‘খেদমতে দ্বীন ও ইকামতে দ্বীনের’ নীতিকে সামনে রেখে ভাবছি, দেখছি ও খুঁজছি…

আমাদের সমাজে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন নিয়ে যে বিতর্ক, সমস্যা বা আলোচনা সে সম্পর্কে ভাবছি, চাঁছাছোলা কথাবার্তা ছাড়া কঠিন রোগ সারিয়ে তোলা যাবে বলে মনে হয় না। আবার যেসব কৌশলের কথা বলা হচ্ছে, তারও তো দরকার আছে বলে মনে হয়। কোন সময়ে যে কী করতে হবে – এটি বুঝতে পারাই বোধ করি প্রজ্ঞা। আমার প্রজ্ঞায় ঘাটতি অনুভব করছি। অথচ, কার কাছে যে তা আছে, তাও দেখতে পাচ্ছি না। সবাইকে কেন জানি মনে হচ্ছে খেদমতে দ্বীন পার্টি…! তাই ইকামতের তরীকায় কারা আছেন, খুঁজে নিতে হবে দেখছি। ট্রাডিশনালিস্টরা তো বটেই, আরো অনেকেই ভাববেন, এ লোকটির হেদায়াতে সমস্যা হয়েছে! হেদায়াতের মালিক আল্লাহ, বান্দা শুধু চাইতে পারে। আমিও চাইছি, নিজের জন্য এবং সবার জন্য। কিন্তু আমার চর্মচক্ষে পরিস্কার দেখতে পাচ্ছি, ইকামতে দ্বীনের পতাকা উড়িয়ে ইসলামী আন্দোলনের তকমা বুকে ধারণ করে যারা এগিয়ে যাচ্ছে, তারাও প্রকারান্তরে খেদমতে দ্বীনে পরিণত হয়েছে বা হচ্ছে! কী ভয়ানক কথা!!

ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাবো, হলে হলো, না হলেও করার কিছু নাই। আল্লাহ না চাইলে তো আর হবে না। বাতিলের ইস্যুর তো আর শেষ নাই, ‘ওয়া মা আলাইনা ইল্লাল বালাগ…’ ধরনের ব্যাপার।

ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করা হবে বিদ্যমান বাস্তবসম্মত পদ্ধতিতে। এতে গ্রহণ করা হবে সর্বাত্মক তথা প্রায়োগিক ও সুপরিকল্পিত চেষ্টা। পরিকল্পনার পর্যায়গুলো চিহ্নিত থাকবে ও তদনুযায়ী কাজ করা হবে। প্রতিটা প্ল্যানের সাথে অল্টারনেটিভ ব্যাকআপ প্ল্যান থাকবে। যদিও বাতিলের অজুহাতের কোনো শেষ নাই, তবুও সদাসর্বদা চেষ্টা থাকবে কোনো পার্শ্ব-ইস্যুতে না জড়ানোর। কখনো কোনো অপ্রাসঙ্গিক সংশ্লিষ্টতা সৃষ্টি হলেও যথাসম্ভব কম সময়ে সেটিকে কিল করা অর্থাৎ অধিকতর ইনভলভড না হয়ে এভয়েড করা। মোর ইম্পর্টেন্ট পয়েন্টে মূল শক্তি নিয়োজিত করা। সর্বোপরি, কোয়ালিটি অ্যাচিভ করাকে সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দেয়া। এভাবে কাজ করার পর কাঙ্খিত ফলাফল না আসলেও হতাশ না হয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করা। ‘ওয়ামা আলাইনা ইল্লাল বালাগ’-এর সাথে সাথে ‘ইনিল হুকমু ইল্লা লিল্লাহ’কেও এখানে সমগুরুত্ব দিয়ে অনুসরণ করার চেষ্টা করা।

এই দুই ধরনের চেষ্টার মধ্যে বিরাট পার্থক্য। প্রথমটির মতো হলে বাহিরে ইসলামী আন্দোলনের সাইনবোর্ড থাকলেও মূলত তা খেদমতে দ্বীন টাইপের কিছু একটা। দ্বিতীয় ধরনের কর্মধারাই হলো সত্যিকারের ইসলামী আন্দোলন, এমনকি এ ধরনের কর্মতৎপরতার কোনো নাম বা আদৌ কোনো ইসলামী নাম না থাকলেও!

এমন ধারাই খুঁজছি…।

মূল পোস্টের ব্যাকআপ লিংক

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে পড়াই। চাটগাইয়া। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *