পাঠ প্রতিক্রিয়া: ইসলামে গণতন্ত্রের ব্যাখ্যা কী

গণতন্ত্র সম্পর্কে ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ইতোপূর্বে যে আলোচনা করেছি, ফেসবুকের পরিসরে তা বিস্তারিত হলেও বিষয়বস্তুর নিরিখে সেগুলো সংক্ষিপ্তসারের বেশি নয়। লক্ষ্য করেছি, অতি সংক্ষিপ্ত হলেও, কনক্লুসিভ বক্তব্য দেয়ার পরেও কিছু পাঠক প্রশ্ন করে বসেন, ‘আপনার বক্তব্যের মূল কথা কী?’ অথবা, ‘গণতন্ত্র তো একটা কুফরী মতবাদ। আপনি এটি মানছেন না কেন?

গণতন্ত্র বিরোধী চিন্তাগোষ্ঠী একেক সময়ে একেক কথা বলে। সম্প্রতি ‘ইসলামে গণতন্ত্রের ব্যাখ্যা কী’ শিরোনামের একটা ব্লগ পোস্ট হতে তাঁদের বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ যে তাত্ত্বিক দাবিগুলো পেয়েছি তা হলো:

১. ‘যদি তুমি অধিকাংশের মত অনুসরণ করো তবে তাঁরা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করে দিবে’ – সূরা আনআমের ১১৬ নং আয়াতের মাধ্যমে গণতন্ত্রক নাকচ করে দেয়া হয়েছে।

২. ‘কর্তৃত্ব তো কেবল আল্লাহরই’ ধরনের বহুসংখ্যক কোরআনিক আয়াতের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌমত্বকে ইসলামে বাতিল করে দেয়া হয়েছে।

৩. গণতন্ত্রে প্রতিটি রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় নিজস্ব সংবিধান তৈরা করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ইসলামে আল্লাহর বিধান পরিবর্তন করাটা একেবারেই হারাম।

৪. গণতন্ত্র হলো জুয়া। কেননা, এটি অনিশ্চিত ব্যবস্থা এবং কে জয়ী হবে, কে পরাজিত হবে– তা কেউ জানে না। এটি ভাগ্যের ব্যাপার। তাই গণতন্ত্র হলো ভাগ্য পরীক্ষার মতোই। জুয়া  কিম্বা ভাগ্য পরীক্ষা ইসলামে হারাম।

প্রথম পয়েন্টের উত্তর:

কোরআন-হাদীসের কোনো বাহ্যিক বর্ণনার সাথে সীরাতে রাসুলুল্লাহ (সা) ও সাহাবীদের আমল যদি সাংঘর্ষিক হয় তখন সংশ্লিষ্ট রেফারেন্সকে শানে নুযুল ও সুন্নাহর আলোকে ব্যাখা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, ওহী প্রচারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নবী করিম (সা) ও তাঁর অনুসরণকারীদের আচরিত কর্মপন্থাই কোরআন-হাদীসের কোনো রেফারেন্সের সঠিক তাৎপর্য।

এটি সত্যি যে, কোরআনের যত জায়গায় অধিকাংশ শব্দটি এসেছে তত জায়গায় তা নেতিবাচক অর্থেই এসেছে। এর ফলশ্রুতিতে, বিশেষ করে সূরা আনআমের ১১৬ নং আয়াতের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামে অধিকাংশ মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোনো বিষয় থাকার কথা নয়। অথচ আমরা দেখি, রাসূল মোহাম্মদ (সা) বিভিন্ন যুদ্ধ পরিস্থিতিসহ বহু বিষয়ে অধিকাংশের মতকেই গ্রহণ করেছেন।

অধিকাংশের মতকে গ্রহণ করার সুন্নাহর উদাহরণগুলোকে গণতন্ত্র বিরোধীরা কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

উল্লেখ্য, রাসূল মোহাম্মদ (সা) শুধুমাত্র রাষ্ট্রনায়কই ছিলেন না, তিনি মূলত ছিলেন রাসূল। তাই ঈমান-আকীদা ও ফৌজদারী দণ্ডবিধির ক্ষেত্রে তাঁর পক্ষে তৎকালীন অনৈসলামী অধিকাংশের মতকে গ্রহণ করা আদৌ সম্ভব ছিল না।

দ্বিতীয় পয়েন্টের উত্তর:

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের সার্বভৌমত্ব বলতে বুঝানো হয় না যে, জণগণ নিজেদেরকে নিজেরা সৃষ্টি করেছে বা তারা বিশ্বপ্রকৃতির সৃষ্টিকর্তা। তারা প্রাকৃতিক আইনকে ‘তৈরি’ করার দাবিও করে না। গণতন্ত্রের অনৈসলামী অনুসরণকারীরা মনে করে, প্রাপ্ত এই বিশ্বে (ইন দিজ ‘গিভেন ওয়ার্ল্ড’) প্রাকৃতিক আইনকে অনুসরণ ও অনুকরণ করে আইন রচনা ও প্রয়োগের কর্তৃত্ব প্রদানের অথরিটি মানুষকে প্রদানের গত্যন্তর নাই।

সেক্যুলার বা এথিস্ট গণতন্ত্রের স্বয়ং-বিশ্বের স্থানে আল্লাহর মহান সত্ত্বাকে এবং প্রাকৃতিক আইনের সংকলন হিসাবে প্রত্যাদেশকে গ্রহণ করে নেয়ার পরে আল্লাহর আইনকে ব্যাখ্যা এবং এর প্রায়েগিকতার মাত্রা, পর্যায় ও ধারাক্রম নির্ধারণ করার ব্যাপারটি মানুষের হাতেই চলে আসে। ঐশ্বরিক আইনের এই মানবিক যাচাইযোগ্যতা নিরূপণে যেসব বিষয়কে স্কলারলি নির্ধারণ করা দুরূহ সেসব বিষয়ে সামষ্টিক মতকে গ্রহণ করাই শ্রেয়তর বিকল্প। তাই নয় কি?

আল্লাহর সার্বভৌমত্বের নিরিখে কোনো সত্তারই কোনো প্রকারের স্বয়ং বা স্বতন্ত্র স্বাধীনতা নাই। এমতাবস্থায়, সর্বশক্তিমান তথা পরম সার্বভৌমের প্রতিনিধি হিসাবে এই অপরিবর্তনীয় বিধিমালার প্রয়োগবিধি ও ধারাক্রম কী হবে, তা নির্ধারণ করার অথরিটি কে? ঐশ্বরিক সার্বভৌমত্বের সামাজিক প্রয়োগ-কর্তৃত্ব তো মানুষেরই হাতে, যাদের সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছেন নবী-রাসূল এবং সর্বনিম্ন স্তরে সাধারণ নাগরিকবৃন্দ। এটিই হলো পাশ্চাত্যের পপুলার সভরেইনটি বা জনগণের সার্বভৌমত্বের ট্রু সেন্স।

সাধারণ মানুষের অবস্থা বা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার কোনো প্রয়োজন বা প্রসঙ্গ যদি না থাকতো তাহলে আল্লাহর আইন নাযিলে ধারাবাহিকতা ছিলো কেন? আল্লাহর আইন তথা শরীয়াহর ইম্প্লিম্যান্টারি প্লুরালিটিকে একোমোডেইট করার জন্য ব্যাখ্যা ও বিবেচনার সহযোগিতা নেয়া অত্যাবশ্যক। ব্যাখাসাপেক্ষ কোনো কিছুর বিশেষ কোনো ব্যাখ্যা গ্রহণ বা কোনো কিছুর বাস্তব প্রয়োগ নির্ধারণ কিম্বা কোনো বিধির প্রয়োগ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত দেয়ার জন্য নবী-রাসূলের অনুপস্থিতিতে মতামতভিত্তিক বিবেচনার কোনো বিকল্প নাই। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞগণের মধ্যে কিম্বা সাধারণ মতামতের ভিত্তিতে – যেভাবেই করণীয় নির্ধারণ করা হোক না কেন, অধিকাংশ মতকেই তো শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করতে হয়। তাই না?

তৃতীয় পয়েন্টের উত্তর:

দ্বিতীয় পয়েন্টের উত্তরে এর মূলকথাগুলো এসে গেছে। সংবিধানের কিছু মৌল কাঠামো থাকে। ইসলামে তা অপরিবর্তীয়। সেক্যুালার আবহে তা হলো প্রাকৃতিক আইন নামক অনির্দিষ্ট কিন্তু অলংঘনীয় একটা ব্যাপার (নোশন)। ইসলামে এটি হলো ওহী বা প্রত্যাদেশ। এই বিষয়ে অতি সতর্কতা অবলম্বনের পক্ষপাতী, অতি সংশোধনবাদীতার ধারক ও অনৈসলামী সন্দেহবাতিকগ্রস্তদের মনোজগতে আছে এক বহিরাগত ও বিশেষ আদর্শ তথা বিধিমালা হিসাবে বহুত্বের বাহুল্য (?) বিবর্জিত এক ইসলাম-আদর্শ ও শরীয়াহর ধারণা, যা তারা ডগম্যাটিকেলি আরোপ অর্থে কায়েমের নিরন্তর স্বপ্ন দেখেন

কেউ যদি ওহীর রেফারেন্স বাদ দিয়ে সর্বোত্তম ও প্রাকৃতিক সামাজিক বিধিমালার সন্ধান করেন তাহলে তিনি হাই ইবনে ইয়াকজানের গল্পের মতো ওহীর নির্দেশনাতেই পৌঁছবেন। হাই ইবনে ইয়াকজানের গল্পটি নিম্নরূপ:

পাশাপাশি দুই দ্বীপে দুজন ব্যক্তি দুই পথে সত্য সন্ধানে ব্রতী হলেন। একজন প্রকৃতিকে অধ্যয়ন করে জ্ঞান অর্জন করেছেন। পাশের দ্বীপের অপরজন ঐশ্বরিক বা দৈব জ্ঞান অর্জন করেছেন। পরবর্তীতে তারা যখন পরষ্পর মিলিত হলেন এবং প্রাপ্ত জ্ঞান বিনিময় করলেন, তখন তারা দেখলেন, দুটি ভিন্ন দ্বার দিয়ে তারা একই গৃহে প্রবেশ করেছেন!

চতুর্থ পয়েন্টের উত্তর:

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অনিশ্চয়তাকে জুয়ার সাথে তুলনা করে জুয়া সম্পর্কিত শরীয়াহর বিধিকে এর উপর প্রয়োগ করার এই হাস্যকর প্রচেষ্টা হলো প্রচলিত ডিডাকটিভ ও রেফারেন্সিয়্যাল ইসলাম শিক্ষা ব্যবস্থার চরম একদেশদর্শীতার অন্যতম উদাহরণ। হাতে আগ্নেয়াস্ত্র আছে কিন্তু সে জানে না কাকে কখন কীভাবে গুলি করতে হবে এমন সৈনিকের যে দশা; বিদ্যমান নন-কনসেপ্চুয়্যাল ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা উতরে আসা পণ্ডিতদেরও সেই একই হাল। তাঁরা প্রায়শই কোরআন হাদীসের বিভিন্ন উদ্ধৃতিকে প্রেক্ষিত ও ধারাবাহিকতা হতে বিচ্ছিন্ন করে, ক্ষেত্রবিশেষে কিম্ভূতকিমাকার সংযোজন ঘটিয়ে এক ধরনের দ্বীন ইসলাম চর্চা করেন! প্রায় ক্ষেত্রেই তাঁরা না ‍বুঝে এবং সরল মনে, সওয়াবের নিয়তেই এমন জগাখিচুরী করেন।

যা হোক, কোরআনের আয়াত দ্ব্যর্থহীন হলেই, হাদীস সহীহ হলেই তা ফরজ কিম্বা ওয়াজিব হবে, এমন কোনো কথা নাই। যদি তাই হয়, অবশ্যই ব্যাপারটা তাই, তাহলে কোনটা ফরজ, কখন ফরজ, কীভাবে সে ফরজিয়াত আদায় করতে হবে তা সুন্নাহর টাইমলাইন বা লাইন অব কন্সিসটেন্সি হতেই বুঝে নিতে হবে। এক্ষেত্রে রেফারেন্স বা নসের শুদ্ধতা, শানে নুযুল, ধারাক্রম ও সার্বিকতা বা সামগ্রিকতাকে বিশেষ বিবেচনায় নিতে হবে

গণতন্ত্র বিরোধীরা ইসলামকে যুক্তি ও বুদ্ধির সাথে ক্ষেত্রবিশেষে সাংঘর্ষিক হিসাবে দেখাতে চান, যা ঠিক নয়। ইসলাম সব বিষয়ে ব্যক্তির স্বাধীন যুক্তি ও বুদ্ধি চর্চাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। বুদ্ধিমান ব্যক্তি যেমন স্বীয় যু্ক্তি ও বুদ্ধির দাবি পূরণ করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞ-মতকে নির্দ্বিধায় গ্রহণ করে, তেমনি ‘প্রাকৃতিক’ আইনকে বুঝা ও অনুসরণ করার জন্য ইসলাম অনুসরণকারীরা প্রকৃতি-স্রষ্টার প্রতিনিধিকে (নবী/রাসূল) আইডেন্টিফাই করে তাঁর গাইডেন্সের আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ইসলামে স্থিরীকৃত বিষয়ের তুলনায় বিবেচনাযোগ্য বিষয়ের ব্যাপ্তি এত বেশি যে, মানবীয় স্বাধীনতা চর্চার জন্য প্রাকটিক্যালি সেটি যথেষ্ট। এই অতীব সত্য কথাটা খুব কমই বলা হয়!

গণতন্ত্রের সাথে ইসলামের যেসব অমিলের প্রসংগ আনা হয়, ইসলাম প্রসংগ বাদ দিয়ে শুধু গণতন্ত্রকে বিশ্লেষণ করলে সেসব বিষয়ে গণতন্ত্রের ভিতরেই চরম অনিশ্চয়তা (ইনডিটারমিনেসি) ও ব্যাপক মতদ্বৈততা দেখা যায়। জনগণ, সার্বভৌমত্ব, অধিকাংশ মত, সমতা, ন্যায় ইত্যাদি টার্মগুলো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি। অথচ, গণতন্ত্রের বিভিন্ন প্রবক্তা ও অনুসারী জনগোষ্ঠী বিভিন্নভাবে সেগুলোকে ব্যাখ্যা করেছেন ও তদনুসারে প্রস্তাবনা দিয়েছেন। ইসলামী জীবনদৃষ্টি ও আদর্শবাদের সাথে গণতন্ত্রের কোনো ফর্মেরই কোনো মিল, ঐক্য বা সাযুজ্যতা হতে পারে না এই দাবিটি নিতান্তই বাড়াবাড়ি। হতে পারে, এটি গণতন্ত্রই ইসলাম কায়েমের সর্বশ্রেষ্ঠ বা একমাত্র পদ্ধতি ধরনের প্রচলিত জনপ্রিয় কিন্তু ভুল রাজনৈতিক শ্লোগানের প্রতিক্রিয়া

ফেসবুকে প্রথম প্রকাশিত এই লেখাটিতে মন্তব্যপ্রতিমন্তব্য:

Farid A Reza: ভালো লাগলো পাঠ করে। আল্লাহর সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে কুরআনে যা বলা হয়েছে এর ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে (জনকল্যাণ) আইন প্রনয়নের অধিকার নিষিদ্ধ করার সুযোগ নেই। আল্লাহর সার্বভৌমত্ব এমন যে তা বাস্তবে কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারে না। ‘ইনিল হুকমু ইল্লাহ লিল্লাহ’ যতটা না রাজনৈতিক, এরচেয়ে অনেক বেশি আক্বিদা বা বিশ্বাসের সাথে সম্পৃক্ত। তাছাড়া একটি জনগোষ্ঠীর ‘আহলুর রায়’ সম্প্রদায় দ্বীন গ্রহণের পরই প্রচলিত রাষ্ট্রীয়/জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন আসে। আহলুর রায় যদি আল্লাহর দ্বীনের প্রতি বিশ্বাসী হয় তাহলে বিশ্বাসগতভাবে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে বাধ্য। তাই আমার মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সংক্রান্ত আলোচনায় জটিল সার্বভৌমত্বে নিয়ে বিতর্ক একটা অপ্রয়োজনীয় প্রসঙ্গ।

Muhimm Akhbar: ভাই আপনাকে একটি প্রশ্ন “গণতন্ত্র কাকে বলে?”

Mohammad Mozammel Hoque: Democracy is a political system, an operative tool of handling administrative power. It emphasises on the consideration of majority opinion, in either format. It has various shapes. For more and extensive inputs, read this and previous two notes, please!

Farid A Reza: It means Shura, people’s opinion. Now it is up to you (people of certain group/land/area) to decide how to obtain their opinion and how you apply it.

Mohammad Mozammel Hoque: Singularity of Islam is in its core concepts like unicity or monotheism and prophecy. It is not the fact that Islam and democracy are single entities that could or could not work together. Instead, Islam and democracy are both pluralistic (when Islam is taken in the shariah sense).

শরীফ উদ্দিন: আমার হাতে একটা বই আছে এই মুহূর্তে। বইটার নাম ‘গণতন্ত্র একটা দ্বীন’। লেখক শাইখ আসিম আল মাকদাসি। গণতন্ত্রের বিপক্ষের ফেসবুকারদের বিভিন্ন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আমার মনে হয়েছিল, লেখক সম্ভবত বইটিতে গনতন্ত্রকে দ্বীন হিসেবে প্রমাণ করতে পারবেন। কিন্তু দেখি– না, লেখক প্রথমে স্বতঃসিদ্ধ হিসেবে ধরে নিয়েছেন গণতন্ত্র একটি দ্বীন। এরপর স্বাভাবিকভাবেই গণতন্ত্রকে কুফর হিসেবে লিখে দিলেন। গণতন্ত্র বিরোধীদের এই একটা সমস্যা। উনারা প্রথমেই গণতন্ত্রকে কুফর হিসেবে ধরে নেন, এরপর আলোচনা আগান। স্বাভাবিকভাবেই, তালগাছ উনাদের হাতেই থাকে।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে পড়াই। চাটগাইয়া। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *