তারিক রমাদানের ‘Beyond Islamism’ নিয়ে আলোচনা-মন্তব্য-সমালোচনা

. তারিক রমাদানের সমালোচনার দুঃসাহস কেন? কৈফিয়ত:

বর্তমান দুনিয়ায় ‘স্মার্ট ইসলামিস্ট’দের প্রায় সবার কাছে ড. তারিক রমাদান রীতিমতো একটা ক্রেজ, স্বপ্নের মতো একটা কিছু, বলা যায় দ্যা টপ-মোস্ট আইকন। আমার কাছেও তিনি অতি বড় চিন্তাশীল জ্ঞানী। টপ চার্টের এক নম্বরের মতো। এ মাসের শুরুর দিকে উনার ব্যক্তিগত সাইটে ‘Beyond Islamism’ শিরোনামের প্রবন্ধটি আপলোড করার পর হতে সারা বিশ্বব্যাপী এটি ব্যাপকভাবে পঠিত ও প্রসংশিত হয়েছে। সংস্কারবাদী তরুণ ও মেধাবী দায়িত্বশীলদের একটা ফোরামে এটি শেয়ার হওয়ার পর এটি প্রিন্ট করে ভালভাবে পড়ে বুঝার চেষ্টা করেছি।

আদর্শ ও তত্ত্বগত ব্যাপারে দুনিয়াতে এটি একটি বড় ট্রাজেডি যে, প্রচলিত ধ্যান-ধারনার সাথে একমত হতে না পেরে মুক্ত-চিন্তার কথা বলে যারা স্বীয় দ্বিমতের বিষয়গুলোকে প্রবল বাধার মুখেও প্রকাশ করেছেন ও প্রচার করেছেন, পরবর্তীতে তাঁরই অনুসারীরা ‘গুরুর ত্বরীকা’ বেমালুম ভুলে যান! এসব সিনসিয়ার ফলোয়ারদের বুদ্ধিজীবিতা স্বীয় আইকন-গুরুজনের মতাদর্শের টীকা-টিপ্পনী ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে সীমিত হয়ে পড়ে। মার্কস বলুন আর মওদূদী বলুন, দুঃখজনকভাবে সবার ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটেছে। একজন বুঝ-জ্ঞানের মুসলিম হিসাবে তাই নবী-রাসূল ছাড়া কাউকেই যুক্তি, প্রশ্ন ও সমালোচনার উর্দ্ধে মনে করি না।

নবী-রাসূল ছাড়া কারো কথাকে সমালোচনা ও যাচাইয়ের উর্দ্ধে মনে না করার ব্যাপারে তাত্ত্বিকভাবে সব মুসলমানেরা একমত হলেও বাস্তবে নিজ নিজ ‘মাজহাবে’র ইমাম এর ব্যাপারে তাঁরা তাকলীদপন্থী হিসাবেই তুষ্ট থাকেন! সময় সুযোগ মোতাবেক বিরুদ্ধ-মতের সাথে ‘বাক্য-জেহাদে’ও লিপ্ত হন! প্রচলিত ইসলামী আন্দোলনের সংস্কারের ব্যাপারে সিরিয়াস স্কলারদের এমন একটা সাধারণ প্রবণতা লক্ষ্য করছি যে, রিনাউন্ড ইসলামিস্ট এর পরিচিতি নিয়ে কেউ যখন প্রচলিত ধারার ইসলামী আন্দোলনের ব্যাপারে নেতিবাচকভাবে কিছু বলেন তখন এসব সংক্ষুব্ধ মেধাবীদের কাছে সেটি খুব ভাল লাগে। কারন, সংশ্লিষ্ট লেখক বা বক্তা যত কথাই বলুন না কেন তাঁর সব কথার মূল কথা হিসাবে এ ধরনের কথা থাকে যে, ‘ প্রচলিত ইসলামী আন্দোলনে যা চলছে তা দিয়ে হবে না, …এসব বাদ দিতে হবে, নতুন করে সব শুরু করতে হবে,  বিকল্প লাগবে …’ ইত্যাদি।

আমার দৃষ্টিতে পুরো বিষয়টি একধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক inconsistency ও অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

কারো অধিকাংশ কথার সাথেই ঐক্যমত পোষণ করা সত্বেও যেসব পয়েন্টের সাথে তিনি একমত নন তা নির্দ্বিধায় তুলে ধরার অধিকার সংশ্লিষ্ট সকলের থাকা উচিত।  এছাড়া কোন কথা বা পয়েন্ট স্পষ্ট না হলে লেখকের কাছে অকপটে জানতে চাওয়ার অধিকার থাকাও জরুরী। কোন কারনে লেখক পর্যন্ত পৌঁছতে না পারলে যারা সংশ্লিষ্ট লেখাটা পড়ে বিভিন্ন পয়েন্টে ইতোমধ্যেই একমত বা দ্বিমত প্রকাশ করছেন, তাঁদের কাছ হতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য জানতে চাওয়া দোষণীয় নয় মনে করি। তারেক রমাদানের ‘বিঅন্ড ইসলামিজম’ নিয়ে আমার এই ‘অযাচিত’ ক্রিটিক এই ধাঁচের চিন্তা-ভাবনার ফলশ্রুতি।

প্রবন্ধের শুরুতে তিনি রাজনৈতিক ইসলামবাদের যৌক্তিকতা সত্বেও আপাতত এটিকে পাশে রেখে নতুন করে সামাজিক অর্থে ইসলাম চর্চাতে উত্তরণ ঘটানোর কথা প্রস্তাব করেছেন বলে আমার ধারনা। যদি তাই হয় তাহলে উনার ‘Islamism—or “political Islam”—is not dead. Those who have proclaimed its demise, or trumpeted the advent of a “post-Islamist” era, are wrong … we must go beyond political Islam, and develop a critique of Islamism in all its forms.’ – এই কথাগুলোকে আমি ভুল হিসাবে চিহ্নিত না করলেও ভাষাগত অস্পষ্টতার কারনে অনেকেই একে মিস-লিডিং অর্থে বিভ্রান্তিকরও মনে করতে পারে। এখানে তিনি প্যারার শুরুর বাক্যে ইসলামিজম এবং পলিটিক্যাল ইসলামকে সমার্থক বা আইডেন্টিক্যাল হিসাবে উল্লেখ করেছেন আবার প্যারার শেষের দিকে এসে পলিটিক্যাল ইসলামকে পেরিয়ে গিয়ে ইসলামিজমের কথা বলেছেন। অবশেষে ইসলামিজমকেও পরিত্যাগের কথা বলেছেন।

লক্ষ্য করেছি, প্রলিফিক রাইটাররা মাঝে মাঝে এমন ধরনের বহু-অর্থবোধক (ambiguous) কথা বলেন যাকে তিনি প্রয়োজন মোতাবেক যে কোন দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারেন! আমি মনে করি এ রকম একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধের key word গুলো অর্থবহতা ও বোধগম্যতার দিক হতে অধিকতর ডিস্টিংক্ট ও প্রেসাইজ হওয়া জরুরী।

বক্তব্যের শুরুতে যে তিনটা পয়েন্টকে তিনি ক্লারিফাই করার চেষ্টা করেছেন তার দু নম্বরটি হচ্ছে ইসলামিজম বলতে কি বুঝায় তা নির্ধারণে প্রচলিত স্ববিরোধ ও অস্পষ্টতা। মধ্যপ্রাচ্যের বাদশাহদেরকে কেন ইসলামিস্ট বলে চিহ্নিত করা হয়না, সোজা কথায়, ইসলামিস্ট বলে কেন তাদেরকে ট্যাকগ করা হয়না বা গালি দেয়া হয়না তা নিয়ে তিনি [সংগত কারনেই] কটাক্ষ করেছেন। এ পর্যায়ে তিনি ‘পলিটিক্যাল ইসলামিজমে’র ধারক ও বাহকদেরকেই ইসলামিস্ট হিসাবে হাজির(mean) করেছেন – …no one knows exactly who or what “Islamism” means. … While the focus of this article is on the reformist and legalist movements। এখানে তিনি মিশরের ব্রাদারহুড ও তিউনিশিয়ার আননাহদাকে রিফরমিস্ট-লিগালিস্ট (ইসলামিস্ট) হিসাবে বলেছেন।

এর পরে, The time has come go beyond Islamism. বলে তিনি ইসলামিজমের যে পরিচিতি ও সূচনাপর্ব তুলে ধরেছেন তারমধ্যে একদেশদর্শীতার সমস্যা পরিলক্ষিত হয় – When, in the early twentieth century, the first manifestations of Islamism took root and organized form in the Middle East, Africa and Asia, most of them shared a triple objective : () to free their societies from colonialism, () to return to Islam in order to resist cultural Westernization, and () to expound theses and principles of social justice. They believed that the nation-state was the best vehicle

পাশ্চাত্য রাজনৈতিক প্রপাগান্ডাবাদী স্কলারগণ তথাকথিত ইসলামিজম-কে বিংশ শতাব্দীর ব্যাপার হিসাবে বলতে পারেন অথবা বলে থাকেন যেটি আদৌ সত্য নয়। তারিক রমাদান এটি নিছক উদ্ধৃতি হিসাবে বলেছেন বলেও মনে হয়না। এখানে এসে তিনি কি বিংশ শতাব্দীর পূর্বকার সব উল্লেখযোগ্য ইসলামী পূণর্জাগরণ আন্দোলনকে দৃশ্যতঃ এড্রেস বা একোমোডেট করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গী, মূলতঃ পাশ্চাত্য ঘরনার ও  সে হিসাবে অনেকটাই একপেশে। এছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর মতো একটা বড় সংগঠন ও আন্দোলন যে জাতি-রাষ্ট্র গঠনের সংগ্রামে অংশ গ্রহন করা হতে বিরত ছিলো, তার উল্লেখ, ইশারা বা প্রেক্ষিত বর্ণনা না করে উল্টো তিনি কথার মারপ্যাঁচে লাতিন আমেরিকার ‘লিবারেশন থিওলজি’র পতাকা ঢালাওভাবে সব ইসলামিস্ট শিবিরের উপর লাগিয়ে দিয়েছেন!

এর পরবর্তীতে রাষ্ট্র ক্ষমতার জন্য জান কোরবান হওয়ার বাহিরে অর্থনীতি, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে ইসলামিস্টদের দৃশ্যমান তাচ্ছিল্যভাবের বিষয়ে তিনি যা বলেছেন তা অতীব সত্য ও অসাধারণ – …Islamist organizations, such as the Muslim Brotherhood and other legalist and reformist groups, have not kept pace with world-historical developments, with shifts in international relations, and, most of all, with the new paradigm of globalization. In addition, state power, which in the beginning was understood as a means to social, political, economic and cultural reform, emerged as an end in itself … their obsession with the state eventually led to them neglecting fundamental economic issues, major cultural concerns, and even failing to address the basic questions of freedom, citizenship and individual autonomy. … the Islamists have become a reactionary force that, in the name of pragmatism, with one compromise after another, have preserved their religious references while voiding them of their potential for social, economic and cultural liberation. অবশ্য এই কথাগুলো ভারতীয় উপমহাদেশের জামায়াতে ইসলামীর জন্য যতটা প্রযোজ্য, আরব বিশ্বের ইখওয়ান ও তদনুরূপ সংগঠন ও দলগুলোর জন্য ততটা প্রযোজ্য কিনা – তা প্রশ্ন সাপেক্ষ।

নেতৃস্থানীয় ইসলামিস্টদের জন্য কিছু পরিশীলিত গালি থাকায় এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক ইসলামপন্থী নেতৃত্বের মোটাদাগের ব্যর্থতায় বিরক্ত ও হতাশ আধুনিক ইসলামিস্টদের কাছে তারিক রমাদানের এই লেখা বেশ ভালো লাগাই স্বাভাবিক। কোন সাহিত্য কর্মের অংশবিশেষ বিশেষভাবে ভালো লাগার কারনে সেটি সামগ্রিকভাবে পাঠক-প্রিয় হতে পারলেও একটি প্রবন্ধের ক্ষেত্রে উপস্থাপিত বিষয়াদি আগাগোড়া সামঞ্জস্যতাপূর্ণ হওয়া বাঞ্ছনীয়। পলিটিক্যাল ইসলাম থেকে ইসলামিজম পেরিয়ে কোথায় যেতে হবে তা তিনি আদৌ বলেন নি। পূর্বেই বলেছি, আমার পর্যবেক্ষণে, এই প্রবন্ধে তিনি পলিটিক্যাল ইসলাম ও ইসলামিজম কে সাবস্টেনশিয়ালি ডিফারেন্ট হিসাবে আইডেন্টিফাই করে দেখাতে পারেন নি অথবা কোন কারনে দেখান নি। পলিটিক্যাল ইসলামিস্টদের কিছু প্রশ্ন-সাপেক্ষ ও কিছু সত্যিকারের ব্যর্থতাকে স্বয়ং পলিটিক্যাল ইসলাম বা ইসলামিজম –এর সামগ্রিক বা চূড়ান্ত ব্যর্থতা হিসাবে দাবী করা কি ঠিক?

তিনি বলছেন, The Islamists, today, have no credible or viable economic alternatives to offer. In the name of their obsession with international recognition, they have bowed down before the imperatives of the dominant capitalist economy.

এখানে পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার যে কড়া সমালোচনা তিনি করেছেন তা তাঁর লেখা ও কথার একটা কমন ট্রেন্ড। পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থাকে বিদ্রুপ করে উনি হালাল ক্যাপিটালিজম নামে একটা ইন্টারেস্টিং টার্মও কয়েন করে থাকেন। উনার পূঁজিবাদ বিরোধী বক্তব্যের মূলসূত্র হলো ইউরোপ-আমেরিকার বিরোধিতা। এই প্রবন্ধেরই পূর্ববর্তী একস্থানে তিনি পেট্রো মনার্কি বলে আমেরিকা পন্থী সাউদী রাজতন্ত্রের সমালোচনা করেছেন। আমার দৃষ্টিভংগীগত অবস্থানের দিক থেকে এসব ঠিকই আছে। সমস্যা হলো ইসলামিস্টদের কিছু ব্যর্থতাকে যেমন তিনি ঢালাওভাবে ইসলামিজম-এর ব্যর্থতা হিসাবে তুলে ধরেছেন নেতৃস্থানীয় কিছু পূঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা ভিত্তিক দেশের সাম্রাজ্যবাদী ভূমিকার কারনে তিনি আক্রমণাত্মক ভঙ্গীতে পূঁজিবাদের বিরোধিতা করার ব্যাপারে প্রতিক্রিয়াশীলতা প্রদর্শন করেছেন।

যে কোন মতাদর্শেরই কোন না কোন খারাপ প্রবণতা থাকে। শুধুমাত্র এতটুকুর জন্যই স্বয়ং মতাদর্শটিই বাতিলযোগ্য হতে পারে না। গণতন্ত্রের খারাপ প্রবণতা হলো ছদ্মবেশী স্বৈরতন্ত্র ও কোয়ান্টিটি-কোয়ালিটি দ্বন্দ্ব, সমাজতন্ত্র ও কম্যুনিজমের সমস্যা হলো একনায়কতন্ত্র ও বস্তুবাদ, জাতীয়তাবাদের সমস্যা হলো জাত্যাভিমান ও সাম্প্রদায়িকতা। এভাবে প্রতিটি মতবাদেরই কোন না কোন খারাপ প্রয়োগ আছে বা হতে পারে। ধর্মের অপব্যবহারের কথা না-ই বা বললাম। দুনিয়ার সবকিছুরই একটা না একটা খারাপ প্রবণতা (malafied implication) থাকার মানে এই নয় যে, সব কিছুকে বাদ দিয়ে এবং সব সময়ে একধরনের seclusionist reactionism এ ভুগতে হবে! ধর্মনিরপেক্ষতা যতটা ইসলাম বিরোধী গণতন্ত্রও ততটা ইসলাম বিরোধী। দ্বিতীয়টি আমাদের গা সওয়া হয়ে গেছে, এই যা। তুরস্কের লোকদের প্রথমটিও গা সওয়া (adapted) হয়ে গেছে। দুনিয়ার সব (মানব রচিত) মতাদর্শের সাথে ইসলামের কোন না কোন বিরোধের পাশাপাশি মৌলিক সাযুজ্যতাও আছে। এখন গ্লাসের অর্ধেকটা খালি বলবো না অর্ধেকটা ভরা বলব – তা যার যার দৃষ্টিভংগীর উপর নির্ভর করে।

মজার ব্যাপার হলো, তারিক রমাদান adaptation, inclusion, integration, own করা – এসবের পক্ষেই সাধারণত বলেন। তৎসত্বেও তিনি অর্থনীতির প্রসঙ্গ আসলে পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সব ভদ্র গালিগুলো প্রয়োগ করতে থাকেন। এখানেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। উল্লেখ্য, সমাজতান্ত্রিক অর্থ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তিনি কখনো কিছু বলেছেন, শুনিনি। পূঁজিবাদ সমাজতন্ত্রকে মোকাবিলা করতে গিয়ে সত্যিকারের কল্যাণ রাষ্ট্রের যে সফল ও বাস্তব প্রয়োগ ঘটিয়েছে তা নিঃসন্দেহে পুঁজিবাদ-এর ভিতর থেকেই উঠে আসা (intrinsic) মৌলিক রূপান্তর।

ইসলাম একটা স্বয়ং ব্র্যান্ড – এ কথা যতখানি সত্য, অপরাপর সকল ব্যবস্থার সুষম সমন্বয় হলো ইসলাম – এ কথাও ততখানি সত্য। দুটোকেই ভয়েস করতে হবে।

আলোচ্য প্রবন্ধের পরবর্তী অংশে তিনি তুরস্কের ক্ষমতাসীন ‘ইসলামিস্ট’দের একহাত নিয়েছেন – It is all well and good to celebrate Turkey’s economic success, not to mention its leaders’ demonstrated competence and pragmatism (while not forgetting to criticize the absence of some basic freedoms, and the tendency to monopolize power)। তুরস্কে মৌলিক স্বাধীনতার মৌলিক ঘাটতি আছে আর পাওয়ার মনোপোলাইজ করা হচ্ছে – এমন অভিযোগ গেজি পার্কের লোকজনের বাহিরে কাউকে বলতে শুনি নাই।

যখন ইসলামী শরিয়াহর কাঠামোতে তৎকালীন জাহেল আরবের অনেকগুলো প্রচলিত বিষয়কেও হুবহু গ্রহন করা (accommodate অর্থে) হয়েছে তখন তারিক রমাদানের মতো সুবিজ্ঞা লোকেরাও যখন a clear, original, truly imaginative political project এর মতো ধোঁয়াটে (ambiguous) কথা বলেন তখন আর হতাশ না হয়ে পারা যায় না। লক্ষ্য করুন, তিনি বলছেন, Islamism has become an ideology of means and of management. It has nothing to offer in terms of broader significance… ইসলামিজমের যদি আর দেয়ার কিছু না থাকে তাহলে পরবর্তী era’র জন্য তিনি যে original, truly imaginative political project এর কথা বলছেন, তা কি? এ ধরনের সম্ভাব্য প্রশ্নের উত্তরে তিনি কিছু কাজের কথা (practical or pragmatic proposal) বলেছেন যা তথাকথিত পলিটিক্যাল ইসলাম বা ইসলামিজমেরই অন্তর্গত বিষয়াবলীর অন্তর্ভূক্ত যদিও সেগুলোর বাস্তবায়নে অবহেলা করা হয়েছে। তাত্ত্বিক কাঠামোর ভেতরে থাকা কিন্তু অবহেলিত বিষয়(aspect)এ যথাযথভাবে গুরুত্বারোপ করাকে সেগুলিকে বাদ দেয়া বা অতিক্রম করে যাওয়া অর্থে নিতে হবে কেন?

প্রবন্ধের এ পর্যায়ের তিনি সাইয়েদ বদিউজ্জামান নূরসী’র ছাত্র ফতেউল্লা গুলেনের মতাদর্শের অনুরূপ এক অ-রাজনৈতিক (apolitical) আধ্যাত্মিক ভাবধারা ও সামাজিক কর্মসূচীভিত্তিক বৌদ্ধিক আন্দোলনের প্রস্তাব করছেন। এটি ভালো। তবে তা ততক্ষণ বা ততটুকু ভালো যতক্ষণ তা কোন না কোন রাজনৈতিক প্লাটফরম এর পাশাপাশি বা সামনে-পেছনে কাজ করে। তারিক রমাদান কর্তৃক তুরস্কের ক্ষমতাসীনদের একতরফা সমালোচনা সত্বেও এমনটাই ঘটেছে সেখানকার সামাজিক-রাজনৈতিক বর্তমান বাস্তবতায়। এটি ঠিক যে, কোথাও কোথাও মুসলিম সংগঠনগুলো অতিমাত্রায় রাজনৈতিকতায় জড়িয়ে পড়েছে। আসলে রাজনীতি বেশী করার জন্যই এমনটা হয়েছে, তা নয়। বরং রাজনীতির পাশাপাশি অন্যান্য সমগুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো যথাযথভাবে বা সমানতালে না করার কারনে রাজনৈতিক ময়দান একধরনের ভারসাম্যহীন বিকাশ (imbalance growth) এর শিকার হয়েছে। এই  সুযোগে পাশ্চাত্যের প্রচার মাধ্যম একজোট হয়ে রাজনৈতিক ইসলাম নামের একটা নেগেটিভ ট্যাগ ইসলামী আন্দোলনগুলোর উপর চাপিয়ে দিয়েছে। এ ধরনের একতরফা ট্যাগিং অনাকাংখিত হলেও এটিকে at once বাদ দেয়া (denounce)র পরিবর্তে একে ব্যালেন্স-এ রাখার চেষ্টা করতে হবে। যার পদ্ধতি হলো ইসলামী দল ও সংগঠনসমূহের প্লুরালিজম অর্থে সত্যিকারের স্বাতন্ত্র্যমুখীনতা ও বহুমাত্রিকতার চর্চা।

Muslim majority societies are crying out for an intellectual revolution, a revolution that is as radical in its essence as it is courageous in its objectives.actually a “philosophy of law -, must be thought for the notion of freedom : we need a “philosophy of liberty” that cannot be constricting, reactive or dogmatic but must be broad, holistic and liberating, valid for women and men alike. – এ কথাগুলো মূলত প্রায়োগিক ও সঠিক।

এর পরবর্তী প্যারায় তিনি তরুণ সমাজকে লক্ষ্য করে যা বলেছেন তা হেদায়াতমূলক কথা হিসাবে নির্দোষ ও আমলযোগ্য।

প্রবন্ধের পরবর্তী অংশেও তিনি নীতিগত কিছু নির্দেশণামূলক কথা বলেছেন যার উল্লেখযোগ্য অংশ হলো – The challenges are huge, but in freeing itself from the obsession with “politics”, a thought-based movement must elucidate the terms of a counter-power that sees the liberation of peoples through education, social involvement, alternatives to the dominant economy, through cultural and artistic creativity. এখানে alternatives to the dominant economy’র মতো অস্পষ্ট অংশটুকু ছাড়া বাদবাকী কথাগুলো নির্দেশণা হিসাবে যথেষ্ট গুরুত্ববহ।

অভ্যন্তরীণ সেকটারিয়ান কনফ্লিক্টগুলো সম্পর্কে এ পর্যায়ে যা বলেছেন তাও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ – The question of internal divisions, between Sunnis and Shi’a and between conflicting schools of thought (even between religious and secular), must take priority. The issues that fuel this division are often serious, but just as often patently ridiculous. It is the obligation of the scholars, of free intellectuals and activists to release themselves from the trap

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিকের উপর এর পরে তিনি আলোকপাত করেছেন – Not only is it urgent to establish relations between the North and the Global South, and leave behind the biased “Islam-West” nexus ; it is vital that we explore the potential of new educational, scientific and cultural partnerships with the peoples of Latin America, Africa and Asia.

একজন সুবিজ্ঞ নামকরা ইসলামিস্ট হিসাবে তিনি পুরো প্রবন্ধে সাহিত্য-সমৃদ্ধ কথার যে ফুলঝুড়ি ছড়িয়েছেন তা বিমুগ্ধ পাঠকের চোখে ছোট গল্পের মতো শেষ হয়েও যেন হইলা না শেষ ….। ড. তারিক রমাদানের মতো টপ-মোস্ট ইসলামিস্ট বুদ্ধিজীবির কাছ হতে একটি অধিকতর সুসামঞ্জস্য প্রবন্ধ প্রত্যাশিত থাকলেও আবেগ ও প্রেরণা নিঃসরণের দিক হতে নিঃসন্দেহে এটি একটা সফল লেখা।

শেষের প্যারায় তিনি বলছেন – The contemporary Muslim conscience must renew its commitment to the reformative and near-revolutionary power of the human and spiritual content of its tradition, which calls equally for reconciliation with self and openness to others. এটি অর্জন করার জন্য পলিটিক্যাল ইসলাম ও ইসলামিজম নামক পাশ্চাত্য-আরোপিত যে ব্যবস্থা, অবস্থা ও মতাদর্শকে বর্জন করার কথা তিনি বলেছেন তা কতটুকু textual ও যুক্তি-সংগত, বা যুক্তি-সংগত হলেও তাঁর কথায় এর বিকল্প ব্যবস্থাটি আদৌ পরিষ্কার হয়েছে কিনা তা দেখার ভার পাঠকের উপরই রইলো। তিনি বলেছেন, The Islamists of today have developed a conservative message, one that seeks only to adapt. The contemporary Muslim conscience must free itself from this message …!?

সর্বশেষে বলেছেন, The paradox lies in the fact that today’s Muslims, lacking self-confidence, are the wardens who hold in their trembling hands the keys of their own prison. এটিকে paradox নয়, এক ধরনের fallacy বলা যায়।  যাহা সত্যও নয় মিথ্যাও নয়, তা-ই হলো paradox আর যা সত্য মনে করা হয় অথচ যা আসলে মিথ্যা তা হলো fallacy। যে বন্দীর হাতে স্বীয় গরাদের চাবি আছে অথচ তালা খুলে বের হয়ে যাওয়ার মতো মনোবল তার নাই – এমন বন্দীর অবস্থার সাথে তিনি মুসলমানদেরকে তুলনা করেছেন। এ জন্য তিনি stupidity’র মতো টার্ম ব্যবহার করতে না চাইলেও paradox এর মতো confusing wording এর পরিবর্তে  fallacy বা self-contradiction জাতীয় শব্দ ব্যবহার করতে  পারতেন। ধন্যবাদ।

ফেসবুকে প্রথম প্রকাশিত

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে পড়াই। চাটগাইয়া। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *