখি ডাটার মতো। আখিরাত বা আল্লাহর জগত একটা অভিজ্ঞতা। সেই অভিজ্ঞতাটা সময়ের চেয়ে ভিন্ন কোনো ডাইমেনশনে অবস্থান করে। ধরেন একটা যাদুর কাঠি দিয়ে মাথায় স্পর্শ করে ১ হাজার বছরের অভিজ্ঞান ডাটা হিসাবে একটা স্পার্কের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হলো। এখন সময়ের প্রাণী হিসাবে এই জ্ঞানটা নিয়ে ভাবলে হয়ত এক হাজার বছরই অনুভব হবে।

আচ্ছা একটা উদাহরণ দেই। একটা ৩ ঘন্টার ভিডিও, সাইজ ২ গিগাবাইট। অথচ ৩ ঘন্টার ভিডিওর সাইজ ৩ ঘন্টা হতে পারত না? ঘন্টা আর গিগা সম্পূর্ণ আলাদা ডাইমেনশন। তাই দুনিয়ার সময়ের সাথে পরকালের হিসাব মিলাতে গেলে গোলমাল লাগবেই। সেটা টাইমলেস।

Mohammad Mozammel Hoque: সময়ের চেয়েও আসলে আমার বেশি আগ্রহ হলো যারা বিশ্বাস, যুক্তি ও অভিজ্ঞতাকে একাকার করে ফেলেন তাদের মনোভাব জানা। ইসলাম তথা কুরআন ও হাদীস সময়ের আপেক্ষিকতা নিয়ে যেটা বলে সেটা সাইন্স ফিকশন সিনেমা ইনসেপশনের মধ্যে দেখা যায়। সমস্যা হলো, ইসলাম তো আর সায়েন্স ফিকশন সিনেমা নয়! তাই ‘রিলেটিভিটি কোরআন-হাদীসে আছে’ – এই কথাটা খুবই মিসলিডিং।

জোবায়ের আল মাহমুদ: ১। সূরা ২৩/মুমিনুন -১১২-১১৪:

قَالَ كَمْ لَبِثْتُمْ فِي الْأَرْضِ عَدَدَ سِنِينَ

আল্লাহ বলবেন: তোমরা পৃথিবীতে কতদিন অবস্থান করলে বছরের গণনায়?

قَالُوا لَبِثْنَا يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ فَاسْأَلِ الْعَادِّينَ

তারা বলবে, আমরা একদিন অথবা দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছি। অতএব আপনি গণনাকারীদেরকে জিজ্ঞেস করুন।

قَالَ إِن لَّبِثْتُمْ إِلَّا قَلِيلًا ۖ لَّوْ أَنَّكُمْ كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

আল্লাহ বলবেনঃ তোমরা তাতে অল্পদিনই অবস্থান করেছ, যদি তোমরা জানতে?

২। সূরা ৭০/মা’আরিজ – ৪, ৫:

تَعْرُجُ ٱلْمَلَـٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ إِلَيْهِ فِى يَوْمٍۢ كَانَ مِقْدَارُهُۥ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍۢ . فَٱصْبِرْ صَبْرًۭا جَمِيلًا

“ফেরেশতাগণ এবং রূহ আল্লাহ তা’আলার দিকে ঊর্ধ্বগামী হয় এমন একদিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর। সুতরাং, তুমি ধৈর্য ধারণ কর, পরম ধৈর্য।”

৩। সূরা ২২/হাজ্জ – ৪৭:

وَيَسْتَعْجِلُونَكَ بِالْعَذَابِ وَلَن يُخْلِفَ اللَّهُ وَعْدَهُ ۚ وَإِنَّ يَوْمًا عِندَ رَبِّكَ كَأَلْفِ سَنَةٍ مِّمَّا تَعُدُّونَ

তারা আপনাকে আযাব ত্বরান্বিত করতে বলে। অথচ আল্লাহ কখনও তাঁর ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। আপনার পালনকর্তার কাছে একদিন তোমাদের গণনার এক হাজার বছরের সমান।

৪। সূরা ১৮/কাহাফ – ১৯:

وَكَذَٰلِكَ بَعَثْنَاهُمْ لِيَتَسَاءَلُوا بَيْنَهُمْ ۚ قَالَ قَائِلٌ مِّنْهُمْ كَمْ لَبِثْتُمْ ۖ قَالُوا لَبِثْنَا يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ ۚ قَالُوا رَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَا لَبِثْتُمْ فَابْعَثُوا أَحَدَكُم بِوَرِقِكُمْ هَٰذِهِ إِلَى الْمَدِينَةِ فَلْيَنظُرْ أَيُّهَا أَزْكَىٰ طَعَامًا فَلْيَأْتِكُم بِرِزْقٍ مِّنْهُ وَلْيَتَلَطَّفْ وَلَا يُشْعِرَنَّ بِكُمْ أَحَدًا

আমি এমনি ভাবে তাদেরকে জাগ্রত করলাম, যাতে তারা পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের একজন বললঃ তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ? তাদের কেউ বললঃ একদিন অথবা একদিনের কিছু অংশ অবস্থান করছি। কেউ কেউ বললঃ তোমাদের পালনকর্তাই ভাল জানেন তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ। এখন তোমাদের একজনকে তোমাদের এই মুদ্রাসহ শহরে প্রেরণ কর; সে যেন দেখে কোন খাদ্য পবিত্র। অতঃপর তা থেকে যেন কিছু খাদ্য নিয়ে আসে তোমাদের জন্য; সে যেন নম্রতা সহকারে যায় ও কিছুতেই যেন তোমাদের খবর কাউকে না জানায়।

৫। সূরা ১৭/বনী ইসরাঈল – ৫২:

يَوْمَ يَدْعُوكُمْ فَتَسْتَجِيبُونَ بِحَمْدِهِ وَتَظُنُّونَ إِن لَّبِثْتُمْ إِلَّا قَلِيلًا

যেদিন তিনি তোমাদেরকে আহবান করবেন, অতঃপর তোমরা তাঁর প্রশংসা করতে করতে চলে আসবে। এবং তোমরা অনুমান করবে যে, সামান্য সময়ই অবস্থান করেছিলে।

৬। সূরা ১০/ইউনুস – ৪৫:

وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ كَأَن لَّمْ يَلْبَثُوا إِلَّا سَاعَةً مِّنَ النَّهَارِ يَتَعَارَفُونَ بَيْنَهُمْ ۚ قَدْ خَسِرَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِلِقَاءِ اللَّهِ وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ

আর যেদিন তাদেরকে সমবেত করা হবে, যেন তারা অবস্থান করেনি, তবে দিনের একদন্ড একজন অপরজনকে চিনবে। নিঃসন্দেহে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আল্লাহর সাথে সাক্ষাতকে এবং সরলপথে আসেনি।

Mohammad Mozammel Hoque: তোমার দেয়া সব রেফারেন্স অনুসারে সময়ের আপেক্ষিকতার হিসাব বর্তমান বিজ্ঞানের দেওয়া আপেক্ষিকতা হিসাবের উল্টো। আমার প্রশ্নটা ঠিক ওই জায়গাতে। সময় আপেক্ষিক – এ নিয়ে তো কোনো বিতর্ক নাই।

জোবায়ের আল মাহমুদ: “আপনার পালনকর্তার কাছে একদিন তোমাদের গণনার এক হাজার বছরের সমান।”

স্যার, উপরোক্ত আয়াতগুলো থেকে আমি যতটুকু বুঝি, পৃথিবীর এক হাজার বছর আল্লাহর কাছে ১ দিন। অর্থাৎ, বহির্জগতের ১ দিন পৃথিবীর জন্য ১০০০ বছর। আপনার মতো করে বললে, “বহির্জগতের কয়েক ঘণ্টা পৃথিবীর জন্য কয়েক দশকও হতে পারে।”

Mohammad Mozammel Hoque: এখন তো কেউ এ প্রশ্নটাও করতে পারে, আল্লাহর কাছে ১ দিন কেন হবে? এক মুহূর্তও বা কেন হবে? তিনি তো সময় এর ঊর্ধ্বে। সেজন্য আল্লাহর কাছে একদিন আর মানুষের কাছে এক হাজার বছর, এ কথাটা এক দিক থেকে দেখলে যুক্তিবিরোধী বা কাউন্টার ইনটুইটিভ। যদি কথাটার অন্য কোনো প্রতীকী ব্যাখ্যা করা না হয়।

জোবায়ের আল মাহমুদ: স্যার, উপরোক্ত আয়াতগুলোতে কোথাও ১ দিন = ৫০,০০০ বছর বলা হয়েছে, কোথায় ১ দিন = ১,০০০ বছর বলা হয়েছে। আবার, কোথাও দিনের অর্ধেক বলা হয়েছে। সুতরাং, সময়কে মানুষের দিক থেকে দেখলে, এবং মানুষকে বুঝাতে হলে একটা একক ধরে নিতেই হচ্ছে।

কোর’আনে প্রতীকী অর্থে যদি বলা না হতো তাহলে ১ দিন = কোথাও ১ হাজার অথবা কোথাও ৫০ হাজার বলা হতো না।

Mahbubur Rahman Alam: ‘বিজ্ঞানভিত্তিক ইসলাম, বা ইসলামভিত্তিক বিজ্ঞান’ দুটোর কোনোটাই চরম সত্য বলে মনে হয় না, ভাইয়া। আমার জ্ঞানে মনে হয়, শুধু বিজ্ঞানভিত্তিক শব্দগুলোর ব্যাপারেই নয়, বরং কোরআনের আরো অনেক শব্দ, এমনকি বাক্যকেও, কোরআনের যে সেন্ট্রাল পয়েন্ট/থিম সে আলোকে পড়ে আপাত একটা অর্থ করে যেতে হবে। সমাজ বা পদার্থ মানে, পার্থিব জগতের বিজ্ঞানে মানুষ যত বেশি অগ্রসর হবে, তত নানান রকম অর্থ মানুষ খুঁজে পাবে। তাই পথটা ওপেন রাখতে হবে। আর মুসলিমদের ক্ষেত্রে, একত্ববাদে বিশ্বাস রেখে আপাত একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে নেবে যার জন্য যেটা দরকার। এমনকি শুধু জ্ঞান বা তথ্যের কমবেশির কারণে একই সময় ১০০ ধরনের বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে মানুষ কনভিন্স হয়ে কেউ আস্তিক কেউবা নাস্তিক হয়ে থাকবে/থাকছে। কাজেই আমরা যে ব্যাখ্যা দাঁড় করাই, সবটাই হচ্ছে বা হতে থাকবে আপেক্ষিক, সত্যটা মহান রবই জানেন এবং জানবেন। তবে মানুষ তার নিজেকে এবং অন্যকে কনভিন্স করার জন্য যৌক্তিক একটা অবস্থান খুঁজে ফিরতে থাকে এবং থাকবে। এটা মানুষের অন্তর্নিহিত যে বৈশিষ্ট্য, সে কারণেই দরকার হবে।

Mohammad Mozammel Hoque: এটাকে আমি আমার ভাষায় open interpretation within boundary হিসাবে বলতে চাই।

Mahbubur Rahman Alam: agreed… শুধু এই চিন্তাটা ধারণ না করার কারণেই একদল আলিম চরম শক্তভাবে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেন। তারা নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেন, কিন্তু চালিয়ে দেন আল্লাহ এবং রাসূলের কথা বলে। তারা অবশ্য না বুঝেই করে থাকেন বলে আমার মনে হয়।

Reaz Ahmed সাংঘর্ষিক কিছুই নেই, বরং বুঝতে হয়তো ভুল হয়েছে। ব্যাপারটা বরং উল্টো। পরকালের একদিন দুনিয়ার এক হাজার বছর ‘যেভাবে গণনা করো’ (মিম্মা তাউদ্দুন) (সূরা হাজ্জ্ব: ৪৭; আসসিজদাহ: ৫) এতে তো আইনস্টাইনের মত অনুযায়ী ধীরেই চলছে, তাই না? আমার মনে হয় আপনি এসব বিষয়ে ভালো কোনো গবেষক, আলেমের সাথে আলোচনা করেননি। খুবই ডাইনামিক যে কজন আলেম, যারা আধুনিক জ্ঞানেও সমৃদ্ধ, যেমন: Hamza Yusuf (Zaituna Institute, US), Nouman Ali Khan এদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করুন কিংবা অন্ততপক্ষে এ বিষয়ের ওপর উনাদের আলোচনা শুনুন।

Mohammad Mozammel Hoque: আমি আদার বেপারি। আমাকে জাহাজের খবর শুনায়ে লাভ কী? আমি যে এলাকায় থাকি সরকারি নথিপত্রে সেটার নাম হলো “জঙ্গল পশ্চিম পট্টি”। তৎপার্শ্ববর্তী গ্রামের নাম জোবরা। থানা: হাটহাজারী। বিভাগ: চট্টগ্রাম। বলতে পারেন, বাংলাদেশের এক কোনায় পড়ে আছি।

আপনার মন্তব্যে উল্লেখিত বড় বড় আলেমদের ধারেকাছে যাওয়ার কোনো ক্যাপাসিটি আমার নাই। আমার প্রশ্নটা খুবই পরিষ্কার। যেখানে দুনিয়ার সময় মহাজগতিক সময়ের চেয়ে দ্রুততর সেখানে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তো মিলে যায়। আর যেখানে মহাজাগতিক সময় দুনিয়ার সময়ের চেয়ে দ্রুততর সেখানে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সাথে সংঘর্ষ তৈরি হয়। কথাটা পরিস্কার।

এখন আমার এই ট্যাবে রাত ১২ টা ৪৯ মিনিট, এ কথাটা যতুটুকু সত্য আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সূত্র ততটা সত্য। এটি আমাদের পর্যবেক্ষণ নিরীক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা দ্বারা প্রমাণিত। যেখানে দুনিয়ার সময় ঊর্ধ্বলোক যথা মহাজাগতিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে ধীরগতির, সেইখানে একটা বৈপরীত্য এসে যায়। এর সমাধান কী?

নিছক এই প্রশ্নটা আমি জানতে চেয়েছিলাম যতটুকু মিলে ততটুকুকে হাইলাইট করে কোনোমতে একটা ‘উত্তর’ বানিয়ে দিলে তো হবে না।

Reaz Ahmed: কোনোমতে উত্তর বানিয়ে দিচ্ছি না বা দেয়ার মানসিকতা আমার নেই। এই আয়াতগুলো তো একদম পরিস্কার। সম্ভব হলে আমার এখন আপলোড করা ভিডিওটা কষ্ট করে একটু দেখুন। আর বাংলায় আমার জানামতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. শহীদুল্লাহ মৃধার ‘সময়ের বিচিত্র কাহিনী’ বইটাতেও সুন্দর আলোচনা এসেছে।

Ashiq Abdullah Hasan: আপেক্ষিক তত্ত্বে কোথাও নেই ঊর্ধ্বজগতে সময় দ্রুত বা ধীর হওয়ার কথা। এটা স্থানের সাথে সম্পর্কিত নয়। এই তত্ত্ব অনুসারে কোনো কিছু গতিশীল হলে তা স্থির অবস্থার তুলনায় তার time dilation বা সময়ের সম্প্রসারণ হয়। আমাদের জগতে যে সকল গতি আমরা দেখতে পাই তাতে এ বিষয়টি ধরা পরে না। কিন্তু কোনো কিছুর গতি যদি আলোর বেগের কাছাকাছি হয় তাহলে তা ইন্দ্রিয়গাহ্য হিসেবে ধরা পরবে। শুধুমাত্র পারমাণবিক জগতেই ইলেক্ট্রন, প্রোটন, নিউট্রন ও অন্যান্য অতি ক্ষুদ্র কণিকার ক্ষেত্রে এর বাস্তব অভিজ্ঞতা পাওয়া গিয়েছে। এই ঘটনা পৃথিবীতে বা পৃথিবীর বাইরে সকল ক্ষেত্রে ঘটতে পারে। অপরপক্ষে কোরআনের যে সকল আয়াতের প্রতি আপনি ইঙ্গিত দিয়েছেন সেখানে সময় আস্তে বা দ্রুত হওয়ার কোনো আলোচনাই নেই। কোরআনের মোট দুই জায়গায় সূরা হাজ্জ আর সূরা সাজদাতে আল্লাহর কাছে একদিন হাজার বছরের সমান বলা হয়েছে তা আগের পরের প্রেক্ষাপটসহ পড়লে প্রতীয়মান হয় যে এই কথা বলার উদ্দেশ্য আল্লাহ কোনো কাজ করার ব্যাপারে তাড়াহুড়া করেন না। অবিশ্বাসীরা অনবরত চ্যালেঞ্জ দিয়ে যাচ্ছিল যদি আমরা ভুল হই তাহলে আমাদের ওপরে শাস্তি নেমে আসছে না কেন? এরই জবাবে বলা হয়েছে আল্লাহ কোনো কিছুতে তাড়াহুড়া করেন না। এমনকি এক হাজার বছরও তার কাছে যেন এক দিনের বেশি কিছু নয়। তিনি মানুষকে অবকাশ আর সুযোগ দিয়ে পরীক্ষা করতে থাকেন আর ধৈর্যের পরিচয় দেন। কাজেই আপেক্ষিক তত্ত্ব আর কোরআনের উক্ত আয়াতসমূহের মধ্যে কোনো সম্পর্কই নেই। আশা করি বিষয়টা ক্লিয়ার হয়েছে।

Mohammad Mozammel Hoque: “কাজেই আপেক্ষিক তত্ত্ব আর কোরআনের উক্ত আয়াত সমূহের মধ্যে কোনো সম্পর্কই নেই” – এ কথা দিয়ে আমরা কি এতটুকু বুঝতে পারি, ‘কোরআন বিজ্ঞান গ্রুপের’ যেসব লোক আপেক্ষিক তত্ত্ব দিয়ে কোরআনকে সঠিক প্রমাণ করতে চান, তারা ভুল করছেন?

Ashiq Abdullah Hasan: হ্যাঁ, ঠিক তাই। কোরআনে বিজ্ঞান খুঁজে বেড়ানো এক রকমের পাগলামির পর্যায়ে পৌছে গেছে। নিজেরাও লাঞ্ছিত হচ্ছে, ধর্মকেও লাঞ্ছিত করছে।

Abdullahil Kafi: সময়ের তত্ত্ববিদ্যা নিয়ে বাংলা ভাষায় কেউ যে আলোচনা করতে পারে সে ধারণাও আমার ছিল না। সাধারণত এই বিষয়গুলো নিয়ে ওয়েস্টার্ন সাইনটিস্টদের কথা বলতে দেখা যায়। আপনার শেষ ভিডিওটা অসাধারণ ছিল, একবার দেখেছি, আরেকবার দেখতে হবে বলে সেভ করে রেখেছি। এত কম রেসপন্স দেখে আপনি যেমন হতাশ হয়েছেন, আমিও তেমনি হতাশ হয়েছি। তবে ঠিক অপজিট কারণে। ইসলামী আন্দোলনের ধরন নিয়ে আপনার একটা লেখা ছিল, ওটাই আমার প্রথম পড়া। আর সেখান থেকেই ফলো করা। আশা করছি আপনি আমাদের জন্য লেখালেখি চালিয়ে যাবেন, স্যার।

Mohammad Mozammel Hoque: আমার মতো সব লোকেরা দেয় মোটিভেশনাল স্পিচ আর আমার কথাবার্তা সব হলো রীতিমতো radical, non-traditional and demotivational.

anyway, I always speak my mind. maybe some people like it.

Yeasin Habib: According to theory of relativity there is no fixed frame of reference. So, time is a relative quantity. In actuality our universe is a four-dimensional universe with the fourth dimension being time.

So, for Allah as he created the universe and as he is not bound by time, the whole timeline of this universe is a but like a single moment for him.

In the holy Quran it mentions:

[Quran 2.117] He is the One Who has originated the heavens and the earth, and when He wills to (originate) a thing, He only says to it: ‘Be,’ and it becomes.

So, it seems he created the whole universe with all of its time in a single word.

Time is a relative quantity that is examplified multiple times in the Quran:

[Quran 22.47] They challenge you to bring forth that torture [in Hell] and Allah will not break His promise; a day of your Lord [Paradise/Hell promise] is like a thousand years of what you count.

[Quran 70.4] The angels and the Spirit will ascend to Him during a Day the extent of which is fifty thousand years.

Here, we see that in one verse a day for Allah is 1000 days for us, in the other verse a day for allah is fifty thousand years for us. So, it seems that these verses indicate Allah is beyond time.

Time is not but a dimension is reflected in the following verses

[Quran 7.54] And your Lord, Allah, who created the Heavens and the Earth in six days and then settled on the Throne…

[Quran 50.38] And we have created the Heavens and Earth and EVERYTHING IN BETWEEN in six days and We were not touched by fatigue.

[Quran 41.9] Say: “Is it that you deny Him [Allah] who created the Earth in two days? And you claim others to be equal to Him? He is the Lord of (all) the Worlds.”

If we look closely according to quran earth’s age is one third(2/6) of this universe which agrees with present day science (4.5 billion years of 13.5 billion years world).

Modern day science says that the universe is created in multiple phases i.e (big bang, dark ages, first star apperas, early galaxy appears, formation of the solar systems).
So, we see that when Quran mentions the universe was created in 6 days it actually means phases that occured till now.

[Quran 41.9-12] Say: “Is it that you deny Him [Allah] who created the Earth in two days? And you claim others to be equal to Him? He is the Lord of (all) the Worlds.” He set on it (Earth) mountains, and bestowed it with blessings. And [Allah] estimated all its sustenance in four days, equally for those who ask AFTER THIS (Thumma in Arabic) [Allah] commanded the heaven and it was still smoke. He said to it and to Earth: “Come together, willingly or unwillingly.” They said: “We do come together, in willing obedience”. So [Allah] judged them as seven heavens (one above the other) in two days and revealed to each heaven its orders. And We [Allah] adorned the lowest heaven with lights, and protection. Such is the decree of the Exalted; the Knowledgeable.

Here, when “after this” is mentioned, it is not meant in chronological order.

Here, we see that in the begining the universe mainly comprised of gas(smoke) and we also see the formation of stars due to gravity (Come together, willingly or unwillingly).

Mohammad Mozammel Hoque: “কোরআন ও বিজ্ঞানের মধ্যে মিল আছে। থাকতেই হবে। বেমিল থাকার সুযোগ নাই” – এই ধরনের মন মানসিকতা নিয়ে দেখলে সাদৃশ্য বা মিল দেখানো খুবই সহজ। খোলামেলা যুক্তি-বুদ্ধির দৃষ্টিতে অবশ্য কিছু যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন এসেই পড়ে।

উপরে একটা মন্তব্যে বলেছি, আপেক্ষিকতার বৈজ্ঞানিক সত্যের সাথে কুরআনের বর্ণনার মিলও আছে, বৈপরীত্যও আছে। কোরআনের বর্ণনাকে যদি আমরা বৈপরীত্য মুক্ত হিসেবে দেখি তাহলে বলতে হবে আপেক্ষিকতা উভয় দিক থেকে সাপেক্ষ হতে পারে। কিন্তু আইনস্টাইনের রিলেটিভিটি অনুসারে তা সর্বদা একদিক থেকে গণনাযোগ্য বা সত্য। সেটি হলো, স্থির পর্যবেক্ষকের তুলনায় ঊর্ধ্বলোকে গতিশীল যে কোনো কিছুর সময় slower হবে।

Yeasin Habib: dear Sir, আল্লাহর জন্য কি আপেক্ষিকতা প্রযোজ্য? অর্থাৎ, তিনি যদি এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করে থাকেন তাইলে তাঁকে অবশ্যই এই মহাবিশ্বের বাইরের একটি entity ধরতে হয় । সময়ের কনসেপ্ট কি তখন তার জন্য প্রযোজ্য হবে? কারণ, আমরা জানি সময় শুধুমাত্র এই মহাবিশ্বের একটি dimension। এর একটি উদাহরণ হলো– আল্লাহ জাহান্নামকে past, present and future tense-এ উল্লেখ করেন। এর থেকে কি এই ধারণা হয় না যে যেটা আমাদের জন্য সময়, সেটা আল্লাহর জন্য শুধুমাত্র একটি জানা সত্য?

This is only my understanding and Allah knows best.

Mohammad Mozammel Hoque: জনাব Reaz Ahmed, আপনি তো সাংঘাতিক আপত্তিজনক একটা ভিডিওর লিংক দিলেন। সাড়ে সাত মিনিটের ভিডিওতে কোরআনের কথা আসলো 5 মিনিট পরে। সময়ের আপেক্ষিকতা নিয়ে তো কোনো বিতর্ক নেই। বিতর্ক হলো সময়ের আপেক্ষিকতার অভিমুখ বা ডাইরেকশন নিয়ে। কুরআন ও হাদীসের যেসব উদ্ধৃতি বর্তমান বিজ্ঞানের সাথে মিলে না সেটা নিয়ে আমরা কী করবো, সেটা ছিল প্রশ্ন।

এমনকি, আপনার কথা মতো কোরআন এবং আইনস্টাইনের সূত্র যদি একই হয় তাহলে সেই ‘কোরআন বিজ্ঞান গলাগলি’র সূত্র মোতাবেক আলোর গতি কনস্ট্যান্ট। এটি যদি সত্য হয় তাহলে কোয়ান্টাম ফিজিক্সের বিভিন্ন বিষয় বিশেষ করে কোয়ান্টাম এন্টেঙ্গেলমেন্টকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন? “আলোর গতি হলো সর্বোচ্চ গতি এবং সেইটা ফিক্সড” – এই কথাটা তো অত্যন্ত স্থূলভাবে কোরআনের এতদসংশ্লিষ্ট আয়াতগুলোর সাথে সাংঘর্ষিক।

ইসলামী সম্ভার: স্যার, আমি কিন্তু আপনার দার্শনিকতার চরম ভক্ত।

Mohammad Mozammel Hoque: philosophy is in between science and religion. মজার ব্যাপার হলো, যারা বিজ্ঞানবাদী, তারা সরাসরি ‘ধর্ম নাকি বিজ্ঞান’ – এ রকম একটা বাইনারিতে চলে যায়।

এর বিপরীতে, যারা ধর্মবাদী তথা ডগমেটিক বিলিভার, তারাও সরাসরি ‘ধর্ম নাকি বিজ্ঞান’ – এই রকম একটা বাইনারিতে সরাসরি চলে যায়।

প্রথম পক্ষ বিজ্ঞানের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন। দ্বিতীয় পক্ষ ধর্মের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন। অথচ, ধর্ম তথা বিশ্বাস ব্যবস্থা এবং বিজ্ঞান তথা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা – এই দুই ডোমেইনের মাঝামাঝি হচ্ছে যুক্তির ময়দান তথা ফিলোসফির ডোমেইন।

এ বিষয়ে আমি একটা ডায়াগ্রাম তৈরি করেছি। কয়েকদিনের মধ্যেই পোস্ট করব ইনশাআল্লাহ। যাতে আমি দেখাবো, পর্যবেক্ষণ তথা বিজ্ঞান, যুক্তি তথা দর্শন এবং বিশ্বাসব্যবস্থা যাকে আমরা ধর্ম বলি, এগুলোর মধ্যে সম্পর্কটা হচ্ছে হায়ারারকিক্যাল। এগুলো পরস্পর পরস্পরের বিকল্প হতে পারে না।

Sabuj Kabir: বিষয়টা ঠিক বুঝতে পারছি না। তবে মরহুম ড. শহিদুল্লাহ মৃধার সময় সংক্রান্ত এক লেখায় পড়েছি ভিন্ন ডাইমেনশনে সময় উল্টোমুখীও হতে পারে। আলোর গতির ঊর্ধ্বেও গতি থাকতে পারে। এর সাথে কুরআনের ব্যাখ্যার কন্ট্রাডিকশন বা সমন্বয় কোনোটার দরকার আছে বলে মনে হয় না। কারণ, তাওহীদের প্রমাণের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

Mohammad Mozammel Hoque: তাওহীদ যদি কারো কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, তার কাছে আলোর গতি বা এ সংক্রান্ত কোনো বিষয় কোনো মেজর পয়েন্ট হতে পারে না। ‘সময়ের তত্ত্ববিদ্যা ও বৈপরীত্যের দর্শন’ বিষয়ক আমার যে আলোচনা, সেখানে আমি গণিতের সাধারণ নিয়ম ব্যবহার করে ‘নেগেটিভ টাইম’ বলে একটা জিনিসকে দেখিয়েছি। যেটি হচ্ছে সময়হীনতার সময়।

আমার কথা হলো, বিজ্ঞান দিয়ে ধর্মকে যাচাই করার পদ্ধতিটাই ভুল। এটি বিজ্ঞানের দিক থেকেও ভুল। ধর্মের দিক থেকেও ভুল। ধর্মটা বিজ্ঞানবিরোধী নয়, নিছক এতটুকুর মধ্যে থাকাটাই যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করি।

Sabuj Kabir: সমস্যাটা আমার মনে হয় ধর্মবিরোধীরাই সৃষ্টি করে, যারা বিজ্ঞান দিয়ে ধর্মকে ভুল প্রমাণ করতে চেষ্টা করে। যার বিপরীতে ধর্ম ও বিজ্ঞানকে এক করার মতবাদ সৃষ্টি হয়েছে।

Mohammad Mozammel Hoque হতে পারে

Yeasin Habib: কোন ধারণাকে বিশ্বাসযোগ্য হতে হলে তার মধ্যে অবশ্যই যুক্তি থাকতে হবে, যার সাথে existing knowledge-এর কোনো অসঙ্গতি নাই । যে ধারণাতে অসঙ্গতি আছে তা বিশ্বাস না করাই শ্রেয়। আবার যে ধারণার কোনো অসঙ্গতি নাই তা তো একটি জানা সত্য (known fact)। এতেও বিশ্বাস করার কোনো মানে নাই।
২ + ২ = ৪ এটা বিশ্বাস করার কোনো মানে নাই, কারণ এটা observational truth। প্রকৃতির সব কিছুই আমাদের কাছে সেন্স তৈরি করে, কিন্ত কোনো কিছুই আমাদের পক্ষে পুরোপুরি উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। প্রকৃত সত্য উপলব্ধির বাইরে। সৃষ্টিকর্তার ধারণা এবং প্রকৃত ধর্ম একই বৈশিষ্ট্য বহন করা দরকার। না হলে তা পরীক্ষা হতো না।

যে সত্য সর্বদা বিদ্যমান, তা উপলব্ধি করা মানবের পক্ষে দুষ্কর। এর একটি উদাহরণ হলো– বাতাস আমাদের উপর প্রচণ্ড চাপ দেয়, কিন্তু সেই চাপ ভূমিতে সর্বদা সমান এবং উপস্থিত বলে আমরা তা উপলদ্ধি করতে পারি না। মহাবিশ্বের সর্বত্র যদি একই রঙের, একই তীব্রতার আলো থাকতো, তাইলে আমরা সেই আলো দেখার মতো ইন্দ্রিয় আমাদের তৈরি হতো না (কারণ, এর মধ্যে কোনো তথ্য নেই)।

সৃষ্টিকর্তার ধারণা এমনই হওয়া উচিত ।

কোরআনে অনেক ambiguous আয়াত আছে যেগুলোর সাথে আমরা বর্তমান বিজ্ঞানের সাদৃশ্য পাই । এর দ্বারা নিশ্চিত হওয়ার কোনো কারণ নেই যে আয়াতগুলো দ্বারা আমাদের ধারণাকৃত বিজ্ঞানকে ইঙ্গিত করা হয়। আবার আমাদের একই সাথে চিন্তা করতে হবে ১৪০০ বছর আগে আয়াতগুলো কী জন্য অবতীর্ণ হবে একজনের উপর। আমার বিশ্বাস এটা হচ্ছে আমাদের চিন্তা করতে উৎসাহিত করার জন্য এবং সব সময় আমাদের কাছে এর আকর্ষণ ধরে রাখার জন্য। প্রকৃতি যেভাবে নিজেকে ধীরে ধীরে প্রকাশ করে, মানবের কাছে কোরআন, এটি যদি একই প্রকৃতির সৃষ্টিকর্তা থেকে আসে তাইলে একই বৈশিষ্ট্য বহন করতে হবে। যে পথপ্রদর্শন চায় না দিনশেষে সে তাই বিশ্বাস করবে যা সে বিশ্বাস করতে চায়।

This is the Book about which there is no doubt, a guidance for those conscious of Allah – [Quran 2-2]

লেখাটির ফেসবুক লিংক

Leave a Reply