ছোটবেলায় কী পড়তাম?

ছোট বেলায়, মানে স্কুল লাইফে খুব পড়তাম। অবশ্যই ‘আউট বই’। মানে, পাঠ্য বইয়ের বাইরে। খোরশেদ নামের এক বন্ধু কোত্থেকে যেন, রোমেনা আফাজের “দস্যু বনহুর” সিরিজের বই আনতো। ফার্স্ট পিরিয়ডে শুরু করতাম। হ্যাঁ, অতি অবশ্যই যথাসম্ভব পিছনের দিকে বসার চেষ্টা করতাম।

চট্টগ্রাম সেনানিবাস স্কুলে একসাথে জোড়া লাগানো দুইটা টেবিলের সাথে দুইটা চেয়ার, এ’ভাবে বসার ব্যবস্থা ছিলো। এক এক ক্লাসে ৪০/৫০ জনের মতো স্টুডেন্ট। একপাশে ছেলেরা। অন্যপাশে মেয়েরা। তো, টেবিলের নীচের দিকে খোলা তাক বা ড্রয়ারের মতো। সেখানে বই, খাতা, ব্যাগ ইত্যাদি রাখতে হতো। টেবিলের বই রেখে আমি আরামসে ‘আউট বই’ পড়া শুরু করতাম। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ৮ম ‘ঘণ্টা’ পড়ার আগেই এক একটা সোয়াশ’ পৃষ্ঠার বই পড়া শেষ করে ফেলতাম।

একদিন বিমল বাবু স্যারের হাতে ধরা পড়ে গেলাম। উনি খুব সম্ভবত: ইংরেজি পড়াতেন। এসব ১৯৭৭/৭৮ সালের কথা। তখন আমরা ক্লাস সেভেন/এইটে পড়ি। উনি কী একটা যেন ডিকটেশন দিয়ে ট্রান্সস্লেশান করতে দিছেন। রো’র মাঝখানে হাঁটার সময়ে খেয়াল করলেন, আমি না লিখে কী যেন পড়ছি। ঈগলের মতো ছোঁ মেরে বইটা হাতে নিয়ে জোরে জোরে পড়া শুরু করলেন, “ভদ্র মহিলার পাশে এক সুদর্শন যুবক বসে আছে…”। আর যাই কোথায়! “ব-ল-দ, এইসব পড়ছ” বলে হেব্বি বকাবকি। ওখানে মারপিটের সিস্টেম ছিলো না।

সেটা ছিলো নীহাররঞ্জন গুপ্তের কোনো একটা গোয়েন্দা উপন্যাস। যথারীতি, হেড মাষ্টারের কাছে কমপ্লেইন। হেড স্যার, আর্মি মেজরের ওয়াইফ ছিলেন এক অতি সুন্দরী ম্যাডাম, তাঁর কাছে বিষয়টা দেখার জন্য দিলেন। ম্যাডাম বইটা রেখে দিলেন। এর দু’দিন পরে আমাকে ডেকে, ‘ক্লাসে বই পড়ো না’ বলে বইটা ফেরত দিয়ে দিলেন। কোনো পানিশমেন্ট হলো না। আমি তো অবাক। আর হ্যাঁ, ওই যুবকটা ছিলো ভদ্রমহিলার ছেলে। কাহিনীতে বর্ণিত আগন্তুক সেটি প্রথমে জানতো না। এই যা।

ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের দোতলায় অবস্থিত বিশাল লাইব্রেরী রুমের দায়িত্বে যে স্যার ছিলেন, তাঁর সাথে ঈমানদার পাঠক হিসাবে (ঠিক মতো বই ফেরত দেয়ার দিক থেকে) বেশ খাতির গড়ে তুলেছিলাম। প্রতি সপ্তাহে দু-এক পিরিয়ড লাইব্রেরীতে পড়ার জন্য রুটিন করা ছিলো। আমি বেশ মোটা মোটা বই ইস্যু করে নিতাম। আর বাসায় এসে রাত জেগে, শীমের ঝোঁপের আড়ালে, অড়ল ক্ষেতের আড়ালে গিয়ে ওই সব বই ‘সাবাড়’ করতাম।

ছোট বেলায় আমার এই পড়ার স্বভাব ঘরের লোকেরা বেশ জানতো। এখন বুঝতে পারছি, তৎকালীন কড়া শাসনের পরিবেশে যথেষ্ট আশকারাও দিতো। মনে পড়ে, প্রগতি প্রকাশনের অরিজিনাল ছাপা ‘রুশ দেশের উপকথা’ পড়েছি বন্ধু বাবুর কাছ হতে এনে একটানা, গোগ্রাসে। তখন আমি মাত্র ক্লাস ফোরে উঠেছি। দেয়ালের সাথে পা উপরের দিকে ঘাড় নিচের দিকে দিয়েও পড়তাম। পড়ার সময় আর স্টাইল ছিলো এবসলিউটলি ফ্রি।

তখন এতো পেপার-ম্যাগাজিন ছিলো না। ভাইজানের বেশ বন্ধু ছিলো। উনিসহ তারা সবাই জাসদ করতেন। এই সুবাদে ছোট বেলা হতেই ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রা’, ইত্তেফাক-সংবাদের ঈদ সংখ্যা ইত্যাদির পাশাপাশি প্রগতিশীল ঘরানার বই-পত্রও আমার বেশ পড়া হয়ে গেছিলো। ভাইজান কোনো কিছু পড়ার জন্য এনে রাখলে, উনি যখন ঘুমাতেন বা কোথাও যেতেন, সেই ফাঁকে আমি পড়ে আবার ঠিক মতো রেখে দিতাম। উনি টেরই পেতেন না।

ছোট বেলায় ‘আংকেল টমস কেবিন’ পড়ে ভাবতাম। জসীম উদ্দিনের ‘সোজন বাঁধিয়ার ঘাট’ পড়ে উদাস হয়ে যেতাম। মনে পড়ে, শরৎ চন্দ্রের ‘দেনা-পাওনা’ পড়ার পরে বড় আপা দুষ্টমিমাখা স্বরে বললেন, “কী বুঝলি…?” তখন আমি ক্লাস সিক্স-সেভেনে পড়ি। ক্লাস টেনে উঠে যখন ‘দেবদাস’ পড়ি তখন বিশেষ করে শেষের দিকে যখন পার্বতী অন্দর মহল হতে চিৎকার করে কেঁদে ছুটে যায়, তখন আমি কান্নায় ভেংগে পড়ছিলাম। খুব সতর্ক ছিলাম, কেউ না জানি দেখে ফেলে। রিজিয়া রহমানের ‘নিঃশব্দ শব্দের খোঁজে’ কিংবা ‘প্রদোষে প্রাকৃত জন’, আকবর হোসেনের ‘মোহমুক্তি’, ‘দু’দিনের খেলাঘরে’, শওকত ওসমানের ‘ক্রীতদাসের হাসি’ – এক একটা উপন্যাস মানে এক একটা নতুন জগত, কিছুটা চেনা অনেকটাই অচেনা, অথচ, কি যেন দুর্দমনীয় আকর্ষণ।

আকর্ষণ আরও কিছুতেও ছিলো। হ্যাঁ, কিছু ‘সে রকম জিনিস’ও পড়েছি। চিটাগাং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঝ বরাবর নীচতলায় পেপার-ম্যাগাজিনের স্টলে “চিকিৎসা সাময়িকী” পাওয়া যেতো। এটি ছিলো পিন-আপ ম্যাগাজিন। তাতে নানা রকমের ব্যক্তিগত রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি একটা রগরগে গল্পও থাকতো। এর কয়েকটা সংখ্যাও কিনেছিলাম। বাসায় এসে ভাড়ার ঘরে বসে পড়া শুরু করতাম। সত্যি করে বলছি, সাথে একটা ম্যাচ বক্স নিয়ে বসতাম। পড়া শেষ হওয়া মাত্রই জ্বালিয়ে দিতাম। হ্যাঁ, এমন একটা কনফেশান করতে পেরে এটলিস্ট খারাপ লাগছে না। এখনকার ভাষায়, আমরা তখন ‘কলোনির মালিক’ ছিলাম। মাঝে মাঝে ভাড়ার ঘর খালি থাকতো। নয় ভাইবোনের পরিবারে এক্সক্লুসিভ প্রাইভেসির সুযোগ খুব সীমিত ছিলো।

বড় আপার বিয়েতে একটা ‘সুকান্ত সমগ্র’ উপহার পড়ে। সেটার কবিতা-ছড়াগুলো নিয়ে আমরা দল বেঁধে ‘তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা’ করতাম। ‘বিয়ে বাড়ির মজা’ নিয়ে কতো মজা করেছি। ‘একটা মোরগের কাহিনী’ পড়ে কতো খারাপ লেগেছে! নিজেরা নিজেরা ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের অভিনয় করতাম। মনে পড়ে, বহু কষ্ট করে কাঠের একটা তরবারিও বানিয়েছিলাম। ওটা কোমরে গুঁজে ঘুরেও বেড়াতাম।

চান্স পাওয়া মাত্র ‘এইটা-সেইটা’ পড়ার এই অভ্যাস আমাদের কল্পনাশক্তিকে জাগিয়ে তুলতো, ভাবনার নদীতে জোয়ার আনতো, সুকুমার বৃত্তির সুপ্ত বোমাগুলোকে ইগনাইট করতো, চিন্তার এক একটা পটেনশিয়ালিটিতে বিষ্ফোরণ ঘটাতো। যদিও সেসব চিন্তা খুব একটা বিন্যস্ত ছিলো না। বলতে পারেন প্রচলিত অর্থে কৈশোরের সেই অদ্ভূত ভাবনা-অনুভূতি-কল্পনাগুলো গঠনমূলকও ছিলো না, ধ্বংসাত্মকও ছিলো না। সেসব ছিলো নিছকই কল্পনা। পরিণত বয়সে ঠিকঠাক মতো, সোজা কথায় মানবিক হিসাবে গড়ে উঠার জন্য, এখন মনে হচ্ছে, এ ধরনের অপরিণত কল্পনা-কসরত অত্যন্ত সময়োপযোগী ছিলো। ছোটোদেরকে ‘সঠিক’ চিন্তা করতে বাধ্য করার মতো বোকামী আর হয় না। তাদেরকে নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করাই সঠিক পন্থা।

সে যা-ই হোক, তখন জুলভার্নের লেখাগুলোকে ‘স্বর্গীয় কাহিনী’র মতো মনে হতো। আরব্য রজনীর একটা শালীন ভার্সান ছিলো। ছোট আকারের নিউজপ্রিন্টে ছাপা একটা সংস্করণ কার কাছ হতে যেন পেয়েছিলাম। সে সব গল্প কতোবার যে পড়েছি। এক একটা এডভেঞ্চারে শিহরিত হতাম। ওমর খৈয়ামের নজরুলের করা অনুবাদটা পড়েছিলাম। একপাশে রঙ্গীন ছবি। আর একপাশে রুবাই। কী দারুণ লাগতো …!

১৯৮২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে জীববিজ্ঞানের প্রথম দিনের ক্লাসেই শাহাবুদ্দীন নাগরী স্যার জিজ্ঞাসা করলেন, ডেল কার্নেগীর কোনো বই কেউ পড়েছে কিনা। আমি হাত তুললাম। বললাম, “দুশ্চিন্তাহীন নতুন জীবন” বইটা পড়েছি। স্যার খুব খুশী হয়েছিলেন। আমি খুব পড়তাম। ডা. লুৎফর রহমানের উপদেশমূলক বইগুলোও পড়েছি। ওসব পড়লে কেমন যেন ‘ভালো’ হয়ে যেতাম। অন্তত: কয়েক দিন একটা শপথ-শপথ ভাব থাকতো।

শুধুমাত্র ক্লাস টেনে পড়ার সময় ছাড়া কখনো পাঠ্যবই সিরিয়াসলি পড়ি নাই। জীবনে কখনো কোনো উত্তর মুখস্ত লিখি নাই। আমি কখনোই নোট করি নাই। এমনকি ভার্সিটিতেও না। পরীক্ষার দু’একদিন আগে মূল বইটা যথাসম্ভব পড়ে যেতাম। পরীক্ষার হলে যাই মনে আসতো, নিজের মতো করে লিখে দিতাম। এম.এ. ক্লাসে পড়ার সময়ে অবশ্য টেক্সটগুলো সময় নিয়ে ভালো করে পড়েছি। এটি ব্যতিক্রম। তৎসত্বেও নিয়মিত আউট বই পড়তাম। এম. এ. পরীক্ষার গ্যাপে ‘মোহক নদীর বাঁকে’ পড়েছিলাম। সাড়ে সাত শ’ পৃষ্ঠার অনুবাদ উপন্যাস।

ছোট বেলায় কতো বই পড়েছি …! ভূতের গল্প ইত্যাদি তো আছেই। আসলে কী পড়ি নাই, তা জানতে চাওয়াই যুক্তিযুক্ত। আমাদের ছোট বেলায় ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার এতো ছড়াছড়ি ছিলো না। খেলার সময়ে মারাত্মক টেকনিক খাটিয়ে বাসা হতে এস্কেইপ করতাম। ইচ্ছা মতো খেলতাম আর পড়তাম। বুঝতেই পারছেন, পড়া গল্পগুলোকে মনের পর্দায় সাজাতাম। কল্পনার রংয়ে সাজানো, বলতে পারেন, মনের পর্দায় চলমান ইনার থ্রিডি মুভির নেশায় বিভোর থাকতাম। অবশ্য, পড়ার চাপও ছিলো, এখনকার তুলনায়, অনেক কম। তদুপরি, আমি তো ছিলাম গ্রেট ফাঁকিবাজ। শুধুমাত্র আব্বার কাছে ইংরেজী পড়তাম। বাকীগুলো কোনো মতে চালিয়ে দিতাম।

নতুন বইগুলোকে আমরা যেন ব্লটিং পেপারের মতো শুষে নিতাম। বিশেষ করে বাংলা সাহিত্য ও দ্রুত পঠনের বইগুলো। স্কুলে থাকতেই ডিগ্রী ক্লাসের গল্প ও প্রবন্ধ সংগ্রহ কয়েকবার খতম দিয়েছি। রবীন্দ্রনাথের ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ গল্পের সেই খ্যাপা পাগলার চিৎকার, ‘সব ঝুট হ্যায়, সব ঝুট হ্যায়’ এখনো যেন কানে বাজে। সেবা প্রকাশনীর ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের বইগুলো পড়তে পড়তে নিজেকে অন্তত: ভবিষ্যতের হলেও একজন মাসুদ রানা-ই ভাবতাম। কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে যেতে ভালো লাগতো।

সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় আমীর উদ্দীন কাদেরী ভাইয়ের নেতৃত্বে কাছাকাছি বয়সের ছেলেদের সাথে মিলে বোর্ড পেপারে দেয়াল পত্রিকা তৈরী করে সেটাকে ফ্রেমের মধ্যে আঁটকিয়ে ক্লাবের বারান্দায় সিরিয়াল করে পাশে দাঁড়িয়ে ধার করা ইয়াসিকা ক্যামেরায় চাঁদা তুলে রিল ভরে সেজেগুঁজে আমরা মনের সুখে ছবি তুলতাম। ঘর থেকে চুরি করা খুচরা টাকা-পয়সা দিয়ে সে সব ছবি প্রিন্ট করে গর্বভরে দেখতাম। মনে হতো, এই তো আমরা এক একজন কবি হয়েই গেলাম, আর কি …!

এখনকার ছেলে-মেয়েরা যারা কচি বয়সেই মিনিটে মিনিটে ‘স্ট্যাটাস’ দেয় তাদের সাথে আমাদের কখনোই মিলবে না। কীভাবে যে মিলবে, সেটাও জানি না। সেই ছোট বেলায় পড়া যাযাবরের ‘দৃষ্টিপাতে’ উদ্ধৃত সেই কথার মতো, চাক্ষুষ দেখছি, আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের দিয়েছে বেগ, কিন্তু কেড়ে নিয়েছে আবেগ। এখন আবেগ মানেই ভোগ অথবা বেহুদা পাগলামি। এখনকার আবেগ যথেষ্ট তরল। আমাদের আবেগ এতটা তরল ছিলো না। নিজের বলে বাড়িয়ে বলছি না, সত্যিই আমাদের সময়কার পড়া ও লেখা, বিশেষ করে চিঠি লেখার মধ্যে ছিলো প্রগাঢ় অনুভব।

অত ছোট বয়সে আমরা প্রেম করার ‘সাহস’ করি নাই। মেট্রিক পরীক্ষার আগে-পরে ‘সে ধরনের’ মানসিকতার স্ফূরণ হতো। খুব সাহসীরা নানা রকমের ডেসপারেইট ওয়েতে ‘লাইন’ করতো। আমার সে সৌভাগ্য হয়ে উঠে নাই। অনুমান করি, এই ডিজিটাল প্রজন্মের অনুভূতি এখন অনেক বেশি ইন্দ্রিয়জ। ‘কিছু করার’ জন্য তাদের অার অতটা দুঃসাহসী হতে হয় না। অর্থহীন কিশোর-কল্পনার ফানুস এখন দ্রুতই ফুরিয়ে যায়। ছোট থাকতেই তারা বেশ খানিকটা বড় হয়ে উঠে। যা কিছু ভাবার তা সব তারা ছবিতেই দেখে। ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার চরম নেতিবাচক দিক আমাদের নতুন প্রজন্মকে কীটের মতো কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। পাওয়ারপয়েন্ট ‘সমৃদ্ধ’ ক্লাসের মেকি-জ্ঞানচর্চার মতো এখনকার ছোটরা শুধু পয়েন্টের পর পয়েন্টই শিখে, ইনফ্যাক্ট আয়ত্ব করে, বিষয়বস্তুর খুব একটা ধার তারা ধারে বলে মনে হয় না।

এখনকার প্রজন্মকে কী সাজেস্ট করবো বুঝতে পারছি না। এখনকার মতো ছোটদের জন্য এত মতাদর্শগত ভিন্ন বা বিপরীত লিটারেচারের প্রচলন আমাদের সময়ে ছিলো না। সমকালীন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইসলামপন্থী পরিবারের ছোটদের জন্য যে বুক লিস্ট বা সাজেশান তা প্রগতিশীল ঘরানার লোকদের কাছে বিষতুল্য। এর বিপরীতে প্রগতিশীলগণ বাচ্চাদের জন্য যে সব কন্টেন্ট সাজেস্ট করে, ধর্মভীরু-রক্ষণশীল মধ্যব্ত্তি অভিভাবকদের কাছে সে সব কন্টেন্ট স্লো পয়েজনিংয়ের মতো ভয়াবহ। ভাবছি, এর সমাধান কী? বিশেষ কিছু বলার নাই। সত্যিই একটা অনতিক্রম্য জেনারেশান গ্যাপ তৈরী হয়ে গেছে। ভেংগে না পড়লেও সমাজটা যেন ভেতর থেকে অনেক দুর্বল হয়ে গেছে। আমি সনাতনী মূল্যবোধের ফেরি করি। সেগুলো যেন দিন দিন ‘নন-কম্পিটেন্টদের সান্তনা’ হিসাবে ট্রিটেড হচ্ছে। বুঝতে পারছি না, কী বলবো। অথবা, কী হবে …!

“টিন-এজ ছেলেমেয়েদের কোয়ালিটি টাইম পাস হিসেবে ফিকশন ও নন-ফিকশন বই এর প্রতি আগ্রহী করতে কী কী উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে?” – এমন একটা ফেইসবুক স্ট্যাটাসে ট্যাগড হওয়া উপলক্ষে এই লেখা।

ফেসবুকে প্রদত্ত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Sourav Abdullah: হেডলাইন দেখেই বুঝেছিলাম আবরার ভাইকে উদ্দেশ্য করে এর প্রসব। আসলেই স্যার একটা গ্যাপ হয়ে গেছে। যদিও আমি এই প্রজন্মেরই তবুও কৈশোরটা আজকের আধুনিকতায় কাটেনি।

Shafiul Alam: “আমাদের ছোটবেলা”র বই পড়ার কাহিনী তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ। অষ্টম শ্রেনির (১৯৭৬) শুরুতে “বেলা শেষে” নামের একটা বই হাতে পেয়ে দু’দিনেই শেষ করে ফেলি। তারপর থেকে পাঠ্যবইয়ের বাইরে যা পেতাম তা-ই পড়ে ফেলতাম সুযোগ মত।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: বেদুইন সামাদের বই।

Shafiul Alam: ধন্যবাদ। এখনও মনে আছে।

Shakir Elahi: সাজেক ভ্যালিতে গিয়ে দেখি ছেলে-বুড়ো সবাই সেলফি উৎসবে ব্যস্ত। অথচ এত সুন্দর জায়গাটা ক্যামেরার বাইরে কেউ দেখাচ্ছে না। আমি অবাক হয়ে গেলাম এখনকার ছেলেমেয়েরা ব্যস্ত থেকেও ছবিকে বেশি গুরুত্ব দেয়। আমিও মিলাতে পারি না নিজেকে এদের সাথে।

লেখাটির ফেসবুক লিংক

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে পড়াই। চাটগাইয়া। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকি।

ছোটবেলায় কী পড়তাম?” শীর্ষক পোস্টে ২টি মন্তব্য

  1. আসসালামু আলাইকুম……
    “গোগ্রাসে বই পড়া/গেলা”য় আপনার ছাত্রজীবনের বর্ণনার অনেক কিছুতে নিজেকে দেখি!
    (বই) পড়ার কোন বিকল্প নেই! কিন্তু দুঃখজনক সত্য যে, নিজ সন্তানদের মাঝেও সে নেশাটা ধরাতে তেমন সফল হইনি!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *