কাজের অগ্রাধিকার ও ক্ষেত্র নির্ণয়ে ইসলামপন্থীদের প্রান্তিকতা ও বিভ্রান্তি

লেখাটির পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন। ডাউনলোড


১. ছোট ছোট ব্যক্তিগত আমলের মাধ্যমে নাজাত লাভের আকাংখা এবং দুনিয়াবী বিষয়ে বিমুখতা ও সমালোচনা

একসময়ে দেখেছি ইসলাম ধর্মের পারলৌকিক সফলতা বা নাজাত লাভের বিষয়টা ছিলো ইসলামপন্থীদের সকল আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। যেন ইসলামের নৈতিক ও ধর্মীয় উন্নয়নই তাদের কাজের সবটুকু। দেশ, জাতি, বিনোদন, সংস্কৃতি, মিডিয়া, বুদ্ধিবৃত্তি চর্চা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামরিক সক্ষমতা, বিজ্ঞান চর্চা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো বিষয়গুলোর বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিলো মূলত সমালোচকের। এসব বিষয়কে তারা মোটেও আপন (own করা অর্থে) মনে করতো না। এ সব ‘দুনিয়াবি’ বিষয়ে সমালোচনাযোগ্য কী কী উপাদান আছে, সেসব নেতিবাচক দিকগুলোকে হাইলাইট করে দিনরাত তারা বায়বীয় মোকাবিলাতে ব্যস্ত থাকতেন। খোঁজখবর নিলে একশ বছর আগেকার ইসলামপন্থী ধারাগুলোর কাজকর্মের এমন চিত্রই পাওয়া যায়।

২. ইসলামকে রাজনৈতিক ধর্ম হিসাবে ব্যাখ্যা

নিজেদেরকে ইসলামী আন্দোলন হিসাবে দাবি করে এমন ধারার কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করলে দেখবেন তারা এসব ‘দুনিয়াবি বিষয়গুলোতে’ নিজেদেরকে জড়িয়েছে নিছক ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ হতে। তাই তারা দাবি করেছে, ইসলাম এমন এক ধর্ম যাতে রাজনীতি আছে, সমাজনীতি আছে, অর্থনীতি আছে – সব আছে। কোনো ধর্ম একইসাথে রাজনীতি ও অর্থনীতিসহ সবকিছু হয়ে উঠার গল্পটা আমার কাছে কখনো বাস্তবসম্মত বলে মনে হয় নাই। ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন নিয়ে ইতোমধ্যে আমি বেশ কিছু প্রবন্ধ লিখেছি। সেসবের মধ্যে আমি এ বিষয়ে আলোকপাত করেছি। সম্প্রতি ‘ইসলামী মতাদর্শের আলোকে সামাজিক আন্দোলনে রূপরেখা’ বিষয়ে সমাজ ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসাবে ইসলাম ও ইসলামি আন্দোলন নিয়ে অপেক্ষাকৃত বিস্তারিত একটা রচনার খসড়া সম্পন্ন করেছি। আশা করি মাসখানেকের মধ্যে সেটি সম্পাদনা সম্পন্ন করে প্রকাশ করতে পারবো।

৩. জাতীয়তাবোধ নিয়ে স্ববিরোধী মনোভাব

এ দেশীয় নেতৃস্থানীয় ইসলামপন্থীদের ব্যাপক রাজনৈতিক ভরাডুবির পরে তাদের, বিশেষ করে তাদের এলিট শ্রেণীর মধ্যে, তাদেরও মধ্যকার… আরো বিশেষ করে বললে উন্নত বিশ্বে অবস্থানকারী তরুণদের কারো কারো মধ্যে ইদানীং একটা উল্টা-প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। তাদের কাজকর্ম ও ভাবেসাবে মনে হচ্ছে, ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্য হলো এ দেশকে উন্নত বিশ্বের মতো গড়ে তোলা। দেখবেন, তাদের কথাবার্তা, লেখাজোকার সারকথা হচ্ছে, বাংলাদেশ, বাংলাদেশের উন্নয়ন, উন্নয়ন-সহায়ক রাজনীতি, দেশ গড়া ইত্যাদি। এক কথায়, এই দেশকে কীভাবে বিশ্বের গোটা পঞ্চাশেক উন্নত দেশের অন্যতম করা যায়, তা নিয়েই তাদের সমস্ত চিন্তাভাবনা। অথচ তারা আধুনিক জাতিরাষ্ট্রকে তাত্ত্বিকভাবে অগ্রহণযোগ্য মনে করে। রাজনৈতিক জাতীয়তা নির্ভর রাষ্ট্রব্যবস্থাকে তারা অনৈসলামি বা হারাম সাব্যস্ত করে। তৎসত্ত্বেও চিন্তাভাবনা ও চলনে-বলনে তারা উগ্রজাতীয়তাবাদী (ultra nationalist)। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তারা চরমভাবে ভারতবিরোধী।

বাংলাদেশ নামক এই ভূখণ্ড ঐতিহাসিক প্রয়োজনে একটা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আগামী একশ-হাজার বছর পরেও কেন এই দেশটাকে এভাবেই টিকে থাকতে হবে, উগ্র জাতীয়তাবাদী মনমানসিকতার বাহিরে গিয়ে এর কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ কি খুঁজে পাওয়া সম্ভব? মানুষের নৃতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক তথা জাতিগত পরিচয় প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠে। ধর্ম ও আদর্শের ব্যাপারটা তার থেকে ভিন্ন। আদর্শবোধের ব্যাপারটা চরিত্রগতভাবেই আন্তর্জাতিক। সে জন্য আদর্শবাদ, বিশেষ করে বিপ্লবী চেতনাসমৃদ্ধ কোনো আদর্শ জাতিগত গণ্ডীকে ছাড়িয়ে যাওয়াটা অবশ্যম্ভাবী।

৪. বিপ্লবীদের জাতীয়তা ও আন্তর্জাতিকতাবোধ

একজন আদর্শবাদী কেন শুধুমাত্র একটা জাতি-রাষ্ট্রের জন্য কাজ করবে, তা আমার বুঝে আসে না। এর বিপরীতে, কোনো বৈশ্বিক কাজ, কোনো না কোনো বিশেষ ভৌগলিক এলাকাতেই শুরু হবে, এটাই তো স্বাভাবিক। গ্লোবাল মানে বায়বীয় মানে ব্যাপার নয়। বিশ্বব্যাপী প্রভাব সৃষ্টি করার মতো যে কোনো কাজ বা উদ্যোগ, কোনো বিশেষ অঞ্চলেই একটা মডেল হিসাবে প্রথমে গড়ে উঠবে, এটিই তো স্বাভাবিক। একইসাথে গ্লোবালি কোনো মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার ভাবনা যেমন করে অলীক ও অবাস্তব, তেমনি করে কোনো বৈশ্বিক মতাদর্শের ধারকবাহক হওয়ার দাবি করে বাস্তবে একটা বিশেষ জাতিরাষ্ট্রের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অবস্থা ও ভবিষ্যতের মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ করে ফেলাটাও একই ধরনের অবাস্তব প্রান্তিকতা। ইদানীং, ইসলামীপন্থীদের যেমনটা দেখা যাচ্ছে।

৫. ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন নিয়ে ধারণাগত অস্পষ্টতা

সমাজ, জাতি ও আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসলাম বাস্তবায়ন বা আমলের তরীকা কী হবে, তা নিয়ে অস্পষ্টতাই হলো আসল সমস্যা। ইসলাম কী এবং ইসলামী আন্দোলন বলতে আসলে কী বোঝায়- তা আরো ভালো করে বুঝতে হবে। মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটানোর চিন্তা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিকতার কথা বলা যেমন ভারসাম্যহীনতা ও প্রান্তিকতার পরিচয়, মানুষের নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিকতা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করে কেবলমাত্র জাগতিক উন্নয়ন তথা রাজনৈতিক ঐক্য ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির উপর ফোকাস করাও তেমন ধরনের ভারসাম্যহীনতা ও প্রান্তিকতার লক্ষণ। যা ইদানীং খুব লক্ষ করছি।

৬. উন্নত বিশ্বের প্রেক্ষিতে ইসলামের প্রাসঙ্গিকতা

এখানে ইসলামের নামে যা যা অর্জনের কথা বলা হচ্ছে ইসলামের রেফারেন্স ছাড়াই দুনিয়ার অর্ধশত উন্নত দেশ অলরেডি সেসব লক্ষ্য অর্জন করে ফেলেছে। তাতে, ইসলামের দিক থেকে লাভক্ষতি কতটুকু কী হয়েছে? প্রশ্নগুলো নিঃসন্দেহে অস্বস্তিকর। এসব বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়া উচিত। ইসলামের বিশেষত্ব কী? ইসলাম আসলে কেন? ইসলামের এমনকি দেয়ার আছে যা জাগতিক উন্নয়নের শিখরে অবস্থানকারী জাতি ও রাষ্ট্রসমূহ অর্জন করতে পারে নাই? বা পারবে না?

৭. ইসলামের মূল অবদান মানুষের শুদ্ধ পরিচয়

এ ধরনের আলোচনায় সচরাচর আধ্যাত্মিকতার কথা বলা হয়। আমার দৃষ্টিতে, তা সঠিক নয়। ইসলাম ছাড়াও আধ্যাত্মিকতা অর্জন করা যায়। কার আধ্যাত্মিকতা কতো গভীর বা কতো ভালো তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার কোনো পথও নাই। জাগতিক উন্নয়ন ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নের কথা ইসলামে যথাযথ গুরুত্ব সহকারে থাকলেও ইসলামের মূল অবদান হলো বুদ্ধিবৃত্তিক।

৮. ইসলাম ও অধিবিদ্যা

ইসলাম মানুষের শুদ্ধ পরিচয়কে তুলে ধরে। জগতের অস্তিত্বকে সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করে। অস্তিত্ব সম্পর্কিত মৌলিক প্রশ্নগুলোর (existential questions) সন্তোষজনক উত্তর পেতে হলে ইসলামের কাছেই আসতে হবে। ইসলামের এই অনন্য বৈশিষ্ট্যকে ফোকাসের বাইরে রেখে ইসলামপন্থীরা স্রোতের উপর দিককার ঢেউ তথা সমকালীন রাজনীতি নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে…, দেখে আফসোস লাগে। অলস রাজনৈতিক বিশ্লেষণ চর্চায় মত্ত তরুণ ফেইসবুক-বুদ্ধিজীবীগণ আমার এ সব ‘তাত্ত্বিক’ কথায় খুব বিরক্ত হবেন। তাদের মন-মানসিকতা আমি বুঝতে পারি। তারা বলবেন, ‘আরে, উনি তো ফিলোসফির লোক। নিজের ক্রেডিবিলিটি বাড়ানোর জন্য সবকিছুতে তাই ফিলোসফি খোঁজেন’। কী করবো ভাই, সবকিছু যে ফিলোসফির রসে সিক্ত, কেউ লক্ষ্য না করলেও তা তো সত্য। জলজ প্রাণীরা যেমন পানির মধ্যে ডুবে থাকার ব্যাপারে সচেতন থাকে না, আমরা যেমন বাতাসে ডুবে থাকার ব্যাপারে সচেতন নই, তেমনি করে দর্শন তথা জীবনদৃষ্টির ব্যাপারটা নিয়েও আমরা ততটা সচেতন থাকি না।

৯. সমাজ কিংবা রাষ্ট্র গঠন ও পরিচালনার জন্য নয়, ইসলাম এসেছে মানুষ গড়ার জন্য

আমরা ভুল করে মনে করি, কিছু কাজকর্ম ও প্রায়োগিক নীতি সংশোধন করে নিলেই যেন বেঁচে-বর্তে সবকিছু সোজা দাঁড়িয়ে যাবে। কিছু আমল ঠিক করে নিলেই যেন সব ঠিক হয়ে যাবে। না, এটি ভুল। উন্নত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য ইসলাম আসে নাই। বরং, উন্নত মানুষ গড়ার জন্যই ইসলাম এসেছে। উপযুক্ত বা মানসম্পন্ন সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা এ কাজে সহায়ক বটে। এর বেশি নয়। সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি, অর্থনীতি, এমনকি আধ্যাত্মিক উন্নতিও ইসলামের লক্ষ্য নয়। ইসলাম নির্দেশিত মানবজীবনের লক্ষ্য পূরণের জন্য এসব সহায়ক মাত্র।

১০. আপতিক, অনিবার্য ও অভিন্নতার সম্পর্ক নিয়ে ভুল ধারণা ও প্রান্তিকতা

এই অতিপ্রয়োজনীয় ভেদবুদ্ধিবোধ অনেক তরুণ ইসলামপন্থী বুদ্ধিজীবীর মধ্যে দেখা যায় না। সবকিছুকে তারা রাজনীতির দৃষ্টিতে দেখে। যেমন করে আগেকার ইসলামপন্থীরা সবকিছুকে রাজনীতিনিরপেক্ষভাবে দেখতো। এক ধরনের প্রান্তিকতার মোকাবিলায় অন্য ধরনের প্রান্তিকতা যেন। কোনোকিছুর মধ্যে কিছু উপাদান যখন অপরিহার্য উপাদান হিসাবে ক্রিয়াশীল থাকে তখন মানুষ ভুল করে মনে করে, অমুক বিশেষ উপাদানই হলো মূল উপাদান। বাদবাকি সব এরই কারণে সৃষ্ট বা উপজাত। মনে করেন, একটা বৃত্তের মধ্যে সবসময়েই ক, খ, গ, ঘ ও ঙ – কে দেখা যায়। তো, কিছু লোকেরা মনে করলো, এখানে ক-ই মূল। বাকিগুলো ক-এর ফলোআপ মাত্র। অন্যদের কেউ মনে করলো, এই বৃত্তের মধ্যে খ-ই মূল উপাদান। এভাবে যার যার মতো করে বৃত্তকে ডিফাইন করার চেষ্টা করলো। স্পষ্টত:, এগুলো প্রান্তিক চিন্তা। অতএব, ভুল।

মানুষের জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রও এ রকম এক একটা বৃত্ত। এ রকম প্রতিটা বৃত্তের মধ্যে আছে কিছু কমন বিষয়: রাজনীতি, অর্থনীতি, যুদ্ধক্ষমতা, যৌনতা, আধ্যাত্মিকতা, আবেগ ও বুদ্ধিবৃত্তি। মার্কসিস্টরা মনে করেছে অর্থনীতিই মূল চালিকা শক্তি। ফ্রয়েড মনে করেছে যৌনতাই যা কিছু মানবিক তা সব কিছুর মূল ভিত্তি। এভাবে যার যার মতো করে মানুষ নিজ নিজ মনোভাবের আদলে আদর্শকে সাজিয়েছে এবং বাদবাকি সবকিছুকে তদনুযায়ী গড়ে তোলার (indoctrinate অর্থে) চেষ্টা করেছে। লক্ষ করেছি, স্মার্ট ইসলামিস্টদের অনেকেই জানে না, রাজনীতি, অর্থনীতি, যুদ্ধক্ষমতা, যৌনতা, আধ্যাত্মিকতা, আবেগ ও বুদ্ধিবৃত্তির মতো অপরিহার্য মানবিক বিষয়ের মধ্যে তুলনামূলক বিবেচনায় ইসলামের মূল অবদান বুদ্ধিবৃত্তিক। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ফিলোসফিকে কেন্দ্র করে আর যা কিছু।

১১. অনিচ্ছুক বাচ্চাকে ঔষধ খাওয়ানোর গল্প

বাচ্চাকে কোনো মতেই ঔষধ খাওয়ানো যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে একটা রসগোল্লার মধ্যে ঔষধের টেবলেটটা ঢুকিয়ে দিয়ে মা সেটি বাচ্চাটাকে খেতে দিলো। তখন ছেলে মা’কে বললো, ‘তুমি যাও। আমি খেয়ে নিবো’। কতোক্ষণ পরে মা জানতে চাইলো, মিষ্টিটা খেয়েছে কিনা। ছেলে তখন তার মা’কে বললো, হ‍্যাঁ’ খেয়েছি’। উদ্বিগ্ন মা আবার জানতে চাইলো, পুরোটাই খেয়েছে কিনা। ‘বুদ্ধিমান’ ছেলে এর উত্তর বললো, ‘হ‍্যাঁ, পুরোটাই খেয়েছি। শুধুমাত্র ‘বিচিটা’ ফেলে দিয়েছি’।

১২. গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ফাঁদ

‘বিচি’ ফেলে দিয়ে মিষ্টি খাওয়ার এই গল্পের মতো ইসলামের ভরকেন্দ্র তথা তাওহীদকেন্দ্রিক মানব পরিচয়ের আলোচনা ও আন্ডারস্ট্যান্ডিংকে এড়িয়ে গিয়ে মুহাম্মদের (সা) সমাজ সংস্কার হতে শুরু করে পাকিস্তান সৃষ্টি ও পরবর্তীতে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাসহ মানবসভ্যতার ইতিহাসমাত্রকেই যারা অর্থনৈতিক শ্রেণিসংগ্রামের দৃষ্টিকোণ হতে (অপ)ব্যাখ্যা করে, এমন ধুরন্ধর ‘ঈমানদার কম্যুনিস্টদের’ ঝোপ বুঝে কোপ মারার সুচতুর ‘গণতান্ত্রিক রূপান্তর ফর্মূলার’ ফাঁদে আজ আটকা পড়েছে আমাদের তরুণ ইসলামিস্ট বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ।

বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়াই যেন তাদের মূল এজেন্ডা। তারা মনে করেন, সময় মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারাই যেন সমকালীন ইসলামী নেতৃত্বের একমাত্র ভুল। রাজনীতির পলিসি রিফর্ম করাই যেন একমাত্র আশু করণীয়। চলমান ইসলামি উদ্যোগ ও কর্মধারার মধ্যে যে মৌলিক বুদ্ধিবৃত্তিক বা তাত্ত্বিক গলদ আছে, তা তারা বুঝতে চান না। যার কারণে, বিশ্বসভ‍্যতার ইতিহাসে ইসলামের আবির্ভাবকে নিছক সময়োপযোগী ঘটনা হিসেবে দেখেন, এ দেশের ইসলামকে নিছক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সেন্টিমেন্ট হিসাবে বিবেচনা করেন, এমন কৃত্রিম ইসলামদরদী অথচ লালনবাদী-মানবপূজারী ছুপা-নাস্তিকদের জালে তারা এভাবে আটকা পড়েছেন।

১৩. দাওয়াহ ও ইসলাহ পদ্ধতির চিরন্তনতা

ইসলাম গুরুত্বারোপ করে এমন প্রত‍্যেক জাগতিক উপাদান ও উন্নতি, ইসলামের রেফারেন্স ছাড়াও অন্য কোনোভাবে অর্জন করা সম্ভব। কিন্তু সুন্নাহভিত্তিক তথা তাওহীদকেন্দ্রিক দাওয়াতী পদ্ধতি ব্যতিরেকে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব। কোনো ধরনের যুগ পরিবর্তন এতে মৌলিক পার্থক্য সৃষ্টি করতে পারে না। মানুষকে কীভাবে, কী দিয়ে আহ্বান করতে হবে, দাওয়াতের পর্যায়গুলো কী হবে তা কোরআনের বিশেষত মক্কী সুরাগুলোতে খুব পরিষ্কারভাবে বিবৃত আছে। অথচ দেখা যাচ্ছে, কৌশলগত ঐক্য ও স্থানীয় ইস্যুর ক্ষণিকতার বাইরে আদর্শের বৃহত্তর দ্বন্দ্বের কথা বেমালুম চেপে গিয়ে, মক্কী যুগের ভিতকে মজবুত করার অপরিহার্যতাকে উপেক্ষা করে কেউ কেউ রাজনীতি তথা মাদানী জিন্দেগীর সৌধ নির্মাণে মহাব্যস্ত। রাজনীতিই যেন সবকিছু। ইসলাম যেন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্যই এসেছে। না, ইসলাম মানুষ গঠনের জন্য এসেছে। সমাজ হলো ইসলাম-ব্যবস্থার ভিত্তি। রাষ্ট্র এর উপরিকাঠামো। সময়ের প্রয়োজনে তা গড়ে উঠবে।

১৪. আদর্শগত ঐক্য, না স্বাতন্ত্র্য?

আহলে কিতাবদের সাথে বন্ধুত্ব না করার জন্য বারে বারে যেসব সর্তকবাণী পবিত্র কোরআনে দেয়া হয়েছে তার ফিলোসফি হচ্ছে বন্ধুত্বের ছদ্মাবরণে যাতে কেউ আদর্শগত শুদ্ধতা ক্ষুন্ন করতে না পারে, সে সম্পর্কে সতর্ক থাকা। কিছু কিছু ইসলামপন্থীকে রাজনৈতিক স্বার্থে জাতীয় ঐক্যের উপর অত্যধিক গুরুত্বারোপ করতে দেখা যায়। এর বিপরীতে, কিছু কিছু ইসলামপন্থীকে দেখা যায়, মতাদর্শগত স্বাতন্ত্র্যের ওপর অত্যধিক গুরুত্বারোপ করতে। আসলে দুটোর ওপরেই যথাযথ গুরুত্বারোপ করতে হবে, বিষয়গুলোকে যার যার মতো করে অর্থাৎ স্বতন্ত্র অবস্থানে রেখেই। বিদ‍্যমান বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে আদর্শের শ্লোগান দিতে থাকা যেমন ঠিক না, তেমনি আদর্শগত মৌলিক পার্থক্যকে হেকমতের নামে উপেক্ষা করে নগদলাভের পিছনে উদভ্রান্তের মতো ছোটাছুটি করাও ঠিক না। সফলতা হলো ভারসাম্যে। এবং এই ভারসাম্য হতে হবে ক্রমসোপানমূলক, অর্থাৎ বিষয়গুলোর গুরুত্ব অনুসারে।

১৫. আদর্শ ও উন্নয়নের ভারসাম্য

আদর্শ ও (জাগতিক) উন্নয়নকে একই সমতলে রেখে বিবেচনা করলে শেষ পর্যন্ত আদর্শই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আদর্শবোধকে বাদ দিয়ে বা আদর্শকে ক্ষতিগ্রস্ত করে অর্জিত উন্নয়ন দিয়ে আমরা কী করবো? জাগতিক উন্নয়ন সাধন করে এরপরে আদর্শ প্রতিষ্ঠার কাজ, কাজের এমন ধারা সঠিক হলে তো দুনিয়ার উন্নত দেশগুলোতেই সর্বাগ্রে দ্বীন কায়েম হওয়ার কথা।

১৬. ময়দান বা কর্মক্ষেত্র নির্ধারণে অগ্রাধিকার বিবেচনা

যদি তাই হয়, তাহলে তো প্রবাসী ইসলামপন্থীদের উচিত, যার যার অবস্থানরত দেশকে নিয়েই ভাবনাচিন্তা করা ও সেখানকার পরিস্থিতির আলোকে সেখানকার মতো করে কর্মতৎপর। অথচ দেখা যায়, অনলাইন অ্যাক্টিভিজমের সুযোগ নিয়ে গ্রামের বাড়ির মতো নস্টালজিক সুখস্মৃতির ফেলে আসা অব্যবস্থাপূর্ণ এই বাংলাদেশের নানা ইস‍্যু নিয়ে তারা দিনরাত মশুগুল। অনেকগুলো  শূন্যের যোগফল যেমন শেষ পর্যন্ত একটা বৃহৎ শূন্যই বটে, তেমনি ‘এই করেন, সেই করেন, এগিয়ে যান, ফাটায়া দেন…’ – এসব রেটরিক দিয়ে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় এখানকার লোকদেরকে দিনরাত উস্কানি দিচ্ছেন, তাদের সব ‘প্রেরণাদায়ক’ কর্মকাণ্ডও তেমনি, আমার দৃষ্টিতে, ফাঁপা বুলির বেশি কিছু নয়। তেমন কমিটমেন্ট থাকলে উন্নত দেশের কমফোর্ট জোন ছেড়ে দেশে এসে ময়দানে দাঁড়িয়ে কিছু একটা করার চেষ্টা করেন। covering from behind দিয়ে আর কত দিন?

ফেসুবকে প্রদ্ত্ত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Mohi Uddin: প্রতিটা মানুষ যেমন ভিন্ন, প্রতিটা মানুষের রুচি, দৃষ্টিভঙ্গী এবং চিন্তা-ভাবনাও তেমনি ভিন্ন। মানুষের চিন্তা ও বিশ্বাসের বিবর্তনও আরেক বাস্তবতা। ইসলাম বুঝার ক্ষেত্রেও একেক জনের একেক মত। এটা যতটা সমস্যা তারচেয়ে বড় সমস্যা হল শুধুমাত্র নিজের মতটাকেই বিশুদ্ধ মনে করা।

Mohammad Mozammel Hoque: আপনি কি মনে করেন, আমি শুধুমাত্র নিজের মতটাকেই বিশুদ্ধ মনে করি? এবং এটি একটা সমস্যা? উত্তর হ্যাঁ হলে খোলাসা করে বললেন না কেন? উত্তর না হলে, এ ধরনের অপ্রাসঙ্গিক কথা বললেন কেন?

আর হ্যাঁ, অন্তত এই পোস্টে যা লিখেছি তা আমি সঠিকই মনে করি। মনের মধ্যে সন্দেহ নিয়ে আমি কিছু বলি না। অথবা, মাঝামাঝি কোনো কথা বলি না। যা বলি ক্লিয়ারকাট বলি।

“ইসলাম বুঝার ক্ষেত্রেও একেক জনের একেক মত” আপনার এ কথাটা অত্যন্ত আপত্তিজনক। পোস্টেই বলেছি, ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন নিয়ে আমি একটা বিস্তারিত বক্তব্য তৈরী করেছি। সম্পাদনা করে প্রকাশ করবো, ইনশাআল্লাহ। সেখানে আপনার এই মন্তব্যের ওপর খোলামেলা কথা হবে।

বুঝে বা না বুঝে মন্তব্যটা আপনি এখন করলেও ইসলাম নিয়ে এ ধরনের উল্টাপাল্টা কথা লোকেরা, বিশেষ করে নাস্তিক-সন্দেহবাদীরা, বলে থাকে। এ কারণে সেই আলোচনার প্রথম পর্বে আমি অকাট্যভাবে “ইসলাম বুঝার ক্ষেত্রেও একেক জনের একেক মত” জাতীয় কথাকে খণ্ডন করেছি। আলোচনাটির ভিডিও রেকর্ডও আছে। কদিন ধৈর্য ধরেন। আপনাকে সেখানে ট্যাগ করবো, ইনশাআল্লাহ।

Mohi Uddin: আপনার লেখায় ভিন্নমাত্রা এবং বহুমাত্রিক চিন্তার খোরাক পাই বলে নিয়মিত পড়ি। ধন্যবাদ স্যার। পরবর্তী লেখার অপেক্ষায় থাকলাম।

Mohammad Mozammel Hoque: আমার প্রত্যুত্তরে বেশ ধার ছিলো। এতে যদি কিছুমাত্র আহতবোধ করে থাকেন, দুঃখ প্রকাশ করছি। সমস্যা হলো, আমি নিজের আত্মমর্যাদা বা সেলফ-ইন্টিগ্রিটি নিয়ে একটু বেশি সচেতন থাকি। ২০১০ সালে সামহোয়ারে লেখা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এটা মেইনটেইন করেছি। আশা করি, ভুল বুঝবেন না। দোয়া করবেন। ভালো থাকুন।

Mohammed Shah Alam: “এখানে ইসলামের নামে যা যা অর্জনের কথা বলা হচ্ছে ইসলামের রেফারেন্স ছাড়াই দুনিয়ার অর্ধশত উন্নত দেশ অলরেডি সেসব লক্ষ্য অর্জন করে ফেলেছে।… প্রশ্নগুলো নিঃসন্দেহে অস্বস্তিকর। এসব বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়া উচিৎ।”

আমি মনে করি বরং আবশ্যক। ভালো রাষ্ট্র/ভালো সমাজ এবং ভালো মানুষ একটি অপরটির শর্ত। ইসলাম ছাড়াও আধ্যাত্মিকতা অর্জন করা যায়। শেষে ‘প্রবাসী ইসলামিস্ট’দের ভোঁতা চামড়ার উপরে খোঁচাটা না দিলেও হতো!

Mohammad Mozammel Hoque: Mohammed Shah Alam ভাই, আপনি আমার লেখা পড়েন, এটি আমার জন্য খুব ভালো লাগার বিষয়। আল্লাহ আপনাকে তাঁর রহমত দিয়ে ঢেকে রাখুন। আ-মীন।

আপনি আমার কাছে একজন ব্যতিক্রমী মানুষ। আপনি কাপ সদস্য ছিলেন। অথচ ফরহাদ মজহারের সাথে চলাফেরা করেন। বলেছিলেন, তিনি আপনার দাওয়াতী টার্গেট। হয়তোবা, উনার দিক থেকে আপনি বরং উনার দাওয়াতী টার্গেট। কে কাকে কনভিন্স করতে পারেন, সেটি দেখার জন্য অপেক্ষা করছি।

অনেক বয়োজেষ্ঠ হয়েও আপনি যেভাবে তরুণদের সাথে মিশতে পারেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশেষ করে আমার আক্রমণাত্মক মনোভাব সত্ত্বেও আপনার ধৈর্য্য ও ঔদার্য্য আমাকে মুগ্ধ করে।

সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আমি কখনো বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করিনি। অধ্যাপক মফিজুর রহমান সাহেবের একটা দারসে কোরআন আমার এই মনোভাবের জন্য দায়ী। তিনি ইউনুসের (আ) ঘটনা প্রসংগে উনার স্বভাবসুলভ জোর দিয়ে প্রত্যেকের নিজস্ব দাওয়াতী জমিন বেছে নেয়া এবং সেখানে শেষ পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার কথা বলছিলেন। তাই, যারা বাইরে গিয়ে ইসলামী আন্দোলনের কাজের ব্যাপারে সেখানকার বিদ্যমান বাস্তবতাকে ফেইস না করে দেশের বিষয়ে নিশিদিন উদ্বিগ্ন, তাদের ব্যাপারে আমি খুব একটা পজিটিভ থাকতে পারি নাই। প্রবাসীদের দিক থেকে আমার এই দৃষ্টিভঙ্গী গ্রহণযোগ্য নয়, বিব্রতকর। জানি।

কিছুদিন আগে আমি এ রকম একটা লেখা লিখেছি। যাতে দেখিয়েছি এক একটা গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মনোভাব এক এক রকমের। ডাক্তার আর রোাগীর সম্পর্ক, শিক্ষক আর ছাত্রের সম্পর্ক, সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘুর সম্পর্ক, লোকাল আর আউটাসাইডারের সম্পর্ক, এভাবে আমরা নানা রকমের দ্বান্দ্বিক সম্পর্কে বিভাজিত। এগুলো থাকাই স্বাভাবিক। প্লুরালিজম বলতে এমনটাই বুঝানো হয়। বাড়িওয়ালা ভাড়াটে দ্বন্দ্বের মতো নিবাসী ও প্রবাসীর ধ‍্যানধারণা ও চিন্তাধারার মধ্যে এক ধরনের দ্বন্দ্ব থাকা তো স্বাভাবিক।

প্রবাসের নিরাপদ পরিবেশ হতে সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা নানা রকমের তীর্যক মন্তব্য ছুড়ছেন তাতে করে দেশের ভেতরে থাকা লোকজনের কিছু হেদায়েত লাভ হলেও যারা সেখানে অলরেডি সেটেল করেছেন, আমার মতে, উনাদের উচিত সেখানকার যা কিছু তাতে অধিকতর মনোনিবেশ করা। কাউকে হার্ট করার জন্য কিছু লিখি নাই। তবে, ওই যে, কোদালকে কোদাল বলার স্বভাব, তাই যা বুঝেছি তা লিখেছি।

দ্বিরুক্তি করে বললে, প্রবাসীদের বাংলাদেশ ভাবনা বাদ দেয়ার জন্য আমি বলছি না। বরং, উনাদের পারিপার্শ্বিকতাকে উনারা অধিকতর গুরুত্ব দিবেন। এর পাশাপাশি গ্লোবাল কনটেক্টে উনারা যা বলবেন বা করবেন, সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে তা আমাদেরও কাজে লাগবে। যেমন, ইয়াসির কাদী লন্ডনে ইসলামিক রিফর্ম নিয়ে যা বলেছেন বা জামাল বাদাবি চরমপন্থার বিরুদ্ধে যে খুতবা দিলেন তা ট্রান্সক্রিপ্ট ও অনুবাদ করে আমরা ছাপিয়েছি। এভাবে সহযোগিতামূলক কাজ হতে পারে বা হওয়া উচিত।

ফেইসবুকই যাদের দেশভাবনা ও মতাদর্শগত কাজের মূল ক্ষেত্র, তাদের ব‍্যাপারে এই লেখায় ক্ষোভ প্রকাশ হয়েছে। আমি জানি না, কারা কারা এই ক্যাটাগরিতে পড়েন।

পুনশ্চ: আপনাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি ও আপন জানি বলে এতটা খোলাসা করে বললাম। এনএপিডিতে আপনার সাথে সেই রাত্রিভর আলোচনার কথা আজো সুখস্মৃতি হিসাবে স্মরণ করি। দোয়া করবেন।

Mohammed Shah Alam: আপনি আমার সম্বন্ধে যে উঁচু ধারণা পোষণ করেন আমি তার জন্য কৃতজ্ঞ। আমি সব লেখাই পড়ি। শুধু একটি কথা কোন দ্ব্যর্থকতা বা অস্পষ্টতা না রেখে বলতে চাই, আমি এবং ফরহাদ মজহার পরস্পরের টার্গেট এ কথাটা সত্য বা সঠিক নয়। আমরা একে অপরের সম্বন্ধে অত্যন্ত সচেতন।

আরেকটা বিষয় মনে রাখা ভালো যে প্রবাসীরা অর্থনৈতিক অভিবাসী। দ্বীন প্রচারের মিশন নিয়ে দেশ ছাড়েননি। বিদেশে এসে অভিবাসনের দেশকে যেভাবে দেখেন, তাদের মনে সততই ভাবনা জাগে নিজের ফেলে আসা দেশটি যদি এমন হতো তবে হয়তো তাদের অভিবাসী হবার দরকার হতো না। নিজেরা নিরাপদে (অর্থনৈতিক ও সামাজিক) থাকলেও তাদের মনে থাকে যে পরিবার পরিজনের বিরাট অংশ তারা পেছনে রেখে গেছে। এদের নিরাপত্তা (অর্থনৈতিক ও সামাজিক) বিষয় তাদেরকে ভাবিত করে। ফলে তারা নিজেরা নিরাপদে থেকেও নিরুদ্বেগ জীবন যাপন করতে পারে না। এই উদ্বেগ তাদের স্বদেশ ভাবনায় তাড়িত করে।

Farid A Reza: আমি প্রবাসে বাস করি। আমার অধিকাংশ লেখা এবং বক্তব্য প্রবাসকেন্দ্রিক। এতে কেউ খুশি না হলে আমার কিছু করার নেই। আবেগ নয়, এটা সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের ফসল। প্রথম সাক্ষাতেই ফরহাদ মজহার এ জন্য আমার উপর ক্ষেপেছিলেন। বিলাত আমার কাছে স্বদেশের মতো। This Isle is our/ Be bright it’s future.

Farid A Reza: দ্বিতীয়বার পড়লাম। খুব ভালো লাগলো। দর্শন এবং কৌশল আপাতদৃষ্টিতে ভিন্নধর্মী মনে হলেও মৌল দৃষ্টিভঙ্গির উপরই কর্মকৌশল স্থিতি পায়। দর্শন নিয়ে আমরা দূর থেকে আলোচনা করি। মূলকথা খোলামেলা আলোচনা করি না। এর কারণ ভয় না অস্পষ্টতা, না কি দুটোই? আশা করি ডাউন টু আর্থ আরো কথা আসবে।

লেখাটির ফেসবুক লিংক

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে পড়াই। চাটগাইয়া। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকি।

“কাজের অগ্রাধিকার ও ক্ষেত্র নির্ণয়ে ইসলামপন্থীদের প্রান্তিকতা ও বিভ্রান্তি” শীষক র্পোস্টে একটি মন্তব্য

  1. আসসালামু আলাইকুম. . . .
    শুরুর দিকে কিছুটা স্বচ্ছ মনে হলেও শেষের দিকে কেমন যেন একটা ঝাপসাভাব!!
    হয়তো আমারই বোধের চোখটা ঝাপসা দেখছে!

    সম্পূরক আরেকটা লেখায় আরো স্বচ্ছতার আশা করা কি ভুল হবে??

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *