জন্মের চেয়ে বড় বিস্ময় আর মৃত্যুর চেয়ে বড় সত্য পৃথিবীতে নাই

প্রায় সময়, বিশেষ করে ক্লাসে পড়ানোর সময় নানা ধরনের বাণী বা প্রপজিশন প্রডিউস করাটা আমার পুরনো অভ্যাস। কখন জানি হুমায়ুন আজাদের মতো আমার বাণী সমগ্র বা প্রবচনগুচ্ছ টাইপের কিছু একটা ছাপার অক্ষরে বেরিয়ে পড়ে, কে জানে…! যাক সে প্রসংগ। প্লাটো একজন পাওয়া গেলে আমি না হয় সক্রেটিস হতাম…।

বড় আপার বার্থ সার্টিফিকেটের পেছনে বাবার হাতের লেখা অনুসারে, ১৯৬৬ সালের ১৮ জুনে জন্মলাভের পর হতে আজ আমার ঊনপঞ্চাশ পেরোলো। যাক, জন্মের দিনটি তো জানা গেল। মৃত্যুর দিনটি যদিও অজানা। আমার বাবা ৬৩ বছর বেঁচেছেন। সে হিসাবে…!! জানি না…!!!

হায়াত আল্লাহর নিয়ামত। কিয়ামতের দিন সবাই হায়াতের জন্য আফসোস করবে। জীবন যেন এক অন্তহীন আশা। মৃত্যুকে কাম্য মনে না করার বিষয়ে আস্তিক-নাস্তিক সবাই দেখি অনড়, এক।

এ জীবনের জন্য, এই যে এই মুহূর্তে নিঃশ্বাস নিতে পারছি, অনেকের চেয়ে নানা দিক থেকে অনেক ভালোভাবে বাঁচতে পারছি, এসব কিছুর জন্য আমি কৃতজ্ঞ।

তাওহীদপন্থী হওয়ার কারণে আমি মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। নির্বিকারবাদী-সংশয়বাদী ও নাস্তিক্যপন্থীরাও এই হায়াতের জন্য, জীবনের জন্য, প্রাণ লাভ করার জন্য কৃতজ্ঞতা পোষণ করে। নিরীশ্বরবাদী হওয়ায় তাদের কৃতজ্ঞতা সকল জানাকে ছাড়িয়ে স্বরূপত অজানা এক সয়ম্ভূ ‘প্রকৃতির’ প্রতি। এজন্যই সব ধরনের নিরীশ্বরবাদীরা আদতে প্রকৃতিবাদী তথা প্যাগানিস্ট হয়ে থাকে। কেউ রিলিজিয়াস প্যাগানিস্ট, কেউ সেক্যুলার প্যাগানিস্ট…! তাদের সাংস্কৃতিক চর্চার প্যাটার্ন তাই প্যাগানিস্ট রিচুয়্যালের অনুরূপ হয়ে থাকে।

জীবনে আমি সফল কি ব্যর্থ – সে হিসাব করি না। আমি যা, যা হওয়ার কথা ছিলো, আল্লাহ আমাকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করেছেন, তা ন্যূনতম মানে হলেও আমি করতে পেরেছি কি না, তাই বিবেচ্য।

Everyone is meant to be something. Everyone has something unique to do, an extraordinary role to play, I believe. Even with the same target of life, we have different approaches to achieve it. Success? I don’t believe in ‘success’, but in effort only, even not the ‘proper effort’, but in the most sincere efforts. And we know, success is not always what we see, instead, success is actually what we do or intended to do.

দেখুন, জন্মদিনের শুভেচ্ছা বাণী লিখতে গিয়েও তত্ত্ব কপচানো…! মাস্টারদের যা স্বভাব…! মাস্টারেরা এমনিতেই বেশি কথা বলে। বয়স্ক লোকদের মধ্যেও এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এবার বুঝুন, মাস্টার যদি বুড়া হয় তাহলে… [শ্রোতা/পাঠকদের অবস্থা কাহিল…!?]

পোস্টটির ফেসবুক লিংক

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে পড়াই। চাটগাইয়া। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *